খুঁজুন
                               
, ,
           

যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখ ভিসা বাতিলের নেপথ্যে কী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩০ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখ ভিসা বাতিলের নেপথ্যে কী?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, অভিবাসন আইন লঙ্ঘন, প্রতারণা এবং জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগের মতো বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে ভিসা বাতিলের এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত নতুন তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভিসা বাতিলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলে প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তবে ভিসা বাতিলের পরিধি বাড়তে থাকায় বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিক, অভিবাসনপ্রত্যাশী এবং অধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ভিসা বাতিলের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর থেকে বাতিল হওয়া ভিসার সংখ্যা ৩ লাখ ছাড়িয়েছে। এর আগে গত ১০ আগস্ট দপ্তরটি জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। আগের হিসাবের তুলনায় নতুন পরিসংখ্যানে ভিসা বাতিলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে বোঝা যায়, প্রশাসন ভিসা যাচাই এবং অভিবাসনসংক্রান্ত বিধিনিষেধ কার্যকরে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তবে কোন ধরনের ভিসা কতটি বাতিল হয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ শ্রেণিভিত্তিক হিসাব পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন উদ্দেশ্যে বিদেশি নাগরিকদের ভিসা দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে পর্যটন, ব্যবসা, পড়াশোনা, কর্মসংস্থান এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য অভিবাসী ভিসা। ফলে বিপুলসংখ্যক ভিসা বাতিলের বিষয়টি আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারী, শিক্ষার্থী, কর্মজীবী এবং অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আইন লঙ্ঘন ও জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, ইতিহাসের যেকোনো প্রশাসনের তুলনায় ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুতগতিতে বেশি ভিসা বাতিল করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার সময় কোনো বিদেশি নাগরিক আইন লঙ্ঘন করলে, প্রতারণায় জড়ালে কিংবা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, ভিসা পাওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার সময় দেশটির আইন অমান্য করার সুযোগ পাওয়া নয়। বিদেশি নাগরিকদের ভিসার শর্ত মেনে চলতে হবে। কেউ এসব শর্ত ভঙ্গ করলে তাঁর ভিসা বাতিলসহ অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।তবে ভিসা বাতিলের ক্ষেত্রে কী ধরনের অপরাধ বা বিধি লঙ্ঘনকে প্রধান বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বাতিল হওয়া সব ভিসার পেছনে একই ধরনের কারণ রয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীদের ভিসা বাতিল নিয়ে বিতর্ক
ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা বাতিলের নীতি নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মতপ্রকাশ এবং বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ফিলিস্তিনের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত বিভিন্ন বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিদেশি নাগরিকদের ভিসা বাতিলের ঘটনা সামনে এসেছে। অধিকারকর্মীরা এসব পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছেন, রাজনৈতিক মতপ্রকাশের কারণে বিদেশি নাগরিকদের ভিসা বাতিল করা হলে তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তাঁদের আশঙ্কা, প্রশাসনের নীতির কারণে অভিবাসী ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক বিক্ষোভ এবং ফিলিস্তিনের পক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে অভিবাসন আইন প্রয়োগ এবং নাগরিক স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার প্রশ্ন সামনে এসেছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন জাতীয় নিরাপত্তা এবং আইন মেনে চলার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলছে। ফলে ভিসা বাতিলের নীতি নিয়ে প্রশাসনের নিরাপত্তাসংক্রান্ত যুক্তি এবং অধিকারকর্মীদের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রমেও বাড়তি নজরদারি
ভিসা বাতিলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম যাচাইয়ের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে বিদেশি নাগরিকদের অনলাইন কার্যক্রম, প্রকাশিত বক্তব্য এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বাড়তি নজরদারি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অধিকারকর্মীদের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি ব্যবহার করে প্রশাসনের সমালোচকদের লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। তাঁদের মতে, কোনো ব্যক্তির অনলাইন বক্তব্য বা রাজনৈতিক মতামতের ভিত্তিতে অভিবাসনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। এ ছাড়া অভিবাসী জনগোষ্ঠীর কিছু অংশকে ব্যাপকভাবে যাচাই বা অভিযানের আওতায় আনার অভিযোগও উঠেছে। এসব পদক্ষেপের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অধিকারকর্মীরা। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্যক্রম যাচাই করা প্রত্যেক ব্যক্তির ভিসা বাতিল হয়েছে, এমন কোনো তথ্য প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় না। একইভাবে, ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিলের সব ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক মতপ্রকাশের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, এমন দাবিরও পর্যাপ্ত ভিত্তি নেই।

বৈধ অভিবাসনও কঠোর নীতির আওতায়
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় ফেরার পর তাঁর প্রশাসন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, বহিষ্কার কর্মসূচি এবং অভিবাসনসংক্রান্ত বিধিনিষেধ কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে প্রশাসনের নীতির প্রভাব শুধু অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলে সমালোচকেরা মনে করছেন। বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে আগ্রহী ব্যক্তি, বিদেশি শিক্ষার্থী, কর্মজীবী এবং স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও যাচাইপ্রক্রিয়া কঠোর করা হয়েছে। কর্মসংস্থানভিত্তিক কিছু ভিসার ক্ষেত্রে উচ্চ ফি আরোপের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এসব পদক্ষেপের ফলে বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার খরচ ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও দক্ষ কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ভিসার ধরন অনুযায়ী নিয়ম ও শর্ত আলাদা হওয়ায় সব আবেদনকারী একই ধরনের বিধিনিষেধের মুখে পড়বেন, এমন নয়। ভিসা বাতিলের নির্দিষ্ট কারণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আইনি অবস্থার ওপর সিদ্ধান্তের প্রকৃতি নির্ভর করতে পারে।

অভিবাসন নীতির প্রভাব নিয়ে বাড়ছে আলোচনা
যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা বাতিলের সংখ্যা ৩ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কঠোর প্রয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। প্রশাসন নিরাপত্তা, আইন প্রয়োগ এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। অন্যদিকে, অধিকারকর্মীরা এসব পদক্ষেপের স্বচ্ছতা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং বিদেশি নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি সামনে আনছেন। বিশেষ করে ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আপিল বা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ কতটা রয়েছে এবং কোন শ্রেণির ভিসা সবচেয়ে বেশি বাতিল হচ্ছে—এসব প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ভিসার সংখ্যা ৩ লাখ ছাড়ালেও এর পূর্ণাঙ্গ কারণভিত্তিক বিভাজন সামনে আসেনি। ফলে এই পদক্ষেপের প্রকৃত প্রভাব নির্ধারণ করতে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন। সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এমএইচএ/এসএ

পূজার ছুটিতে ফাঁকা রাজধানী, নিরাপত্তায় বাড়তি নজরদারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ণ
পূজার ছুটিতে ফাঁকা রাজধানী, নিরাপত্তায় বাড়তি নজরদারি

দুর্গাপূজা ও সরকারি ছুটিতে অনেক মানুষ রাজধানী ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ায় ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একদিকে পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার, অন্যদিকে আবাসিক এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কে চলছে নিয়মিত টহল। চুরি, ডাকাতি ও যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দিন-রাত দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।

বুধবার (২১ অক্টোবর) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, দুর্গাপূজার ছুটিতে অনেক মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তার চাপ বেড়েছে। তবে এ ধরনের পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনে পুলিশ অভ্যস্ত।

তিনি বলেন, রমনা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান বলেন, প্রতিটি থানাকে এ সময়ে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিয়মিত টহল কার্যক্রমও চলছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি ছুটিতে রাজধানীর অনেক বাসিন্দা গ্রামের বাড়িতে গেছেন। এ সুযোগে বাসাবাড়িতে চুরি, ডাকাতি বা অন্য কোনো অপরাধ যাতে না ঘটে, সে বিষয়েও পুলিশ কাজ করছে।

আবাসিক এলাকায় বিশেষ নজরদারি

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পূজার ছুটিতে রাজধানীর রামপুরা, খিলগাঁও, মগবাজার, মালিবাগ, মিরপুর, বাড্ডা, উত্তরা ও ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। অনেক বাসিন্দা পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ায় এসব এলাকার নিরাপত্তায় বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।

পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকেও নজরদারি চলছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, আবাসিক এলাকা ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

রাজধানীর মেরাদিয়া পূজামণ্ডপে টহলরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) বলেন, পূজার সময়ে তাদের নিরবচ্ছিন্ন দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। একটি ডিউটি শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই আবার দায়িত্ব শুরু হচ্ছে। তবে এ ধরনের পরিস্থিতিতে কাজ করতে তারা অভ্যস্ত।

তিনি জানান, খিলগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকা ভাগ করে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে, যাতে কেউ কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে।

পূজামণ্ডপ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় টহল

পুলিশের পাশাপাশি এসআরবির পক্ষ থেকেও পূজা ও ফাঁকা রাজধানীর নিরাপত্তায় টহল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পূজামণ্ডপের পাশাপাশি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এসআরবি-৩-এর মিডিয়া অফিসার মেহেদি ইমরান সিদ্দিকী বলেন, নিয়মিত টহলের পাশাপাশি দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন ও মানুষের চলাচলও তুলনামূলক কম। এ পরিস্থিতিতে পূজামণ্ডপে নির্বিঘ্নে উৎসব উদ্‌যাপন নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফাঁকা বাসাবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

দেবী দুর্গার বিদায়, সিঁদুর খেলায় মেতে উঠলেন নারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
দেবী দুর্গার বিদায়, সিঁদুর খেলায় মেতে উঠলেন নারীরা

দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর বেদনা, আবার এক বছর পর ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা—এ দুই অনুভূতিকে সঙ্গে নিয়ে বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলায় মেতেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীরা। লাল সিঁদুরের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ। নাচ, গান ও মিষ্টিমুখের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি চলছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, লাল শাড়ি ও সাদা শাড়িতে লাল পাড় পরা নারীদের উপস্থিতিতে মুখর পূজামণ্ডপ। দেবীকে সিঁদুর ছোঁয়াতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছেন ভক্তরা। বাদ্যের তালে তালে চলছে সিঁদুর খেলা ও বিদায়ের আয়োজন।

দুর্গাপূজার শেষ পর্বের অন্যতম রীতি ‘দেবী বরণ’। এই রীতির অংশ হিসেবে বিবাহিত নারীরা সিঁদুর, পান ও মিষ্টি নিয়ে প্রথমে দেবী দুর্গার কপাল ও চরণে সিঁদুর স্পর্শ করান। এরপর একে অপরের কপাল ও মুখে সিঁদুর মাখিয়ে দেন। মিষ্টিমুখ, নাচ ও গানের মধ্য দিয়ে তারা দেবীকে হাসিমুখে বিদায় জানান।

ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, বিবাহিত নারীরা স্বামীর মঙ্গল ও সংসারের কল্যাণ কামনায় সিঁদুর খেলায় অংশ নেন। তাদের বিশ্বাস, দেবী দুর্গা আগামী বছর আবার ফিরে আসবেন। সেই প্রত্যাশা ও আনন্দের মধ্য দিয়েই দশমীর এই আয়োজন সম্পন্ন হয়। যদিও সিঁদুর খেলা মূলত বিবাহিত নারীদের রীতি, তবু পূজামণ্ডপে অবিবাহিত তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিও দেখা যায়। অনেকে গালে ও হাতে সিঁদুর মেখে উৎসবে অংশ নেন।

পূজা দিতে আসা এক তরুণী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিয়ে ছাড়া মাথায় সিঁদুর দেওয়া যায় না। আমাদের একদিন বিয়ে হবে, তখন ভালো স্বামী ও সুখের সংসারের কামনায় আমরা সিঁদুর খেলায় আসি। বিয়ে হলে আমরাও সিঁথিতে সিঁদুর পরব।’

রঞ্জনা দাস বলেন, স্বামীর মঙ্গল কামনায় এই রীতি পালন করা হয়। মা দুর্গা আগামী বছর আবার শাঁখা-সিঁদুর নিয়ে ফিরে আসবেন—এমন বিশ্বাস থেকেই তারা সিঁদুর খেলায় অংশ নেন। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি জানিয়েছে, বুধবার বিকেল ৩টায় বিজয়া শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর রাজধানীর সদরঘাটের ওয়াইজঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।

দেবীর বিদায়ের বিষাদকে আনন্দে রূপ দিয়ে সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে ভক্তরা একদিকে যেমন দুর্গাকে বিদায় জানান, অন্যদিকে তেমনি আগামী বছর আবারও তাঁর আগমনের প্রত্যাশায় অপেক্ষা শুরু করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বিজয়া দশমীতে বুড়িগঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জন, বাড়তি সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
বিজয়া দশমীতে বুড়িগঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জন, বাড়তি সতর্কতা

বিজয়া দশমী উপলক্ষে রাজধানীর সদরঘাট-সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল থেকে বিভিন্ন মণ্ডপের প্রতিমা নৌকায় করে বিসর্জনস্থলে নেওয়া হচ্ছে। এ উপলক্ষে নদী ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে নৌ পুলিশ ও থানা পুলিশ।

সদরঘাট নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রব জানান, পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে ওয়াটার বোর্ড ও স্পিডবোট নিয়ে নৌ পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। বিসর্জন কার্যক্রম চলা পর্যন্ত দিন-রাত বাড়তি নিরাপত্তা বজায় রাখা হবে।

তিনি জানান, বুধবার বিকেল ৩টার মধ্যে কয়েকটি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। পরে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে প্রতিমা নিয়ে ভক্তরা নৌকায় করে বুড়িগঙ্গা নদীতে আসতে থাকেন।

পুরান ঢাকার কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল জানান, কোতোয়ালি থানা-সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে একটি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে থানা পুলিশের পক্ষ থেকেও সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে পুরান ঢাকার কোতোয়ালি থানা এলাকা দিয়ে অধিকাংশ প্রতিমা বিসর্জনের জন্য বুড়িগঙ্গা নদীর দিকে নেওয়া হচ্ছে। বিসর্জনস্থলগুলোতে নিরাপত্তার পাশাপাশি যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিমা বহনকারী যান ও নৌকার চলাচল নির্বিঘ্ন করতে সড়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশও সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করছে।

প্রতিমা বিসর্জন কার্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি