খুঁজুন
                               
, ,
           

এসবিএসি ব্যাংকে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার নিয়োগ

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৭ অপরাহ্ণ
এসবিএসি ব্যাংকে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার নিয়োগ

এসবিএসি ব্যাংক পিএলসি (সাউথবাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক) শাখা পরিচালনার জন্য জনবল নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। ব্যাংকটিতে ‘ব্রাঞ্চ ম্যানেজার’ পদে স্থায়ী ভিত্তিতে কর্মী নেওয়া হবে। পদ ও প্রার্থীর জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার থেকে এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট পদমর্যাদায় নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ সময় ১৮ অক্টোবর ২০২৬।

পদ ও কর্মস্থল: এসবিএসি ব্যাংকের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার পদে ফুলটাইম ও স্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে। পদমর্যাদা হবে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার থেকে এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত। নির্বাচিত প্রার্থীদের বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্বীকৃত যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেকোনো বিষয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে তৃতীয় বিভাগ, শ্রেণি বা সমমানের ফলাফল গ্রহণযোগ্য হবে না। সিএ, সিএমএ, এসিসিএ, সিএফএ, এমপিএ, এমপিএফ, এমপিবি অথবা এমবিএম কোর্স সম্পন্ন করা প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন।

অভিজ্ঞতা: প্রার্থীর যেকোনো স্বনামধন্য ব্যাংকে ব্যাংক কর্মকর্তা হিসেবে কমপক্ষে ৫ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। যারা এমটিও বা প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছেন, তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বয়সসীমা: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ৫৫ বছর হতে হবে।

অন্যান্য যোগ্যতা: শাখা পরিচালনা, ব্যাংকিং অপারেশনস, ক্রেডিট ম্যানেজমেন্ট, বৈদেশিক বাণিজ্য এবং ব্যবসায়িক উন্নয়নে বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পাশাপাশি চমৎকার যোগাযোগ দক্ষতা ও আন্তব্যক্তিক সম্পর্ক বজায় রাখার সক্ষমতা প্রয়োজন। চাকরিতে বিরতি রয়েছে—এমন প্রার্থীদের আবেদন না করার জন্য বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রধান দায়িত্ব: নির্বাচিত ব্রাঞ্চ ম্যানেজারকে শাখার পোর্টফোলিও পরিচালনা এবং ব্যাংকের নির্ধারিত ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করতে হবে। উচ্চপদস্থ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দেওয়া লক্ষ্য অনুযায়ী শাখার দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা, আমানত ও ঋণের প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা, সেলস টিম পরিচালনা এবং নতুন ব্যবসা ও গ্রাহক সংগ্রহ করতে হবে। পাশাপাশি অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং (এএমএল) নির্দেশিকাসহ ব্যাংকিংয়ের সব ধরনের নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিবিধান, কমপ্লায়েন্স ও অভ্যন্তরীণ তদারকি যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে হবে। শাখার কর্মীদের পরিচালনা এবং তাঁদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তার মাধ্যমে দক্ষ টিম গঠন করাও দায়িত্বের অংশ।

আবেদন প্রক্রিয়া: আগ্রহী প্রার্থীদের এসবিএসি ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। চাকরির বিস্তারিত তথ্য ও আবেদনসংক্রান্ত নির্দেশনা বিজ্ঞপ্তিতে পাওয়া যাবে। আবেদনের শেষ তারিখ ১৮ অক্টোবর ২০২৬।

কালের আলো/এসএ

ঢাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আঞ্চলিক সহযোগীদের ব্যবহার করতেন পিচ্চি আল-আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
ঢাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আঞ্চলিক সহযোগীদের ব্যবহার করতেন পিচ্চি আল-আমিন

রাজধানীর রামপুরা এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মো. আল-আমিন ওরফে পিচ্চি আল-আমিন বরগুনা ও ঝালকাঠি থেকে সহযোগী এনে ঢাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন বলে জানিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

আল-আমিনসহ তার ছয় সহযোগীকে গ্রেপ্তারের পর রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, আল-আমিনের বাড়ি ঝালকাঠিতে। তার পাঁচ সহযোগীর মধ্যে চারজনের বাড়িও ঝালকাঠি এবং একজনের বাড়ি বরগুনায়। তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আল-আমিন তার সমমনা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উপযোগী লোকজনকে বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকায় এনে কাজে যুক্ত করতেন।

তিনি বলেন, আল-আমিনের বিরুদ্ধে ২০১১ সাল থেকে বিভিন্ন সরকারের আমলে মামলা রয়েছে। তিনি স্বভাবগত অপরাধী। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকাকালে কেউ তার মাধ্যমে সুযোগ নিয়ে থাকতে পারে। তবে আল-আমিন নিজেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।

এসআরবির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, ১ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১টার দিকে রামপুরার টিভি রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে পিচ্চি আল-আমিন, তার দুই সহযোগী কামাল উদ্দিন ও খাইরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলবার ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

আল-আমিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন সন্ধ্যায় রামপুরার কুঞ্জবন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও দুই সহযোগী মো. সোহাগ হাওলাদার ওরফে মামুন এবং মো. রিফাত ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে দুটি দেশীয় ছুরি উদ্ধার করা হয়।

পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় রামপুরার কুঞ্জবন এলাকা থেকে আল-আমিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. কাওছার খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খিলগাঁওয়ের ভূঁইয়াপাড়ার একটি টিনশেড ঘরে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি রিভলবার, একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও নয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

এসআরবি জানায়, আল-আমিন সন্ত্রাসী ইয়াছিন খান পলাশ ওরফে কাইল্লা পলাশ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তার বিরুদ্ধে খিলগাঁও, রামপুরা, হাতিরঝিল ও গুলশান থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য, হত্যা ও অস্ত্র আইনে মামলাসহ মোট ২৭টি মামলা রয়েছে।

আল-আমিন গ্রেপ্তারের পর রামপুরা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন বলেও জানিয়েছে এসআরবি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

তারেক-ট্রাম্পের ছবি: সত্যকে হারাতে এআইয়ের কারসাজি?

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩১ অপরাহ্ণ
তারেক-ট্রাম্পের ছবি: সত্যকে হারাতে এআইয়ের কারসাজি?

একটি ছবি প্রকাশিত হয়েছে হোয়াইট হাউস থেকে। একই ছবি পরে শেয়ার করেছে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস। অথচ সেই ছবিকেই ‘ভুয়া’ প্রমাণের ঘৃণ্য কসরত চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। আর এই দাবির পক্ষে যে ছবি ঘুরছে, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের দাবি—সেটিই এআই-জেনারেটেড বা ম্যানিপুলেটেড। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের ছবি ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক তাই এখন শুধু একটি ছবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন নয়। বরং প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি উৎসে প্রকাশিত একটি ছবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ব্যবহৃত বিকল্প ‘প্রমাণ’ কতটা সত্য?

  • সামাজিক মাধ্যমে অপতথ্যের তাণ্ডব
  • হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত ছবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ
  • মাহ্‌দী আমিনের কড়া অবস্থান

প্রথম প্রশ্ন: ছবিটির উৎস কোথায়?

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাওয়া বিশ্বনেতা ও তাঁদের সহধর্মিণীদের সম্মানে অভ্যর্থনা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের উপস্থিতির ছবিটি পরে হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশ করা হয়। এখানে সরকারের যুক্তির জায়গাটি স্পষ্ট। ছবিটি কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তি বা রাজনৈতিক কর্মীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে প্রথমে ছড়ানো হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ছবিটি এসেছে খোদ হোয়াইট হাউস থেকে।

এরপর ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসও সেটি প্রকাশ করেছে। অতএব, ছবিটির সত্যতা যাচাইয়ের প্রথম ধাপেই সরকারি উৎসের বিষয়টি সামনে আসে। কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত ছবিকে একই মাত্রায় বিবেচনা করার সুযোগ নেই—সরকারের বক্তব্যের মূল যুক্তি এটিই।

দ্বিতীয় প্রশ্ন: ‘ভুয়া’র প্রমাণটি কি সত্য?

বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড় এখানেই। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে, তারেক রহমানের প্রকাশিত ছবিটিকে মিথ্যা প্রমাণ করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিকল্প ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে। ছবিটিতে ট্রাম্পের সঙ্গে কসোভোর প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তির দৃশ্যকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রেস উইংয়ের দাবি, আলবেনিয়াভিত্তিক সংবাদ ও বিশ্লেষণধর্মী প্ল্যাটফর্ম Pamfleti.net-এর ২ অক্টোবরের প্রতিবেদনে ওই ছবিটিকে এআই-জেনারেটেড বা ম্যানিপুলেটেড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

অর্থাৎ সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, যে ছবি দিয়ে হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত ছবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে, সেটির নিজেরই বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। এখানেই অপপ্রচারের কৌশলটি ধরা পড়ে—একটি সন্দেহজনক বা কৃত্রিম কনটেন্টকে ‘প্রমাণ’ হিসেবে দাঁড় করিয়ে আসল উৎসের ছবিকে সন্দেহের মধ্যে ফেলা।

মাহ্‌দী আমিনের সরাসরি প্রশ্ন

রোববার (০৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিনও বিষয়টি নিয়ে সরাসরি অবস্থান নেন। তাঁর বক্তব্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইক, শেয়ার, কমেন্ট ও ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগিতা অনেক সময় তথ্য যাচাইয়ের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে পেছনে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত একটি ছবি পরে মার্কিন দূতাবাসও শেয়ার করার পরও সেটি নিয়ে কেন এমন প্রশ্ন তৈরি করা হচ্ছে?

মাহ্‌দী আমিনের যুক্তি আরও সরল—বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন, সেটি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়। তাঁর দাবি, দুই নেতার মধ্যে আন্তরিক ও স্বতঃস্ফূর্ত আলোচনা হয়েছে। সুতরাং ঘটনাটিকে অবিশ্বাস্য করে তোলার চেষ্টা করার পেছনে বাস্তব কোনো যুক্তি নেই।

একই বয়ানে পরিবারের সদস্যরাও

তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে ঘিরেও ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন মাহ্‌দী আমিন। বিশেষ করে জাইমা রহমানের জাতিসংঘে চাকরির বিষয়ে তাঁর বক্তব্য—যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতেই তিনি চাকরি পেয়েছেন; এর সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই। এতে সরকারের অভিযোগের পরিধি আরও স্পষ্ট হয়। তাদের দাবি, বিচ্ছিন্ন কোনো ভুল নয়; রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে ঘিরে ধারাবাহিকভাবে এমন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

এআইয়ের যুগে ‘চোখে দেখা’ই শেষ কথা নয়

এসব বিতর্কের সবচেয়ে বড় শিক্ষা প্রযুক্তিগত। এআই এখন এমন ছবি তৈরি করতে পারে, যা প্রথম দেখায় বাস্তব বলে মনে হতে পারে। ফলে কোনো ছবি সত্য কি না, তা শুধু চোখে দেখে কিংবা ভাইরাল হওয়ার মাত্রা দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। এই জায়গায় সরকারের অবস্থান তুলনামূলকভাবে সুস্পষ্ট: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দাবি নয়, ছবির উৎসকে গুরুত্ব দিতে হবে। আর এ ক্ষেত্রে সরকারের হাতে থাকা সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তি হলো—ছবিটি হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত এবং পরে মার্কিন দূতাবাসও তা শেয়ার করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তারেক রহমানের ছবিকে ঘিরে তাই লড়াইটি কেবল একটি ছবির সত্য-মিথ্যা নিয়ে নয়। এটি তথ্যের উৎস বনাম ভাইরাল দাবির লড়াই। আর সরকারের বার্তাটি পরিষ্কার—রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু একটি সরকারি অনুষ্ঠানের ছবি নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে হবে যাচাইযোগ্য উৎস ও প্রমাণের ভিত্তিতে; এআই-নির্ভর বিভ্রান্তির ওপর নয়।

কালের আলো/এমএএএমকে

বাব আল–মানদেব ঘিরে যুদ্ধের দামামা, ১ লাখ সেনা নামাচ্ছে সৌদি

কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৭ অপরাহ্ণ
বাব আল–মানদেব ঘিরে যুদ্ধের দামামা, ১ লাখ সেনা নামাচ্ছে সৌদি

ইয়েমেনে যুদ্ধের পুরোনো আগুন আবার বড় পরিসরে জ্বলে উঠছে। এবার লড়াইয়ের কেন্দ্র শুধু হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকা নয়; লক্ষ্য লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মানদেব। এই কৌশলগত জলপথের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বড় সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, স্থল অভিযানে এক লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনা অংশ নিতে পারেন। তাঁদের সহায়তায় বিমান হামলা চালাবে সৌদি বাহিনী।

অর্থাৎ ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর ইয়েমেনে যে সংঘাত তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল, তা আবার বড় আকার নেওয়ার পথে। আর এবার সৌদি আরব একা নয়—যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সহায়তা, পাকিস্তানের সেনা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, তুরস্কের সামরিক সম্পর্ক এবং ফ্রান্সের প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা মিলিয়ে যুদ্ধের সমীকরণও বদলে গেছে।

  • হুতিদের দখলে থাকা উপকূল পুনরুদ্ধারের প্রস্তুতি
  • আকাশে সৌদি, গোয়েন্দা সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র, পাশে পাকিস্তান-তুরস্ক

কেন বাব আল-মানদেব এত গুরুত্বপূর্ণ?

ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের বাব আল-মানদেব প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে নৌবাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কেবল ইয়েমেনের সামরিক হিসাব নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

হুতিরা উপকূলীয় এলাকায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করার পর এই জলপথে তাদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে। সৌদি আরবের সম্ভাব্য অভিযানের প্রধান লক্ষ্য তাই শুধু ভূখণ্ড পুনর্দখল নয়; নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

রয়টার্সকে সাবেক সৌদি রাষ্ট্রদূত মাইকেল র‍্যাটনি বলেছেন, নতুন অভিযান ২০১৫ সালের সৌদি হস্তক্ষেপের মতো ব্যাপক নাও হতে পারে। বরং বাব আল-মানদেব দিয়ে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করাই হতে পারে এর মূল লক্ষ্য।

স্থলযুদ্ধে নামবে এক লাখের বেশি সেনা

সম্ভাব্য অভিযানের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসতে পারে স্থলযুদ্ধে। রয়টার্সের একাধিক মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা সূত্র জানিয়েছে, এক লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বাব আল-মানদেব ছাড়াও আল-বায়দা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফ অঞ্চলে অভিযান বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত মাসে হুতিরা লোহিত সাগরের উপকূলজুড়ে নতুন এলাকা দখলে নেওয়ার পর সৌদি নেতৃত্বাধীন পক্ষের ওপর সামরিক চাপ বাড়ে।

ইতিমধ্যে বিমান হামলাও তীব্র হয়েছে। ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী গত শুক্রবার তাইজে হুতিদের অবস্থানে ২০টি বিমান হামলার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে সৌদি ভূখণ্ডেও হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ফলে স্থল অভিযান শুরুর আগেই সংঘাতটি দুই দেশের সীমান্ত ও সামরিক অবকাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।

রিয়াদের পাশে কারা?

এই অভিযানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে সৌদি আরবের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, হুতিদের ওপর বিমান হামলার ক্ষেত্রে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তান সৌদি আরবের আকাশ ও সীমান্ত প্রতিরক্ষায় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম দিয়েছে। তুরস্কের সঙ্গে সৌদির প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও জোরদার হয়েছে। ফ্রান্স ইয়ানবু বন্দর রক্ষায় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও সেনাসদস্য পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।

পাকিস্তানের একটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি আরবে ৩০ থেকে ৪০ হাজার পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তবে তাঁদের ইয়েমেনে পাঠানোর পরিকল্পনা নেই। এই সহযোগিতা দেখাচ্ছে, ইয়েমেনের সংঘাত এখন শুধু দুই পক্ষের স্থানীয় লড়াই হিসেবে থাকছে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে উপসাগরীয় নিরাপত্তা ও বৃহত্তর আঞ্চলিক সামরিক সমীকরণ।

যুদ্ধের মধ্যেই কূটনীতির জানালা

তবে সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। পাকিস্তানের ভাষ্য অনুযায়ী, হুতিদের সঙ্গে আলোচনার একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। এ নিয়ে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে বৈঠকের উদ্যোগও রয়েছে।

এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি সমান্তরাল প্রবণতা। একদিকে সৌদি আরব বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে মিত্রদের মাধ্যমে হুতিদের সঙ্গে যোগাযোগের সম্ভাবনাও খোলা রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ রিয়াদের কৌশল এখন শুধু সামরিক চাপের ওপর নির্ভর করছে না; যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি কূটনৈতিক পথও বিবেচনায় রয়েছে।

সবচেয়ে বিপন্ন ইয়েমেনের মানুষ
যুদ্ধের এই নতুন অধ্যায়ের সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের সরকারনিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রায় ৭৪ শতাংশ পরিবার খাবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারছে না।

এর মধ্যেই লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। নতুন করে বড় অভিযান শুরু হলে খাদ্য, জ্বালানি ও চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে বাব আল-মানদেব ও লোহিত সাগরকেন্দ্রিক সংঘাত বাড়লে এর প্রভাব ইয়েমেনের গণ্ডি ছাড়িয়ে আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যেও পড়তে পারে।

সৌদির সামনে আসল পরীক্ষা

বিমান হামলা চালানোর সক্ষমতা সৌদি আরবের রয়েছে, মিত্রদের সামরিক সহায়তাও মিলছে। কিন্তু বাব আল-মানদেবের মতো কৌশলগত এলাকা পুনর্দখলের আসল পরীক্ষা হবে স্থলযুদ্ধে। সৌদি রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলী শিহাবির মতে, এখন পর্যন্ত ইয়েমেনি স্থলবাহিনী মূলত নিজেদের অবস্থান ধরে রাখায় মনোযোগ দিয়েছে। সম্ভাব্য নতুন অভিযানে তাদের ভূমিকা হবে আক্রমণাত্মক। ফলে তাদের প্রশিক্ষণ, সমন্বয় ও যুদ্ধক্ষমতার ওপর ফলাফল অনেকটাই নির্ভর করবে।

সব মিলিয়ে সামনে যে চিত্রটি তৈরি হচ্ছে, তা শুধু ‘সৌদি বনাম হুতি’ সংঘাতের পুনরাবৃত্তি নয়। বাব আল-মানদেবকে ঘিরে লড়াই হলে এর সঙ্গে যুক্ত হবে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ, সৌদি-ইরান সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সামরিক অবস্থান। তাই আগামী কয়েক সপ্তাহে রিয়াদ কী সিদ্ধান্ত নেয়, হুতিরা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায় এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা এগোয়—এই তিনটি বিষয়ই নির্ধারণ করতে পারে ইয়েমেনে নতুন যুদ্ধ কতটা বিস্তৃত হবে।

কালের আলো/আরআই/এমকে