খুঁজুন
                               
, ,
           

অসুস্থতার প্রতিটি কষ্টে মুমিনের গুনাহ মাফ করেন আল্লাহ

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
অসুস্থতার প্রতিটি কষ্টে মুমিনের গুনাহ মাফ করেন আল্লাহ
সুস্থতা মহান আল্লাহ তাআলার অন্যতম বড় নেয়ামত। সুস্থ শরীর মানুষের দৈনন্দিন কাজ, ইবাদত-বন্দেগি ও কল্যাণকর কাজে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে। এ কারণে ইসলাম ধর্মে সুস্থতার জন্য দোয়া করা এবং আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে অসুস্থতা কিংবা বিপদ-আপদে পড়লেও মুমিনের হতাশ হওয়ার কারণ নেই। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, রোগ-ব্যাধি ও দুঃখ-কষ্টের সময় ধৈর্য ধারণ করলে তা গুনাহ মাফ এবং মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

সুস্থতা আল্লাহর বড় নেয়ামত

বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজে সুস্থতার জন্য দোয়া করতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকেও আল্লাহর কাছে ক্ষমা, নিরাপত্তা ও সুস্থতা চাইতে উৎসাহিত করতেন।

সুনানে তিরমিযি ও সুনানে নাসায়িতে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর কাছে ক্ষমা, নিরাপত্তা ও সুস্থতা প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। ঈমানের পর নিরাপত্তা ও সুস্থতা মানুষের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান নেয়ামত।

তাই একজন মুমিনের উচিত সুস্থতার সময় আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা এবং সেই সুস্থতাকে ইবাদত, সৎকর্ম ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো।

অসুস্থতা মুমিনের জন্য পরীক্ষাও হতে পারে

ইসলামের দৃষ্টিতে অসুস্থতা জীবনের একটি পরীক্ষা। এ সময় ধৈর্য ধারণ, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং তাঁর কাছে রোগমুক্তির প্রার্থনা করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

কোনো মুমিন অসুস্থ হলে তার উচিত হতাশ না হয়ে আল্লাহর রহমতের আশা রাখা। রোগের কষ্টের সময় ধৈর্য ধারণ করলে সেই কষ্ট তার গুনাহ মোচন এবং মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

সুনানে আবু দাউদে উম্মুল আলা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে গিয়ে সুসংবাদ দেন। তিনি বলেন, আগুন যেভাবে সোনা-রুপার ময়লা দূর করে দেয়, তেমনি আল্লাহ কোনো মুসলিমের অসুস্থতার মাধ্যমে তার গুনাহ দূর করে দেন। (সুনানে আবু দাউদ: ৩০৯২)

বিপদ-আপদেও গুনাহ মাফের সুসংবাদ

শুধু অসুস্থতা নয়, জীবনের বিভিন্ন দুঃখ-কষ্ট ও বিপদ-আপদও মুমিনের গুনাহ মোচনের কারণ হতে পারে।

সহিহ বুখারিতে আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলিম রোগ, দুশ্চিন্তা, দুঃখ, কষ্ট কিংবা অন্য কোনো বিপদে আক্রান্ত হলে, এমনকি তার শরীরে কাঁটা ফুটলেও, আল্লাহ এর বিনিময়ে তার গুনাহ মাফ করেন। (সহিহ বুখারি: ৫৬৪১; সহিহ মুসলিম: ২৫৭২)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, মুমিনের জীবনের কষ্ট অর্থহীন নয়। আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রেখে ধৈর্য ধারণ করলে দুঃখ-কষ্টও তার জন্য আখিরাতের কল্যাণের কারণ হতে পারে।

নবীজি (সা.)-এর অসুস্থতা থেকেও রয়েছে শিক্ষা

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) একবার অসুস্থ অবস্থায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে দেখতে গিয়ে তাঁর জ্বরের তীব্রতা অনুভব করেন। তিনি নবীজিকে বলেন, আপনি তো প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছেন।

জবাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) জানান, সাধারণ মানুষের তুলনায় তিনি দ্বিগুণ জ্বরে আক্রান্ত হন। তখন ইবনে মাসউদ (রা.) তাঁর জন্য দ্বিগুণ সওয়াবের কথা বললে নবীজি (সা.) তা স্বীকার করেন।

সহিহ বুখারির বর্ণনায় আরও এসেছে, কোনো মুসলিম রোগ-ব্যাধি বা অন্য কোনো কষ্টে আক্রান্ত হলে আল্লাহ তার গুনাহ ঝরিয়ে দেন, যেমন গাছ তার পাতা ঝরিয়ে দেয়। (সহিহ বুখারি: ৫৬৬৭)

এই শিক্ষা মুমিনকে অসুস্থতার সময় ধৈর্য ধরতে এবং আল্লাহর রহমতের আশা রাখতে উৎসাহিত করে।

সুখে শুকরিয়া, দুঃখে ধৈর্য

ইসলামে শুধু বিপদে ধৈর্য ধারণের কথা বলা হয়নি; বরং সুস্থতা, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও প্রাচুর্যের সময় আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকারও নির্দেশনা রয়েছে।

সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, মুমিনের প্রতিটি অবস্থাই তার জন্য কল্যাণকর। সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য পেলে সে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে, যা তার জন্য কল্যাণকর। আর বিপদে পড়লে ধৈর্য ধারণ করে, সেটিও তার জন্য কল্যাণকর। (সহিহ মুসলিম: ৭২২৯)

অর্থাৎ, সুস্থতার সময় ইবাদত ও সৎকর্মে আত্মনিয়োগ করা এবং অসুস্থতার সময় ধৈর্য ধরে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া—দুটিই একজন মুমিনের জন্য কল্যাণের পথ হতে পারে।

অসুস্থ হলে চিকিৎসা নেওয়াও জরুরি

অসুস্থতাকে গুনাহ মাফের সম্ভাব্য মাধ্যম হিসেবে দেখার অর্থ এই নয় যে চিকিৎসা গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে। বরং অসুস্থ হলে যথাযথ চিকিৎসা নেওয়া, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা এবং একই সঙ্গে আল্লাহর কাছে সুস্থতা প্রার্থনা করা উচিত।

রোগের কষ্টে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধারণ করা, আল্লাহর প্রতি আস্থা রাখা এবং সুস্থতার জন্য দোয়া করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। একইভাবে সুস্থ অবস্থায় আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে তা ভালো কাজে ব্যবহার করাও মুমিনের দায়িত্ব।

কালের আলো/এসএ

ওয়ার্ল্ডশেফসের সদস্যপদ পেল বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
ওয়ার্ল্ডশেফসের সদস্যপদ পেল বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশন
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেফ ও রন্ধনশিল্পের পেশাজীবীদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব শেফস সোসাইটিসের (ওয়ার্ল্ডশেফস) ন্যাশনাল মেম্বারশিপ পেয়েছে বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশন (বিসিএফ)। এই সদস্যপদ অর্জনের ফলে বাংলাদেশের শেফ ও রন্ধনশিল্পের পেশাজীবীদের আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ, রন্ধন প্রতিযোগিতা এবং পেশাগত নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে দেশের রন্ধনশিল্পের বিকাশ এবং শেফদের দক্ষতা উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিসিএফের ওয়ার্ল্ডশেফসের ন্যাশনাল মেম্বারশিপ অর্জনের বিষয়টি ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ডশেফসের সনদপ্রাপ্ত মাস্টার শেফ ও বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা নাজিম খান।

এ সময় সংগঠনটির সভাপতি শহীদ শাহীন, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ মোশারফ এবং অর্থ সম্পাদক বায়েজিদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ

সংবাদ সম্মেলনে বিসিএফের প্রতিনিধিরা জানান, ওয়ার্ল্ডশেফসের সদস্যপদ বাংলাদেশের রন্ধনশিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে দেশের শেফরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেফদের সঙ্গে পেশাগত যোগাযোগ গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক রন্ধন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও বাড়বে।

রন্ধনশিল্পে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জন, নতুন কৌশল সম্পর্কে জ্ঞান লাভ এবং বৈশ্বিক পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রে এ সদস্যপদ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংগঠনটির প্রতিনিধিরা।

দক্ষ শেফ তৈরিতে উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের পরিকল্পনা

দেশের রন্ধনশিল্পের অগ্রগতি এবং শেফদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশন। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের দক্ষ রন্ধনশিল্পী তৈরি এবং এ পেশায় যুক্ত ব্যক্তিদের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও কাজ করবে সংগঠনটি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের পেশাগত নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের শেফরা নিজেদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ করতে পারবেন। এর ফলে দেশের রন্ধনশিল্পের মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পথও সুগম হতে পারে।

বিশ্বজুড়ে শেফদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ওয়ার্ল্ডশেফস

ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব শেফস সোসাইটিস বা ওয়ার্ল্ডশেফস বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেফ ও রন্ধনশিল্পের পেশাজীবীদের নিয়ে কাজ করা একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন। শেফদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পেশাগত উন্নয়নে সংগঠনটি ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশনের এই সদস্যপদ দেশের রন্ধনশিল্পের সঙ্গে যুক্ত পেশাজীবীদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। এখন প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত কার্যক্রমের মাধ্যমে এই সুযোগ কতটা কাজে লাগানো যায়, সেটিই হবে দেশের রন্ধনশিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

কালের আলো/এসএ

জঙ্গল সলিমপুরের সমস্যা সমাধানে মাঠে নামছে একাধিক সংস্থা

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
জঙ্গল সলিমপুরের সমস্যা সমাধানে মাঠে নামছে একাধিক সংস্থা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিনের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ পরিকল্পনার আওতায় সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হবে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় জঙ্গল সলিমপুরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এলাকার বিদ্যমান সমস্যাগুলো মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা

সভায় জঙ্গল সলিমপুরে স্থায়ীভাবে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আইনানুগ কার্যক্রম জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে এলাকার সাধারণ মানুষ যাতে নিরাপদ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এলাকার সমস্যাগুলো সমাধানে একটি কার্যকর ও বাস্তবসম্মত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে সমন্বয় আনা সম্ভব হবে।

জঙ্গল সলিমপুরের মতো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তাও সভায় আলোচনায় আসে।

দায়িত্ব ও কার্যক্রমে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব

মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়। পরিকল্পনার লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রত্যেক সংস্থার দায়িত্ব ও কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা জঙ্গল সলিমপুরের বিদ্যমান সমস্যাগুলো মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। পাশাপাশি এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তবে মাস্টারপ্ল্যানের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা, বাস্তবায়নের সময়সীমা কিংবা কোন সংস্থা কী দায়িত্ব পালন করবে, সে বিষয়ে সভার বক্তব্যে নির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

এ ছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নুরুল আমিন, সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সন্ধানী বার্তা/ডিএইচ/এমএসআইপি

উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে আমন্ত্রণ গ্রহণ রাষ্ট্রপতির

শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ
উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে আমন্ত্রণ গ্রহণ রাষ্ট্রপতির
শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এর আশপাশের এলাকা সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ লক্ষ্য অর্জনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে বঙ্গভবনে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখা।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মাদকমুক্ত রাখার তাগিদ

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তথা শিক্ষার্থী ও তরুণদের মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। সংশ্লিষ্টদের মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, তরুণ সমাজকে সুরক্ষিত রাখতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তৎপরতা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ মাদক প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা

সৌজন্য সাক্ষাতে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখা রাষ্ট্রপতিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন।

এ সময় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, সীমাবদ্ধতা ও বিদ্যমান সমস্যার বিষয়েও রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। রাষ্ট্রপতি এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দেন।

সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ গ্রহণ

সাক্ষাৎকালে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আচার্য হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখা।

রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবসহ উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা, সহকারী অধ্যাপক এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মাদক প্রতিরোধে প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ

শিক্ষার্থী ও তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর নজরদারি এবং পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের জন্য সুস্থ সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াচর্চার পরিবেশ তৈরি এবং মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ায় তরুণ প্রজন্মের সুরক্ষা এবং মাদক প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

কালের আলো/এসএ