খুঁজুন
                               
, ,
           

আমাকে একঘরে করে রাজনৈতিক জীবন শেষ করার ছক ছিল: ইশরাক

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১১ অপরাহ্ণ
আমাকে একঘরে করে রাজনৈতিক জীবন শেষ করার ছক ছিল: ইশরাক

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রথমে শাস্তি মনে হলেও পরে সেটিকে নিজের জন্য সেরা পরামর্শ হিসেবে দেখছেন সদ্য সাবেক মুক্তিযোদ্ধা প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তাঁর দাবি, একটি গণমাধ্যম ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে ভয়াবহ পরিকল্পনা সাজিয়েছিল। পদত্যাগের মাধ্যমে সেই চক্রান্ত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পেরেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন ইশরাক হোসেন।

রাজনৈতিক জীবন শেষ করার পরিকল্পনা ছিল, দাবি ইশরাকের
ফেসবুক পোস্টে ইশরাক লেখেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়ে এযাবৎকালের সেরা পরামর্শটি দিয়েছিলেন। তিনি একবাক্যে সেই নির্দেশ মেনে নেন। যদিও শুরুতে বিষয়টিকে শাস্তি বলে মনে হয়েছিল, পরে তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর জন্য ক্ষতিকর একটি পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল। ইশরাকের ভাষ্য, একটি গণমাধ্যম ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক নেতিবাচক প্রতিবেদন ও মিথ্যা প্রচারণা চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল। এর মাধ্যমে তাঁর চরিত্রহনন করে তাঁকে জনসমালোচনার মুখে ফেলার পাশাপাশি শুভাকাঙ্ক্ষী জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে রাজনৈতিকভাবে একঘরে করার পরিকল্পনাও ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হতো, যাতে রাজনীতি ছাড়তে হতো
ইশরাক হোসেনের দাবি, পুরো পরিকল্পনাটি এমনভাবে সাজানো হয়েছিল, যাতে ধারাবাহিক প্রতিবেদন ও প্রচারণার মধ্য দিয়ে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এবং শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। তিনি আরও বলেন, অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে একই চক্র কী ধরনের অন্যায় পরিকল্পনা করেছিল, সে বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রী তাঁকে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন। ইশরাকের মতে, পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর আগাম উপলব্ধিই তাঁকে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করেছে।

তারেক রহমানের প্রতি আস্থার কথা জানালেন ইশরাক
পোস্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি নিজের আস্থা ও কৃতজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন ইশরাক। তিনি লেখেন, তারেক রহমান তাঁকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করেন এবং তাঁর জন্য কোনটি ভালো, তা সব সময় বিবেচনায় রাখেন। জীবনে বারবার এর প্রমাণ পেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ইশরাক বলেন, তিনি একটি কঠিন কাজ শুরু করতে যাচ্ছিলেন। সেই কাজের সূত্র ধরে ভয়াবহ একটি চক্রান্তের সূচনা হয়েছিল বলে তাঁর ধারণা। তবে সেখান থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে তিনি রক্ষা পেয়েছেন।

দলের ভেতরের সুযোগসন্ধানীদেরও সতর্কবার্তা
নিজের পোস্টে দলের ভেতরে থাকা সম্ভাব্য সুযোগসন্ধানীদের উদ্দেশেও কঠোর বার্তা দেন ইশরাক হোসেন। তাঁর অভিযোগ, দলের কেউ যদি স্বার্থের কারণে অন্য পক্ষের সঙ্গে আঁতাত করে থাকেন, তাহলে প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পোস্টের শেষাংশে ঢাকার মানুষের রাজনৈতিক অবস্থান ও বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকার মানুষকে ঘিরে অন্য এলাকার কূটকৌশল চালানোর চেষ্টা সফল হবে না।

তবে ইশরাকের পোস্টে যে গণমাধ্যম ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তাদের পরিচয় কিংবা কথিত পরিকল্পনার পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয়নি। তাঁর বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ব্যক্তিগত অভিযোগ ও রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে সামনে এসেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

টানা হারে বিদায়, বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে ক্ষুব্ধ হৃদয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৯ অপরাহ্ণ
টানা হারে বিদায়, বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে ক্ষুব্ধ হৃদয়

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে টানা দুই হারে ফাইনালের আগেই বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। বড় টুর্নামেন্টে শিরোপা জয়ের স্বপ্নের কথা বলা হলেও মাঠের পারফরম্যান্সে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না—দলের এই বাস্তবতা স্বীকার করেছেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। তাঁর মতে, ট্রফি জয়ের ক্ষুধা খেলোয়াড়দের মধ্যে থাকলেও সেই আকাঙ্ক্ষাকে পারফরম্যান্সে রূপ দিতে পারছে না দল।

বুধবার (২১ অক্টোবর) শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের কাছে ৭ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৯ রানে পরাজিত হয়েছিল দলটি। টানা দুই হারে ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে মাত্র ১৬০ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর ম্যাচে লড়াই জমিয়ে তোলার সুযোগও তৈরি করতে পারেনি হৃদয়ের দল।

শিরোপা জয়ের কথা বললেই হয় না, মাঠেও প্রমাণ দিতে হবে
বড় আসরে বাংলাদেশের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ব্যবধান নিয়ে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলে হতাশা প্রকাশ করেন তাওহীদ হৃদয়। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও সেই লক্ষ্যের সঙ্গে মাঠের পারফরম্যান্সের মিল থাকছে না।

হৃদয় বলেন, ‘যখনই আমরা বড় কোনো সিরিজ, ত্রিদেশীয় সিরিজ, এশিয়া কাপ কিংবা বিশ্বকাপ খেলতে যাই, ব্যক্তিগতভাবে এবং দল হিসেবে সবাই ট্রফি জিততে চাই। এই ক্ষুধাটা সবার মধ্যেই আছে। কিন্তু আমরা শুধু মুখেই বলি, আমাদের কাজে সেটার প্রতিফলন দেখা যায় না।’

ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের এই মন্তব্য বাংলাদেশের ক্রিকেটের দীর্ঘদিনের একটি সমস্যাকে সামনে নিয়ে এসেছে। বড় কোনো টুর্নামেন্টের আগে সমর্থকদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়, খেলোয়াড়েরাও শিরোপা জয়ের লক্ষ্য ঘোষণা করেন। কিন্তু মাঠে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখাতে না পারায় সেই স্বপ্ন বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

টানা দুই হারে ফাইনালের আগেই বিদায়
ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের শুরুটাই হয়েছিল হতাশাজনক। প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হারের পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল দলের সামনে। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচেও ব্যাটিং ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে আগে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৬০ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। এত কম পুঁজি নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা কঠিন ছিল। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় দলকে। দুই ম্যাচে দুই পরাজয়ে ফাইনালে ওঠার আগেই শেষ হয় বাংলাদেশের টুর্নামেন্ট।

ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতাকেই বড় সমস্যা বলছেন হৃদয়
দলের এমন পারফরম্যান্সের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ব্যাটিং ব্যর্থতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন হৃদয়। কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে দায়ী না করলেও শেষ দুই ম্যাচে ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্স নিয়ে তাঁর মূল্যায়ন ছিল কঠোর। হৃদয় বলেন, ‘আমি নির্দিষ্ট কোনো জায়গার দিকে আঙুল তুলতে চাই না। তবে পরিষ্কারভাবে বলতে গেলে, সমস্যা আমাদের ব্যাটসম্যানদের। শেষ দুই ম্যাচে আমরা খুবই বাজে ব্যাটিং করেছি। আর সে কারণেই পুরো দলকে ভুগতে হয়েছে।’

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো বাংলাদেশের ব্যাটিং দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। বড় সংগ্রহ গড়তে না পারা এবং প্রতিপক্ষের সামনে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বোলারদের জন্যও ম্যাচে ফেরার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। হৃদয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ব্যর্থতার দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে দেশের বাইরে ওয়ানডে ক্রিকেটে ব্যাটিংয়ের যে দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে, তা কাটিয়ে ওঠা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঘরের মাঠে সাফল্য থাকলেও বিদেশে ধারাবাহিকতা নেই
তবে সাম্প্রতিক দুই ম্যাচের ফলের ভিত্তিতে পুরো দলকে ব্যর্থ বলে বিবেচনা করতে রাজি নন হৃদয়। তাঁর মতে, ওয়ানডে ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের মাটিতে ভালো করেছে বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নেওয়ার আগে নিজেদের সর্বশেষ পাঁচটি ওয়ানডে সিরিজের চারটিতে জয় পেয়েছিল দল।

ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের সাফল্যও রয়েছে বাংলাদেশের। এসব ফলাফল দলের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেও দেশের বাইরে সেই পারফরম্যান্স ধরে রাখতে না পারার বিষয়টি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। হৃদয় বলেন, ‘এক-দুটি ম্যাচ বা সিরিজের ভিত্তিতে দলের কী হয়েছে, সেটা বলতে চাই না। দল ভালো অবস্থাতেই আছে। তবে আমি আগেও বলেছি, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাইরে আমাদের ব্যাটিং খুবই খারাপ হয়েছে, সেটা স্পষ্ট।’

বিদেশের মাটিতে ব্যাটিং দুর্বলতা কাটানোই বড় চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের ক্রিকেটে ঘরের মাঠে সাফল্য এবং বিদেশের মাটিতে ব্যর্থতার পার্থক্য নতুন নয়। নিজেদের পরিচিত কন্ডিশনে ভালো খেললেও ভিন্ন পরিবেশে ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে প্রায়ই সমস্যায় পড়ে দল। চলতি ত্রিদেশীয় সিরিজের ফলও সেই দুর্বলতাকে সামনে এনেছে।

বিশেষ করে বড় টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে শুধু শিরোপা জয়ের প্রত্যাশা প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়; সেই লক্ষ্য পূরণে ব্যাটিং, বোলিং ও সামগ্রিক দলীয় পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা দেখাতে হবে। তাওহীদ হৃদয়ের বক্তব্যেও সেই বাস্তবতার প্রতিফলন রয়েছে।

টানা দুই হারে সিরিজ থেকে বিদায়ের পর বাংলাদেশের সামনে এখন নিজেদের ব্যাটিং সমস্যা চিহ্নিত করে তা কাটিয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ। কারণ, শিরোপা জয়ের স্বপ্ন যত বড়ই হোক, মাঠের পারফরম্যান্সে তার প্রমাণ না মিললে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়া কঠিন।

কালের আলো/এসএ/এমএসআইপি

৩৩ হাজার ৮৫১ মণ্ডপে শান্তিপূর্ণ দুর্গোৎসব হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

বগুড়া সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২২ অপরাহ্ণ
৩৩ হাজার ৮৫১ মণ্ডপে শান্তিপূর্ণ দুর্গোৎসব হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সারা দেশে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব উদ্‌যাপিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বগুড়ার হোটেল মম-ইনের অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ প্রতিদিন আয়োজিত ‘উত্তরাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র বগুড়ার উন্নয়ন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর সম্পাদক লোটন একরাম।

মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে কোনো প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বাইরে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম—তিনটি পৃথক অঞ্চলে গিয়ে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেননি। এবার প্রধানমন্ত্রী এসব অঞ্চলে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত নির্বাচনে একটি গোষ্ঠী হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে নিজেদের সমর্থক হিসেবে বিবেচনা করত। সেই অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে তাঁরা বিএনপির প্রতি আস্থা রেখেছেন এবং দলটিকে ভোট দিয়ে বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সেই আস্থা ও বিশ্বাসের মূল্য দিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার কাজ করেছে। প্রশাসনের সদস্য ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা একসঙ্গে পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা দিয়েছেন। এর ফলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

অভিনয় এখন সেকেন্ড অপশন, প্রভার ব্যস্ততা করপোরেট দুনিয়ায়

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২২ অপরাহ্ণ
অভিনয় এখন সেকেন্ড অপশন, প্রভার ব্যস্ততা করপোরেট দুনিয়ায়

একসময় ছোট পর্দায় নিয়মিত অভিনয় করে দর্শকের নজর কেড়েছিলেন অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। নাটকে তাঁর উপস্থিতি, সাবলীল অভিনয় ও ভিন্নধর্মী চরিত্রে কাজের মাধ্যমে বিনোদন অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেন তিনি। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে তাঁর কাজের ধরন। লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের জগতে আগের মতো নিয়মিত দেখা না গেলেও বর্তমানে করপোরেট দুনিয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন এই অভিনেত্রী। অভিনয়কে এখন আর প্রধান পেশা হিসেবে দেখছেন না; বরং নিজের ক্যারিয়ারে এটিকে ‘সেকেন্ড অপশন’ হিসেবে বিবেচনা করছেন তিনি।

জানা গেছে, গত দেড় বছর ধরে একটি ইলেকট্রনিকস কোম্পানিতে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রভা। ফলে অভিনয়ের পাশাপাশি করপোরেট জগতেই এখন তাঁর ব্যস্ততা বেশি। কাজের এই পরিবর্তনের কারণে পর্দায় তাঁর উপস্থিতি কমলেও অভিনয় থেকে পুরোপুরি সরে যাননি তিনি। বরং পছন্দের গল্প ও চরিত্র পেলেই নতুন কাজে যুক্ত হচ্ছেন।

অভিনয়ে ফেরার তাড়া নেই প্রভার
বর্তমানে অভিনয়কে নিয়মিত পেশা হিসেবে চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কোনো তাড়াহুড়া নেই প্রভার। কাজের সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে নিজের পছন্দ ও সুযোগকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। ভালো গল্প, ভিন্নধর্মী চরিত্র কিংবা উপযুক্ত পারিশ্রমিক—এই বিষয়গুলো বিবেচনা করেই অভিনয়ের প্রস্তাব গ্রহণ করছেন অভিনেত্রী।

একসময় টেলিভিশন নাটকে নিয়মিত কাজ করলেও এখন তাঁর কর্মজীবনের বড় অংশজুড়ে রয়েছে করপোরেট দায়িত্ব। ফলে অভিনয়ের ক্ষেত্রে আগের মতো ধারাবাহিক ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে না। তবে বেছে বেছে কাজ করার এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ এখনো বজায় রয়েছে বলে বোঝা যায়।

সরকারি অনুদানের দুটি সিনেমায় অভিনয়
অভিনয়ে অনিয়মিত হলেও বড় পর্দার কাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি প্রভা। এরই মধ্যে সরকারি অনুদানে নির্মিত দুটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। সিনেমা দুটি হলো ঝুমুর আসমা জুঁই পরিচালিত ‘দুই পয়সার মানুষ’ এবং সাদেক সিদ্দিকী পরিচালিত ‘দেনা পাওনা’।

জানা গেছে, সিনেমা দুটির দৃশ্যধারণের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। চলতি বছরেই বাকি কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই দুটি সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় প্রভার অভিনয় দেখার সুযোগ পাবেন দর্শকেরা। তবে সিনেমা দুটির মুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ওটিটিতে ‘লুক আ লাইক’ নিয়ে আলোচনায়
সম্প্রতি ওটিটিতে প্রচারিত ‘লুক আ লাইক’ নামের একটি নাটকে অভিনয় করে আবারও আলোচনায় আসেন প্রভা। এতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম। নাটকটিতে তাঁদের অভিনয় দর্শকের আগ্রহ তৈরি করে।

এ ছাড়া আহমেদ শাকিল নিসানের পরিচালনায় ‘বর্তমান’ নামের আরেকটি নাটকেও অভিনয় করেছেন প্রভা। নাটকটিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে বলে জানা গেছে। পর্দায় তুলনামূলক কম উপস্থিতির মধ্যেও এসব কাজের মাধ্যমে অভিনয়শিল্পী হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রাখছেন তিনি।

ধারাবাহিক নাটকেও থাকছে প্রভার উপস্থিতি
সিনেমা ও একক নাটকের পাশাপাশি ধারাবাহিক নাটকেও অভিনয় করছেন প্রভা। বর্তমানে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভিতে প্রচারিত ‘পরের মেয়ে’ ধারাবাহিকে দেখা যাচ্ছে তাঁকে।

সব মিলিয়ে, প্রভার ক্যারিয়ারে এসেছে নতুন এক অধ্যায়। একদিকে ইলেকট্রনিকস কোম্পানিতে পরিচালকের দায়িত্ব, অন্যদিকে পছন্দসই গল্প ও চরিত্রে অভিনয়—দুই ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে এগোচ্ছেন তিনি। নিয়মিত অভিনয়ে ফেরার তাড়া না থাকলেও সিনেমা, ওটিটি ও টেলিভিশন নাটকে তাঁর উপস্থিতি প্রমাণ করছে, বিনোদন অঙ্গনের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করেননি এই অভিনেত্রী।

কালের আলো/এসএ/জেএন