খুঁজুন
                               
, ,
           

ইস্ট ওয়েস্টের শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে এআই প্রশিক্ষণ দেবে হুয়াওয়ে

শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২০ অপরাহ্ণ
ইস্ট ওয়েস্টের শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে এআই প্রশিক্ষণ দেবে হুয়াওয়ে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী খাতের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেবে চীনের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে প্রতিষ্ঠানটি। চুক্তির আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু করা হবে হুয়াওয়ে আইসিটি একাডেমি, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিনা মূল্যে এআইবিষয়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে হুয়াওয়ে বাংলাদেশ।

অনলাইনেই নেওয়া যাবে প্রশিক্ষণ

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে হুয়াওয়ে আইসিটি একাডেমি চালুর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এআইনির্ভর বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা হুয়াওয়ের অনলাইন এআই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে নিজেদের সুবিধামতো সময়ে অনলাইনে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ থাকবে।

এ উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি তত্ত্বাবধান ও পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।

বিশ্বমানের এআই শিক্ষা পাওয়ার সুযোগ

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য মোহাম্মদ আশিক মোসাদ্দিক বলেন, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আইসিটি সলিউশন ও ইকুইপমেন্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে হুয়াওয়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে বিশ্বমানের সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে হুয়াওয়ে আইসিটি একাডেমি চালু হতে যাচ্ছে—এটি তাঁদের জন্য আনন্দের বিষয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এআই বিষয়ে সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে শেখার সুযোগ পাবেন।

দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্ব হুয়াওয়ের

হুয়াওয়ে দক্ষিণ এশিয়ার পাবলিক অ্যাফেয়ার্স বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মা বেন বলেন, বাংলাদেশের উদ্ভাবনী অর্থনীতি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, শিল্প ও শিক্ষা খাতের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণদের ডিজিটাল ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে চায় হুয়াওয়ে।

সমঝোতা স্মারকে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য মোহাম্মদ আশিক মোসাদ্দিক এবং হুয়াওয়ে দক্ষিণ এশিয়ার পাবলিক অ্যাফেয়ার্স বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মা বেন সই করেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি হলে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জন এবং ভবিষ্যতের উদ্ভাবনী খাতের চাহিদা পূরণে তা সহায়ক হতে পারে।

কালের আলো/এসএ

মেমোরি চিপের সংকটে স্মার্টফোনের বাজারে ১৪ বছরের রেকর্ড ধস

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৩ অপরাহ্ণ
মেমোরি চিপের সংকটে স্মার্টফোনের বাজারে ১৪ বছরের রেকর্ড ধস

মেমোরি চিপের তীব্র সংকট ও মূল্যবৃদ্ধিতে বিশ্ববাজারে স্মার্টফোন সরবরাহে বড় ধরনের ধস নেমেছে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোন সরবরাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ কমেছে। বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ বছরের মধ্যে বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে এবারই স্মার্টফোন সরবরাহ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অবকাঠামো নির্মাণে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগ বাড়ায় মেমোরি চিপের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এআই খাতে চিপের ব্যাপক ব্যবহার স্মার্টফোন নির্মাতাদের সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে চিপের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে স্মার্টফোনের উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজারদামে।

এআইয়ের চাহিদায় চিপের সংকট, বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়

কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন অবকাঠামো ও প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ মেমোরি চিপ প্রয়োজন হচ্ছে। ফলে চিপ উৎপাদন ও সরবরাহের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে স্মার্টফোন নির্মাতারা প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সংগ্রহে সমস্যায় পড়ছেন।

চিপের সরবরাহ সীমিত হওয়ার পাশাপাশি মূল্যবৃদ্ধি নির্মাতাদের উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। এ কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানকে স্মার্টফোনের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। আবার কিছু নির্মাতা উৎপাদন ও সরবরাহ কমিয়ে বিক্রির পরিমাণ বাড়ানোর পরিবর্তে মুনাফা ধরে রাখার কৌশল অনুসরণ করছে।

এতে একদিকে বিশ্ববাজারে স্মার্টফোনের সরবরাহ কমছে, অন্যদিকে ক্রেতাদের জন্য নতুন ফোন কেনার খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাজারে শীর্ষে স্যামসাং, তবু সরবরাহ কমেছে

বিশ্ববাজারে স্মার্টফোন সরবরাহ কমলেও তৃতীয় প্রান্তিকে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান স্যামসাং। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের তথ্যমতে, এ সময় বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারের ২৩ শতাংশ ছিল প্রতিষ্ঠানটির দখলে।

গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮ সিরিজের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ এবং মধ্যম দামের স্মার্টফোন তৈরির প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের তুলনামূলক স্থিতিশীল সরবরাহ স্যামসাংকে এগিয়ে থাকতে সহায়তা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে বাজারে শীর্ষ অবস্থানে থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির সরবরাহে পতন হয়েছে। গত বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় স্যামসাংয়ের স্মার্টফোন সরবরাহ কমেছে ৩ শতাংশ।

অ্যাপলের বাজার হিস্যা ২২ শতাংশ

স্যামসাংয়ের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান অ্যাপল। তৃতীয় প্রান্তিকে বিশ্ব স্মার্টফোন বাজারের ২২ শতাংশ দখলে ছিল প্রতিষ্ঠানটির।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর আইফোন ১৭ সিরিজের সব মডেল বাজারে এলেও চলতি বছর আইফোন ১৮ সিরিজের সাধারণ মডেলটি বাজারে আসেনি। ফলে নতুন আইফোন বাজারে ছাড়ার প্রথম মাসে বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় কম ছিল।

স্মার্টফোন বাজারে অ্যাপলের অবস্থান শক্তিশালী থাকলেও নতুন মডেল বাজারে আসার সময়সূচি সরবরাহের ওপর প্রভাব ফেলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চীনা ব্র্যান্ডগুলোর সরবরাহে বড় পতন

মেমোরি চিপের সংকটে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে কয়েকটি চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের তথ্যমতে, তৃতীয় প্রান্তিকে অপো ও ভিভোর স্মার্টফোন সরবরাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশের বেশি কমেছে। শাওমির সরবরাহ কমেছে ৩০ শতাংশেরও বেশি।

মুনাফা ধরে রাখার কৌশলের অংশ হিসেবে শাওমি কম দামের স্মার্টফোনের বাজারে নিজেদের কার্যক্রম সীমিত করেছে। পাশাপাশি কয়েকটি বিদেশি বাজারে ব্যবসার পরিসরও কমিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিশ্লেষকদের মতে, যন্ত্রাংশের দাম বেড়ে গেলে কম দামের স্মার্টফোন তৈরি ও বিক্রি করে আগের মতো মুনাফা অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে নির্মাতারা উৎপাদন কমানো কিংবা তুলনামূলক বেশি দামের মডেলের দিকে ঝুঁকতে পারেন। তবে এমন প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বাজেট ফোনের ক্রেতাদের বিকল্প আরও সীমিত হয়ে পড়তে পারে।

পুরোনো ফোন ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে

কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক শিলপি জৈন বলেন, ক্রেতারা প্রত্যাশার তুলনায় দীর্ঘ সময় পুরোনো স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন। তাঁদের অনেকে নতুন ফোন কেনার পরিবর্তে সংস্কার করা ব্যবহৃত স্মার্টফোনের দিকে ঝুঁকছেন। একই সঙ্গে তুলনামূলক বেশি দামের ও উন্নত সুবিধাসম্পন্ন ফোনের প্রতিও আগ্রহ বাড়ছে।

এই প্রবণতা স্মার্টফোন বাজারে নতুন ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে ক্রেতাদের একটি অংশ ফোনের ব্যবহারকাল বাড়িয়ে নতুন ডিভাইস কেনা পিছিয়ে দিচ্ছেন, অন্যদিকে কেউ কেউ দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের কথা বিবেচনা করে উন্নত সুবিধার ফোন কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন।

ফলে বাজারে কম দামের নতুন স্মার্টফোনের চাহিদা ও সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ব্যবহৃত ও সংস্কার করা ফোনের গুরুত্ব বাড়তে পারে।

বছরের বাকি সময়েও সংকটের আশঙ্কা

চলতি বছরের বাকি সময়েও স্মার্টফোন বাজারে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষকদের মতে, নির্মাতারা উৎপাদন কমানো, স্মার্টফোনের মডেলের সংখ্যা সীমিত করা এবং বেশি দামের ফোনের দিকে মনোযোগ বাড়ানোর কৌশল অব্যাহত রাখতে পারেন।

এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারেন কম বাজেটের ক্রেতারা। মেমোরি চিপ ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের সরবরাহ সীমিত থাকা এবং উৎপাদন ব্যয় বাড়তে থাকলে স্মার্টফোনের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ফোনের দাম বাড়লে নতুন ডিভাইস কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে পারেন অনেক ক্রেতা। এতে বাজারে চাহিদা আরও কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। একই সঙ্গে কম দামের ফোনের বিকল্প সীমিত হয়ে গেলে প্রযুক্তির ব্যবহার ও নতুন ডিভাইস কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের ব্যয়ও বাড়তে পারে।

সব মিলিয়ে এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার স্মার্টফোন শিল্পের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও মেমোরি চিপের সরবরাহ ও দামের ওপর বাড়তি চাপ এই শিল্পকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। আগামী মাসগুলোতে চিপের সরবরাহ পরিস্থিতি এবং নির্মাতাদের মূল্য ও উৎপাদন কৌশলই বিশ্ব স্মার্টফোন বাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এসএ

ছবি-ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি কি না, যাচাই করবে গুগলের নতুন টুল

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
ছবি-ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি কি না, যাচাই করবে গুগলের নতুন টুল

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া কোনো ছবি, ভিডিও কিংবা অডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি কি না, তা নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে গুগল। এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট শনাক্ত করার জন্য প্রতিষ্ঠানটি চালু করেছে সিন্থআইডি ডিটেক্টর (SynthID Detector) নামের একটি যাচাইকরণ পোর্টাল। এর মাধ্যমে ডিজিটাল কনটেন্টে গুগলের তৈরি অদৃশ্য ওয়াটারমার্ক রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা যায়।

গুগলের এ উদ্যোগ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ডিপফেক, কৃত্রিম ছবি ও ভিডিও এবং এআই দিয়ে তৈরি অডিওর ব্যবহার বাড়ছে। এসব কনটেন্টের কারণে অনলাইনে প্রকৃত তথ্য ও কৃত্রিমভাবে তৈরি আধেয়ের মধ্যে পার্থক্য করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে ছবি, ভিডিও বা অডিওর উৎস যাচাইয়ের প্রযুক্তি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

যেভাবে কাজ করে সিন্থআইডি ডিটেক্টর

সিন্থআইডি ডিটেক্টর ব্যবহার করে কোনো কনটেন্ট যাচাই করতে প্রথমে synthid.com ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। এরপর পরীক্ষা করতে চাওয়া ছবি, ভিডিও বা অডিও ফাইল আপলোড করতে হবে। পোর্টালটি ফাইল বিশ্লেষণ করে তাতে গুগলের সিন্থআইডি ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করার চেষ্টা করবে।

সিন্থআইডি হলো গুগলের তৈরি একটি প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্টের মধ্যে অদৃশ্য ডিজিটাল সংকেত যুক্ত করা যায়। সাধারণ চোখে এসব সংকেত দেখা যায় না। তবে উপযুক্ত শনাক্তকরণ প্রযুক্তির সাহায্যে সেগুলো খুঁজে বের করা সম্ভব।

এই ওয়াটারমার্কের উদ্দেশ্য হলো এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট শনাক্ত করা সহজ করা। ফলে কোনো ফাইল গুগলের নির্দিষ্ট এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদনা করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

ডিপফেক ও অপতথ্য শনাক্তে কেন গুরুত্বপূর্ণ

বর্তমানে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে বাস্তব মানুষের মতো দেখতে ছবি তৈরি, কণ্ঠস্বর নকল এবং বিশ্বাসযোগ্য ভিডিও নির্মাণ করা সম্ভব। এসব প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভুয়া তথ্য ছড়ানো, প্রতারণা কিংবা কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরির ঝুঁকিও বাড়ছে।

এ পরিস্থিতিতে কনটেন্টের উৎস শনাক্ত করার প্রযুক্তি অনলাইনে তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। সাংবাদিক, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা সন্দেহজনক ছবি, ভিডিও বা অডিও পরীক্ষা করে এআই-নির্মিত কনটেন্ট শনাক্তের চেষ্টা করতে পারবেন।

তবে কোনো ফাইলে সিন্থআইডি ওয়াটারমার্ক পাওয়া গেলেই সেটি সব দিক থেকে ভুয়া—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। একইভাবে ওয়াটারমার্ক শনাক্ত না হলে কনটেন্টটি যে অবশ্যই বাস্তব বা মানুষের তৈরি, সেটিও নিশ্চিত হয় না। কারণ এই প্রযুক্তি মূলত নির্দিষ্ট ধরনের ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করে।

অংশীদারত্বে প্রযুক্তির প্রসার

প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, ওপেনএআই, এনভিডিয়া ও কাকাওসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এ ধরনের কনটেন্ট যাচাই প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অ্যাপলের সঙ্গে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ধরনের উদ্যোগের লক্ষ্য হলো এআই-নির্মিত কনটেন্ট শনাক্তকরণ এবং ডিজিটাল আধেয়ের উৎস যাচাইয়ের ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা। তবে সিন্থআইডি ডিটেক্টর সব ধরনের এআই-নির্মিত ছবি, ভিডিও বা অডিও শনাক্ত করতে পারে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

কনটেন্ট যাচাইয়ে ব্যবহারকারীদের করণীয়

সন্দেহজনক কোনো ছবি বা ভিডিও দেখলে শুধু একটি শনাক্তকরণ টুলের ফলাফলের ওপর নির্ভর না করে আরও কয়েকটি বিষয় যাচাই করা উচিত। কনটেন্টটি প্রথম কোথায় প্রকাশিত হয়েছে, প্রকাশকের পরিচয় কী, একই ঘটনার নির্ভরযোগ্য কোনো প্রতিবেদন রয়েছে কি না এবং ছবির সঙ্গে দেওয়া বর্ণনা বাস্তব ঘটনার সঙ্গে মেলে কি না—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

গুগলের সিন্থআইডি ডিটেক্টর এ ক্ষেত্রে সহায়ক একটি প্রযুক্তিগত উপায় হতে পারে। তবে অনলাইনে অপতথ্য ও ডিপফেক শনাক্ত করতে প্রযুক্তির পাশাপাশি তথ্যের উৎস যাচাই এবং সমালোচনামূলক বিশ্লেষণও গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এসএ

সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনে আগুন, পৌঁছানোর আগেই নিয়ন্ত্রণে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪০ অপরাহ্ণ
সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনে আগুন, পৌঁছানোর আগেই নিয়ন্ত্রণে

বাংলাদেশ সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। তবে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে ফায়ার সার্ভিসকে আগুন নেভানোর কাজে অংশ নিতে হয়নি।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে বাংলাদেশ সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনে আগুন লাগার খবর পায় সংস্থাটি। খবর পাওয়ার পরপরই একটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে পাঠানো হয়।

ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রাকিবুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। তবে ইউনিটটি পৌঁছানোর আগেই আগুন নিভে যায়।

প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লেও আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসায় পরিস্থিতি বড় আকার ধারণ করেনি। এ ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি বা কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি