খুঁজুন
                               
, ,
           

হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ হলে যেভাবে ফেরত পাবেন

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১২ অপরাহ্ণ
হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ হলে যেভাবে ফেরত পাবেন

হঠাৎ হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ হয়ে গেলে বিপাকে পড়তে পারেন ব্যবহারকারীরা। ব্যক্তিগত যোগাযোগ থেকে শুরু করে অফিসের কাজ—অনেক কিছুই নির্ভর করে জনপ্রিয় এই মেসেজিং অ্যাপের ওপর। তবে সব ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ হওয়ার অর্থ স্থায়ীভাবে সেটি হারিয়ে ফেলা নয়। নিষেধাজ্ঞা ভুলবশত দেওয়া হলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনার আবেদন করা যায়।

অনুমোদনহীন অ্যাপ ব্যবহার, স্প্যাম বার্তা পাঠানো কিংবা হোয়াটসঅ্যাপের নীতিমালা লঙ্ঘনের কারণে সাধারণত অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করা হয়। তবে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো অ্যাকাউন্ট ভুলভাবে শনাক্ত হলেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

যেসব কারণে নিষিদ্ধ হতে পারে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট

হোয়াটসঅ্যাপের নিয়ম ভঙ্গ করলে অ্যাকাউন্ট সাময়িক বা স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ হতে পারে। এর কয়েকটি সাধারণ কারণ হলো—

  • স্প্যাম বার্তা পাঠানো: অল্প সময়ে অনেক অপরিচিত ব্যক্তিকে একই বার্তা পাঠানো বা অনাকাঙ্ক্ষিত প্রচারণামূলক বার্তা ছড়ানো।
  • অতিরিক্ত বার্তা ফরওয়ার্ড করা: যাচাই না করে বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া।
  • অনুমতি ছাড়া গ্রুপে যুক্ত করা: ব্যবহারকারীর সম্মতি উপেক্ষা করে বারবার গ্রুপে যুক্ত করার চেষ্টা করা।
  • অননুমোদিত অ্যাপ ব্যবহার: জিবি হোয়াটসঅ্যাপ বা হোয়াটসঅ্যাপ প্লাসের মতো অনানুষ্ঠানিক সংস্করণ ব্যবহার করা।
  • নীতিমালা লঙ্ঘন: প্রতারণা, হয়রানি, বিদ্বেষমূলক প্রচারণা কিংবা প্ল্যাটফর্মের নিয়মবিরোধী কনটেন্ট ছড়ানো।

এসব কার্যক্রমের কারণে অ্যাকাউন্টের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। তাই নিরাপদ থাকতে হোয়াটসঅ্যাপের আনুষ্ঠানিক অ্যাপ ব্যবহার এবং প্ল্যাটফর্মের নীতিমালা মেনে চলা জরুরি।

নিষিদ্ধ অ্যাকাউন্ট ফেরত পাওয়ার উপায়

অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ হওয়ার পর অ্যাপে প্রবেশ করলে সাধারণত এ বিষয়ে একটি বার্তা দেখা যায়। নিষেধাজ্ঞাটি ভুলবশত দেওয়া হয়েছে বলে মনে হলে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে পারেন।

১. ‘Request a Review’ অপশন খুঁজুন

হোয়াটসঅ্যাপ খুলে নিষেধাজ্ঞার বার্তাটি দেখুন। সেখানে ‘Request a Review’ অপশন থাকলে সেটি নির্বাচন করুন। এই অপশনের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট পুনরায় পর্যালোচনার আবেদন করা যায়।

২. প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন করুন

অ্যাপে নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য দিন এবং সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করুন কেন আপনার অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ হওয়াকে ভুল বলে মনে করছেন। তথ্য দেওয়ার সময় সঠিক ও স্পষ্ট বক্তব্য তুলে ধরুন।

৩. যাচাইকরণ সম্পন্ন করুন

অ্যাপে যে নির্দেশনা দেওয়া হবে, সে অনুযায়ী যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন। কোনো যাচাইকরণ কোড চাইলে সেটি শুধু হোয়াটসঅ্যাপের আনুষ্ঠানিক অ্যাপ বা নিরাপদ যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করুন। অন্য কাউকে কোডটি দেবেন না।

৪. পর্যালোচনার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করুন

আবেদন জমা দেওয়ার পর হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ অ্যাকাউন্টটি পর্যালোচনা করবে। নিষেধাজ্ঞা ভুলবশত দেওয়া হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হলে অ্যাকাউন্ট পুনরায় চালু হতে পারে। তবে আবেদন করলেই অ্যাকাউন্ট ফেরত পাওয়া নিশ্চিত নয়।

অ্যাপ থেকে আবেদন করতে না পারলে কী করবেন?

অ্যাপে পর্যালোচনার আবেদন করার সুযোগ না থাকলে হোয়াটসঅ্যাপের আনুষ্ঠানিক সহায়তা পেজে যোগাযোগের চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে ই-মেইলেও সহায়তা চাওয়া যেতে পারে। যোগাযোগের সময় দেশের কোডসহ নিজের ফোন নম্বর এবং সমস্যার বিবরণ দিন। অ্যাকাউন্টটি ভুলবশত নিষিদ্ধ হয়েছে বলে মনে হলে সেটিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন।

হোয়াটসঅ্যাপের সহায়তা নিতে তাদের আনুষ্ঠানিক সহায়তা পেজে যেতে পারেন। ই-মেইল ঠিকানা বা যোগাযোগের পদ্ধতি ব্যবহারের আগে হোয়াটসঅ্যাপের বর্তমান নির্দেশনা যাচাই করে নেওয়া ভালো।

অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ হওয়া এড়াতে করণীয়

অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখতে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন—

  • হোয়াটসঅ্যাপের আনুষ্ঠানিক সংস্করণ ব্যবহার করুন।
  • অপরিচিত ব্যক্তিকে বারবার একই বার্তা পাঠানো থেকে বিরত থাকুন।
  • অনুমতি ছাড়া কাউকে গ্রুপে যুক্ত করবেন না।
  • সন্দেহজনক লিংক, প্রতারণামূলক বার্তা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াবেন না।
  • অ্যাপের নীতিমালা মেনে চলুন এবং প্রয়োজন হলে হোয়াটসঅ্যাপের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সেটিংস পর্যালোচনা করুন।

হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ হলে আতঙ্কিত না হয়ে প্রথমে নিষেধাজ্ঞার কারণ বোঝার চেষ্টা করুন। ভুলবশত নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে বলে মনে হলে আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনার আবেদন করুন। তবে অ্যাকাউন্ট ফেরত পাওয়া নির্ভর করবে হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্তের ওপর।

কালের আলো/জেএন

ছয় দিনের লড়াই শেষে রাজশাহীতে শেষ হলো জুনিয়র টেনিস টুর্নামেন্ট

রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
ছয় দিনের লড়াই শেষে রাজশাহীতে শেষ হলো জুনিয়র টেনিস টুর্নামেন্ট

রাজশাহীতে শেষ হয়েছে ৩১তম আন্তর্জাতিক অনূর্ধ্ব-১৮ জুনিয়র টেনিস টুর্নামেন্ট। রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্সে ছয় দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় চারটি ইভেন্টে শিরোপা জিতেছেন ছয়জন খেলোয়াড়।

ছেলেদের এককে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন থাইল্যান্ডের লিকুল পার্টচারাপুল। ছেলেদের দ্বৈতে শিরোপা জিতেছেন চাইনিজ তাইপের জিচে চেন ও ওয়েই-চেং ট্যাং জুটি। মেয়েদের এককে চীনের জিমো সঙ এবং দ্বৈতে একই দেশের সিয়াং জিয়াং ও শুয়াং জু জুটি চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে ছেলেদের এককের ফাইনালের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের প্রতিযোগিতা শেষ হয়। ফাইনালে চাইনিজ তাইপের জিচে চেনকে ৬-৪, ৭-৫ গেমে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করেন লিকুল পার্টচারাপুল। প্রথম সেটে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় সেটেও প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জ সামলে জয় তুলে নেন থাইল্যান্ডের এই খেলোয়াড়।

টুর্নামেন্টের ম্যাচ রেফারি জয় মুখার্জী বলেন, ফাইনালে ওঠা দুই খেলোয়াড়ই ভালো মানের। পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়ে তাঁরা ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন। ফাইনালেও তাঁদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। লিকুল পুরো টুর্নামেন্টে ভালো খেলেছেন এবং ফাইনালেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে শিরোপা জিতেছেন।

ছেলেদের এককে রানার্সআপ হলেও দ্বৈতে শিরোপা জিতেছেন চাইনিজ তাইপের জিচে চেন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত দ্বৈত ফাইনালে জিচে চেন ও ওয়েই-চেং ট্যাং জুটি ভারতের শিব মোহন ও আরভ ছাল্লানি জুটিকে ৬-৩, ৬-২ গেমে হারায়।

এর মধ্য দিয়ে এককে রানার্সআপ হওয়ার পর দ্বৈতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেন জিচে চেন। দ্বৈত ফাইনালের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন ম্যাচ রেফারি জয় মুখার্জী।

শনিবার টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্সের অ্যাডহক কমিটির আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান, টুর্নামেন্ট পরিচালক হাসিনুর রহমান টিংকু, রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্সের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আক্কাস আলী এবং মিডিয়া কমিটির আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা মামুনসহ অন্যরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ফ্যাসিস্ট ও জান্নাতিরা দেশের বিরুদ্ধে আন্দোলনের চেষ্টা করছে: আমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
ফ্যাসিস্ট ও জান্নাতিরা দেশের বিরুদ্ধে আন্দোলনের চেষ্টা করছে: আমান

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান বলেছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাওয়ার সময়ে ফ্যাসিস্ট ও জান্নাতিরা এক হয়ে দেশের বিরুদ্ধে আন্দোলনের চেষ্টা করছে। ফ্যাসিস্টদের পরামর্শে কেউ কেউ গোপনে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে শহীদ জেহাদ পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক স্মরণসভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আমান। স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের ৩৬তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।

আমান উল্লাহ আমান বলেন, বাংলাদেশের জনগণ তারেক রহমানের প্রতি আস্থা রেখে তাঁকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। জনগণের সেই আস্থার প্রতিফলন ঘটিয়ে তিনি দেশ পরিচালনা করছেন। আগামী পাঁচ বছর দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সরকারকে সময় দিতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বক্তব্য দিচ্ছেন এবং দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘে সভাপতিত্ব করছেন। তাঁর মতে, এটি দেশের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক অর্জন। আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ দিতে হবে।

ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, ইতিহাসে কোনো পলাতক ফ্যাসিস্টের নিজ দেশে ফিরে আসা সহজ হয়নি। কেউ দেশে ফেরার চেষ্টা করলে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। হাজার হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই সম্পন্ন করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে আমান বলেন, ঠান্ডা মাথায় ও সুস্থ চিন্তায় দেশ পরিচালনার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সহযোগিতা করতে হবে। দেশের স্বার্থে সরকারের পাশে থেকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচন প্রসঙ্গে আমান উল্লাহ আমান বলেন, পাঁচ বছর পর আবার নির্বাচন হবে। তখন জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে, কারা ক্ষমতায় আসবে। নির্ধারিত সময়ের আগে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করার সুযোগ নেই। অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতায় আসারও সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্মরণসভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও নাজিমউদ্দীন আলম, সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানাসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

সমুদ্র থেকে জীবিকা, কুয়াকাটার পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা

পটুয়াখালী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
সমুদ্র থেকে জীবিকা, কুয়াকাটার পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা

সমুদ্রসৈকত, ঝাউবন, লেম্বুরবন, গঙ্গামতি, কাউয়ারচর, মিশ্রীপাড়া ও রাখাইন সংস্কৃতি—প্রকৃতি ও ঐতিহ্যের এমন বৈচিত্র্য নিয়ে পর্যটকদের আকর্ষণ করছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা। একসময় যেখানে ছিল হাতেগোনা কয়েকটি ছোট দোকান ও সীমিত আবাসন, সেখানে এখন গড়ে উঠেছে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহনসেবা ও নানা ধরনের পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসা।

পর্যটন ঘিরে বদলেছে অনেক মানুষের জীবনযাত্রা, তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ। তবে মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল জেলে পরিবারসহ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সবার জীবনে সমানভাবে আসেনি সমৃদ্ধি।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পর্যটকেরা কুয়াকাটায় আসেন। তাঁদের আগমনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের ব্যবসা। কেউ চালান হোটেল, কেউ রেস্তোরাঁ, আবার কেউ অটোরিকশা চালিয়ে, ছবি তুলে কিংবা শুঁটকি ও শামুক-ঝিনুকের তৈরি পণ্য বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। পর্যটকদের আনাগোনা স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল রাখার পাশাপাশি অবহেলিত ও বেকার মানুষের জন্যও উপার্জনের সুযোগ তৈরি করেছে।

১৯৯৮ সালে কুয়াকাটাকে পর্যটনকেন্দ্র ঘোষণা করার আগেই সেখানে ছোট ছোট দোকান গড়ে উঠেছিল। এসব দোকানে মূলত চা ও হালকা খাবার বিক্রি হতো। রাতে থাকার ভালো ব্যবস্থা ছিল না। হাতে গোনা কয়েকটি হোটেল ছিল গোলপাতার ছাউনি ও বাঁশের বেড়া দেওয়া দোচালা ঘরের মতো। তখন মাঝেমধ্যে স্থানীয় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, সামরিক বাহিনীর সদস্য ও আশপাশের মানুষ সেখানে যাতায়াত করতেন।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়ন ও কুয়াকাটা পৌর এলাকা ঘিরে পর্যটনকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার ঘটেছে। একসময় স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল কুয়াকাটা থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরের আলীপুর বাজার। সেখানে স্থানীয় খাবারসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য পাওয়া যেত।

২০০০ সালের দিকে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়তে শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দারা আবাসিক হোটেল নির্মাণে উদ্যোগী হন। সৈকত ও বেড়িবাঁধের মাঝেও গড়ে ওঠে ছোট ছোট দোকান। পরে পর্যটনের সম্ভাবনা দেখে স্থানীয়দের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও কোম্পানি জমি কিনতে শুরু করেন। একে একে তৈরি হয় খাবারের হোটেল, রেস্তোরাঁ, ঝিনুকের দোকান ও নানা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। বাড়তে থাকে জমির দাম।

এ পরিবর্তনের ফলে স্থানীয়দের একাংশের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। একসময় তিন চাকার ভ্যান চালিয়ে সংসার চালানো ব্যক্তিদের কেউ কেউ এখন বহুতল হোটেলের মালিক। পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসায় যুক্ত হয়ে অনেকে বেকারত্ব কাটিয়ে উঠেছেন। বেড়েছে শিক্ষার সুযোগ এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্কও গড়ে উঠেছে।

তবে পর্যটনকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছায়নি। উপকূলজুড়ে মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল জেলে পরিবারগুলোর অনেকের জীবনে এখনো রয়ে গেছে নানা সংকট।

দূরদূরান্ত থেকে আসা একজন পর্যটক কুয়াকাটায় নেমে অটোরিকশায় হোটেলে যান, রেস্তোরাঁয় খাবার খান, সৈকতে ঘোরেন, ছবি তোলেন কিংবা সমুদ্রে গোসল করেন। কেউ ঘুরে দেখেন গঙ্গামতি ও লেম্বুরবন, কেউ যান মিশ্রীপাড়া বা অন্য কোনো দর্শনীয় স্থানে। ফেরার সময় অনেকে কেনেন শুঁটকি, শামুক-ঝিনুকের তৈরি পণ্য কিংবা স্থানীয় হস্তশিল্প।

দেখতে সাধারণ একটি ভ্রমণের সঙ্গে জড়িয়ে থাকেন হোটেলকর্মী, বাবুর্চি, ওয়েটার, অটোরিকশাচালক, ট্যুর গাইড, ফটোগ্রাফার, দোকানি, শুঁটকি ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাসহ বহু মানুষ। পর্যটকের ব্যয় তাই শুধু একটি হোটেল বা রেস্তোরাঁর আয় নয়; তা বিভিন্ন পেশার মানুষের জীবিকায়ও অবদান রাখে।

বর্তমানে কুয়াকাটায় আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বড় একটি পর্যটন অর্থনীতি গড়ে উঠেছে। সৈকতের পাশাপাশি ঝাউবন, লেম্বুরবন, গঙ্গামতি, কাউয়ারচর ও মিশ্রীপাড়ার মতো স্থানগুলোও পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

পর্যটকেরা যত বেশি সময় অবস্থান করেন, স্থানীয় অর্থনীতিতে তাঁদের ব্যয়ের সুযোগও তত বাড়ে। এক দিনের পর্যটকের তুলনায় দুই-তিন দিন অবস্থান করা পর্যটক সাধারণত আবাসন, খাবার, পরিবহন ও কেনাকাটায় বেশি ব্যয়ের সুযোগ পান। তাই পর্যটকদের অবস্থানের সময় বাড়ানো কুয়াকাটার পর্যটন অর্থনীতিকে আরও বিস্তৃত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হতে পারে।

কুয়াকাটার পর্যটন অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট। হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বাইরের প্রতিষ্ঠানসহ বর্তমানে এখানে দুই শতাধিক আবাসিক হোটেল রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এসব হোটেলে প্রায় ৩০ হাজার পর্যটকের থাকার ধারণক্ষমতা রয়েছে বলে দাবি করা হলেও, হোটেলের শ্রেণি, কক্ষসংখ্যা ও পর্যটকদের তথ্যের সমন্বিত হিসাব ছাড়া প্রকৃত ধারণক্ষমতা নির্ধারণ কঠিন।

একটি হোটেল পরিচালনার সঙ্গে ব্যবস্থাপক, অভ্যর্থনাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, বাবুর্চি, ওয়েটার, ইলেকট্রিশিয়ান ও প্লাম্বারসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ যুক্ত থাকেন। পাশাপাশি লন্ড্রি, খাবার সরবরাহ, মাছ-মাংস, শাকসবজি, পানীয়, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারীরাও এ অর্থনীতির অংশ।

পর্যটন মৌসুমে এসব প্রতিষ্ঠানে কাজের চাপ বাড়ে। বিশেষ করে শীতকাল, সাপ্তাহিক ছুটি, ঈদ, দুর্গাপূজা ও দীর্ঘ সরকারি ছুটিতে পর্যটকদের আগমন বাড়লে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও পরিবহনসেবার চাহিদাও বৃদ্ধি পায়। রাস পূজার সময় পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করে।

কুয়াকাটায় পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ স্থানীয় খাবার ও সামুদ্রিক মাছ। কাঁকড়া, চিংড়ি, কোরাল ও রূপচাঁদার মতো মাছ রেস্তোরাঁগুলোর জনপ্রিয় খাবারের তালিকায় রয়েছে। পর্যটকদের চাহিদা বাড়লে রেস্তোরাঁর বিক্রির পাশাপাশি মাছ বিক্রেতা, জেলে, আড়তদার ও সবজি বিক্রেতাদের ব্যবসার সুযোগও বাড়ে।

এ ছাড়া শুঁটকি, আচার, শামুক-ঝিনুকের তৈরি সামগ্রী ও স্থানীয় পণ্য পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। সৈকতে সূর্যাস্ত কিংবা সমুদ্রের সামনে ছবি তোলার জন্য অনেক পর্যটক স্থানীয় ফটোগ্রাফারদের সহায়তা নেন। অটোরিকশাচালক ও ট্যুর গাইডদের জন্যও তৈরি হয় বাড়তি আয়ের সুযোগ।

কুয়াকাটার বিশেষ সম্পদ এর রাখাইন সংস্কৃতি। মিশ্রীপাড়া ও রাখাইন পল্লিকে কেন্দ্র করে বৌদ্ধ ঐতিহ্য, তাঁত, হস্তশিল্প ও স্থানীয় সংস্কৃতি পর্যটকদের আকর্ষণ করে। এ ঐতিহ্যকে পরিকল্পিতভাবে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে স্থানীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে রাখাইন নারীদের তৈরি তাঁত ও হস্তশিল্পের পণ্য পর্যটকদের কাছে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরতে পারলে তাঁদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়তে পারে। একইভাবে হোটেল ও রিসোর্টের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, বিছানার চাদর এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী স্থানীয়ভাবে সরবরাহের ব্যবস্থা করা গেলে কলাপাড়া ও মহিপুরসহ আশপাশের এলাকার কৃষক, জেলে ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা উপকৃত হতে পারেন।

কুয়াকাটার পর্যটন অর্থনীতিকে দীর্ঘস্থায়ী করতে শুধু পর্যটকের সংখ্যা বাড়ালেই চলবে না; সেবার মান, নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত করতে হবে। সৈকত ও বনাঞ্চলের পরিবেশ রক্ষা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং দর্শনীয় স্থানগুলোতে পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।

পর্যটকদের অবস্থানের সময় বাড়াতে স্থানীয় সংস্কৃতি, প্রকৃতি, খাবার ও ঐতিহ্যকে সমন্বিতভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, জেলে পরিবার এবং স্থানীয় নারীদের পর্যটন অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। এতে পর্যটনের আয় আরও বিস্তৃত জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হবে।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল মোতালেব শরীফ বলেন, কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্র হওয়ার আগে ছিল একটি গ্রাম। রাখাইনদের বসবাস অবশ্য অনেক আগে থেকেই ছিল। একসময় কলাপাড়া উপজেলা সদরে যেতে নৌকা বা ছোট একতলা লঞ্চ ব্যবহার করতে হতো, আর স্থানীয় যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল ভ্যান।

তাঁর ভাষ্য, তখন জমিতে তেমন ফসল হতো না। সুপেয় পানির জন্য গভীর নলকূপের ব্যবস্থা না থাকায় সরকারি খাস পুকুরের পানির ওপর নির্ভর করতে হতো। বর্তমানে সেই পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন হয়েছে। কুয়াকাটায় ডাব, ফুচকা, চা-বিস্কুটসহ বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা গড়ে উঠেছে। একসময় পাতার ঘরে বসবাস করা অনেক মানুষ এখন পাকা দালানে বসবাস করছেন।

কুয়াকাটা এখন আর শুধু সমুদ্র দেখার জায়গা নয়। সমুদ্র, বন, চর, রাখাইন সংস্কৃতি, বৌদ্ধ ঐতিহ্য, স্থানীয় খাবার ও হস্তশিল্প মিলিয়ে এটি একটি বহুমাত্রিক পর্যটন গন্তব্য। এ সম্ভাবনাকে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে আনতে পারলে পর্যটকদের ভ্রমণ আরও সমৃদ্ধ হবে, একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির সুযোগও বাড়বে।

পর্যটকদের কাছে কুয়াকাটা বিনোদন ও অবকাশযাপনের স্থান; আর স্থানীয়দের কাছে এটি সংসার চালানো ও ভবিষ্যৎ গড়ার সম্ভাবনা। এই দুই প্রত্যাশার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করে প্রকৃতি ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের মাধ্যমে পর্যটনের সুফল স্থানীয় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি