খুঁজুন
                               
, ,
           

ফ্যাসিস্ট ও জান্নাতিরা দেশের বিরুদ্ধে আন্দোলনের চেষ্টা করছে: আমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
ফ্যাসিস্ট ও জান্নাতিরা দেশের বিরুদ্ধে আন্দোলনের চেষ্টা করছে: আমান

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান বলেছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাওয়ার সময়ে ফ্যাসিস্ট ও জান্নাতিরা এক হয়ে দেশের বিরুদ্ধে আন্দোলনের চেষ্টা করছে। ফ্যাসিস্টদের পরামর্শে কেউ কেউ গোপনে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে শহীদ জেহাদ পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক স্মরণসভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আমান। স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের ৩৬তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।

আমান উল্লাহ আমান বলেন, বাংলাদেশের জনগণ তারেক রহমানের প্রতি আস্থা রেখে তাঁকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। জনগণের সেই আস্থার প্রতিফলন ঘটিয়ে তিনি দেশ পরিচালনা করছেন। আগামী পাঁচ বছর দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সরকারকে সময় দিতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বক্তব্য দিচ্ছেন এবং দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘে সভাপতিত্ব করছেন। তাঁর মতে, এটি দেশের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক অর্জন। আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ দিতে হবে।

ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, ইতিহাসে কোনো পলাতক ফ্যাসিস্টের নিজ দেশে ফিরে আসা সহজ হয়নি। কেউ দেশে ফেরার চেষ্টা করলে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। হাজার হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই সম্পন্ন করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে আমান বলেন, ঠান্ডা মাথায় ও সুস্থ চিন্তায় দেশ পরিচালনার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সহযোগিতা করতে হবে। দেশের স্বার্থে সরকারের পাশে থেকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচন প্রসঙ্গে আমান উল্লাহ আমান বলেন, পাঁচ বছর পর আবার নির্বাচন হবে। তখন জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে, কারা ক্ষমতায় আসবে। নির্ধারিত সময়ের আগে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করার সুযোগ নেই। অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতায় আসারও সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্মরণসভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও নাজিমউদ্দীন আলম, সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানাসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

দুর্গাপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা

রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
দুর্গাপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা

রাজশাহীর দুর্গাপুরে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পঞ্চনন্দ সরকার। গত ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দুর্গাপুর থানায় যোগদানের পর এসব অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।

থানা সূত্রের দাবি, যোগদানের পর মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের শনাক্ত করতে তালিকা তৈরি করে অভিযান চালানো হচ্ছে। এসব অভিযানে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়।

ওসি পঞ্চনন্দ সরকার বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগসহ কোনো গোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাঁর প্রধান দায়িত্ব। দুর্গাপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের বক্তব্য

স্থানীয় বাসিন্দা আয়েন উদ্দিন বলেন, ওসি পঞ্চনন্দ সরকার ভদ্র ও মানবিক আচরণ করেন। তবে মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে তিনি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বলে তাঁর মত।

নুরজাহান বেগম নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, মাদক ও সন্ত্রাস দমনে পুলিশের কঠোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও পুলিশের সক্রিয়তা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

স্থানীয়দের কেউ কেউ দুর্গাপুরে অপরাধ দমনে পুলিশের তৎপরতা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সামগ্রিক চিত্র বুঝতে অপরাধের পরিসংখ্যান, গ্রেপ্তারের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ঘরোয়া হকির প্রত্যাবর্তনে নতুন প্রত্যাশা, ফেয়ার-প্লেতে জোর বিমান বাহিনী প্রধানের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
ঘরোয়া হকির প্রত্যাবর্তনে নতুন প্রত্যাশা, ফেয়ার-প্লেতে জোর বিমান বাহিনী প্রধানের

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। হকির মাঠে ফিরেছে প্রতিযোগিতার প্রাণচাঞ্চল্য। স্টিকে বলের ছন্দ, খেলোয়াড়দের লড়াই আর নতুন সম্ভাবনার হাতছানিতে আবারও মুখর দেশের ঘরোয়া হকি। দীর্ঘ বিরতি পেরিয়ে শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে চলতি বছরের প্রথম বিভাগ হকি লিগ। ১১টি ক্লাবের অংশগ্রহণে এই আয়োজন ঘিরে খেলোয়াড়, সংগঠক ও হকিপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্দীপনা। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই লিগের মধ্য দিয়ে দেশের হকিতে ফিরবে নিয়মিত প্রতিযোগিতার ছন্দ, উন্মোচিত হবে নতুন প্রতিভার সম্ভাবনা।

  • মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে প্রথম বিভাগ লিগ-এর উদ্বোধন
  • অংশ নিচ্ছে ১১ ক্লাব, ঘরোয়া হকিতে নতুন উদ্দীপনা
  • নিয়মিত ঘরোয়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের আশাবাদ বাহফে সভাপতির

প্রত্যাবর্তনের আনন্দে নতুন আশার সূচনা
লিগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান ও বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের (বাহফে) সভাপতি এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। তিনি ঘরোয়া হকি লিগ নিয়মিত আয়োজনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নিতে সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে ফেরার সুযোগ খেলোয়াড়দের জন্যও যেন নতুন উদ্দীপনার উৎস! প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে নিজেদের দক্ষতা, কৌশল ও সামর্থ্য তুলে ধরার পাশাপাশি অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগও পাবেন তাঁরা। নিয়মিত লিগ আয়োজন করা সম্ভব হলে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা আসবে। ক্লাবগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়বে এবং জাতীয় দলের জন্য মানসম্পন্ন খেলোয়াড় উঠে আসার পথ আরও উজ্জ্বল হবে।

১১ ক্লাবের অংশগ্রহণে জমবে লড়াই
এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে ওয়ারী ক্লাব, হকি ঢাকা ইউনাইটেড, পিডব্লিউডি এসসি, কম্বাইন্ড এসসি, মুক্ত বিহঙ্গ তরুণ সংঘ, ব্যাচেলার্স এসসি, ফরাশগঞ্জ এসসি, শিশু কিশোর সংঘ, ঢাকা ওয়ান্ডার্স, রায়ের বাজার এসসি ও ঢাকা ইয়াং স্টার ক্লাব। ১১টি ক্লাবের অংশগ্রহণ লিগকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসরের প্রত্যাশা তৈরি করেছে। প্রতিটি ম্যাচই খেলোয়াড়দের নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ করে দেবে। একই সঙ্গে তরুণ খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা অর্জন, ক্লাবগুলোর সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং দর্শকদের মাঠমুখী করার ক্ষেত্রেও এই প্রতিযোগিতা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

ক্লাব-স্পন্সরদের হাত ধরে এগিয়ে যাক হকি
দেশের হকিকে আরও গতিশীল করতে ক্লাব ও স্পন্সর প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বাহফে সভাপতি। তাঁর এই আহ্বান ঘরোয়া হকির উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। ক্লাবগুলোর সক্রিয়তা, পৃষ্ঠপোষকদের সহযোগিতা এবং ফেডারেশনের ধারাবাহিক উদ্যোগ একসঙ্গে কাজ করলে হকির জন্য আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান ও বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের (বাহফে) সভাপতি এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন খেলোয়াড়দের ফেয়ার-প্লে ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে খেলার নির্দেশনা দেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে লিগের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, হকি ফেডারেশনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন ক্লাবের প্রতিনিধি ও খেলোয়াড়রা উপস্থিত ছিলেন।

খেলোয়াড় ও হকিপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস
দীর্ঘ বিরতির পর ঘরোয়া হকি মাঠে ফেরায় খেলোয়াড় ও হকিপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস এবারের আয়োজনকে বিশেষ তাৎপর্য দিয়েছে। এই উদ্দীপনাকে কাজে লাগিয়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতার পরিবেশ গড়ে তোলা গেলে দেশের হকি নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর সুযোগ পাবে। প্রথম বিভাগ লিগ তাই শুধু ১১টি ক্লাবের শিরোপা লড়াই নয়; এটি খেলাটির বিকাশ, নতুন প্রতিভার উত্থান এবং হকিকে আরও জনপ্রিয় করে তোলার একটি আশাব্যঞ্জক মঞ্চ। মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া এই লিগ ঘিরে এখন প্রত্যাশা একটাই—মাঠে ফিরেছে যে প্রাণচাঞ্চল্য, তা যেন ছড়িয়ে পড়ে সারা বছরের হকি কার্যক্রমে। নিয়মিত আয়োজন, সম্মিলিত সহযোগিতা ও খেলোয়াড়দের নিবেদিত পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে ঘরোয়া হকি হয়ে উঠুক দেশের ক্রীড়াঙ্গনের আরও উজ্জ্বল অধ্যায়।

কালের আলো/এমএএএমকে

ডিজিটাল যুগে হারাচ্ছে হাতের শিল্প, সংকটে মুজাহিদ

লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ
ডিজিটাল যুগে হারাচ্ছে হাতের শিল্প, সংকটে মুজাহিদ

কম্পিউটার প্রযুক্তি ও ডিজিটাল প্রিন্টিংয়ের বিস্তারে হারিয়ে যেতে বসেছে হাতে আঁকা সাইনবোর্ড ও দেয়াললিখনের ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প। একসময় হাটবাজারের দোকান, রাস্তার পাশের সাইনবোর্ড, যানবাহন কিংবা ঘরের দেয়ালে রং-তুলির আঁচড়ে ফুটে উঠত নানা নকশা ও লেখা। সময়ের পরিবর্তনে সেই দৃশ্য এখন ক্রমেই বিরল হয়ে উঠছে। প্রযুক্তির এই অগ্রযাত্রায় কাজ হারাচ্ছেন হাতে আঁকা শিল্পীরা। তাঁদেরই একজন লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার প্রবীণ শিল্পী মোহাম্মদ মুজাহিদ হোসেন। চার দশক ধরে রং-তুলিকে সঙ্গী করে জীবিকা নির্বাহ করলেও এখন সংসার চালানোই তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

কমলনগরের ফজুমিয়ার হাট বাজারে কাজ করেন মুজাহিদ হোসেন। দীর্ঘদিন ধরে হাতে সাইনবোর্ড লেখা, নকশা আঁকা ও বিভিন্ন যানবাহনে রং করার কাজ করে আসছেন তিনি। একসময় এসব কাজের জন্য তাঁর মতো দক্ষ শিল্পীদের ওপর নির্ভর করতেন ব্যবসায়ী ও যানবাহনের মালিকেরা। কিন্তু ডিজিটাল ব্যানার, ফ্লেক্স প্রিন্টিং ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারে সেই চাহিদা অনেকটাই কমে গেছে।

আক্ষেপ করে মুজাহিদ হোসেন বলেন, ডিজিটাল ব্যানার আর ফ্লেক্স প্রিন্টিংয়ের ভিড়ে তাঁদের মতো শিল্পীদের কদর আর আগের মতো নেই। বড় ব্যানার, বিলবোর্ড ও সাইনবোর্ড তৈরির কাজ এখন যন্ত্রের মাধ্যমে করা হচ্ছে। ফলে হাতে লেখার কাজ কমে গেছে। প্রায় ৪০ বছর ধরে যে পেশাকে আঁকড়ে ধরে আছেন, সেই পেশাতেই এখন টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

শুধু সাইনবোর্ড নয়, বিভিন্ন যানবাহনে নাম লেখা, নকশা আঁকা কিংবা রং করার ক্ষেত্রেও হাতে কাজ জানা শিল্পীদের প্রয়োজন হয়। তবে এ ধরনের দক্ষতাসম্পন্ন মানুষ এখন আগের তুলনায় কম পাওয়া যায়।

স্থানীয় ট্রাক্টর মিস্ত্রি নাজিম উদ্দীন বলেন, ট্রাক্টর বা ট্রলি তৈরি করে রং করার পর লেখার জন্য এখন আর আগের মতো শিল্পী খুঁজে পাওয়া যায় না। হাতে সুন্দর করে লেখার কাজ জানেন, এমন মানুষও ক্রমেই কমে আসছেন।

প্রযুক্তির পরিবর্তনে বড় সাইনবোর্ড ও দেয়াললিখনের কাজ কমে গেলেও পেশা ছেড়ে দেননি মুজাহিদ হোসেন। পরিবারের ভরণপোষণের তাগিদে এখনো রং-তুলিকেই জীবিকার প্রধান অবলম্বন হিসেবে ধরে রেখেছেন তিনি।

বড় কাজ না পেয়ে এখন ট্রলি, ট্রাক, টেম্পু, ইজিবাইক, অটোরিকশা ও সিএনজির গায়ে নকশা আঁকা কিংবা নাম লেখার কাজ করেন। এসব ছোটখাটো কাজ থেকে যা আয় হয়, তা দিয়েই কোনোমতে সংসার চালাতে হয় তাঁকে। কাজের অনিশ্চয়তা আর সীমিত আয়ের মধ্যে প্রতিনিয়ত চলছে তাঁর টিকে থাকার লড়াই।

প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় মানুষের কাজের ধরন বদলাচ্ছে। সহজলভ্য ও দ্রুত উৎপাদনযোগ্য ডিজিটাল প্রিন্টিংয়ের কারণে অনেক ঐতিহ্যবাহী পেশার চাহিদা কমে যাচ্ছে। সেই পরিবর্তনের চাপে মুজাহিদের মতো শিল্পীরা হারাচ্ছেন কাজের সুযোগ, অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে তাঁদের জীবিকা।

অথচ একসময় তাঁদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় প্রাণ পেত দোকানের সাইনবোর্ড, দেয়াল ও বিভিন্ন যানবাহন। হাতে আঁকা এসব শিল্প ছিল স্থানীয় বাজার ও জনজীবনের পরিচিত দৃশ্যের অংশ। এখন সেই শিল্পের সঙ্গে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাও।

সংশ্লিষ্টদের মতে, হাতে আঁকা সাইনবোর্ড ও দেয়াললিখনের ঐতিহ্য সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি প্রবীণ শিল্পীদের বিকল্প কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যেতে পারে এই লোকশিল্পের অবশিষ্ট চর্চাও।

মুজাহিদ হোসেনের রং-তুলির লড়াই তাই শুধু জীবিকা টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম নয়, বরং প্রযুক্তির পরিবর্তনের মধ্যে হারিয়ে যেতে বসা এক ঐতিহ্যকে ধরে রাখার লড়াইও।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি