খুঁজুন
                               
, ,
           

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জেনারেটিভ এআই ব্যবহারকারী ২৪ কোটি, বাড়ছে ডিজিটাল অর্থনীতি

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৩ অপরাহ্ণ
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জেনারেটিভ এআই ব্যবহারকারী ২৪ কোটি, বাড়ছে ডিজিটাল অর্থনীতি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। অঞ্চলটিতে জেনারেটিভ এআই ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২৪ কোটি ছাড়িয়েছে। প্রযুক্তিটির ক্রমবর্ধমান ব্যবহার ই-কমার্স, অনলাইন ভ্রমণ, পরিবহন বুকিং ও খাবার সরবরাহের মতো ডিজিটাল সেবার প্রবৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখছে।

এ প্রবণতার ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ডিজিটাল অর্থনীতির আকার ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ৩৬৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে। গত বছরের তুলনায় এ প্রবৃদ্ধি হতে পারে ১৭ শতাংশ। গুগল, সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান টেমাসেক এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বেইন অ্যান্ড কম্পানির যৌথ প্রতিবেদন ‘ই-কনমি এসইএ’-তে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০টি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা ও সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে।

ই-কমার্সে বদল আনছে এআই
জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার অনলাইন কেনাকাটার অভিজ্ঞতায় নতুন মাত্রা যোগ করছে। বিক্রেতারা এআই ব্যবহার করে পণ্যের প্রচারমূলক ভিডিও ও বিপণনসামগ্রী তৈরি করছেন। অন্যদিকে ক্রেতারা নিজেদের পছন্দ, প্রয়োজন ও কেনাকাটার ধরন অনুযায়ী পণ্যের সুপারিশ পাচ্ছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছয়টি দেশের ভোক্তাদের ওপর পরিচালিত জরিপে ৬৯ শতাংশ ক্রেতা জানিয়েছেন, পণ্য তুলনা করার কাজে তাঁরা এআই ব্যবহার করেন। এতে ক্রেতাদের জন্য বিভিন্ন পণ্যের বৈশিষ্ট্য, দাম ও সুবিধা যাচাই করা সহজ হচ্ছে। বেইন অ্যান্ড কম্পানির অংশীদার ফ্লোরিয়ান হপের মতে, এআইভিত্তিক বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহারের ফলে ই-কমার্সে বিক্রির সম্ভাব্য রূপান্তর হার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ছে।

২২৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে ই-কমার্স
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ডিজিটাল অর্থনীতির সবচেয়ে বড় খাত ই-কমার্স। প্রতিবেদনটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এ খাতের বাজারের আকার ২২৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২৫ সালে এর আকার ছিল ১৯১ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে এক বছরে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ১৮ শতাংশ। এআইয়ের মাধ্যমে পণ্য খোঁজা, বিকল্প পণ্যের তুলনা, ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী সুপারিশ এবং বিপণন কার্যক্রম আরও কার্যকর হওয়ায় অনলাইন কেনাকাটার বাজার সম্প্রসারণে নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

অনলাইন ভ্রমণেও বাড়ছে এআইয়ের ব্যবহার
ডিজিটাল অর্থনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খাত অনলাইন ভ্রমণ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এ খাতের লেনদেন ২০২৬ সালে ৫৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। উড়োজাহাজের টিকিট, হোটেল ও ছুটির আবাসন বুকিংয়ের চাহিদা এ প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি ভ্রমণের গন্তব্য নির্বাচন, ভ্রমণসূচি তৈরি, বুকিং এবং পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রেও এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে।

এআইভিত্তিক সহকারীর মাধ্যমে ভ্রমণকারীরা নিজেদের বাজেট ও পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন বিকল্প খুঁজে নিতে পারছেন। এতে ভ্রমণ পরিকল্পনার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

পরিবহন ও খাবার সরবরাহের বাজারেও প্রবৃদ্ধি
প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অনলাইনে পরিবহন বুকিং ও খাবার সরবরাহের বাজারের আকার চলতি বছর ৪০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২৫ সালে এ বাজারের আকার ছিল ৩৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, এক বছরে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ১৫ শতাংশ। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বৃদ্ধি, অনলাইনে সেবা গ্রহণের অভ্যাস এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা এ বাজারের সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখছে।

বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আশাবাদী পূর্বাভাস
বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ডিজিটাল অর্থনীতি স্থিতিস্থাপকতা দেখাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে আসিয়ান অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ৪ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে বলেও প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার বৃদ্ধি এ অঞ্চলের ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। তবে এই প্রবৃদ্ধি কতটা টেকসই হবে, তা নির্ভর করবে প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অভিযোজন এবং ডিজিটাল সেবার প্রতি মানুষের আস্থার ওপর।

কালের আলো/এসএ/জেএন

ভারতের বিপক্ষে প্রতিশোধের লড়াই, কী পরিকল্পনা বাংলাদেশের?

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ
ভারতের বিপক্ষে প্রতিশোধের লড়াই, কী পরিকল্পনা বাংলাদেশের?

লিগ পর্বে ভারতের কাছে ৪৭-১৩ গোলের বড় ব্যবধানে হারের ক্ষত নিয়েই ফাইনালের মঞ্চে বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দল। এবার বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফির শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে সেই হারের জবাব দেওয়ার চ্যালেঞ্জ সামনে। তবে প্রতিপক্ষকে হারানোর স্বপ্নের পাশাপাশি আগের ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়াই এখন বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য।

ফাইনালের আগে দলের অনুশীলনে গুরুত্ব পেয়েছে দুটি বিষয়—ভারতের দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ প্রতিহত করা এবং বলের দখল ধরে রাখা। আগের ম্যাচে ভারতের গতি সামলাতে না পারার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার পুরো ৬০ মিনিট মনোযোগ ধরে রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ।

ভারতের দ্রুত পাল্টা আক্রমণ ঠেকানোই প্রধান লক্ষ্য
বাংলাদেশের স্প্যানিশ কোচ আনা আলোনসো ফ্রাগুয়ার মতে, আগের ম্যাচে ভারত পুরো ৬০ মিনিট একই গতিতে খেলতে পেরেছিল। বিশেষ করে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠে এসে বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে বিপাকে ফেলেছিল তারা। সেই আক্রমণগুলো থামাতে না পারাই বড় ব্যবধানের হারের অন্যতম কারণ।

তাই ফাইনালের প্রস্তুতিতে কোচের মূল পরিকল্পনা, ভারতকে সহজে ফাস্ট ব্রেকের সুযোগ না দেওয়া। বল হারানোর পর দ্রুত রক্ষণে ফিরে আসা, আক্রমণে অপ্রয়োজনীয় ভুল কমানো এবং প্রতিপক্ষের গতির সঙ্গে তাল মেলানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ভারতকে এবারের আসরের সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচনা করলেও লড়াইয়ের আশা ছাড়েননি আলোনসো। তাঁর বিশ্বাস, আগের ম্যাচের তুলনায় ভালো খেলতে পারলে ভারতকে সমানতালে চ্যালেঞ্জ জানানো সম্ভব। তবে সে জন্য খেলোয়াড়দের নিজেদের সেরাটা দিতে হবে এবং ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে হবে।

৬০ মিনিট মনোযোগ ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ
হ্যান্ডবলে একটি ছোট ভুলও দ্রুত বড় ব্যবধানে পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে প্রতিপক্ষ যখন দ্রুত পাল্টা আক্রমণে দক্ষ, তখন বলের নিয়ন্ত্রণ হারানো কিংবা আক্রমণে ভুল পাস দেওয়া বিপদ বাড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশের জন্য তাই শুধু আক্রমণ গড়ে তোলাই নয়, বল হারানোর পর দ্রুত নিজেদের রক্ষণ সাজানোও গুরুত্বপূর্ণ।

কোচের মতে, ভালো ফলের সম্ভাবনা তৈরি করতে হলে আক্রমণে ভুলের সংখ্যা কমাতে হবে এবং পুরো ম্যাচে মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। মাঝপথে একাগ্রতা হারালে আগের ম্যাচের মতো ব্যবধান বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে আরও বেশি অনুশীলন ও আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন কোচ। শক্তিশালী দলের বিপক্ষে নিয়মিত খেলার সুযোগ পেলে খেলোয়াড়দের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা ও ম্যাচের গতি সামলানোর সক্ষমতা বাড়তে পারে।

ভুল শুধরে ভালো ম্যাচ উপহার দিতে চান খেলোয়াড়েরা
ফাইনালের আগে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যেও নিজেদের ভুল সংশোধনের প্রত্যয় দেখা যাচ্ছে। দলের সদস্য মাসুদা আক্তার মনে করেন, আগের ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে নিতে পারলে ফাইনালে ভালো পারফরম্যান্স উপহার দেওয়া সম্ভব। মাসুদা আক্তারের কথায়, ‘ভুলগুলো শোধরাতে পারলে ভালো একটা ম্যাচ উপহার দেওয়া যাবে।’

তাঁর বক্তব্যে জয়ের নিশ্চয়তার চেয়ে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার অঙ্গীকারই বেশি স্পষ্ট। আগের ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারের পর এবার অন্তত আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই উপহার দিতে চায় বাংলাদেশ। গোলের ব্যবধান কমিয়ে ভারতের বিপক্ষে নিজেদের উন্নতির প্রমাণ দেখানোও দলের অন্যতম লক্ষ্য।

ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে দলীয় সমন্বয়ে আস্থা
দলের আরেক খেলোয়াড় আছিয়া আক্তারও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়ে দলীয় সমন্বয়কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফাইনালে ভারতের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ভালো করতে হলে সবাইকে একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই বিভাগেই সমন্বয় ধরে রাখা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ভারতের আক্রমণ থামানোর পাশাপাশি নিজেদের আক্রমণে কার্যকর হতে হবে বাংলাদেশকে। সুযোগ তৈরি করেও তা কাজে লাগাতে না পারলে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করা কঠিন হবে। তাই বলের দখল ধরে রাখা, আক্রমণে ধৈর্য দেখানো এবং ভুল কমানোর বিষয়গুলোই ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রতিশোধের স্বপ্ন, বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষা
লিগ পর্বে ৪৭-১৩ গোলের হার বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। ফাইনালে সেই ব্যবধানের স্মৃতি পেছনে ফেলে নতুনভাবে শুরু করতে হবে দলকে। তবে ভারতের বিপক্ষে প্রতিশোধ নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকলেও ম্যাচের ফল নির্ভর করবে মাঠের পারফরম্যান্সের ওপর। বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জ তাই দ্বিমুখী—ভারতের দ্রুতগতির আক্রমণ ঠেকানো এবং নিজেদের ভুলগুলো কাটিয়ে ওঠা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ ধরে রাখতে পারলে লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফাইনালে বাংলাদেশের লক্ষ্য শুধু আগের হারের জবাব দেওয়া নয়, নিজেদের খেলায় উন্নতির প্রমাণও রাখা। ৬০ মিনিটের লড়াইয়ে সেই পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর নারী হ্যান্ডবল দলের সমর্থকদের।

কালের আলো/এসএ/টিসি

টানা হারে বিদায়, বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে ক্ষুব্ধ হৃদয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৯ অপরাহ্ণ
টানা হারে বিদায়, বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে ক্ষুব্ধ হৃদয়

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে টানা দুই হারে ফাইনালের আগেই বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। বড় টুর্নামেন্টে শিরোপা জয়ের স্বপ্নের কথা বলা হলেও মাঠের পারফরম্যান্সে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না—দলের এই বাস্তবতা স্বীকার করেছেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। তাঁর মতে, ট্রফি জয়ের ক্ষুধা খেলোয়াড়দের মধ্যে থাকলেও সেই আকাঙ্ক্ষাকে পারফরম্যান্সে রূপ দিতে পারছে না দল।

বুধবার (২১ অক্টোবর) শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের কাছে ৭ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৯ রানে পরাজিত হয়েছিল দলটি। টানা দুই হারে ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে মাত্র ১৬০ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর ম্যাচে লড়াই জমিয়ে তোলার সুযোগও তৈরি করতে পারেনি হৃদয়ের দল।

শিরোপা জয়ের কথা বললেই হয় না, মাঠেও প্রমাণ দিতে হবে
বড় আসরে বাংলাদেশের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ব্যবধান নিয়ে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলে হতাশা প্রকাশ করেন তাওহীদ হৃদয়। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও সেই লক্ষ্যের সঙ্গে মাঠের পারফরম্যান্সের মিল থাকছে না।

হৃদয় বলেন, ‘যখনই আমরা বড় কোনো সিরিজ, ত্রিদেশীয় সিরিজ, এশিয়া কাপ কিংবা বিশ্বকাপ খেলতে যাই, ব্যক্তিগতভাবে এবং দল হিসেবে সবাই ট্রফি জিততে চাই। এই ক্ষুধাটা সবার মধ্যেই আছে। কিন্তু আমরা শুধু মুখেই বলি, আমাদের কাজে সেটার প্রতিফলন দেখা যায় না।’

ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের এই মন্তব্য বাংলাদেশের ক্রিকেটের দীর্ঘদিনের একটি সমস্যাকে সামনে নিয়ে এসেছে। বড় কোনো টুর্নামেন্টের আগে সমর্থকদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়, খেলোয়াড়েরাও শিরোপা জয়ের লক্ষ্য ঘোষণা করেন। কিন্তু মাঠে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখাতে না পারায় সেই স্বপ্ন বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

টানা দুই হারে ফাইনালের আগেই বিদায়
ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের শুরুটাই হয়েছিল হতাশাজনক। প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হারের পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল দলের সামনে। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচেও ব্যাটিং ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে আগে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৬০ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। এত কম পুঁজি নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা কঠিন ছিল। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় দলকে। দুই ম্যাচে দুই পরাজয়ে ফাইনালে ওঠার আগেই শেষ হয় বাংলাদেশের টুর্নামেন্ট।

ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতাকেই বড় সমস্যা বলছেন হৃদয়
দলের এমন পারফরম্যান্সের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ব্যাটিং ব্যর্থতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন হৃদয়। কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে দায়ী না করলেও শেষ দুই ম্যাচে ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্স নিয়ে তাঁর মূল্যায়ন ছিল কঠোর। হৃদয় বলেন, ‘আমি নির্দিষ্ট কোনো জায়গার দিকে আঙুল তুলতে চাই না। তবে পরিষ্কারভাবে বলতে গেলে, সমস্যা আমাদের ব্যাটসম্যানদের। শেষ দুই ম্যাচে আমরা খুবই বাজে ব্যাটিং করেছি। আর সে কারণেই পুরো দলকে ভুগতে হয়েছে।’

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো বাংলাদেশের ব্যাটিং দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। বড় সংগ্রহ গড়তে না পারা এবং প্রতিপক্ষের সামনে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বোলারদের জন্যও ম্যাচে ফেরার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। হৃদয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ব্যর্থতার দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে দেশের বাইরে ওয়ানডে ক্রিকেটে ব্যাটিংয়ের যে দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে, তা কাটিয়ে ওঠা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঘরের মাঠে সাফল্য থাকলেও বিদেশে ধারাবাহিকতা নেই
তবে সাম্প্রতিক দুই ম্যাচের ফলের ভিত্তিতে পুরো দলকে ব্যর্থ বলে বিবেচনা করতে রাজি নন হৃদয়। তাঁর মতে, ওয়ানডে ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের মাটিতে ভালো করেছে বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নেওয়ার আগে নিজেদের সর্বশেষ পাঁচটি ওয়ানডে সিরিজের চারটিতে জয় পেয়েছিল দল।

ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের সাফল্যও রয়েছে বাংলাদেশের। এসব ফলাফল দলের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেও দেশের বাইরে সেই পারফরম্যান্স ধরে রাখতে না পারার বিষয়টি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। হৃদয় বলেন, ‘এক-দুটি ম্যাচ বা সিরিজের ভিত্তিতে দলের কী হয়েছে, সেটা বলতে চাই না। দল ভালো অবস্থাতেই আছে। তবে আমি আগেও বলেছি, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাইরে আমাদের ব্যাটিং খুবই খারাপ হয়েছে, সেটা স্পষ্ট।’

বিদেশের মাটিতে ব্যাটিং দুর্বলতা কাটানোই বড় চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের ক্রিকেটে ঘরের মাঠে সাফল্য এবং বিদেশের মাটিতে ব্যর্থতার পার্থক্য নতুন নয়। নিজেদের পরিচিত কন্ডিশনে ভালো খেললেও ভিন্ন পরিবেশে ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে প্রায়ই সমস্যায় পড়ে দল। চলতি ত্রিদেশীয় সিরিজের ফলও সেই দুর্বলতাকে সামনে এনেছে।

বিশেষ করে বড় টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে শুধু শিরোপা জয়ের প্রত্যাশা প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়; সেই লক্ষ্য পূরণে ব্যাটিং, বোলিং ও সামগ্রিক দলীয় পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা দেখাতে হবে। তাওহীদ হৃদয়ের বক্তব্যেও সেই বাস্তবতার প্রতিফলন রয়েছে।

টানা দুই হারে সিরিজ থেকে বিদায়ের পর বাংলাদেশের সামনে এখন নিজেদের ব্যাটিং সমস্যা চিহ্নিত করে তা কাটিয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ। কারণ, শিরোপা জয়ের স্বপ্ন যত বড়ই হোক, মাঠের পারফরম্যান্সে তার প্রমাণ না মিললে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়া কঠিন।

কালের আলো/এসএ/এমএসআইপি

৩৩ হাজার ৮৫১ মণ্ডপে শান্তিপূর্ণ দুর্গোৎসব হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

বগুড়া সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২২ অপরাহ্ণ
৩৩ হাজার ৮৫১ মণ্ডপে শান্তিপূর্ণ দুর্গোৎসব হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সারা দেশে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব উদ্‌যাপিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বগুড়ার হোটেল মম-ইনের অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ প্রতিদিন আয়োজিত ‘উত্তরাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র বগুড়ার উন্নয়ন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর সম্পাদক লোটন একরাম।

মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে কোনো প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বাইরে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম—তিনটি পৃথক অঞ্চলে গিয়ে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেননি। এবার প্রধানমন্ত্রী এসব অঞ্চলে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত নির্বাচনে একটি গোষ্ঠী হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে নিজেদের সমর্থক হিসেবে বিবেচনা করত। সেই অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে তাঁরা বিএনপির প্রতি আস্থা রেখেছেন এবং দলটিকে ভোট দিয়ে বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সেই আস্থা ও বিশ্বাসের মূল্য দিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার কাজ করেছে। প্রশাসনের সদস্য ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা একসঙ্গে পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা দিয়েছেন। এর ফলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি