খুঁজুন
                               
, ,
           

পোলাও চালের বাজারে অস্বাভাবিক দাম, ৭ মাসে বেড়েছে ৯০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
পোলাও চালের বাজারে অস্বাভাবিক দাম, ৭ মাসে বেড়েছে ৯০ টাকা

রাজধানীর বাজারে সুগন্ধি বা পোলাও চালের দামে বড় ধরনের ব্যবধান দেখা দিয়েছে। খোলা পোলাও চালের সর্বনিম্ন দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকা হলেও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত চিনিগুঁড়া ও কালিজিরা চাল বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২৩০ টাকায়। ফলে খোলা চালের দ্বিগুণেরও বেশি দামেও অনেক ক্ষেত্রে প্যাকেটজাত পোলাও চাল কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত সাত থেকে আট মাসে প্যাকেটজাত পোলাও চালের দাম কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ৯০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে খোলা চালের সর্বনিম্ন দামের ধরনটির ক্ষেত্রে একই সময়ে দাম বেড়েছে প্রায় ২০ টাকা।

খোলা ও প্যাকেটজাত চালের দামে বড় ব্যবধান
বাজারে বর্তমানে খোলা পোলাও চালের তিনটি ধরন পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে সর্বনিম্ন মানের চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১০০ টাকায়। দ্বিতীয় ধরনের চালের দাম ১৬০ টাকা এবং তুলনামূলক ভালো মানের খোলা পোলাও চাল বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকা কেজি দরে।

অন্যদিকে চাষী, প্রাণ, রূপচান্দা, পুষ্টি ও ফ্রেশসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত চিনিগুঁড়া ও কালিজিরা চালের দাম কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ২৩০ টাকা। এতে একই ধরনের চালের বাজারে খোলা ও প্যাকেটজাত পণ্যের দামের পার্থক্য নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আগে খোলা নিম্নমানের পোলাও চাল ৮০ টাকা কেজিতে পাওয়া যেত। এখন সেই চাল কিনতে হচ্ছে ১০০ টাকায়। অর্থাৎ দাম বেড়েছে ২০ টাকা। বিপরীতে প্যাকেটজাত পোলাও চালের দাম একই সময়ে কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ৯০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দাম বৃদ্ধির পেছনে রপ্তানি ও কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ
রাজধানীর চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পোলাও চালের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির পেছনে দুটি বিষয় আলোচনায় রয়েছে। একটি হলো সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদন, অন্যটি বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ।

গত জুন ও জুলাই মাসে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪৫ হাজার ৩২০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদন দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এসব প্রতিষ্ঠানকে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চাল রপ্তানির সময় দেওয়া হয়েছে।

অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সিটি অটো রাইস অ্যান্ড ডাল মিলস সর্বোচ্চ ৫০০ টন চাল রপ্তানির অনুমতি পেয়েছে। এলিন ফুড প্রোডাক্টসকে ৪০০ টন এবং খান অ্যাগ্রো অ্যান্ড ফ্রোজেন ফুড প্রসেসরকে ৩০০ টন রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে ১০০ থেকে ২০০ টন পর্যন্ত চাল রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

তবে সুগন্ধি চালের দাম রপ্তানি অনুমোদনের কয়েক মাস আগে থেকেই বাড়তে শুরু করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে শুধু রপ্তানির অনুমোদনই বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির কারণ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

উৎপাদন চাহিদার চেয়ে বেশি, বলছে রপ্তানিকারক সমিতি
বাংলাদেশ চাল রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ইশাকুল হোসেনের দাবি, দেশে বছরে কমপক্ষে ১০ লাখ টন সুগন্ধি চাল উৎপাদিত হয়। বিপরীতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা প্রায় চার লাখ টন। সে হিসাবে বছরে প্রায় ছয় লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত থাকে।

তাঁর মতে, উদ্বৃত্ত চালের একটি অংশ রপ্তানি করা হলেও দেশের বাজারে সরবরাহ ঘাটতি হওয়ার কথা নয়। বরং বাজারের অস্থিরতা দেশের কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

অন্যদিকে কিছু ব্যবসায়ীর দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে সুগন্ধি চালের চাহিদা বেশি থাকায় দেশের বাজারেও দাম বাড়ছে। এবার প্রতি কেজি চালের সর্বনিম্ন রপ্তানিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার। বর্তমান ডলারের বিনিময় হার অনুযায়ী, এর মূল্য কেজিপ্রতি প্রায় ২০০ টাকা।

তবে রপ্তানিমূল্যের সঙ্গে দেশের খুচরা বাজারের দামের পার্থক্য নির্ধারণে উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেটজাতকরণ, পরিবহন ও বিপণন ব্যয়ের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

‘কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে
প্যাকেটজাত পোলাও চালের বাড়তি দামের কারণে অনেক ক্রেতা এখন তুলনামূলক কম দামের খোলা চাল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। রাজধানীর মুগদা বাজার থেকে কেজিপ্রতি ১০০ টাকায় খোলা পোলাও চাল কিনেছেন লিয়াকত আলী।

তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, খোলা পোলাও চাল যদি ১০০ টাকায় পাওয়া যায়, তাহলে প্যাকেটজাত চালের দাম সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা হওয়া উচিত। তাঁর মতে, কোনোভাবেই প্যাকেটজাত পোলাও চালের দাম ২৩০ টাকা হওয়ার কথা নয়। এর পেছনে বড় শিল্পগোষ্ঠীর সিন্ডিকেট থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে এ ধরনের সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকারের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।

তবে এটি একজন ক্রেতার অভিযোগ; বাজারে সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব বা ভূমিকা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।

রপ্তানিকে অজুহাত হিসেবে দেখানোর অভিযোগ ক্যাবের
কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান রপ্তানির কারণে চালের দাম বাড়ার যুক্তিকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা রপ্তানিকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে দাম বাড়াচ্ছেন। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও জ্বালানি সংকটের যুক্তিও তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা নিজেদের সুবিধার জন্য কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন।

দাম নিয়ন্ত্রণে নজরদারির দাবি
পোলাও চালের বাজারে খোলা ও প্যাকেটজাত পণ্যের দামের বড় ব্যবধান এবং কয়েক মাসে প্যাকেটজাত চালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ক্রেতাদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। রপ্তানির অনুমোদন, উৎপাদন ও অভ্যন্তরীণ চাহিদার হিসাব এবং বাজারে সরবরাহের প্রকৃত অবস্থা পর্যালোচনা করে দাম বৃদ্ধির কারণ নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে চালের উৎপাদন থেকে শুরু করে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের মূল্যতথ্য যাচাই, মজুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ তদন্ত করা জরুরি। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট থাকলে তা শনাক্ত করা এবং প্রকৃত কারণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

এআই ব্যবসায় বড় বাজি মেটার, নতুন শেয়ার ও ‘মিউজ’ ঘিরে পরিকল্পনা

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ
এআই ব্যবসায় বড় বাজি মেটার, নতুন শেয়ার ও ‘মিউজ’ ঘিরে পরিকল্পনা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবসাকে আরও বিস্তৃত করতে নতুন ধরনের শেয়ার ছাড়ার পরিকল্পনা করছে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। একই সঙ্গে ব্যবহারকারীর হয়ে বিভিন্ন কাজ করতে সক্ষম এআই এজেন্ট ‘মিউজ’কে ঘিরে বড় ব্যবসার সম্ভাবনা দেখছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এআই অবকাঠামো নির্মাণে বিপুল ব্যয়, নগদ অর্থপ্রবাহের চাপ এবং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখেও রয়েছে মেটা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে নতুন শ্রেণির নন-ভোটিং ক্লাস সি শেয়ার ইস্যু করার পরিকল্পনা করেছে মেটা। এই শেয়ারে ভোটাধিকার থাকবে না। নতুন শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে অধিগ্রহণ, কর্মীদের ধরে রাখা এবং এআই খাতে বড় বিনিয়োগের জন্য অর্থ সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গের নিয়ন্ত্রণও অক্ষুণ্ন রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

ছয় সপ্তাহে মিউজে ১ কোটি ব্যবহারকারী
মেটার নতুন এআই এজেন্ট অ্যাপ ‘মিউজ’কে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ। জাকারবার্গ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় চালুর ছয় সপ্তাহের মধ্যে ১ কোটির বেশি মানুষ মিউজে অ্যাকাউন্ট খুলেছেন।

এআই এজেন্ট সাধারণ চ্যাটবটের মতো শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ব্যবহারকারীর নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করা, তথ্য খোঁজা এবং একাধিক ধাপের কাজ এগিয়ে নেওয়ার মতো সক্ষমতা তৈরিই এ ধরনের প্রযুক্তির লক্ষ্য।

মেটার ধারণা, ভবিষ্যতে কোটি কোটি মানুষ মিউজ ব্যবহার করতে পারেন। ব্যবহারকারী ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়লে এই প্ল্যাটফর্মের বাণিজ্যিক মূল্যও বাড়বে। সে ক্ষেত্রে সাধারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর তুলনায় মিউজ ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে বেশি আয় করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এই সম্ভাবনার পাশাপাশি একটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। জাকারবার্গের ভাষ্য অনুযায়ী, মিউজ পরিচালনার ব্যয় মেটার অন্যান্য নতুন পণ্যের তুলনায় বেশি। ফলে ব্যবহারকারী বাড়ানোর পাশাপাশি দ্রুত আয় তৈরির দিকেও নজর দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

২০২৭ সাল থেকে আয়ের আশা
মেটার অর্থপ্রধান সুসান লি জানিয়েছেন, ২০২৭ সাল থেকে এআই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটির অতিরিক্ত আয়ে অবদান রাখতে শুরু করতে পারে। দীর্ঘ মেয়াদে এই খাত আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠবে বলে আশা করছে মেটা।

এআই প্রযুক্তি উন্নয়নে উন্নত চিপ, বৃহৎ ডেটা সেন্টার এবং কম্পিউটিং সক্ষমতা বাড়াতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে প্রতিষ্ঠানটি। ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে এই বিনিয়োগ জরুরি বলে মনে করছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরের মূলধনি ব্যয়ের পূর্বাভাসও সংশোধন করেছে। আগে এ খাতে ১৩ হাজার কোটি থেকে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা ছিল। নতুন পূর্বাভাসে ব্যয়ের সীমা ১৩ হাজার ৫০০ কোটি থেকে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

আয় বাড়লেও নগদ অর্থপ্রবাহে চাপ
মেটার আর্থিক ফলাফলে একদিকে আয় বৃদ্ধির চিত্র দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকে এআই খাতে বিপুল ব্যয়ের প্রভাবও স্পষ্ট হচ্ছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে মেটার আয় হয়েছে ৬৪৬০ কোটি ডলার। বিশ্লেষকদের ৬৩৩৭ কোটি ডলারের পূর্বাভাসের চেয়ে এই আয় বেশি। বছরের শেষ প্রান্তিকে ৭৩০০ কোটি থেকে ৭৬০০ কোটি ডলার আয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে একই সময়ে নগদ অর্থপ্রবাহে চাপ বেড়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকে মেটার ফ্রি ক্যাশ ফ্লো বা ব্যয় ও বিনিয়োগের পর অবশিষ্ট নগদ অর্থপ্রবাহে ২১২ কোটি ডলারের ঘাটতি দেখা গেছে। আগের বছরের একই সময়ে এ সূচক ছিল ইতিবাচক ১০৬৩ কোটি ডলার। এই পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, এআই ব্যবসায় ভবিষ্যতে বড় আয়ের সম্ভাবনা থাকলেও সেই লক্ষ্য অর্জনে এখন বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে।

মেটাভার্সে কমছে গুরুত্ব?
মেটার রিয়ালিটি ল্যাবস বিভাগ ভার্চ্যুয়াল জগৎ বা মেটাভার্স প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে। তবে এখন এআইসহ অন্যান্য অগ্রাধিকারমূলক খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বছর রিয়ালিটি ল্যাবস বিভাগের লোকসান প্রায় ১৫০০ কোটি ডলারে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে মেটা। বিনিয়োগ পুনর্বণ্টন ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে লোকসান কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বোঝা যায়, মেটার দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তি কৌশলে এআই এখন গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। তবে মেটাভার্সের মতো আগের উদ্যোগ থেকে সম্পদ সরিয়ে এআইয়ে বিনিয়োগ বাড়ানো কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা সময়ই বলে দেবে।

ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
এআই ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি ব্যবহারকারীর তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়েও চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে মেটা। শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার এবং ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে রয়টার্স।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি মামলায় মেটাকে ২৫০০ কোটি ডলার জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের আইনি চাপের পাশাপাশি এআই এজেন্টের নিরাপত্তা, ভুল তথ্য নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষাও প্রতিষ্ঠানটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠছে। মিউজের মতো এআই এজেন্টকে ব্যবহারকারীর হয়ে বিভিন্ন কাজ করার সুযোগ দিলে ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের পরিধিও বাড়তে পারে। ফলে প্রযুক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তথ্যের সুরক্ষা, ব্যবহারকারীর সম্মতি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি হবে।

এআইয়ে বিনিয়োগ কতটা সফল হবে?
মেটার সামনে এখন দুটি বড় লক্ষ্য—এআই প্রযুক্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া এবং বিপুল বিনিয়োগ থেকে টেকসই আয় নিশ্চিত করা। নতুন শেয়ার ইস্যুর পরিকল্পনা অর্থ সংগ্রহের সুযোগ তৈরি করতে পারে, আর মিউজের দ্রুত ব্যবহারকারী বৃদ্ধি ভবিষ্যৎ ব্যবসার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তবে শুধু ব্যবহারকারী বাড়লেই এআই ব্যবসা লাভজনক হবে না। প্রযুক্তি পরিচালনার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, ব্যবহারকারীর আস্থা অর্জন এবং নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার ঝুঁকি মোকাবিলা করাও গুরুত্বপূর্ণ। মেটার নতুন পরিকল্পনা সফল হলে এআই প্রতিষ্ঠানটির আয়ের বড় উৎস হয়ে উঠতে পারে। আর ব্যয় যদি আয়ের তুলনায় দ্রুত বাড়তে থাকে, তাহলে প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার পাশাপাশি আর্থিক চাপ সামলানোও বড় পরীক্ষায় পরিণত হবে।

কালের আলো/এসএ/জেএন

সাজেকে অবরোধ ঘিরে গোলাগুলি, আটকা ৩ হাজার পর্যটক

রাঙামাটি সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৮ অপরাহ্ণ
সাজেকে অবরোধ ঘিরে গোলাগুলি, আটকা ৩ হাজার পর্যটক

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের উজোবাজার এলাকায় সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সশস্ত্র ব্যক্তিদের গোলাগুলি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সাজেকে বেড়াতে যাওয়া অন্তত তিন হাজার পর্যটক আটকা পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে সাজেক সড়কে অবরোধ চলাকালে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

তৃতীয় দফায় সড়ক অবরোধের ঘোষণা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন বুধবার বিকেলে যৌথভাবে তৃতীয় দফায় সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আন্দোলনকারীরা বাঘাইছড়ির সাজেক ইউনিয়নের উজোবাজার এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন। অবরোধের কারণে সাজেক সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এতে পর্যটকদের চলাচলও বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

পর্যটকদের নিরাপদে ফেরাতে গিয়ে সংঘর্ষ
সকাল ১১টার দিকে সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে সড়কের ব্যারিকেড সরানোর উদ্যোগ নেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় আন্দোলনকারীদের পাশাপাশি সশস্ত্র ব্যক্তিরা বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে গোলাগুলি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা শুরু হয়।

আটকা অন্তত তিন হাজার পর্যটক
সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের কারণে সাজেকে বেড়াতে যাওয়া অন্তত তিন হাজার পর্যটক আটকা পড়েছেন। তাঁদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা নিয়ে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। তবে এ ঘটনায় হতাহত হওয়ার কোনো তথ্য, গোলাগুলির বিস্তারিত পরিস্থিতি কিংবা অবরোধকারীদের দাবিদাওয়া সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কেও আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জেনারেটিভ এআই ব্যবহারকারী ২৪ কোটি, বাড়ছে ডিজিটাল অর্থনীতি

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৩ অপরাহ্ণ
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জেনারেটিভ এআই ব্যবহারকারী ২৪ কোটি, বাড়ছে ডিজিটাল অর্থনীতি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। অঞ্চলটিতে জেনারেটিভ এআই ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২৪ কোটি ছাড়িয়েছে। প্রযুক্তিটির ক্রমবর্ধমান ব্যবহার ই-কমার্স, অনলাইন ভ্রমণ, পরিবহন বুকিং ও খাবার সরবরাহের মতো ডিজিটাল সেবার প্রবৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখছে।

এ প্রবণতার ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ডিজিটাল অর্থনীতির আকার ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ৩৬৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে। গত বছরের তুলনায় এ প্রবৃদ্ধি হতে পারে ১৭ শতাংশ। গুগল, সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান টেমাসেক এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বেইন অ্যান্ড কম্পানির যৌথ প্রতিবেদন ‘ই-কনমি এসইএ’-তে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০টি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা ও সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে।

ই-কমার্সে বদল আনছে এআই
জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার অনলাইন কেনাকাটার অভিজ্ঞতায় নতুন মাত্রা যোগ করছে। বিক্রেতারা এআই ব্যবহার করে পণ্যের প্রচারমূলক ভিডিও ও বিপণনসামগ্রী তৈরি করছেন। অন্যদিকে ক্রেতারা নিজেদের পছন্দ, প্রয়োজন ও কেনাকাটার ধরন অনুযায়ী পণ্যের সুপারিশ পাচ্ছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছয়টি দেশের ভোক্তাদের ওপর পরিচালিত জরিপে ৬৯ শতাংশ ক্রেতা জানিয়েছেন, পণ্য তুলনা করার কাজে তাঁরা এআই ব্যবহার করেন। এতে ক্রেতাদের জন্য বিভিন্ন পণ্যের বৈশিষ্ট্য, দাম ও সুবিধা যাচাই করা সহজ হচ্ছে। বেইন অ্যান্ড কম্পানির অংশীদার ফ্লোরিয়ান হপের মতে, এআইভিত্তিক বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহারের ফলে ই-কমার্সে বিক্রির সম্ভাব্য রূপান্তর হার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ছে।

২২৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে ই-কমার্স
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ডিজিটাল অর্থনীতির সবচেয়ে বড় খাত ই-কমার্স। প্রতিবেদনটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এ খাতের বাজারের আকার ২২৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২৫ সালে এর আকার ছিল ১৯১ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে এক বছরে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ১৮ শতাংশ। এআইয়ের মাধ্যমে পণ্য খোঁজা, বিকল্প পণ্যের তুলনা, ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী সুপারিশ এবং বিপণন কার্যক্রম আরও কার্যকর হওয়ায় অনলাইন কেনাকাটার বাজার সম্প্রসারণে নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

অনলাইন ভ্রমণেও বাড়ছে এআইয়ের ব্যবহার
ডিজিটাল অর্থনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খাত অনলাইন ভ্রমণ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এ খাতের লেনদেন ২০২৬ সালে ৫৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। উড়োজাহাজের টিকিট, হোটেল ও ছুটির আবাসন বুকিংয়ের চাহিদা এ প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি ভ্রমণের গন্তব্য নির্বাচন, ভ্রমণসূচি তৈরি, বুকিং এবং পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রেও এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে।

এআইভিত্তিক সহকারীর মাধ্যমে ভ্রমণকারীরা নিজেদের বাজেট ও পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন বিকল্প খুঁজে নিতে পারছেন। এতে ভ্রমণ পরিকল্পনার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

পরিবহন ও খাবার সরবরাহের বাজারেও প্রবৃদ্ধি
প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অনলাইনে পরিবহন বুকিং ও খাবার সরবরাহের বাজারের আকার চলতি বছর ৪০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২৫ সালে এ বাজারের আকার ছিল ৩৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, এক বছরে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ১৫ শতাংশ। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বৃদ্ধি, অনলাইনে সেবা গ্রহণের অভ্যাস এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা এ বাজারের সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখছে।

বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আশাবাদী পূর্বাভাস
বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ডিজিটাল অর্থনীতি স্থিতিস্থাপকতা দেখাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে আসিয়ান অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ৪ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে বলেও প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার বৃদ্ধি এ অঞ্চলের ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। তবে এই প্রবৃদ্ধি কতটা টেকসই হবে, তা নির্ভর করবে প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অভিযোজন এবং ডিজিটাল সেবার প্রতি মানুষের আস্থার ওপর।

কালের আলো/এসএ/জেএন