খুঁজুন
                               
, ,
           

হঠাৎ বুকে ব্যথা, সিসিইউতে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আব্দুল মঈন খান

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
হঠাৎ বুকে ব্যথা, সিসিইউতে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আব্দুল মঈন খান

হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান। তাঁকে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) রাখা হয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

মন্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে জাহিদ হোসেন
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি হাসপাতালে গিয়ে আব্দুল মঈন খানের খোঁজখবর নেন। শায়রুল কবির খান জানান, মন্ত্রীর সুস্থতার জন্য তাঁর পরিবার, দল ও সরকারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি
হঠাৎ বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনায় মন্ত্রীকে সিসিইউতে রাখা হয়েছে। তবে তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসার অগ্রগতি কিংবা হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। পরিবার, দল ও সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর সুস্থতার জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

৯৪ শতাংশ কাজ শেষ, তবু প্রকল্পে ৪ হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর তোড়জোড়

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২০ অপরাহ্ণ
৯৪ শতাংশ কাজ শেষ, তবু প্রকল্পে ৪ হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর তোড়জোড়

প্রকল্পের প্রায় ৯৪ শতাংশ কাজ শেষ। হাজার হাজার সড়ক ও সেতুর নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এমনকি কিছু কাজ আর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা। এরপরও প্রকল্পের শেষ পর্যায়ে এসে নতুন করে প্রায় ৪ হাজার ৫০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩’ বা আইআরআইডিপি-৩-এর তৃতীয় সংশোধনীতে এ প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রস্তাবটি নিয়ে আপত্তি উঠলেও সংশোধনী অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।

২২ অক্টোবর প্রকাশিত আমার দেশ-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের শেষ পর্যায়ে এসে বিপুল ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ সরকারি অর্থের অপচয় এবং অনিয়মের সুযোগ তৈরি করতে পারে কি না, তা নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

মূল ব্যয়ের তুলনায় বাড়ছে ৬৩ শতাংশ
২০২০ সালের জুনে প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬ হাজার ৪৭৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত।

প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় বাড়িয়ে ৬ হাজার ৫২৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা করা হয় এবং মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। পরে দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় অপরিবর্তিত রেখে মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এবার তৃতীয় সংশোধনীতে প্রকল্পের মোট ব্যয় ১০ হাজার ৫২৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে সংশোধিত ব্যয় আগের অনুমোদিত ব্যয়ের তুলনায় ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি বাড়বে। মূল প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয়ের তুলনায় বৃদ্ধি প্রায় ৬৩ শতাংশ। পাশাপাশি প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত সম্প্রসারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

কাজ প্রায় শেষ, নতুন করে যুক্ত হচ্ছে হাজার কিলোমিটার সড়ক
প্রকল্পের অগ্রগতির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত এর ভৌত অগ্রগতি ৯৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৯৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। প্রকল্পের আওতায় থাকা ৭ হাজার ২৯১টি স্কিমের মধ্যে ৬ হাজার ৩৪৪টির কাজ শেষ হয়েছে। আরও ৭৯৫টির কাজ চলমান। বিভিন্ন কারণে ২২টি স্কিম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না বলে জানানো হয়েছে।

সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রেও অগ্রগতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। মোট ১১ হাজার ১৩৬ মিটার সেতুর মধ্যে ১০ হাজার ৯৬৪ মিটারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কাজের একটি অংশও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এত অগ্রগতির পরও তৃতীয় সংশোধনীতে নতুন করে ৪৫ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক, ২১১ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক, ২ হাজার ৪৯৫ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক এবং ১ হাজার ১০ মিটার সেতু-কালভার্ট নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর সঙ্গে ২৯৯ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের কাজও যুক্ত করতে চায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পের শেষ পর্যায়ে এত বিপুল পরিমাণ নতুন কাজ যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা ও কাজ নির্বাচনের ভিত্তি নিয়ে পিইসি সভায় প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

এমপিদের চাহিদা পূরণে পুরোনো প্রকল্প সম্প্রসারণের অভিযোগ
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্যদের চাহিদার ভিত্তিতে এলাকায় উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করতেই পুরোনো প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংসদীয় আসনগুলোতে নতুন প্রকল্প নেওয়া না হওয়ায় নির্বাচনের পর এলাকায় দৃশ্যমান উন্নয়নকাজ দেখাতে না পারার বিষয়টি সামনে এসেছে। স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়নকাজের চাহিদা পূরণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির চাপও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নতুন প্রকল্প অনুমোদন, সম্ভাব্যতা যাচাই, নকশা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন শুরু করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। সে কারণে বিদ্যমান প্রকল্পের আওতায় নতুন কাজ যুক্ত করলে তুলনামূলক দ্রুত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে—এমন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।

তবে প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ হয়ে আসার পর নতুন করে বিপুল অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব উন্নয়ন পরিকল্পনার স্বচ্ছতা ও ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন আল রশীদ আমার দেশকে বলেন, বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে এসে প্রকল্পে ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানো এবং মেয়াদ সম্প্রসারণের প্রস্তাব সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। প্রায় ৯৪ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর এত বছর পেরিয়ে নতুন করে বিপুল অর্থ চাওয়াকে তিনি সুযোগের অপব্যবহার হিসেবে দেখছেন।

তাঁর মতে, পুরোনো প্রকল্পের কাঠামোর ওপর নতুন কাজ যুক্ত করে সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডিসহ নতুন প্রকল্প গ্রহণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াগুলো এড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। প্রকল্প গ্রহণে সংসদ সদস্যদের কোনো চাপ বা দাবি থাকলেও পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্ব হবে অর্থনৈতিক যুক্তি ও নিয়মের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া। রাজনৈতিক প্রভাব বা কোনো গোষ্ঠীর আনুকূল্যে উন্নয়ন ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা দেশের সামগ্রিক পরিকল্পনা কাঠামোর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আইএমইডির আপত্তি: নতুন প্রকল্প নেওয়াই যুক্তিসংগত
প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবে সবচেয়ে বড় আপত্তি এসেছে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) থেকে। পিইসি সভায় সংস্থাটির প্রতিনিধি মত দেন, নতুন করে প্রকল্পের পরিধি বাড়িয়ে ৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় না করে বর্তমান প্রকল্পটি শেষ করা উচিত। প্রয়োজন হলে নতুন প্রকল্প নেওয়া যেতে পারে।

আইএমইডির যুক্তি, প্রকল্পের মেয়াদ ইতোমধ্যে প্রায় সাত বছর হতে চলেছে। আরও মেয়াদ বাড়ালে প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে নির্মিত সড়কগুলোর গুণগত মান চূড়ান্ত মূল্যায়নের সময় যথাযথভাবে যাচাই করা কঠিন হতে পারে। সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন নির্দেশিকা অনুযায়ী বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া প্রকল্পের মেয়াদ সাধারণত তিন বছরের মধ্যে রাখার কথা। দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্প চালু থাকলে নির্মাণসামগ্রীর দর ও অন্যান্য ব্যয় পরিবর্তনের কারণে ব্যয় সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। তবে সে কারণে প্রকল্পের পরিধি অনবরত বাড়ানোর পরিবর্তে প্রয়োজন অনুযায়ী কাজের পরিধি কমিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। আইএমইডির মতে, আটটি বিভাগের জন্য একই ধরনের পৃথক গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার কার্যক্রমও চলছে। ফলে বর্তমান প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর যৌক্তিকতা আরও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

পিইসি সভাপতির ব্যাখ্যা: দ্রুত উন্নয়নকাজ শুরু করতেই উদ্যোগ
প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনীতে নতুন এলাকা ও কাজ যুক্ত করার বিষয়ে পিইসি সভার সভাপতি মাহমুদুল হোসাইন খান আমার দেশকে বলেন, নতুন প্রকল্প গ্রহণ, সম্ভাব্যতা যাচাই, নকশা তৈরি ও বাস্তবায়ন শুরু করতে প্রায় এক বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।

অন্যদিকে নতুন সরকারের কাছে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক উন্নয়নকাজের চাহিদা এসেছে। এসব কাজ দ্রুত শুরু করা এবং নির্বাচনের আগে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই চলমান প্রকল্পে নতুন কিছু কাজ ও এলাকা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।তাঁর দাবি, জনপ্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকার মানুষের চাহিদা ও প্রত্যাশার ভিত্তিতে প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রায় ছয় মাস ধরে স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করে এসব সুপারিশ করা হয়েছে। তাই বিষয়টিকে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রকল্প গ্রহণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করেন তিনি।

দরপত্র ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে নির্দেশনা
নতুন কাজের বাস্তবায়ন ও ঠিকাদার নির্বাচন প্রসঙ্গে মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে কাজগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সরকারি ক্রয়বিধি অনুসরণ করে মূল্যায়ন কমিটি যোগ্য ঠিকাদার নির্বাচন করবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঠিকাদার নির্বাচনে কাজের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

পিইসি সভায় প্রকল্পের বিভিন্ন ব্যয় খাত, কাজের স্বচ্ছতা এবং বাস্তবায়ন তদারকি নিয়ে একাধিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। বিশেষ করে গাছ লাগানোর হিসাব, বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের যৌক্তিকতা ও কাজের মান নিশ্চিত করার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। এলজিইডির এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, আটটি বিভাগের জন্য একই ধরনের পৃথক গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ডিপিপি তৈরি করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

‘রিপু রজনী’ দেখতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পূজা চেরী

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০২ অপরাহ্ণ
‘রিপু রজনী’ দেখতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পূজা চেরী

ব্যতিক্রমী ভাবনা, নান্দনিক সাজসজ্জা আর মানুষের মনস্তত্ত্বের গভীর বার্তা—সব মিলিয়ে দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে চট্টগ্রাম নগরের উত্তর কাট্টলীর শ্রীশ্রী সেবা খোলা ও বৈকুণ্ঠধাম মন্দিরের দুর্গাপূজার মণ্ডপ ‘রিপু রজনী’। এবার এই মণ্ডপ দেখতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ছুটে গেলেন ঢালিউড অভিনেত্রী পূজা চেরী। মণ্ডপের ভাবনা ও আয়োজন দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর মতে, এটি অন্যতম সেরা একটি পূজামণ্ডপ।

গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে মণ্ডপটি পরিদর্শনে যান পূজা চেরী। পরে তিনি কৈবল্যধাম পূজামণ্ডপও ঘুরে দেখেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা আবির সরকার অভিনেত্রীর বক্তব্য ভিডিও করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন তিনি। মণ্ডপ ঘুরে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলেও ছবি পোস্ট করেন পূজা।

‘এই ভাবনাকে সাধুবাদ জানাই’


‘রিপু রজনী’ মণ্ডপের ব্যতিক্রমী থিমের প্রশংসা করে পূজা চেরী বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, এটি অন্যতম সেরা একটি মণ্ডপ হয়েছে। মূলত এ কারণেই এটি দেখতে ঢাকা থেকে ছুটে আসা। আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। আমি এই ভাবনাটিকে সাধুবাদ জানাই।’

অভিনেত্রীর এই বক্তব্যে মণ্ডপটির বিশেষ ভাবনার প্রতি তাঁর ভালো লাগার বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রচলিত পূজামণ্ডপের সাজসজ্জার বাইরে গিয়ে মানুষের মনের ভেতরের নানা প্রবৃত্তি, নৈতিক দ্বন্দ্ব এবং আত্মশুদ্ধির বিষয়কে সামনে আনার চেষ্টা করেছে আয়োজকেরা। সেই ব্যতিক্রমী উপস্থাপনাই দর্শনার্থীদের আকর্ষণের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।

ছয় রিপুকে কেন্দ্র করে ‘রিপু রজনী’


মানুষের মনের ভেতরে থাকা ছয়টি রিপু—লোভ, মোহ, ক্রোধ, হিংসা, অহংকার ও কামনাকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে ‘রিপু রজনী’ মণ্ডপ। মানুষের অন্তরের অন্ধকার, বিবেকের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এবং নিজের ভুল উপলব্ধি করে শুদ্ধতার পথে ফিরে আসার বার্তা তুলে ধরাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

সাধারণত দুর্গাপূজার মণ্ডপে দেবী দুর্গার প্রতিমা, পৌরাণিক কাহিনি ও বিভিন্ন শৈল্পিক উপস্থাপনা প্রাধান্য পায়। তবে ‘রিপু রজনী’তে ধর্মীয় আবহের সঙ্গে মানুষের মনস্তত্ত্ব ও আত্মোপলব্ধির বিষয়টিকে যুক্ত করা হয়েছে। মানুষের ভেতরে থাকা নেতিবাচক প্রবৃত্তিগুলো কীভাবে আচরণ ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে, সেই ভাবনাকে শিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন আয়োজকেরা।

দুর্গোৎসবের ৫৮তম বছরে ব্যতিক্রমী আয়োজন


আয়োজকেরা জানান, নিজেদের শারদীয় দুর্গোৎসবের ৫৮তম বর্ষে এই ব্যতিক্রমী মণ্ডপের আয়োজন করেছেন তাঁরা। প্রচলিত ধর্মীয় অনুষঙ্গের সঙ্গে মানুষের আত্মশুদ্ধি ও মনস্তাত্ত্বিক উপলব্ধির ভাবনা যুক্ত করে সাজানো হয়েছে পুরো আয়োজন।

এখানে দেবী দুর্গার আগমনকে শুধু অশুভ শক্তির বিনাশের প্রতীক হিসেবে নয়, বরং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের পথে ফিরে আসার অনুপ্রেরণা হিসেবেও উপস্থাপন করা হয়েছে। মানুষের মধ্যে থাকা লোভ, ক্রোধ, হিংসা ও অহংকারের মতো প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ করে শুভবোধ ও সংযমের চর্চা করার বার্তাও রয়েছে এই ভাবনায়।

আয়োজকদের মতে, ‘রিপু রজনী’ কেবল প্রতিমা দর্শনের আয়োজন নয়; এটি মানুষকে নিজের ভেতরের অন্ধকার চিনে নেওয়ার আহ্বান। ষড়্‌রিপুর প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে আত্মোপলব্ধি ও শুভবোধের পথে এগিয়ে যাওয়াই এই মণ্ডপের মূল বার্তা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনায় মণ্ডপ


ব্যতিক্রমী থিম ও সাজসজ্জার কারণে ‘রিপু রজনী’র ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মণ্ডপটি দেখতে প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের ভিড় হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা। ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে চিন্তা ও উপলব্ধির বিষয় যুক্ত হওয়ায় আয়োজনটি দর্শকদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ তৈরি করেছে।

পূজা চেরীর মতো জনপ্রিয় অভিনেত্রীর উপস্থিতিও মণ্ডপটিকে ঘিরে আগ্রহ বাড়িয়েছে। তাঁর পরিদর্শনের ছবি ও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় আয়োজনটি আরও বেশি মানুষের নজরে এসেছে। দুর্গাপূজার আনন্দ, শিল্পের নান্দনিকতা এবং মানুষের আত্মশুদ্ধির বার্তা—এই তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে ‘রিপু রজনী’। পূজা চেরীর প্রশংসা সেই আয়োজনের প্রতি দর্শনার্থীদের আগ্রহের আরেকটি দিক সামনে এনেছে।

কালের আলো/এসএ/জেএন

ফল নিয়ে বিতর্ক ঠেকাতে অ্যাথলেটিকসে প্রযুক্তির ছোঁয়া

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ণ
ফল নিয়ে বিতর্ক ঠেকাতে অ্যাথলেটিকসে প্রযুক্তির ছোঁয়া

দেশের অ্যাথলেটিকসে ফলাফল নিয়ে বিতর্ক, অভিযোগ ও অসন্তোষ নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে ট্র্যাকের স্প্রিন্ট ইভেন্টে কে আগে ফিনিশিং লাইন অতিক্রম করেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে একাধিকবার। গত আসরে নারীদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টের ফলাফল ঘিরেও তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। এবার সেই পরিস্থিতি এড়াতে প্রযুক্তিনির্ভর ফলাফল ব্যবস্থার ওপর জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন।

আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায় ফটোফিনিশ প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত ও নির্ভুল ফলাফল প্রকাশের পরিকল্পনা নিয়েছে আয়োজক সংস্থা। প্রতিযোগিতায় ফলাফল নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দর্শকদের অপেক্ষার সময় কমিয়ে আনাও তাদের লক্ষ্য। আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারে প্রতিযোগিতার ফলাফল নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কের সুযোগ কমবে।

ফটোফিনিশে নির্ভুল ফলাফলের উদ্যোগ
গতকাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন। তিনি জানান, ফটোফিনিশের মাধ্যমে দ্রুত ও নির্ভুল ফলাফল নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করবেন সাতজন বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার। পাশাপাশি দর্শকদের জন্য থাকবে তিন থেকে চারটি ডিসপ্লে বোর্ড।

আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ইভেন্ট শেষ হওয়ার ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশ করা হবে। এতে ফলাফল জানতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না দর্শক ও সংশ্লিষ্টদের। একই সঙ্গে প্রতিযোগীদের অবস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে স্বচ্ছতা বাড়বে বলে আশা করছে ফেডারেশন।

অ্যাথলেটিকসে স্প্রিন্টের মতো ইভেন্টে প্রতিযোগীদের মধ্যে ব্যবধান অনেক সময় খুবই সামান্য থাকে। এমন পরিস্থিতিতে হাতে সময় ধরে বা খালি চোখে ফলাফল নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। ফটোফিনিশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফিনিশিং লাইনে প্রতিযোগীদের অবস্থান বিশ্লেষণ করা সম্ভব। ফলে ফলাফল নিয়ে আপত্তি উঠলে তা যাচাই করার ক্ষেত্রেও প্রযুক্তি সহায়ক হতে পারে।

তিন দিনে ৪০ ইভেন্ট, পদকজয়ীদের আর্থিক পুরস্কার
তিন দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় নারী ও পুরুষ মিলিয়ে মোট ৪০টি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজন নির্বিঘ্ন রাখতে ভেন্যু ব্যবস্থাপনাতেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা। ফুটবল মাঠের ক্ষতি এড়াতে থ্রো ইভেন্টগুলো আয়োজন করা হবে আর্মি স্টেডিয়ামে।

প্রতিযোগিতায় পদকজয়ীদের জন্যও রাখা হয়েছে আর্থিক পুরস্কার। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীরা যথাক্রমে ছয় হাজার, পাঁচ হাজার ও তিন হাজার টাকা পাবেন। আর প্রতিযোগিতায় রেকর্ড গড়তে পারলে সংশ্লিষ্ট অ্যাথলেটের জন্য রয়েছে ২০ হাজার টাকার পুরস্কার। আয়োজকদের আশা, এই পুরস্কার অ্যাথলেটদের ভালো পারফরম্যান্সে উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করা এবং দেশের অ্যাথলেটিকসের মানোন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।

পৃষ্ঠপোষকতায় একাধিক প্রতিষ্ঠান
প্রতিযোগিতার মূল পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এ ছাড়া ওরিয়ন গ্রুপ, নোমান গ্রুপ, শেলটেক, টিকে গ্রুপসহ ২০টির বেশি প্রতিষ্ঠান এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সভাপতি ও নোমান গ্রুপের কর্ণধার আব্দুল্লাহ জাবের অ্যাথলেটিকসের বিকাশে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন। তাঁর আহ্বান, ছোট পরিসরে হলেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যেন দেশের অ্যাথলেটিকসের পাশে থাকেন।

দেশের অন্যান্য জনপ্রিয় খেলার তুলনায় অ্যাথলেটিকসে পৃষ্ঠপোষকতা ও বাণিজ্যিক আগ্রহ বাড়ানো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। এ অবস্থায় একাধিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে খেলাটির উন্নয়নে নিয়মিত বিনিয়োগ ও পরিকল্পিত পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে সামার অ্যাথলেটিকস
পৃষ্ঠপোষকদের সহযোগিতা থাকলেও প্রতিযোগিতা আয়োজনের ব্যয় নিয়ে চাপ রয়েছে ফেডারেশনের ওপর। সরকারি ছুটির কারণে কিছু অর্থসংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে না পারায় আপাতত নিজেদের অর্থ দিয়েই ব্যয় সামলাচ্ছেন ফেডারেশনের কর্মকর্তারা।

সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপনের হিসাব অনুযায়ী, জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস আয়োজন করতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা খরচ হয়। এবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে কিছু অতিরিক্ত ব্যয় থাকলেও আয়োজনের পরিসর বাড়িয়ে বাড়তি খরচ করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রতিযোগিতার আয়োজন, অ্যাথলেটদের সুযোগ-সুবিধা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ফলাফল ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে অর্থের প্রয়োজন রয়েছে। ফলে পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং অ্যাথলেটিকসের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ব্যবস্থা গড়ে তোলা ফেডারেশনের সামনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাকিস্তান এসএ গেমসেও পদকের লক্ষ্য
জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকসের পাশাপাশি সামনের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা নিয়েও পরিকল্পনা করছে ফেডারেশন। পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় এসএ গেমসকে সামনে রেখে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটি স্বর্ণ, রুপা ও ব্রোঞ্জ মিলিয়ে মোট ১০টি পদক জয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

এই লক্ষ্য পূরণে অ্যাথলেটদের প্রস্তুতি, নিয়মিত অনুশীলন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। শুধু প্রতিযোগিতার আগে অল্প সময়ের প্রস্তুতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পিত পরিচর্যার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরছে ফেডারেশন।

এ জন্য অ্যাথলেটিকসের জন্য আলাদা ভেন্যু এবং দীর্ঘমেয়াদি অনুশীলনের উপযোগী স্থায়ী আবাসন ক্যাম্পের দাবি জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশিক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট অবকাঠামো ও আবাসিক সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে অ্যাথলেটদের নিয়মিত অনুশীলন এবং পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হবে।

হারানো জনপ্রিয়তা ফেরানোর চ্যালেঞ্জ
অ্যাথলেটিকসকে বলা হয় সব খেলার জননী। আশির ও নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশে খেলাটির জনপ্রিয়তা এবং দক্ষিণ এশীয় পর্যায়ে অর্জন ছিল উল্লেখযোগ্য। সময়ের সঙ্গে সেই অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, পর্যাপ্ত অনুশীলনের সুযোগ এবং ধারাবাহিক পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজনীয়তা এখনো আলোচনায় রয়েছে।

এবার জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকসে প্রযুক্তিনির্ভর ফলাফল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা বাড়ানোর একটি পদক্ষেপ। তবে শুধু ফটোফিনিশ প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই দেশের অ্যাথলেটিকসের সব সমস্যা দূর হবে না। এর পাশাপাশি উন্নত প্রশিক্ষণ, উপযুক্ত ভেন্যু, আর্থিক সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো জরুরি।

প্রযুক্তির এই উদ্যোগ ফলাফল নিয়ে বিতর্ক কমাতে কতটা কার্যকর হয়, তা দেখা যাবে প্রতিযোগিতার ট্র্যাকে। আর দীর্ঘমেয়াদে অ্যাথলেটিকসের হারানো জনপ্রিয়তা ও সাফল্য ফিরিয়ে আনতে হলে এই আয়োজনের পাশাপাশি প্রয়োজন ধারাবাহিক উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং তার বাস্তবায়ন।

কালের আলো/এসএ/এমএএইচ