খুঁজুন
                               
, ,
           

বিমানবন্দর সম্প্রসারণে ব্যয় বাড়ল ৭৬৫ কোটি, বড় অঙ্কের কেনাকাটায় সায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
বিমানবন্দর সম্প্রসারণে ব্যয় বাড়ল ৭৬৫ কোটি, বড় অঙ্কের কেনাকাটায় সায়

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের নির্মাণ ও পরামর্শক খাতে ব্যয় বাড়ছে ৭৬৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকার বেশি। এর মধ্যে নির্মাণকাজে অতিরিক্ত ৩৬০ কোটি ৬৫ লাখ ২২ হাজার টাকা এবং পরামর্শক সেবায় ৪০৫ কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এতে বিমানবন্দরের নির্মাণকাজের চুক্তিমূল্য বেড়ে দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২০ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা। একই বৈঠকে ২ লাখ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানি, ১০ হাজার মেট্রিক টন চিনি কেনা এবং নয়টি এলএনজি কার্গো আমদানির দর প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের বাইরে থাকায় ভার্চ্যুয়ালি বৈঠকে অংশ নিয়ে সভাপতিত্ব করেন।

  • শাহজালালের নির্মাণ ও পরামর্শক ব্যয়ে সংশোধন
  • অনুমোদন পেল সার আমদানির ছয় প্রস্তাব,
  • চিনি কেনা ও ৯ কার্গো এলএনজির দর

নির্মাণ ব্যয় বেড়ে ২০ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ (১ম পর্যায়) (৩য় সংশোধিত)’ প্রকল্পের নির্মাণকাজের ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। এতে অতিরিক্ত ব্যয় হবে ৩৬০ কোটি ৬৫ লাখ ২২ হাজার টাকা। প্রকল্পটির নির্মাণকাজের মূল চুক্তিমূল্য ছিল ২০ হাজার ৫৯৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। ব্যয় বৃদ্ধির পর সংশোধিত চুক্তিমূল্য দাঁড়াবে ২০ হাজার ৯৫৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম। এতে যৌথভাবে রয়েছে জাপানের মিতসুবিশি করপোরেশন ও ফুজিতা করপোরেশন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সিঅ্যান্ডটি।

পরামর্শক খাতে অতিরিক্ত ৪০৫ কোটি টাকা
বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরামর্শক সেবার ব্যয়ও বাড়ানো হয়েছে। এ খাতে অতিরিক্ত ৪০৫ কোটি টাকার ভেরিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ক্রয় কমিটি। পরামর্শক সেবার মূল চুক্তিমূল্য ছিল ৭৭১ কোটি ৭১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। ব্যয় বৃদ্ধির ফলে সংশোধিত চুক্তিমূল্য দাঁড়াচ্ছে ১ হাজার ১৭৬ কোটি ৭১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। প্রকল্পটির পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে জাপানের নিপ্পন কোয়ি কোম্পানি লিমিটেড ও ওরিয়েন্টাল কনসালট্যান্টস গ্লোবাল কোম্পানি লিমিটেড, সিঙ্গাপুরের সিপিজি কনসালট্যান্টস পিটিই লিমিটেড এবং বাংলাদেশের ডেভেলপমেন্ট ডিজাইন কনসালট্যান্টস লিমিটেডের সমন্বয়ে গঠিত পরামর্শক দল।

২ লাখ ৩৭ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন
বৈঠকে ইউরিয়া, এমওপি ও ডিএপি—এই তিন ধরনের মোট ২ লাখ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির ছয়টি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, রাশিয়া ও কানাডা থেকে সার আমদানি।

ইউরিয়া সার : সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্রানুলার ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে। প্রতি টনের দাম ৪৪৬ দশমিক ৬৭ মার্কিন ডলার। এতে ব্যয় হবে ২২০ কোটি ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, সিএফআর ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব থেকে ৪২ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে। প্রতি টনের দাম ৫৩১ দশমিক ৬৭ ডলার। এ প্রস্তাবে ব্যয় হবে ২৭৫ কোটি ৭৭ লাখ ৭২ হাজার টাকা।

এমওপি সার: রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রুডিনটর্গ) থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানি করা হবে। রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় প্রতি টনের দাম ৩৮৩ দশমিক ৮০ ডলার। এতে ব্যয় হবে ১৬৬ কোটি ৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এ ছাড়া কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন থেকে ৪০ হাজার টন করে দুটি পৃথক চালানে মোট ৮০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার কেনা হবে। প্রতি টনের দাম ৩৮২ দশমিক ৩৮ ডলার। দুই চালানে মোট ব্যয় হবে ৩৭৭ কোটি ৭৯ লাখ ১৪ হাজার টাকা।

ডিএপি সার: সৌদি আরবের মা-এডেন থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে। রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় প্রতি টনের দাম ৮৬১ দশমিক ৫০ ডলার। এতে ব্যয় হবে ৪২৫ কোটি ৫৮ লাখ ১০ হাজার টাকা।

১০ হাজার টন চিনি কিনতে ব্যয় ১০৩ কোটি টাকা
দেশীয় বাজার থেকে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ১০ হাজার মেট্রিক টন চিনি কেনার দুটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ই-জিপির মাধ্যমে ৫০ কেজির বস্তায় সরবরাহের জন্য প্রতি প্রস্তাবে পাঁচ হাজার টন করে চিনি কেনা হবে। উভয় প্রস্তাবেই সরবরাহকারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে মেঘনা সুগার রিফাইনারি লিমিটেড। প্রথম প্রস্তাবে প্রতি কেজি চিনির দাম ১০২ টাকা ৯৫ পয়সা। এতে ব্যয় হবে ৫১ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

দ্বিতীয় প্রস্তাবে প্রতি কেজি চিনির দাম ১০৩ টাকা ৯৫ পয়সা। এতে ব্যয় হবে ৫১ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। দুটি প্রস্তাবে প্রতি কেজি চিনির দামের পার্থক্য এক টাকা। সব মিলিয়ে ১০ হাজার টন চিনি কিনতে মোট ব্যয় হবে ১০৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আসবে এলএনজি কার্গো
বৈঠকে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ব্যবস্থায় ট্রাফিগুরা পিটিই লিমিটেড থেকে নয়টি এলএনজি কার্গো আমদানির দর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে উভয় পক্ষের সম্মতিতে কার্গোর সংখ্যা কম বা বেশি হতে পারে। অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এসব এলএনজি কার্গো আমদানি করা হবে। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির অনুমোদিত দর জেকেএমের (জাপান-কোরিয়া মার্কার) তুলনায় ০.১০ মার্কিন ডলার কম। বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি, সার ও চিনি আমদানি এবং এলএনজি সরবরাহের দর অনুমোদনের মধ্য দিয়ে বৈঠকে অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহসংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্রয় প্রস্তাবের নিষ্পত্তি হয়েছে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

ওয়ার্ল্ডশেফসের সদস্যপদ পেল বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
ওয়ার্ল্ডশেফসের সদস্যপদ পেল বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশন
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেফ ও রন্ধনশিল্পের পেশাজীবীদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব শেফস সোসাইটিসের (ওয়ার্ল্ডশেফস) ন্যাশনাল মেম্বারশিপ পেয়েছে বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশন (বিসিএফ)। এই সদস্যপদ অর্জনের ফলে বাংলাদেশের শেফ ও রন্ধনশিল্পের পেশাজীবীদের আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ, রন্ধন প্রতিযোগিতা এবং পেশাগত নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে দেশের রন্ধনশিল্পের বিকাশ এবং শেফদের দক্ষতা উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিসিএফের ওয়ার্ল্ডশেফসের ন্যাশনাল মেম্বারশিপ অর্জনের বিষয়টি ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ডশেফসের সনদপ্রাপ্ত মাস্টার শেফ ও বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা নাজিম খান।

এ সময় সংগঠনটির সভাপতি শহীদ শাহীন, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ মোশারফ এবং অর্থ সম্পাদক বায়েজিদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ

সংবাদ সম্মেলনে বিসিএফের প্রতিনিধিরা জানান, ওয়ার্ল্ডশেফসের সদস্যপদ বাংলাদেশের রন্ধনশিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে দেশের শেফরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেফদের সঙ্গে পেশাগত যোগাযোগ গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক রন্ধন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও বাড়বে।

রন্ধনশিল্পে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জন, নতুন কৌশল সম্পর্কে জ্ঞান লাভ এবং বৈশ্বিক পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রে এ সদস্যপদ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংগঠনটির প্রতিনিধিরা।

দক্ষ শেফ তৈরিতে উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের পরিকল্পনা

দেশের রন্ধনশিল্পের অগ্রগতি এবং শেফদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশন। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের দক্ষ রন্ধনশিল্পী তৈরি এবং এ পেশায় যুক্ত ব্যক্তিদের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও কাজ করবে সংগঠনটি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের পেশাগত নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের শেফরা নিজেদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ করতে পারবেন। এর ফলে দেশের রন্ধনশিল্পের মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পথও সুগম হতে পারে।

বিশ্বজুড়ে শেফদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ওয়ার্ল্ডশেফস

ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব শেফস সোসাইটিস বা ওয়ার্ল্ডশেফস বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেফ ও রন্ধনশিল্পের পেশাজীবীদের নিয়ে কাজ করা একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন। শেফদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পেশাগত উন্নয়নে সংগঠনটি ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশনের এই সদস্যপদ দেশের রন্ধনশিল্পের সঙ্গে যুক্ত পেশাজীবীদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। এখন প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত কার্যক্রমের মাধ্যমে এই সুযোগ কতটা কাজে লাগানো যায়, সেটিই হবে দেশের রন্ধনশিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

কালের আলো/এসএ

জঙ্গল সলিমপুরের সমস্যা সমাধানে মাঠে নামছে একাধিক সংস্থা

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
জঙ্গল সলিমপুরের সমস্যা সমাধানে মাঠে নামছে একাধিক সংস্থা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিনের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ পরিকল্পনার আওতায় সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হবে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় জঙ্গল সলিমপুরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এলাকার বিদ্যমান সমস্যাগুলো মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা

সভায় জঙ্গল সলিমপুরে স্থায়ীভাবে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আইনানুগ কার্যক্রম জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে এলাকার সাধারণ মানুষ যাতে নিরাপদ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এলাকার সমস্যাগুলো সমাধানে একটি কার্যকর ও বাস্তবসম্মত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে সমন্বয় আনা সম্ভব হবে।

জঙ্গল সলিমপুরের মতো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তাও সভায় আলোচনায় আসে।

দায়িত্ব ও কার্যক্রমে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব

মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়। পরিকল্পনার লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রত্যেক সংস্থার দায়িত্ব ও কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা জঙ্গল সলিমপুরের বিদ্যমান সমস্যাগুলো মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। পাশাপাশি এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তবে মাস্টারপ্ল্যানের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা, বাস্তবায়নের সময়সীমা কিংবা কোন সংস্থা কী দায়িত্ব পালন করবে, সে বিষয়ে সভার বক্তব্যে নির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

এ ছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নুরুল আমিন, সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সন্ধানী বার্তা/ডিএইচ/এমএসআইপি

উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে আমন্ত্রণ গ্রহণ রাষ্ট্রপতির

শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ
উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে আমন্ত্রণ গ্রহণ রাষ্ট্রপতির
শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এর আশপাশের এলাকা সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ লক্ষ্য অর্জনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে বঙ্গভবনে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখা।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মাদকমুক্ত রাখার তাগিদ

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তথা শিক্ষার্থী ও তরুণদের মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। সংশ্লিষ্টদের মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, তরুণ সমাজকে সুরক্ষিত রাখতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তৎপরতা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ মাদক প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা

সৌজন্য সাক্ষাতে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখা রাষ্ট্রপতিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন।

এ সময় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, সীমাবদ্ধতা ও বিদ্যমান সমস্যার বিষয়েও রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। রাষ্ট্রপতি এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দেন।

সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ গ্রহণ

সাক্ষাৎকালে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আচার্য হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখা।

রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবসহ উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা, সহকারী অধ্যাপক এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মাদক প্রতিরোধে প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ

শিক্ষার্থী ও তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর নজরদারি এবং পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের জন্য সুস্থ সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াচর্চার পরিবেশ তৈরি এবং মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ায় তরুণ প্রজন্মের সুরক্ষা এবং মাদক প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

কালের আলো/এসএ