খুঁজুন
                               
, ,
           

ডিজিটাল যুগে হারাচ্ছে হাতের শিল্প, সংকটে মুজাহিদ

লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ
ডিজিটাল যুগে হারাচ্ছে হাতের শিল্প, সংকটে মুজাহিদ

কম্পিউটার প্রযুক্তি ও ডিজিটাল প্রিন্টিংয়ের বিস্তারে হারিয়ে যেতে বসেছে হাতে আঁকা সাইনবোর্ড ও দেয়াললিখনের ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প। একসময় হাটবাজারের দোকান, রাস্তার পাশের সাইনবোর্ড, যানবাহন কিংবা ঘরের দেয়ালে রং-তুলির আঁচড়ে ফুটে উঠত নানা নকশা ও লেখা। সময়ের পরিবর্তনে সেই দৃশ্য এখন ক্রমেই বিরল হয়ে উঠছে। প্রযুক্তির এই অগ্রযাত্রায় কাজ হারাচ্ছেন হাতে আঁকা শিল্পীরা। তাঁদেরই একজন লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার প্রবীণ শিল্পী মোহাম্মদ মুজাহিদ হোসেন। চার দশক ধরে রং-তুলিকে সঙ্গী করে জীবিকা নির্বাহ করলেও এখন সংসার চালানোই তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

কমলনগরের ফজুমিয়ার হাট বাজারে কাজ করেন মুজাহিদ হোসেন। দীর্ঘদিন ধরে হাতে সাইনবোর্ড লেখা, নকশা আঁকা ও বিভিন্ন যানবাহনে রং করার কাজ করে আসছেন তিনি। একসময় এসব কাজের জন্য তাঁর মতো দক্ষ শিল্পীদের ওপর নির্ভর করতেন ব্যবসায়ী ও যানবাহনের মালিকেরা। কিন্তু ডিজিটাল ব্যানার, ফ্লেক্স প্রিন্টিং ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারে সেই চাহিদা অনেকটাই কমে গেছে।

আক্ষেপ করে মুজাহিদ হোসেন বলেন, ডিজিটাল ব্যানার আর ফ্লেক্স প্রিন্টিংয়ের ভিড়ে তাঁদের মতো শিল্পীদের কদর আর আগের মতো নেই। বড় ব্যানার, বিলবোর্ড ও সাইনবোর্ড তৈরির কাজ এখন যন্ত্রের মাধ্যমে করা হচ্ছে। ফলে হাতে লেখার কাজ কমে গেছে। প্রায় ৪০ বছর ধরে যে পেশাকে আঁকড়ে ধরে আছেন, সেই পেশাতেই এখন টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

শুধু সাইনবোর্ড নয়, বিভিন্ন যানবাহনে নাম লেখা, নকশা আঁকা কিংবা রং করার ক্ষেত্রেও হাতে কাজ জানা শিল্পীদের প্রয়োজন হয়। তবে এ ধরনের দক্ষতাসম্পন্ন মানুষ এখন আগের তুলনায় কম পাওয়া যায়।

স্থানীয় ট্রাক্টর মিস্ত্রি নাজিম উদ্দীন বলেন, ট্রাক্টর বা ট্রলি তৈরি করে রং করার পর লেখার জন্য এখন আর আগের মতো শিল্পী খুঁজে পাওয়া যায় না। হাতে সুন্দর করে লেখার কাজ জানেন, এমন মানুষও ক্রমেই কমে আসছেন।

প্রযুক্তির পরিবর্তনে বড় সাইনবোর্ড ও দেয়াললিখনের কাজ কমে গেলেও পেশা ছেড়ে দেননি মুজাহিদ হোসেন। পরিবারের ভরণপোষণের তাগিদে এখনো রং-তুলিকেই জীবিকার প্রধান অবলম্বন হিসেবে ধরে রেখেছেন তিনি।

বড় কাজ না পেয়ে এখন ট্রলি, ট্রাক, টেম্পু, ইজিবাইক, অটোরিকশা ও সিএনজির গায়ে নকশা আঁকা কিংবা নাম লেখার কাজ করেন। এসব ছোটখাটো কাজ থেকে যা আয় হয়, তা দিয়েই কোনোমতে সংসার চালাতে হয় তাঁকে। কাজের অনিশ্চয়তা আর সীমিত আয়ের মধ্যে প্রতিনিয়ত চলছে তাঁর টিকে থাকার লড়াই।

প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় মানুষের কাজের ধরন বদলাচ্ছে। সহজলভ্য ও দ্রুত উৎপাদনযোগ্য ডিজিটাল প্রিন্টিংয়ের কারণে অনেক ঐতিহ্যবাহী পেশার চাহিদা কমে যাচ্ছে। সেই পরিবর্তনের চাপে মুজাহিদের মতো শিল্পীরা হারাচ্ছেন কাজের সুযোগ, অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে তাঁদের জীবিকা।

অথচ একসময় তাঁদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় প্রাণ পেত দোকানের সাইনবোর্ড, দেয়াল ও বিভিন্ন যানবাহন। হাতে আঁকা এসব শিল্প ছিল স্থানীয় বাজার ও জনজীবনের পরিচিত দৃশ্যের অংশ। এখন সেই শিল্পের সঙ্গে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাও।

সংশ্লিষ্টদের মতে, হাতে আঁকা সাইনবোর্ড ও দেয়াললিখনের ঐতিহ্য সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি প্রবীণ শিল্পীদের বিকল্প কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যেতে পারে এই লোকশিল্পের অবশিষ্ট চর্চাও।

মুজাহিদ হোসেনের রং-তুলির লড়াই তাই শুধু জীবিকা টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম নয়, বরং প্রযুক্তির পরিবর্তনের মধ্যে হারিয়ে যেতে বসা এক ঐতিহ্যকে ধরে রাখার লড়াইও।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে ১০৮ পদে চাকরি

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে ১০৮ পদে চাকরি

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে চিকিৎসক ও কর্মচারী পদে ১০৮ জনকে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত ভিত্তিতে এসব জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত আবেদন ফরম পূরণ করে ১৭ অক্টোবরের মধ্যে আবেদন করতে হবে।

প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চিকিৎসক ও কর্মচারী—এই দুই শ্রেণিতে নিয়োগ দেওয়া হবে। চিকিৎসক পদে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার এবং কর্মচারী পদে ওয়ার্ড বয়/আয়া, পিয়ন ও অ্যাটেনডেন্ট নিয়োগ দেওয়া হবে। পদভেদে শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, বয়সসীমা ও আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

চিকিৎসক পদে নিয়োগ

চিকিৎসক ক্যাটাগরিতে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার পদে মোট ৫০ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে শিশু মেডিসিন বিভাগে ৩৫টি, শিশু সার্জারি বিভাগে ৯টি, শিশু অ্যানেসথেসিয়া বিভাগে ৫টি এবং ইএনটি বিভাগে ১টি পদ রয়েছে। এসব পদ নবম গ্রেডের। বেতন স্কেল ৪৪ হাজার থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা।

আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীকে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) স্বীকৃত ও নিবন্ধিত মেডিক্যাল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে এবং এমবিবিএস ডিগ্রি থাকতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) বা বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) স্বীকৃত অন্তত এক বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

শিশু মেডিসিন, শিশু সার্জারি, শিশু অ্যানেসথেসিয়া ও ইএনটি—যে বিভাগে আবেদন করা হবে, সেই বিভাগের সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হবে।

চিকিৎসক পদে আবেদনকারীদের বয়স সর্বোচ্চ ৩৫ বছর হতে হবে। তবে ডিএইচসি, এমডি, এমএস ও এফসিপিএসের মতো উচ্চতর যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা দুই বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিকিৎসক পদে আবেদন করতে পরিচালক, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অনুকূলে যেকোনো তফসিলি ব্যাংক থেকে ২ হাজার টাকার অফেরতযোগ্য পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট জমা দিতে হবে।

কর্মচারী পদে নিয়োগ

কর্মচারী ক্যাটাগরিতে মোট ৬৮ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ওয়ার্ড বয়/আয়া পদে ৩৩ জন, পিয়ন বা অফিস সহায়ক পদে ১০ জন এবং অ্যাটেনডেন্ট পদে ২৫ জন নেওয়া হবে। অ্যাটেনডেন্ট পদগুলো ওটি, এক্স-রে, ল্যাব ও কার্ডিয়াক বিভাগে।

এসব পদ ২০তম গ্রেডের। বেতন স্কেল ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা।

ওয়ার্ড বয়/আয়া ও পিয়ন পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীদের এসএসসি পাস হতে হবে। ওয়ার্ড বয়/আয়া পদে সমপদে বা সংশ্লিষ্ট কাজে অন্তত এক বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। অন্যদিকে, পিয়ন বা অফিস সহায়ক পদে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কিংবা প্রকল্পে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন।

অ্যাটেনডেন্ট পদে এসএসসি পাসের পাশাপাশি সমপদে বা সংশ্লিষ্ট কাজে অন্তত দুই বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে এ ক্ষেত্রেও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

কর্মচারী পদে আবেদনকারীদের বয়স সর্বোচ্চ ৩২ বছর হতে হবে। এ শ্রেণির পদে আবেদনের জন্য পরিচালক, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অনুকূলে যেকোনো তফসিলি ব্যাংক থেকে ৫০০ টাকার অফেরতযোগ্য পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট জমা দিতে হবে।

যেভাবে আবেদন করবেন

আগ্রহী প্রার্থীদের বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে নির্ধারিত আবেদন ফরম ডাউনলোড করে পূরণ করতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, অভিজ্ঞতার সনদ, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিএমডিসি নিবন্ধনের প্রমাণ, জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্মনিবন্ধন সনদ, নাগরিকত্ব সনদ, তিন কপি ল্যাব প্রিন্ট পাসপোর্ট সাইজের সত্যায়িত ছবি এবং নির্ধারিত আবেদন ফির পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট সংযুক্ত করতে হবে।

পূর্ণাঙ্গ আবেদনপত্র আগামী ১৭ অক্টোবরের মধ্যে অফিস চলাকালীন সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টার মধ্যে সরাসরি অথবা ডাকযোগে পাঠাতে হবে। আবেদনপত্র পাঠানোর ঠিকানা: পরিচালক, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা-১২০৭। খামের ওপর আবেদন করা পদের নাম স্পষ্টভাবে লিখতে হবে।

নিয়োগ পরীক্ষা

প্রার্থীদের প্রথমে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে। আবেদন করার আগে প্রার্থীদের নিজ নিজ পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, বয়সসীমা এবং আবেদন ফি সম্পর্কে মূল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি থেকে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করে নেওয়া উচিত।

কালের আলো/এসএ

সৌদি আরবে এক সপ্তাহে গ্রেপ্তার প্রায় ১৪ হাজার, ফেরত ১০ হাজারের বেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
সৌদি আরবে এক সপ্তাহে গ্রেপ্তার প্রায় ১৪ হাজার, ফেরত ১০ হাজারের বেশি

সৌদি আরবে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৪ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। একই সময়ে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে ১০ হাজার ৪৩১ জন প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্যের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে গালফ নিউজ।

এক সপ্তাহে গ্রেপ্তার ১৩ হাজার ৮৮৯ জন

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে নিরাপত্তা বাহিনী। এ সময় মোট ১৩ হাজার ৮৮৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ হাজার ৭৮৫ জনের বিরুদ্ধে আবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ৩ হাজার ৭১০ জন সীমান্ত সুরক্ষা আইন এবং ৩ হাজার ৩৯৪ জন শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক হয়েছেন।

সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের চেষ্টায় আটক ১ হাজার ৩৩৮ জন

সৌদি আরবে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টার সময় সীমান্ত এলাকা থেকে আরও ১ হাজার ৩৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৬ শতাংশ ইথিওপীয়, ৩৩ শতাংশ ইয়েমেনি এবং বাকি ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। এ ছাড়া অবৈধভাবে সৌদি আরব ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টার সময় আরও ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

১০ হাজার ৪৩১ প্রবাসীকে দেশে ফেরত

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর ১০ হাজার ৪৩১ জন প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে কোন কোন দেশের কতজন নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।

এদিকে, আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনকারীদের যাতায়াত, বাসস্থান কিংবা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার অভিযোগে ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ।

সহায়তাকারীদের জন্য কঠোর শাস্তির সতর্কতা

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশে সহায়তা করা, নথিপত্রহীন ব্যক্তিদের পরিবহন করা, আশ্রয় দেওয়া কিংবা অন্য কোনোভাবে সহযোগিতা করলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে।

এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসীদের বৈধ আবাসন ও কাজের অনুমতি বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট আইন মেনে চলার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে এই অভিযান।

কালের আলো/এসএ

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কৌশলগত উদ্যোগ; মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে অঙ্গীকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কৌশলগত উদ্যোগ; মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে অঙ্গীকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করছে বাংলাদেশ। দীর্ঘদিনের বাস্তুচ্যুতির অবসান ঘটিয়ে মিয়ানমারের নাগরিকদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও আঞ্চলিক অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। রাখাইন রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক যোগাযোগের বহুমুখী পথ অনুসন্ধানের পাশাপাশি প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টাও গুরুত্ব পাচ্ছে। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা সংকটকে শুধু মানবিক সহায়তার বিষয় হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে সমাধানের পথে এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা স্পষ্ট হচ্ছে।

  • চীন, জাপান, আসিয়ান ও জাতিসংঘকে নিয়ে কৌশলগত জোট গঠনে জোর
  • মানবিক সহায়তার গণ্ডি পেরিয়ে টেকসই প্রত্যাবাসনে গুরুত্ব
  • আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে কৌশলগত উদ্যোগের আহ্বান

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের (এফডিএমএন) স্বদেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ। আর এটি নিশ্চিতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করা হচ্ছে।

মন্ত্রী রবিবার (১১ অক্টোবর) ঢাকার হোটেল রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনের অন্তরা হলে ‘ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ’ (এফএসডিএস)-এর উদ্যোগে ‘রোহিঙ্গা সংকট: উত্তরণের পথ—টেকসই প্রত্যাবাসন ও স্থায়ী আঞ্চলিক সমাধানের অভিমুখ’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এফএসডিএসের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর (অব.)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রীর পদমর্যাদা) মোঃ ইসমাইল জবিউল্লাহ।

একক প্রচেষ্টার বাইরে আঞ্চলিক জোটের প্রয়োজন
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য কেবল বাংলাদেশের একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়; বরং চীন, আসিয়ান, জাতিসংঘ, জাপানসহ সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে নিয়ে একটি কৌশলগত আঞ্চলিক জোট ও সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘস্থায়িত্ব বিবেচনায় মন্ত্রীর এই বক্তব্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বাস্তুচ্যুত এই জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে। কিন্তু প্রত্যাবাসনের উপযোগী রাজনৈতিক, নিরাপত্তাগত ও মানবিক পরিবেশ তৈরি না হওয়ায় সংকটের স্থায়ী সমাধান এখনো সম্ভব হয়নি। এ বাস্তবতায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ, কার্যকর কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে চীন, জাপান, আসিয়ান ও জাতিসংঘের মতো পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা গেলে প্রত্যাবাসন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক মনোযোগ ও সহযোগিতাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা এবং বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর।

জাপানের সহযোগিতায় প্রত্যাবাসন আলোচনায় নতুন গতি
মন্ত্রী বলেন, অতি সম্প্রতি জাপান সরকারের মিয়ানমার বিষয়ক জাতীয় পুনর্মিলন (রিকনসিলিয়েশন) সংক্রান্ত বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাসাকাওয়া বাংলাদেশ সফর করেছেন। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ও তিনি নিজে তার সাথে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং জাপান সরকার এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। এছাড়া, এ মাসের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের কথা রয়েছে, যেখানে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আরও আলোচনা হবে। জাপানের এই সম্পৃক্ততা প্রত্যাবাসন প্রশ্নে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সম্প্রসারণের একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে কার্যকর উদ্যোগে রূপ দিতে পারলে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে আলোচনার ধারাবাহিকতা, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দায়িত্ব এবং বাস্তব অগ্রগতির বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

রাখাইনের বাস্তবতায় বহুমুখী কূটনৈতিক যোগাযোগ
রাখাইন রাজ্যের বর্তমান পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সেখানে আইনি (ডি জুরে) সরকারের পাশাপাশি বড় অংশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে আরাকান আর্মি (এএ)। ফলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগসহ নানামুখী কূটনৈতিক মাধ্যম ব্যবহার করে সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। তবে শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনই মূল লক্ষ্য এবং চূড়ান্ত বিকল্প হিসেবে সকল পথ উন্মুক্ত রেখেই বাংলাদেশ কূটনৈতিক সংলাপ অব্যাহত রাখবে।

রাখাইন রাজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে। সেখানে কারা কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, তা প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে কেবল আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ অনুসন্ধান করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

সংকট ব্যবস্থাপনা থেকে কৌশলগত কূটনীতিতে যাওয়ার আহ্বান
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, রোহিঙ্গা সংকট কেবল একটি মানবিক সমস্যা বা দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয়; এটি জাতীয় স্বার্থ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। বিগত দশকগুলোতে এই সংকটের বহুমুখী জটিলতা ও মিয়ানমারের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে আমাদের এখন সংকট ব্যবস্থাপনা থেকে কৌশলগত কূটনীতি, অস্থায়ী ত্রাণ সহায়তা থেকে টেকসই প্রত্যাবাসন এবং খণ্ডিত উদ্যোগের পরিবর্তে একটি সমন্বিত জাতীয় কৌশলের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এছাড়া, রোহিঙ্গাদের মানবিক অধিকার ও সুরক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ নিজ ভূমিতে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

জনপ্রশাসন উপদেষ্টার বক্তব্যে সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে। মানবিক সহায়তা বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবন রক্ষায় অপরিহার্য হলেও তা স্থায়ী প্রত্যাবাসনের বিকল্প নয়। তাই মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রত্যাবাসনের রাজনৈতিক, নিরাপত্তাগত ও অধিকারসংক্রান্ত শর্ত পূরণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। জাতীয় স্বার্থ, মানবিক দায়িত্ব এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়গুলোকে একই কৌশলের আওতায় আনতে পারলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান আরও সুসংহত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের সুযোগ কাজে লাগানোর প্রত্যাশা
সেমিনারের শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জাতিসংঘে এই বছর সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রত্যাবাসন ইস্যুটি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। চীন, জাপান, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি টেকসই প্রত্যাবাসনের পথ বের করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের এই সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন দেশের কৌশলগত স্বার্থ ও অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং মানবিক বিপর্যয়ের অবসানকে অভিন্ন আলোচনার ভিত্তি হিসেবে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সহযোগিতাকে কার্যকর পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারলে প্রত্যাবাসন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ আরও গতিশীল হতে পারে।

তিন প্রবন্ধে প্রত্যাবাসনের বহুমাত্রিক পথ
সেমিনারে বিষয়ভিত্তিক তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয়। প্রথম প্রবন্ধে মিয়ানমার ও রাখাইনের পরিবর্তিত বাস্তবতায় রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোকপাত করেন অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. আলী আশরাফ। দ্বিতীয় প্রবন্ধে রাখাইনের উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা ও প্রত্যাবাসনবিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক শাহাব এনাম খান। তৃতীয় প্রবন্ধে আঞ্চলিক কূটনীতি এবং বাংলাদেশের কৌশলগত পথসমূহ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা তুলে ধরেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাফায়াত আহমদ, পিএইচডি (অব.)।

উপস্থাপিত প্রবন্ধগুলোর ওপর আলোচনায় বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, প্রত্যাবাসন কেবল মানুষদের শারীরিক পুনর্বাসন নয়; বরং ফেরত যাওয়া নাগরিকদের নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব, বাসস্থান, জীবিকা ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে গ্রহণযোগ্যতা তৈরির মতো অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করাই টেকসই সমাধানের মূল চাবিকাঠি।

এই আলোচনার মধ্য দিয়ে প্রত্যাবাসনের বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলোও সামনে এসেছে। নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করাই যথেষ্ট নয়; সেখানে নিরাপদ বসবাস, নাগরিক অধিকার, জীবিকা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে গ্রহণযোগ্য সম্পর্ক নিশ্চিত করাও জরুরি। এসব বিষয়কে প্রত্যাবাসন পরিকল্পনার কেন্দ্রে রাখা গেলে ফিরে যাওয়া মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির সম্ভাবনা বাড়বে। সেমিনারে দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কূটনৈতিক অঙ্গীকারকে বাস্তব অগ্রগতিতে রূপ দেওয়া। আঞ্চলিক শক্তি, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া গেলে দীর্ঘদিনের এই সংকট নিরসনের পথ সুগম হতে পারে। নিরাপত্তা, মানবিক অধিকার ও মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগই এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথ।

কালের আলো/এমএএএমকে