খুঁজুন
                               
, ,
           

মধ্যপ্রাচ্যে হামলার জেরে বিশ্ববাজারে তেল ১১০ ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২২ অপরাহ্ণ
মধ্যপ্রাচ্যে হামলার জেরে বিশ্ববাজারে তেল ১১০ ডলার

মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা, লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি এবং সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার আশঙ্কা আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়ে দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ ডলার ২১ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে ওঠে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও এক ডলারের বেশি বেড়ে ৯৯ ডলারে পৌঁছায়। বিশ্বের জ্বালানি বাজারে এই দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামকে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে এগুলোর দামের ওঠানামা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলে।

হরমুজ প্রণালীতে হামলা, বাড়ছে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা। মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশগুলো থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে এই নৌপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্য এ পথ দিয়ে বিভিন্ন দেশে পরিবহন করা হয়। ফলে এখানে নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়লে আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। জ্বালানি বাজারবিষয়ক তথ্যপ্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্যের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে অন্তত ১৮টি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হয়েছে। জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি বাড়ায় সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো নয়, আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলোও চাপে পড়তে পারে। কারণ, তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির প্রাপ্যতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। একই সঙ্গে পরিবহন ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত ব্যয় বেড়ে গেলে তেলের চূড়ান্ত দামেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দামে ঊর্ধ্বগতি
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে পৌঁছালেও আগের কয়েক দিনে বাজারে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা দেখা গেছে। মঙ্গলবারও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্টের দাম ১১০ ডলারে উঠেছিল। গত সপ্তাহেও দাম এই সীমা ছাড়িয়ে যায়। পরে তা কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ থেকে ১০৭ ডলারের মধ্যে নেমে আসে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৯ মে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১১ দশমিক ২৮ ডলারে পৌঁছেছিল। সাম্প্রতিক দরবৃদ্ধির ফলে বাজার আবারও ওই উচ্চমূল্যের কাছাকাছি চলে এসেছে। অন্যদিকে, অয়েলপ্রাইসডটকমের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ৮১ ডলারে দাঁড়ায়। আরেকটি বাজার প্রতিবেদনে একই সময়ে ব্রেন্টের দাম ১০৯ দশমিক ৬৮ ডলার এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৯৮ দশমিক ৫৫ ডলার উল্লেখ করা হয়েছে। লেনদেনের সময় ও বাজারের হিসাবের পার্থক্যের কারণে এসব দামে সামান্য ব্যবধান দেখা গেছে। ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দামের এই ঊর্ধ্বগতি থেকে বোঝা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলছে। তবে ভবিষ্যতে দাম কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করবে সরবরাহ পরিস্থিতি, সংঘাতের বিস্তার এবং জাহাজ চলাচল কতটা স্বাভাবিক থাকে তার ওপর।

লোহিত সাগরেও জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি
হরমুজ প্রণালীর পাশাপাশি লোহিত সাগরেও জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এই নৌপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এখানে নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়লে জাহাজগুলোকে বিকল্প পথে চলাচল করতে হতে পারে। এতে পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি বাজারে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কারণ, তেল উৎপাদন অব্যাহত থাকলেও পরিবহনব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হলে নির্ধারিত সময়ে আমদানিকারক দেশগুলোর কাছে জ্বালানি পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া, বিমা ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিকল্প নৌপথ ব্যবহারের প্রয়োজন হলে পরিবহন খরচ বাড়তে পারে। বাজারে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে ব্যবসায়ীরা সম্ভাব্য ঘাটতির আশঙ্কায় তেলের দাম বাড়ার পূর্বাভাসও দিতে পারেন।

সৌদি আরবে হামলার আশঙ্কায় বাড়ছে উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সৌদি আরবে হামলার ঘটনায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি অবকাঠামোর পাশাপাশি বিমানবন্দর ও সামরিক স্থাপনাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এতে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সৌদি আরব বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর একটি। দেশটির জ্বালানি উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি অবকাঠামোতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক বাজারে তার প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা বা উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। তবে হামলার আশঙ্কা এবং বাস্তবে উৎপাদন বা রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা এক নয়। তেলের বাজারে দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তার, জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা এবং নৌপথের পরিস্থিতি বাজার পর্যবেক্ষকদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

তেলের দাম বাড়লে বিশ্ব অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। অপরিশোধিত তেল থেকে পেট্রল, ডিজেল, জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন জ্বালানি উৎপাদন করা হয়। ফলে কাঁচামালের দাম বেড়ে গেলে পরিশোধিত জ্বালানির উৎপাদন ও আমদানি ব্যয়ও বাড়তে পারে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পরিবহন, কৃষি, শিল্প উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহের ব্যয় বাড়াতে পারে। পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়লে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় বাড়তে পারে। বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় ধরে দাম বেশি থাকলে জ্বালানি আমদানির ব্যয়, পরিবহন খরচ এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। তবে দেশের বাজারে জ্বালানির দাম কতটা এবং কখন পরিবর্তিত হবে, তা নির্ভর করে আমদানি চুক্তি, সরকারি মূল্যনীতি, মজুত ও অন্যান্য স্থানীয় পরিস্থিতির ওপর।

সামনে আরও বাড়তে পারে তেলের দাম?
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যে হামলা অব্যাহত থাকলে এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে তেল পরিবহনে বিঘ্ন বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে সরবরাহের ওপর চাপ বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে, জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়ে এলে এবং সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা কমলে তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতাও দেখা যেতে পারে। তাই বর্তমান দরবৃদ্ধি স্থায়ী হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আপাতত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের নজর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, তেলবাহী ট্যাংকারের চলাচল এবং সৌদি আরবসহ গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদনকারী দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোর দিকে। এসব ক্ষেত্রে নতুন কোনো বিঘ্ন তৈরি হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স

কালের আলো/আরআইকে/এসএ

পূজার ছুটিতে ফাঁকা রাজধানী, নিরাপত্তায় বাড়তি নজরদারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ণ
পূজার ছুটিতে ফাঁকা রাজধানী, নিরাপত্তায় বাড়তি নজরদারি

দুর্গাপূজা ও সরকারি ছুটিতে অনেক মানুষ রাজধানী ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ায় ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একদিকে পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার, অন্যদিকে আবাসিক এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কে চলছে নিয়মিত টহল। চুরি, ডাকাতি ও যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দিন-রাত দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।

বুধবার (২১ অক্টোবর) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, দুর্গাপূজার ছুটিতে অনেক মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তার চাপ বেড়েছে। তবে এ ধরনের পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনে পুলিশ অভ্যস্ত।

তিনি বলেন, রমনা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান বলেন, প্রতিটি থানাকে এ সময়ে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিয়মিত টহল কার্যক্রমও চলছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি ছুটিতে রাজধানীর অনেক বাসিন্দা গ্রামের বাড়িতে গেছেন। এ সুযোগে বাসাবাড়িতে চুরি, ডাকাতি বা অন্য কোনো অপরাধ যাতে না ঘটে, সে বিষয়েও পুলিশ কাজ করছে।

আবাসিক এলাকায় বিশেষ নজরদারি

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পূজার ছুটিতে রাজধানীর রামপুরা, খিলগাঁও, মগবাজার, মালিবাগ, মিরপুর, বাড্ডা, উত্তরা ও ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। অনেক বাসিন্দা পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ায় এসব এলাকার নিরাপত্তায় বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।

পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকেও নজরদারি চলছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, আবাসিক এলাকা ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

রাজধানীর মেরাদিয়া পূজামণ্ডপে টহলরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) বলেন, পূজার সময়ে তাদের নিরবচ্ছিন্ন দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। একটি ডিউটি শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই আবার দায়িত্ব শুরু হচ্ছে। তবে এ ধরনের পরিস্থিতিতে কাজ করতে তারা অভ্যস্ত।

তিনি জানান, খিলগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকা ভাগ করে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে, যাতে কেউ কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে।

পূজামণ্ডপ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় টহল

পুলিশের পাশাপাশি এসআরবির পক্ষ থেকেও পূজা ও ফাঁকা রাজধানীর নিরাপত্তায় টহল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পূজামণ্ডপের পাশাপাশি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এসআরবি-৩-এর মিডিয়া অফিসার মেহেদি ইমরান সিদ্দিকী বলেন, নিয়মিত টহলের পাশাপাশি দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন ও মানুষের চলাচলও তুলনামূলক কম। এ পরিস্থিতিতে পূজামণ্ডপে নির্বিঘ্নে উৎসব উদ্‌যাপন নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফাঁকা বাসাবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

দেবী দুর্গার বিদায়, সিঁদুর খেলায় মেতে উঠলেন নারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
দেবী দুর্গার বিদায়, সিঁদুর খেলায় মেতে উঠলেন নারীরা

দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর বেদনা, আবার এক বছর পর ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা—এ দুই অনুভূতিকে সঙ্গে নিয়ে বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলায় মেতেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীরা। লাল সিঁদুরের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ। নাচ, গান ও মিষ্টিমুখের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি চলছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, লাল শাড়ি ও সাদা শাড়িতে লাল পাড় পরা নারীদের উপস্থিতিতে মুখর পূজামণ্ডপ। দেবীকে সিঁদুর ছোঁয়াতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছেন ভক্তরা। বাদ্যের তালে তালে চলছে সিঁদুর খেলা ও বিদায়ের আয়োজন।

দুর্গাপূজার শেষ পর্বের অন্যতম রীতি ‘দেবী বরণ’। এই রীতির অংশ হিসেবে বিবাহিত নারীরা সিঁদুর, পান ও মিষ্টি নিয়ে প্রথমে দেবী দুর্গার কপাল ও চরণে সিঁদুর স্পর্শ করান। এরপর একে অপরের কপাল ও মুখে সিঁদুর মাখিয়ে দেন। মিষ্টিমুখ, নাচ ও গানের মধ্য দিয়ে তারা দেবীকে হাসিমুখে বিদায় জানান।

ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, বিবাহিত নারীরা স্বামীর মঙ্গল ও সংসারের কল্যাণ কামনায় সিঁদুর খেলায় অংশ নেন। তাদের বিশ্বাস, দেবী দুর্গা আগামী বছর আবার ফিরে আসবেন। সেই প্রত্যাশা ও আনন্দের মধ্য দিয়েই দশমীর এই আয়োজন সম্পন্ন হয়। যদিও সিঁদুর খেলা মূলত বিবাহিত নারীদের রীতি, তবু পূজামণ্ডপে অবিবাহিত তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিও দেখা যায়। অনেকে গালে ও হাতে সিঁদুর মেখে উৎসবে অংশ নেন।

পূজা দিতে আসা এক তরুণী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিয়ে ছাড়া মাথায় সিঁদুর দেওয়া যায় না। আমাদের একদিন বিয়ে হবে, তখন ভালো স্বামী ও সুখের সংসারের কামনায় আমরা সিঁদুর খেলায় আসি। বিয়ে হলে আমরাও সিঁথিতে সিঁদুর পরব।’

রঞ্জনা দাস বলেন, স্বামীর মঙ্গল কামনায় এই রীতি পালন করা হয়। মা দুর্গা আগামী বছর আবার শাঁখা-সিঁদুর নিয়ে ফিরে আসবেন—এমন বিশ্বাস থেকেই তারা সিঁদুর খেলায় অংশ নেন। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি জানিয়েছে, বুধবার বিকেল ৩টায় বিজয়া শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর রাজধানীর সদরঘাটের ওয়াইজঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।

দেবীর বিদায়ের বিষাদকে আনন্দে রূপ দিয়ে সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে ভক্তরা একদিকে যেমন দুর্গাকে বিদায় জানান, অন্যদিকে তেমনি আগামী বছর আবারও তাঁর আগমনের প্রত্যাশায় অপেক্ষা শুরু করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বিজয়া দশমীতে বুড়িগঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জন, বাড়তি সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
বিজয়া দশমীতে বুড়িগঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জন, বাড়তি সতর্কতা

বিজয়া দশমী উপলক্ষে রাজধানীর সদরঘাট-সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল থেকে বিভিন্ন মণ্ডপের প্রতিমা নৌকায় করে বিসর্জনস্থলে নেওয়া হচ্ছে। এ উপলক্ষে নদী ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে নৌ পুলিশ ও থানা পুলিশ।

সদরঘাট নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রব জানান, পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে ওয়াটার বোর্ড ও স্পিডবোট নিয়ে নৌ পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। বিসর্জন কার্যক্রম চলা পর্যন্ত দিন-রাত বাড়তি নিরাপত্তা বজায় রাখা হবে।

তিনি জানান, বুধবার বিকেল ৩টার মধ্যে কয়েকটি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। পরে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে প্রতিমা নিয়ে ভক্তরা নৌকায় করে বুড়িগঙ্গা নদীতে আসতে থাকেন।

পুরান ঢাকার কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল জানান, কোতোয়ালি থানা-সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে একটি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে থানা পুলিশের পক্ষ থেকেও সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে পুরান ঢাকার কোতোয়ালি থানা এলাকা দিয়ে অধিকাংশ প্রতিমা বিসর্জনের জন্য বুড়িগঙ্গা নদীর দিকে নেওয়া হচ্ছে। বিসর্জনস্থলগুলোতে নিরাপত্তার পাশাপাশি যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিমা বহনকারী যান ও নৌকার চলাচল নির্বিঘ্ন করতে সড়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশও সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করছে।

প্রতিমা বিসর্জন কার্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি