খুঁজুন
                               
, ,
           

১০ হাজার হেক্টরের বিলে ৬ হাজার হেক্টর কচুরিপানায় ঢাকা, বিপাকে কৃষক

পাবনা সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৮ অপরাহ্ণ
১০ হাজার হেক্টরের বিলে ৬ হাজার হেক্টর কচুরিপানায় ঢাকা, বিপাকে কৃষক

পাবনার সুজানগরের ‘শস্যভান্ডার’ হিসেবে পরিচিত গাজনার বিলজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে কচুরিপানা। এতে চলতি মৌসুমে বোনা আমন ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। কাঙ্ক্ষিত ফলন না পাওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। শুধু আমন ধান নয়, আসন্ন শুকনো মৌসুমে পেঁয়াজসহ অন্যান্য ফসলের আবাদ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ১০ হাজার হেক্টর আয়তনের গাজনার বিলের বড় একটি অংশ কচুরিপানায় ঢেকে গেছে। সাময়িকভাবে কীটনাশক প্রয়োগ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হলেও বছরের পর বছর সমস্যাটির পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। তাই স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।

১০ হাজার হেক্টরের বিলে কচুরিপানার বিস্তার
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গাজনার বিলে এ বছর প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে বোনা আমন ধানের আবাদ করা হয়েছে। বর্ষায় বিলে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় মৌসুমের শুরুতে ভালো ফলনের আশা করেছিলেন কৃষকরা। সাধারণত পানির গভীরতা বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বোনা আমন ধানের গাছও বেড়ে ওঠে। কিন্তু এবার কচুরিপানার ব্যাপক বিস্তারে ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমানে বিলের প্রায় ৬ হাজার হেক্টর অংশ কচুরিপানায় ছেয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নিজেদের চেষ্টায় কচুরিপানা সরাতে পারছেন না কৃষকরা
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষার আগে কচুরিপানা ধ্বংস করতে সরকারি উদ্যোগে কীটনাশক বা রাসায়নিক প্রয়োগ করা হয়। এতে কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে কচুরিপানা পচে নষ্ট হলেও বর্ষা শুরু হলে আবারও এর বিস্তার ঘটে। ফলে বছরের পর বছর একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাঁদের।

গাজনার বিল এলাকার সাধুপুর গ্রামের আমন চাষি গফুর বলেন, জমিতে এত কচুরিপানা জমেছে যে নিজেরা চেষ্টা করেও তা সরাতে পারছেন না। এতে ধানগাছের ক্ষতি হচ্ছে এবং ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। খয়রান এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, কচুরিপানার কারণে বছরের পর বছর ধান ও পেঁয়াজের আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। এ সমস্যা থেকে কৃষকদের মুক্তি দিতে কৃষি বিভাগের স্থায়ী সমাধান বের করা উচিত। উলাট গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন মনে করেন, শুধু বিষ প্রয়োগ করে সাময়িকভাবে কচুরিপানা ধ্বংসের চেষ্টা না করে শুকনো মৌসুমে সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে শ্রমিক নিয়োগ করে বিল থেকে এগুলো তুলে ফেলা প্রয়োজন। এতে কৃষকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমতে পারে।

কৃষি বিভাগের উদ্যোগ, স্থায়ী সমাধানের দাবি
কচুরিপানা অপসারণের বিষয়ে সুজানগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সরকারি উদ্যোগে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় কৃষক, শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে কচুরিপানা সরানোর কাজ করছেন। ফসল উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তবে সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীর রাশেদুজ্জামান দাবি করেছেন, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার বিলে কচুরিপানার পরিমাণ কম রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, শুরু থেকেই কীটনাশক প্রয়োগ করে কচুরিপানা ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়েছে। শুকনো মৌসুমে অবশিষ্ট কচুরিপানা অপসারণ করা হবে। পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক বলেন, গাজনার বিল থেকে কচুরিপানা অপসারণে কৃষি বিভাগের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জমির মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদেরও এগিয়ে আসতে হবে।

রাসায়নিক প্রয়োগে জলজ পরিবেশের ক্ষতির আশঙ্কা
কচুরিপানা নিয়ন্ত্রণে ব্যাপকভাবে কীটনাশক বা বিষ প্রয়োগের পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পানিতে রাসায়নিক প্রয়োগের ফলে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যেতে পারে। এতে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে কচুরিপানা অপসারণে যান্ত্রিক পদ্ধতি কিংবা শ্রমিকের মাধ্যমে তুলে ফেলার মতো পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

কচুরিপানা হতে পারে জৈব সারের কাঁচামাল
কচুরিপানাকে শুধু সমস্যা হিসেবে না দেখে কৃষিকাজে ব্যবহারের সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুকনো মৌসুমে বিল থেকে কচুরিপানা তুলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় কম্পোস্ট বা জৈব সার তৈরি করা যেতে পারে। এতে একদিকে বিলের পানি ও কৃষিজমি কচুরিপানার চাপ থেকে মুক্ত হবে, অন্যদিকে কৃষকরা ফসল উৎপাদনে ব্যবহারযোগ্য জৈব সার পাবেন।

দোতলা কৃষি পদ্ধতির উদ্ভাবক কৃষিবিদ জাফর সাদেক বলেন, নিয়ম মেনে বিষ প্রয়োগ করলে মাছ ও জলজ প্রাণীর ক্ষতির আশঙ্কা তুলনামূলক কম হতে পারে। তবে তাঁর মতে, কচুরিপানাকে কৃষি ও কৃষকের জন্য সম্পদে পরিণত করার সুযোগ রয়েছে। এগুলো তুলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় জৈব সার তৈরি করা সম্ভব। ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের ব্যবহার রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। গাজনার বিলের কচুরিপানা সমস্যা সমাধানে তাই শুধু সাময়িক রাসায়নিক প্রয়োগ নয়, পরিকল্পিতভাবে অপসারণ, পরিবেশের সুরক্ষা এবং জৈব সার উৎপাদনের মতো উদ্যোগও বিবেচনায় নেওয়ার দাবি উঠেছে। কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আমন ধানের ফলন এবং পরবর্তী মৌসুমের পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের অনিশ্চয়তা থেকেই যেতে পারে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

আওয়ামী লীগ ও ‘গুপ্ত’ দল একসঙ্গে চক্রান্ত করছে: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০১ অপরাহ্ণ
আওয়ামী লীগ ও ‘গুপ্ত’ দল একসঙ্গে চক্রান্ত করছে: রিজভী

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও একটি ‘গুপ্ত’ দল যৌথভাবে চক্রান্ত এবং অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তাঁর দাবি, দল দুটির কথাবার্তা ও আচরণে মিল রয়েছে এবং তাদের মধ্যে একধরনের সম্পর্কের প্রমাণও আছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ শেষে আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

পরাজিত শক্তির সঙ্গে আচরণে মিল
রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ অতীতে অপপ্রচারে লিপ্ত ছিল। এখন তাদের সঙ্গে আরেকটি ‘গুপ্ত’ দল যুক্ত হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দল দুটির মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রমাণও আছে।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে মাফ করে দেবে’—এমন বক্তব্যও ওই দলের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল। রিজভীর দাবি, পরাজিত শক্তি হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ এবং ওই দলের আচরণ ও কথাবার্তায় মিল দেখা যাচ্ছে। বিএনপির বিরুদ্ধে অতীতের বিভিন্ন অপপ্রচারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, একসময় বিএনপিকে জঙ্গি রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রচার করা হতো। পাশাপাশি বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে অন্য ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা থাকবে না বলেও প্রচারণা চালানো হয়েছিল।

দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিয়ে বিএনপির বক্তব্য
রিজভী দাবি করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দেখিয়েছে, সরকার সতর্ক থাকলে কোনো চক্রান্তকারী তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে না।

তিনি বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা দিনরাত কাজ করে দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। তাঁর দাবি, গত ১৭-১৮ বছরের মধ্যে এবার সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে। প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা দর্শনার্থীরাও পূজার সুষ্ঠু পরিবেশের প্রশংসা করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকার ও বিএনপির পক্ষ থেকে সমন্বিতভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। খ্যাতনামা চিকিৎসকদের পরামর্শে তৈরি লিফলেট সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। তিনি জানান, এসব লিফলেটে ডেঙ্গু প্রতিরোধের উপায় এবং আক্রান্ত হলে করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, লিফলেটগুলো অনেকটা ব্যবস্থাপত্রের মতো কাজ করবে।

রিজভী আরও বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিরা যাতে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পান, সে জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিনামূল্যে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত স্যালাইনের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ড নিয়ে দাবি
সরকারের অর্থনৈতিক উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, সরকার প্রতিশ্রুতি দিলে তা নিষ্ঠার সঙ্গে বাস্তবায়ন করে। অর্থনীতিবিদদের বরাত দিয়ে তিনি দাবি করেন, সরকার প্রবর্তিত ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ড বিতরণের ফলে চলতি বছরেই দেশে দারিদ্র্যের হার আরও ৫ শতাংশ কমে যাবে। তিনি বলেন, ‘এটাই তারেক রহমানের সরকারের বড় অর্জন।’

লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে নেতাকর্মীরা
শান্তিনগরের এ কর্মসূচিতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল হক বাবুল, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহিদুর রহমান এবং ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।সমাবেশে রিজভী রাজনৈতিক চক্রান্ত ও অপপ্রচারের অভিযোগের পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধ, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা এবং সরকারের অর্থনৈতিক উদ্যোগ নিয়েও বক্তব্য দেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

দাউদ ইব্রাহিমের অবস্থান নিয়ে জাতিসংঘকে ভারতের কড়া বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৮ অপরাহ্ণ
দাউদ ইব্রাহিমের অবস্থান নিয়ে জাতিসংঘকে ভারতের কড়া বার্তা

দাউদ ইব্রাহিমের বর্তমান অবস্থান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের সন্ত্রাসবাদ ও মানবাধিকারবিষয়ক এক বিশেষ প্রতিবেদনে ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধীদের অন্যতম দাউদ ইব্রাহিমকে ভারতে অবস্থানরত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ তথ্যের তীব্র আপত্তি জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের দাবি, দাউদ বহু আগেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন এবং জাতিসংঘের প্রতিবেদনে তার অবস্থান সম্পর্কে ভুল তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এ ঘটনায় তথ্যগত ভুল সংশোধনের পাশাপাশি এ ধরনের ভুল তথ্য প্রকাশের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছে ভারত।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে কী বলা হয়েছে?
জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক বেন সাউল গত জুলাইয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাউদ ইব্রাহিম ভারতে অবস্থান করছেন বলে উল্লেখ করেন। এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের প্রথম সচিব রঘু পুরি। জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে রঘু পুরি বলেন, প্রতিবেদনে দাউদ ইব্রাহিমের অবস্থান সম্পর্কে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা সংশোধন করা প্রয়োজন। তার দাবি, ২০০৩ সালে জাতিসংঘের তালিকাভুক্ত হওয়ার অনেক আগেই দাউদ ইব্রাহিম ভারত ছেড়ে পালিয়েছিলেন। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দাউদ এখনো দেশটির তালিকায় একজন পলাতক অপরাধী হিসেবে রয়েছেন। তবে তিনি বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে ভারতের বক্তব্য এবং জাতিসংঘের প্রতিবেদনের মধ্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে।

দাউদ ইব্রাহিমকে নিয়ে পাকিস্তানের প্রসঙ্গ কেন?
জাতিসংঘে ভারতের প্রতিনিধি রঘু পুরি দাউদ ইব্রাহিমের অবস্থান প্রসঙ্গে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদ শহরের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘের তালিকায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দাউদ এমন একটি দেশে অবস্থান করছেন, যেখানে একসময় আল-কায়েদার সাবেক নেতা ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল এবং পরে হত্যা করা হয়েছিল। এ বক্তব্যে ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। তবে দাউদ ইব্রাহিম বর্তমানে পাকিস্তানেই অবস্থান করছেন—এমন কোনো নতুন স্বাধীন প্রমাণ এই প্রতিবেদনের বক্তব্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় না। ফলে তার বর্তমান অবস্থান নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বিষয়টি নিশ্চিতভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে, এমনটা বলা যাচ্ছে না।

১৯৯৩ সালের হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরল ভারত
জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে রঘু পুরি আরও বলেন, বিশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৩ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে ডি কোম্পানি নামের একটি অপরাধী চক্রের নেতাকে তালিকাভুক্ত করেছিল। ভারতের দাবি, এভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করলে দাউদ ইব্রাহিম ও ডি কোম্পানির বিরুদ্ধে ভারতের দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রেক্ষাপট যথাযথভাবে উঠে আসে না।

রঘু পুরির ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩ সাল থেকেই দাউদ ইব্রাহিম ও ডি কোম্পানি ভারতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত এবং ভারতের কাছে ওয়ান্টেড। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দাউদকে নিয়ে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার নথিতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রেক্ষাপট স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। তাই বিশেষ প্রতিবেদনে ওই তথ্য যথাযথভাবে তুলে না ধরায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি।

জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার তালিকা নিয়ে আপত্তি
রঘু পুরি বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১২৬৭ নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার আওতায় দাউদ ইব্রাহিমকে তালিকাভুক্ত করার কারণসংক্রান্ত বিবরণে সংশ্লিষ্ট তথ্য উল্লেখ রয়েছে। তার অভিযোগ, বিশেষ প্রতিবেদনে সেই বিষয়গুলো যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। ভারতের মতে, দাউদ ইব্রাহিমের অবস্থান ও তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভুল তথ্য প্রকাশ বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। এ ধরনের ভুল সংশোধনের পাশাপাশি তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করার জন্য জবাবদিহিও প্রয়োজন।

দাউদ ইব্রাহিমের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত
দাউদ ইব্রাহিম দীর্ঘদিন ধরে ভারতের অন্যতম মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী হিসেবে পরিচিত। তাকে ঘিরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগও বহুদিনের। ভারত তাকে ১৯৯৩ সালের মুম্বাই ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনায় অভিযুক্ত করে আসছে।

সর্বশেষ জাতিসংঘের প্রতিবেদনে তার অবস্থান সম্পর্কে দেওয়া তথ্যকে কেন্দ্র করে সেই বিতর্ক আবার সামনে এসেছে। ভারত বলছে, দাউদ বহু আগেই দেশ ছেড়েছেন এবং তাকে ভারতে অবস্থানরত হিসেবে উল্লেখ করা সঠিক নয়। অন্যদিকে, তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য ছাড়া নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন। সূত্র: এনডিটিভি

কালের আলো/এসএ/এমএসআইপি

 

মহানবী (সা.)-এর বাণী উদ্ধৃত করে ওমানিদের প্রশংসায় রাজা চার্লস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪২ অপরাহ্ণ
মহানবী (সা.)-এর বাণী উদ্ধৃত করে ওমানিদের প্রশংসায় রাজা চার্লস

ওমানের মানুষের আতিথেয়তা, সহনশীলতা ও উদারতার প্রশংসা করতে গিয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি বাণী উদ্ধৃত করেছেন যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস। ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সম্মানে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ হাদিসের উল্লেখ করেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে ওমানের মানুষের ঐতিহাসিক মানবিক মূল্যবোধ, অতিথিপরায়ণতা এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রসঙ্গ।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের উইন্ডসর ক্যাসেলে অনুষ্ঠিত ওই রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে রাজা চার্লস ওমানের মানুষের সহনশীলতা ও নমনীয়তার প্রশংসা করেন। এ সময় তিনি সহিহ মুসলিমে বর্ণিত মহানবী (সা.)-এর একটি বাণী উদ্ধৃত করেন, যার মাধ্যমে ওমানের মানুষের আচরণ ও উদারতার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।

মহানবী (সা.)-এর বাণী উদ্ধৃত করে ওমানিদের প্রশংসা
বক্তব্যে রাজা তৃতীয় চার্লস বলেন, “তুমি যদি ওমানের মানুষের কাছে যেতে, তারা তোমাকে গালমন্দ করত না, আঘাতও করত না।” প্রতিবেদন অনুযায়ী, মহানবী (সা.)-এর এই বাণী উদ্ধৃত করে ওমানের মানুষের ঐতিহাসিক সহনশীলতা ও উদারতার প্রতি সম্মান জানান ব্রিটিশ রাজা। তার বক্তব্যে অতিথির প্রতি সম্মান প্রদর্শন, নম্র আচরণ এবং মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্ব বিশেষভাবে উঠে আসে।

ওমান দীর্ঘদিন ধরে আরব উপদ্বীপের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিচিত। দেশটির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে আতিথেয়তা এবং অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে থাকে। রাজা চার্লসের বক্তব্যেও সেই ঐতিহ্যের প্রতি স্বীকৃতি ও শ্রদ্ধার প্রতিফলন দেখা যায়।

উইন্ডসর ক্যাসেলে ওমানের সুলতানের সম্মানে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ
ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সম্মানে যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক উইন্ডসর ক্যাসেলে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। সেখানে রাজা তৃতীয় চার্লসের বক্তব্যে দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি ওমানের মানুষের ঐতিহাসিক মূল্যবোধের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের মতো কূটনৈতিক অনুষ্ঠানে আয়োজক দেশের পক্ষ থেকে অতিথি রাষ্ট্রের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জনগণের প্রশংসা করা হয়ে থাকে। রাজা চার্লসের বক্তব্যেও ওমানের মানুষের মানবিক আচরণ ও আতিথেয়তার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে।

যুক্তরাজ্য-ওমান সম্পর্কেও গুরুত্ব দিলেন রাজা চার্লস
বক্তব্যে শুধু ওমানের মানুষের প্রশংসাই নয়, যুক্তরাজ্য ও ওমানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেন ব্রিটিশ রাজা। দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ঐতিহাসিক বন্ধন এবং সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন তিনি।

যুক্তরাজ্য ও ওমানের সম্পর্ক কূটনীতি, বাণিজ্য ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিকশিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের এমন আয়োজন দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও জোরদার করার সুযোগ তৈরি করে।

ধর্মীয় বাণীর মাধ্যমে সাংস্কৃতিক শ্রদ্ধার প্রকাশ
একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণী উদ্ধৃত করার মধ্য দিয়ে রাজা চার্লস ওমানের ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন। তার বক্তব্যে আতিথেয়তা, সহনশীলতা ও মানবিক আচরণের মতো সর্বজনীন মূল্যবোধের গুরুত্বও সামনে এসেছে।

ওমানের সুলতানের সম্মানে আয়োজিত এই নৈশভোজে রাজা চার্লসের বক্তব্য তাই কেবল আনুষ্ঠানিক সৌজন্য প্রকাশে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক শ্রদ্ধা এবং পারস্পরিক বন্ধনকে গুরুত্ব দেওয়ার একটি উপলক্ষ হিসেবেও উঠে এসেছে। সূত্র: ওমান অবজার্ভার

কালের আলো/এসএ/জেএন