খুঁজুন
                               
, ,
           

পাকিস্তানের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাতে প্রদেশ ভাঙার পরিকল্পনা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
পাকিস্তানের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাতে প্রদেশ ভাঙার পরিকল্পনা?

পাকিস্তানের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশটির বর্তমান চারটি প্রদেশ ভেঙে একাধিক ছোট প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করার সম্ভাবনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের পরিকল্পনায় বর্তমান প্রাদেশিক কাঠামোর পরিবর্তে ১২, ১৫ কিংবা ১৬০টি পর্যন্ত ছোট প্রদেশ বা প্রশাসনিক অঞ্চল গঠনের ধারণা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে এই পরিকল্পনার বিষয়ে পাকিস্তান সরকার বা দেশটির সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ফলে প্রস্তাবটির চূড়ান্ত রূপ, বাস্তবায়নের সময়সীমা কিংবা এর সঙ্গে আসিম মুনিরের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয়। তা সত্ত্বেও সম্ভাব্য এই উদ্যোগের পেছনে প্রশাসনিক সংস্কারের পাশাপাশি রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রশাসনিক সংস্কার, নাকি ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার কৌশল?

দ্য ইকোনমিস্ট-এর প্রতিবেদনে পাকিস্তানের প্রাদেশিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের সম্ভাবনাকে দেশটির রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সামরিক বাহিনীর প্রভাবের সঙ্গে মিলিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ বেসামরিক নেতৃত্বের বিভিন্ন সাংবিধানিক পদ থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে সেনাবাহিনীর প্রভাব দীর্ঘদিনের।

প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে বড় প্রদেশগুলোকে ছোট ছোট প্রশাসনিক এককে ভাগ করা হতে পারে। এসব অঞ্চলে নির্বাচিত প্রধান, প্রাদেশিক বা জেলা পরিষদ কিংবা সরকারের মনোনীত ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সমর্থকদের যুক্তি হতে পারে, ছোট প্রশাসনিক একক গঠিত হলে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা, সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে। বড় প্রদেশের বিস্তৃত ভূখণ্ড ও বিপুল জনসংখ্যা সামলানোর ক্ষেত্রে যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, নতুন কাঠামো তা কমাতে পারে বলেও মনে করেন প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের পক্ষের ব্যক্তিরা।

তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, নতুন প্রশাসনিক অঞ্চল গঠনের প্রক্রিয়ায় স্থানীয়ভাবে নির্বাচিত নেতৃত্ব ও প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাব কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার এবং সামরিক নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ কারণেই সম্ভাব্য প্রাদেশিক পুনর্বিন্যাসকে কেবল প্রশাসনিক সংস্কারের প্রশ্ন হিসেবে না দেখে রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যের দিক থেকেও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের চার প্রদেশের বর্তমান কাঠামো

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন সময়ে দেশটির প্রশাসনিক ও প্রাদেশিক কাঠামোয় পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে দেশটির চারটি প্রধান প্রদেশ হলো পাঞ্জাব, সিন্ধু, খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান। প্রতিটি প্রদেশের রয়েছে নিজস্ব রাজনৈতিক বাস্তবতা, প্রশাসনিক কাঠামো এবং ঐতিহাসিক পরিচয়।

পাকিস্তানের সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশ পাঞ্জাব। আলোচ্য প্রতিবেদনে এর জনসংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি। অন্যদিকে আয়তনে বৃহত্তম বেলুচিস্তানে জনসংখ্যা তুলনামূলক কম। প্রতিবেদনে এই প্রদেশের জনসংখ্যা প্রায় দেড় কোটি, অর্থাৎ পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জনসংখ্যা, আয়তন ও সম্পদের বণ্টনে এই পার্থক্যগুলো পাকিস্তানের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় নানা চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। তবে শুধু প্রদেশের আকার কমালেই প্রশাসনিক দুর্বলতা দূর হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয় সরকারের সক্ষমতা, আর্থিক সম্পদের ন্যায্য বণ্টন, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ায় নিরাপত্তা সংকট

পাকিস্তানের প্রাদেশিক কাঠামো নিয়ে আলোচনার পেছনে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। বেলুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহ এবং খাইবার পাখতুনখোয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

এসব অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের রাজনৈতিক অধিকার, অর্থনৈতিক সুযোগ এবং উন্নয়নবঞ্চনার প্রশ্নও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাড়ানো সম্ভব হলে তা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

কিন্তু নতুন সীমানা নির্ধারণ, সম্পদ বণ্টন এবং স্থানীয় নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে উল্টো রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে জাতিগত পরিচয়, আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন ও প্রাকৃতিক সম্পদের মালিকানা নিয়ে সংবেদনশীলতা রয়েছে, সেখানে প্রদেশ পুনর্গঠনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন সহজ হবে না।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাব কমার আশঙ্কা

পাকিস্তানের বড় প্রদেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে দেশটির রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। পাঞ্জাবে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) এবং সিন্ধুতে পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভিত্তি রয়েছে। বিশেষ করে সিন্ধুর রাজধানী করাচি পাকিস্তানের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোর একটি।

প্রদেশগুলো ছোট ছোট অঞ্চলে ভাগ করা হলে বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাব ও নির্বাচনী হিসাবেও পরিবর্তন আসতে পারে। নতুন প্রশাসনিক এককে নির্বাচনী প্রতিনিধিত্ব, পরিষদের ক্ষমতা এবং স্থানীয় নেতৃত্বের কাঠামো কীভাবে নির্ধারিত হবে, তার ওপর নির্ভর করবে এই পরিবর্তনের রাজনৈতিক প্রভাব।

দ্য ইকোনমিস্ট-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের বড় প্রদেশগুলো কেন্দ্রীয় ক্ষমতার বিপরীতে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তিকেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। ফলে এসব প্রদেশকে ভেঙে ছোট এককে ভাগ করা হলে বিদ্যমান রাজনৈতিক ভারসাম্য দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অবশ্য প্রশাসনিক একক ছোট হলেই রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। নতুন অঞ্চলে স্থানীয় নেতৃত্ব শক্তিশালী হলে নতুন রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাও তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে, নতুন কাঠামোতে জনগণের ভোটাধিকার, প্রতিনিধিত্ব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা কতটা সুরক্ষিত থাকে।

আসিম মুনিরের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ার প্রশ্ন

প্রদেশ পুনর্গঠনের সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে সবচেয়ে বড় বিতর্কের জায়গা হলো এর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। সমালোচকদের আশঙ্কা, বড় প্রদেশগুলো ভেঙে ছোট প্রশাসনিক অঞ্চল তৈরি করা হলে ঐতিহ্যগতভাবে শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও আঞ্চলিক ক্ষমতাকেন্দ্রগুলো দুর্বল হতে পারে। এর ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি সেনাপ্রধানের প্রভাব বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্রতিবেদনে আসিম মুনিরের নেতৃত্বে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে এটি প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যার অংশ; প্রদেশ পুনর্গঠনের পরিকল্পনার পেছনে তাঁর নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

কোনো দেশের প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ক্ষমতার বণ্টন কীভাবে নির্ধারিত হচ্ছে, সেটিই মূল বিবেচ্য। নতুন প্রদেশ বা অঞ্চলগুলোর নেতৃত্ব যদি স্বাধীন ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হয় এবং তাদের হাতে বাস্তব প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা থাকে, তাহলে স্থানীয় শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী হতে পারে। বিপরীতে, নিয়োগনির্ভর নেতৃত্ব ও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়লে ক্ষমতা আরও কেন্দ্রীভূত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

অর্থনৈতিক সংকটের দায় কি শুধু প্রশাসনিক কাঠামোর?

পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকটও এই বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দ্য ইকোনমিস্ট-এর প্রতিবেদনে দেশটির উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ভারতের তুলনায় পিছিয়ে থাকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ভারতের অর্ধেকেরও কম।

তবে অর্থনৈতিক সংকটের কারণ হিসেবে শুধু বড় প্রদেশের আয়তনকে দায়ী করা যায় না। রাজস্ব আয়, সরকারি ব্যয়, ঋণের চাপ, বিনিয়োগের পরিবেশ, উৎপাদনশীলতা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতিও অর্থনীতির গতিপথ নির্ধারণ করে।

প্রতিবেদনে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় অর্থের ওপর নির্ভরশীলতার পাশাপাশি মূল্যবান জমির মালিকানা এবং বিভিন্ন ব্যবসায় সামরিক প্রতিষ্ঠানের প্রভাবের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে প্রতিযোগীদের ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে নির্দিষ্ট অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ আলাদাভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনিক সংস্কারের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি, অর্থনৈতিক নীতির ধারাবাহিকতা এবং বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি। শুধু প্রশাসনিক সীমানা বদলে অর্থনীতির মৌলিক দুর্বলতা দূর করা সম্ভব নয়।

ভারতের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা ব্যয়

পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ভারতের সঙ্গে দেশটির দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের বিষয়টিও উঠে এসেছে। দ্য ইকোনমিস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের বৈরী সম্পর্ক পাকিস্তানের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে বাধা তৈরি করছে। একই সঙ্গে এই নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামরিক বাহিনীর প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর যুক্তি হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে বলে প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের উত্তেজনা দুই দেশের বাণিজ্য, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ পরিবেশকে প্রভাবিত করে। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যয়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় সরকারি সম্পদ বরাদ্দের ভারসাম্যও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিবেদনের যুক্তি অনুযায়ী, নিরাপত্তা সংকটের সমাধান নিয়ে যে নীতিগুলো অনুসরণ করা হচ্ছে, সেগুলোই কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংকট দীর্ঘায়িত করতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এই বিশ্লেষণের মূল্যায়ন করতে হলে দুই দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং অর্থনৈতিক তথ্য একসঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে।

বেসামরিক সরকারের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন

পাকিস্তানের ইতিহাসে সামরিক বাহিনীর রাজনৈতিক ভূমিকা দীর্ঘদিনের। দেশটি প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন সময়ে সরাসরি সামরিক শাসনের অধীনে থেকেছে। বেসামরিক সরকার ক্ষমতায় থাকার সময়ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে সামরিক প্রতিষ্ঠানের প্রভাব নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম, বিরোধী রাজনীতি এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বণ্টন নিয়ে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতা ইমরান খান কারাগারে রয়েছেন—এ বিষয়টিও দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর সমর্থকদের বিক্ষোভ মোকাবিলার পদ্ধতি নিয়েও প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

এ অবস্থায় প্রদেশ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা বেসামরিক প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর কী প্রভাব ফেলবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। নতুন প্রশাসনিক ব্যবস্থা জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াবে, নাকি বিদ্যমান ক্ষমতাকেন্দ্রগুলোকে দুর্বল করে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ জোরদার করবে—তার উত্তর নির্ভর করবে পরিকল্পনার বিস্তারিত রূপরেখা ও বাস্তবায়ন পদ্ধতির ওপর।

আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় অনিশ্চয়তা

পাকিস্তানের চারটি প্রদেশ ভেঙে ১২, ১৫ কিংবা ১৬০টি পর্যন্ত ছোট প্রশাসনিক একক গঠনের যে সম্ভাবনার কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেটি এখনো নিশ্চিত সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়। পরিকল্পনার সুনির্দিষ্ট কাঠামো, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া, প্রাদেশিক সরকারের অবস্থান এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য না থাকায় এর বাস্তবায়ন নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

প্রদেশ পুনর্গঠনের মতো বড় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংবিধান, আইনসভা, প্রাদেশিক প্রতিনিধিত্ব এবং জনগণের মতামতের বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়বে, নাকি রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যাবে—তা নির্ধারণ করবে নতুন ব্যবস্থার প্রকৃতি।

সব মিলিয়ে, পাকিস্তানের প্রদেশ পুনর্গঠনের সম্ভাব্য পরিকল্পনা প্রশাসনিক সংস্কারের প্রশ্নের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক ভূমিকা, বেসামরিক নেতৃত্বের স্বাধীনতা এবং আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে নতুন বিতর্ক সামনে এনেছে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও বিস্তারিত প্রস্তাব প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত আসিম মুনিরের উদ্দেশ্য কিংবা পরিকল্পনার চূড়ান্ত রূপ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট

কালের আলো/এসএ

জাতীয় দিবস পালনে নতুন পরিপত্র, তালিকায় ৯২ দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৮ অপরাহ্ণ
জাতীয় দিবস পালনে নতুন পরিপত্র, তালিকায় ৯২ দিবস

দেশে সরকারিভাবে মোট ৯২টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য নতুন পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। রোববার (১১ অক্টোবর) জারি করা এ পরিপত্রে দিবসগুলোর শ্রেণিবিন্যাস, উদ্‌যাপনের ব্যয় ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নতুন পরিপত্র অনুযায়ী, দিবসগুলো আগের মতোই ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’—এই তিন শ্রেণিতে বিভক্ত থাকবে। এর মধ্যে ‘ক’ শ্রেণিতে ১৮টি, ‘খ’ শ্রেণিতে ৩৯টি এবং ‘গ’ শ্রেণিতে ৩৫টি দিবস অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্তে ‘ক’ শ্রেণিতে ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘খ’ শ্রেণিতে ৬ জুলাই ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় চা দিবস পালনের তারিখ ৪ জুন থেকে পরিবর্তন করে ২১ মে নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিপত্রে দিবস পালনের ব্যয়সংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘খ’ শ্রেণির দিবস উদ্‌যাপনে সরকারি খাত থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করা যাবে। ‘গ’ শ্রেণির দিবস পালনে উন্নয়ন খাত থেকে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হবে না। তবে ‘ক’ শ্রেণির দিবস পালনে নির্দিষ্ট কোনো ব্যয়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।

দিবস উদ্‌যাপনে অতিরিক্ত সাজসজ্জা ও বড় আয়োজন যথাসম্ভব পরিহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব উপলক্ষে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম এবং বেতার ও টেলিভিশনে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে। তবে কর্মদিবসে সমাবেশ বা শোভাযাত্রা আয়োজন এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মচারীদের ঢাকায় আনার ক্ষেত্রেও সংযত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া শিক্ষা সপ্তাহ, প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ, বিজ্ঞান সপ্তাহ, বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ, বিশ্ব শিশু সপ্তাহ, জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ, সশস্ত্র বাহিনী দিবস, পুলিশ সপ্তাহ, বিজিবি সপ্তাহ, আনসার সপ্তাহ, মৎস্যপক্ষ, বৃক্ষরোপণ অভিযান ও জাতীয় ক্রীড়া সপ্তাহ পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা নিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

নতুন পরিপত্র জারির মাধ্যমে গত ১১ মার্চ জারি করা আগের পরিপত্রটি বাতিল করা হয়েছে। ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালনের ক্ষেত্রে এখন থেকে নতুন নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের গাফিলতিতে প্রশ্ন ফাঁস?

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের গাফিলতিতে প্রশ্ন ফাঁস?

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যাদের, তাদের তদারকির মধ্যেই যদি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে, তাহলে সেই ব্যর্থতার দায় নেবে কে? যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে এখন এ প্রশ্নই সামনে এসেছে। ২৪২টি পদের বিপরীতে ৩ লাখ ১৯ হাজার প্রার্থীর অংশ নেওয়ার কথা ছিল পরীক্ষায়। কিন্তু পরীক্ষার কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ এবং ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নের সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের মিল পাওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এর মধ্যে ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে চাকরি নিশ্চিত করার প্রস্তাব পাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সব মিলিয়ে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের গাফিলতি এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য দুর্নীতির বিষয়গুলো তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে।

  • চাকরির নামে ২৫ লাখ টাকা চাওয়ার অভিযোগ
  • ২৪২ পদের নিয়োগ ঘিরে অনিয়ম
  • দায়ীদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে অনিয়মের ঝুঁকি এড়ানোর পদক্ষেপ হলেও প্রশ্নপত্র কীভাবে বাইরে গেল, নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোথায় ঘাটতি ছিল এবং চাকরির নামে অর্থ চাওয়ার অভিযোগের সঙ্গে কোনো চক্র জড়িত কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে চাকরিপ্রার্থীদের প্রত্যাশা, তদন্ত যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং দায় নির্ধারণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে।

প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তায় গাফিলতি ছিল কি?
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, গত শনিবার রাজধানীর ৯৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। পরীক্ষার কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে। পরে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নের সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের মিল পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করে। আগামী ১৬ অক্টোবর নতুন তারিখে পরীক্ষা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

একটি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও কেন্দ্রে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। ফলে প্রশ্নপত্র বাইরে যাওয়ার অভিযোগের পর এসব ধাপে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা জরুরি। নিরাপত্তাব্যবস্থায় অবহেলা, নিয়ম ভঙ্গ কিংবা দায়িত্ব পালনে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দায়ী করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

২৫ লাখ টাকায় চাকরির প্রস্তাব
পরীক্ষার আগেই চাকরি নিশ্চিত করার প্রস্তাব পাওয়ার দাবি করেছেন এক চাকরিপ্রার্থী। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তিনি জানান, পঞ্চগড়ে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে তার কাছে ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে চাকরি নিশ্চিত করার প্রস্তাব আসে। বলা হয়েছিল, পরীক্ষার আগের রাতে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রশ্ন সরবরাহ করা হবে।

ওই প্রার্থীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে তাকে একটি নির্ধারিত স্থানে নিয়ে রাখার কথা বলা হয়। তিনি রাজি না হওয়ায় পরে জানানো হয়, পরীক্ষার দিন সকালে তার বাসায় প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে একজন হাজির হবেন এবং তাকে কেন্দ্রে নিয়ে যাবেন। অন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগ না করার শর্তও দেওয়া হয়েছিল। প্রস্তাবে সম্মতি দিলে পরীক্ষার আগে মোট অর্থের অর্ধেক এবং প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হলে বাকি টাকা দিতে হতো বলে দাবি করেন তিনি। তবে তিনি প্রস্তাবে রাজি হননি।

বিভিন্ন সূত্রের দাবি, এ ধরনের চক্র ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে চাকরি নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেয়। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় কিংবা অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে তাদের যোগসাজশ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাই অর্থের বিনিময়ে চাকরির প্রস্তাবের অভিযোগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা প্রমাণের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।

ভোগান্তির দায় নেবে কে?
পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা চাকরিপ্রার্থীদের বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। ঠাকুরগাঁও থেকে আসা পরীক্ষার্থী শামীম রেজা জানান, আবেদন ও আনুষঙ্গিক খরচের পাশাপাশি ঢাকায় আসতে তার বাসভাড়া লেগেছে ১ হাজার ২০০ টাকা। বন্ধুর মেসে থেকে প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা দিতে পারেননি। বাড়ি ফিরতেও আবার যাতায়াতের খরচ বহন করতে হবে তাকে।

অনেক প্রার্থী টিউশনির আয় কিংবা ধার করা অর্থ দিয়ে আবেদন ও যাতায়াতের ব্যয় মেটান। ফলে নিয়োগ পরীক্ষার এমন অনিশ্চয়তা তাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করেছে। এ কারণে পরীক্ষার্থীদের ক্ষতি বিবেচনায় উপযুক্ত প্রতিকার এবং ভবিষ্যতে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি উঠেছে।

ছাত্রদল-এনসিপির দাবি, ডাকসুর ভিপির চার দফা
প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রমাণ পাওয়া গেলে পরীক্ষা স্থগিত করা আগের অনিয়মের অভিযোগ উপেক্ষা করে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার চেয়ে শ্রেয়তর পদক্ষেপ। তবে দায়ীদের কঠোরতম শাস্তি এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছে তারা।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা আয়োজন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ বা উপযুক্ত প্রতিকারের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অপসারণসহ চার দফা দাবি জানিয়েছেন। তার দাবির মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে বিচার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যয় বিবেচনায় ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

তদন্তে বেরিয়ে আসুক প্রকৃত দায়
প্রশ্নপত্র কীভাবে বাইরে গেল, নিরাপত্তাব্যবস্থায় অবহেলা ছিল কি না এবং চাকরি নিশ্চিতের নামে অর্থ চাওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়োগপ্রক্রিয়ার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময়সীমাও যাচাই করা জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং তদন্তের ফল প্রকাশ করা উচিত। ভবিষ্যতে নিয়োগ পরীক্ষার প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা, নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি থেকেই যাবে। তাই এখন শুধু নতুন তারিখে পরীক্ষা আয়োজন নয়, বরং প্রশ্ন ফাঁসের উৎস শনাক্ত, প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় নির্ধারণ এবং চাকরিপ্রার্থীদের আস্থা ফিরিয়ে আনাই কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্ব।

কালের আলো/জেএন/এমকে

গ্রেপ্তারের আগে বিদেশ যেতে রিট, আটক হওয়ার পর আর এগোলেন না গুলশান আরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ
গ্রেপ্তারের আগে বিদেশ যেতে রিট, আটক হওয়ার পর আর এগোলেন না গুলশান আরা

গ্রেপ্তারের আগে বিদেশ যেতে চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট গুলশান আরা। বিদেশযাত্রায় তাঁকে যেন বাধা দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে আদালতের অনুমতি চেয়েছিলেন তিনি। তবে গ্রেপ্তারের বিষয়টি আদালতকে জানানোর পর আবেদনটি আর চালাতে চাননি তাঁর আইনজীবীরা। পরে আদালত আবেদনটি ‘নট প্রেস’ হিসেবে খারিজ করে দেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। আদালত সূত্রে জানা যায়, বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে রিটটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত ছিল। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতে প্রতিনিধিত্ব করেন। তবে গ্রেপ্তারের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়ায় আবেদনটি আর এগিয়ে নেওয়া হয়নি।

  • গ্রেপ্তারের তথ্য আদালতকে জানানোর পর আবেদন খারিজ
  • সন্ত্রাসবিরোধী ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের মামলায় ডিবির হাতে গ্রেপ্তার অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তা

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, গুলশান আরা মূলত বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে তাঁকে যেন বাধা দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেছিলেন। আবেদনটি ওই বেঞ্চে আইটেম নম্বর চার হিসেবে ছিল এবং আদেশের জন্য নির্ধারিত ছিল।

তিনি আরও বলেন, গুলশান আরার পক্ষে আইনজীবী আদালতকে জানিয়েছেন, এর মধ্যে একটি পরবর্তী ঘটনা ঘটেছে। সেটি হলো, একটি সুনির্দিষ্ট মামলায় লেফটেন্যান্ট (অব.) গুলশান আরাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে হেফাজতে আছেন। এ কারণে তাঁরা মামলাটি আর চালাতে চান না। পরে তাঁদের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত মামলাটি ‘নট প্রেস’ করে দিয়েছেন, অর্থাৎ আবেদনটি খারিজ করেছেন।

কী অভিযোগে গ্রেপ্তার?
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গুলশান আরাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে সহযোগীদের নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী প্রচারণা চালানো, উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার এবং অবৈধ অর্থায়নের মাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে করা মামলার আসামি গুলশান আরার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ কুমার বড়ুয়াকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্তের তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

রিট খারিজের তাৎপর্য কী?
গুলশান আরার রিট আবেদনটি খারিজ হওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল গ্রেপ্তারের পর মামলার পরিস্থিতি পরিবর্তন। তাঁর আইনজীবীরা আদালতকে জানান, তিনি হেফাজতে থাকায় বিদেশযাত্রা-সংক্রান্ত আবেদনটি আর চালানোর প্রয়োজন নেই। সে পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আবেদনটি ‘নট প্রেস’ করেন।
আইনগতভাবে ‘নট প্রেস’ বলতে সাধারণত আবেদনকারী বা তাঁর আইনজীবীর পক্ষ থেকে আবেদনটি আর এগিয়ে না নেওয়ার বিষয়টি বোঝায়। এ ধরনের আদেশকে মামলার মূল অভিযোগের বিষয়ে দোষী বা নির্দোষ ঘোষণার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যায় না। একইভাবে, বিদেশযাত্রার অনুমতি চেয়ে করা রিট খারিজ হওয়াও সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি মামলার অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করে না।

ঘটনাটি একই সঙ্গে দুটি পৃথক আইনি প্রক্রিয়ার বিষয় সামনে এনেছে—একদিকে বিদেশযাত্রায় বাধা না দেওয়ার আবেদন, অন্যদিকে ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার ও হেফাজত। প্রথম আবেদনটির নিষ্পত্তি হয়েছে আইনজীবীদের আর না এগোনোর সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে; অপরদিকে গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও অভিযোগের বিচার পৃথক বিষয়। এখন সংশ্লিষ্ট মামলায় অভিযোগের ভিত্তি, তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নজর থাকবে।

কালের আলো/এমএসআইপি/এমকে