খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রশাসনে পুনর্বিন্যাসে কর্মদক্ষতায় নজর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
প্রশাসনে পুনর্বিন্যাসে কর্মদক্ষতায় নজর

প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে এক দিনেই বড় ধরনের রদবদল। একের পর এক ১০টি প্রজ্ঞাপনে বদলে গেছে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও সংস্থার নেতৃত্বের বিন্যাস। কেউ পেয়েছেন নতুন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব, কেউ পদোন্নতি পেয়ে হয়েছেন সচিব, আবার কাউকে দেওয়া হয়েছে ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব। একজন সচিবকে সংযুক্ত করা হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। এই পুনর্বিন্যাসে শুধু পদ বদলের হিসাব নয়, প্রশাসনের প্রতি সরকারের প্রত্যাশা ও অসন্তোষের বার্তাও খুঁজে পাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বার্তাটি স্পষ্ট—গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা মানেই সেখানে বহাল থাকার নিশ্চয়তা নয়; কাজের গতি, দক্ষতা ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতাই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনে গতি ফেরানোর কথা বলে আসছে। কিন্তু নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অসন্তোষ রয়েছে, প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না সরকারি কার্যক্রম। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, কাজে অনীহা এবং ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা আদায়ে কর্মকর্তাদের বেশি মনোযোগ দেওয়ার অভিযোগও আলোচনায় রয়েছে। বিদেশ সফর ও প্রশিক্ষণের সুযোগ নিয়ে কর্মকর্তাদের আগ্রহের বিষয়টিও এ আলোচনার বাইরে নয়।

  • এক দিনে ১০ প্রজ্ঞাপনে সচিব পর্যায়ে বড় পরিবর্তন
  • পদোন্নতি, বদলি ও ভারপ্রাপ্ত নিয়োগে নতুন নেতৃত্ব
  • প্রশাসনিক গতি, জবাবদিহি ও সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাড়তি প্রত্যাশা

গত রবিবারের (১৮ অক্টোবর) রদবদলকে এই প্রেক্ষাপটেই তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। সরকারের প্রত্যাশা, কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত সুবিধার ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রের দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দেবেন এবং সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়নে আন্তরিকতা দেখাবেন। দায়িত্বে থেকে প্রত্যাশিত ফল দিতে না পারলে পদ আঁকড়ে থাকার সুযোগ সীমিত হতে পারে—এমন বার্তাও রয়েছে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের এই পুনর্বিন্যাসে।

রাজনৈতিক নেতৃত্বেও বদলের নজির
দায়িত্ব পালনে ঘাটতি থাকলে পরিবর্তনের মুখে পড়তে পারেন—এমন বার্তা শুধু প্রশাসনের জন্যই নয়, রাজনৈতিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা আলোচনায় এনেছে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিবর্তন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ এবং সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের ঘটনা সেই আলোচনার অংশ। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সাড়ে তিন মাসের মাথায় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়কমন্ত্রী দীপেন দেওয়ানও পদত্যাগ করেন। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর তা গৃহীত হয়।

এসব ঘটনা সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, প্রশাসনের ক্ষেত্রেও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন একটি পদে থাকলেই সেই পদে অবস্থান স্থায়ী হয়ে যায় না; সরকারের অগ্রাধিকার অনুযায়ী কাজ করতে না পারলে কিংবা প্রত্যাশিত দক্ষতা দেখাতে ব্যর্থ হলে অন্য কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

তবে সব বদলিই যে শাস্তিমূলক, তা নয়। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ আকরাম হোসেনের মতে, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের উদ্দেশ্য হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন নেতৃত্ব আনা, দায়িত্বের ভারসাম্য তৈরি করা এবং কাজের গতি বাড়ানো। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করা হলে শুধু বদলি বা সংযুক্তির ভিত্তিতে তাঁর কর্মদক্ষতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও ঠিক নয়।

যাঁদের দায়িত্বে রদবদল
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত ১৮ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তার পদোন্নতি পেয়ে হয়েছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আতাউর রহমান খানকে পাঠানো হয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়াকে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলামকে সচিব মর্যাদায় জাতীয় প্রশাসন একাডেমির রেক্টর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং অতিরিক্ত সচিব মো. আবুল হাছানাত হুমায়ূন কবীরকে দেওয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব।

জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির রেক্টর ড. কামরুজ্জামান হয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব। এ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমিকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য পদে বদলি করা হয়েছে; এ পদে তিনি সচিব মর্যাদা পাবেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলমকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুল আলম খান পেয়েছেন ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব।

এই পরিবর্তনে বাণিজ্য, নৌপরিবহন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের নেতৃত্বে নতুন বিন্যাস তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, জাতীয় প্রশাসন একাডেমি ও পরিকল্পনা কমিশনেও দায়িত্ব পুনর্বণ্টন হয়েছে। নতুন দায়িত্বে কর্মকর্তারা কতটা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়নে কী অগ্রগতি আনেন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে কতটা গতি ফেরাতে পারেন, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে কি নতুন সংকেত?
প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের এই পরিবর্তনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। আগের সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চুক্তিতে সচিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে নতুন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পরিবর্তে নিয়মিত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে দায়িত্ব দেওয়া এবং ভারপ্রাপ্ত সচিব নিয়োগের প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে।

গত ১৮ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপনেও দুজন অতিরিক্ত সচিবকে ভারপ্রাপ্ত সচিব করা হয়েছে। এর আগে ভূমি মন্ত্রণালয়ে এমদাদুল হক চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব এএসএম সালেহ আহমেদের চুক্তির মেয়াদ আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্তও এ আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

গত আগস্টে সচিব ও সমমর্যাদার ৭৯ কর্মকর্তার মধ্যে ২৩ জন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে কর্মরত ছিলেন। অর্থাৎ ওই সময় শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রায় ২৯ শতাংশই ছিলেন চুক্তিভিত্তিক। এই পরিসংখ্যান প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ব্যাপকতা তুলে ধরে।

পদ নয়, এবার কাজের পরীক্ষা?
ভারপ্রাপ্ত সচিব নিয়োগের মধ্য দিয়ে কর্মকর্তাদের বাস্তব দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সক্ষমতা যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ ধরনের নিয়োগকে পদোন্নতির নিশ্চয়তা কিংবা যোগ্যতার চূড়ান্ত স্বীকৃতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কার্যকর মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য, সময়মতো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং জনসেবার মান যাচাই।

পদোন্নতি ও পদায়নে পেশাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও নিরপেক্ষতার গুরুত্বও নিশ্চিত করতে হবে। শুধু বদলি করে প্রশাসনের গতি ফেরানো সম্ভব নয়; কর্মকর্তাদের কাজের ফলাফল পরিমাপের ব্যবস্থা না থাকলে রদবদলের উদ্দেশ্যও শেষ পর্যন্ত অস্পষ্ট থেকে যেতে পারে।

এক দিনে ১০টি প্রজ্ঞাপনে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে যে পরিবর্তন এসেছে, তা সরকারের প্রত্যাশা ও কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের মধ্যে নতুন করে হিসাব মেলানোর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, নতুন দায়িত্ব পাওয়া কর্মকর্তারা কতটা দ্রুত কাজ এগিয়ে নিতে পারেন, সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কতটা কার্যকর হন এবং জনসেবায় কী ধরনের পরিবর্তন আনেন।

প্রশাসনের সামনে তাই মূল চ্যালেঞ্জ শুধু নতুন পদে দায়িত্ব নেওয়া নয়, বরং সেই দায়িত্বের বাস্তব ফল দেখানো। রদবদলের পর কাজের গতি বাড়লে এবং মূল্যায়ন যদি হয় পরিমাপযোগ্য ফলাফলের ভিত্তিতে, তবেই দক্ষতা ও জবাবদিহির বার্তা বাস্তবে রূপ পাবে। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের এই ঝাঁকুনির সাফল্য নির্ধারিত হবে প্রজ্ঞাপনের সংখ্যায় নয়, সরকারি কাজে দৃশ্যমান পরিবর্তনে।

কালের আলো/জেএন/এএএন

আওয়ামী লীগ ও ‘গুপ্ত’ দল একসঙ্গে চক্রান্ত করছে: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০১ অপরাহ্ণ
আওয়ামী লীগ ও ‘গুপ্ত’ দল একসঙ্গে চক্রান্ত করছে: রিজভী

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও একটি ‘গুপ্ত’ দল যৌথভাবে চক্রান্ত এবং অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তাঁর দাবি, দল দুটির কথাবার্তা ও আচরণে মিল রয়েছে এবং তাদের মধ্যে একধরনের সম্পর্কের প্রমাণও আছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ শেষে আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

পরাজিত শক্তির সঙ্গে আচরণে মিল
রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ অতীতে অপপ্রচারে লিপ্ত ছিল। এখন তাদের সঙ্গে আরেকটি ‘গুপ্ত’ দল যুক্ত হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দল দুটির মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রমাণও আছে।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে মাফ করে দেবে’—এমন বক্তব্যও ওই দলের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল। রিজভীর দাবি, পরাজিত শক্তি হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ এবং ওই দলের আচরণ ও কথাবার্তায় মিল দেখা যাচ্ছে। বিএনপির বিরুদ্ধে অতীতের বিভিন্ন অপপ্রচারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, একসময় বিএনপিকে জঙ্গি রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রচার করা হতো। পাশাপাশি বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে অন্য ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা থাকবে না বলেও প্রচারণা চালানো হয়েছিল।

দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিয়ে বিএনপির বক্তব্য
রিজভী দাবি করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দেখিয়েছে, সরকার সতর্ক থাকলে কোনো চক্রান্তকারী তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে না।

তিনি বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা দিনরাত কাজ করে দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। তাঁর দাবি, গত ১৭-১৮ বছরের মধ্যে এবার সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে। প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা দর্শনার্থীরাও পূজার সুষ্ঠু পরিবেশের প্রশংসা করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকার ও বিএনপির পক্ষ থেকে সমন্বিতভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। খ্যাতনামা চিকিৎসকদের পরামর্শে তৈরি লিফলেট সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। তিনি জানান, এসব লিফলেটে ডেঙ্গু প্রতিরোধের উপায় এবং আক্রান্ত হলে করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, লিফলেটগুলো অনেকটা ব্যবস্থাপত্রের মতো কাজ করবে।

রিজভী আরও বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিরা যাতে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পান, সে জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিনামূল্যে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত স্যালাইনের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ড নিয়ে দাবি
সরকারের অর্থনৈতিক উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, সরকার প্রতিশ্রুতি দিলে তা নিষ্ঠার সঙ্গে বাস্তবায়ন করে। অর্থনীতিবিদদের বরাত দিয়ে তিনি দাবি করেন, সরকার প্রবর্তিত ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ড বিতরণের ফলে চলতি বছরেই দেশে দারিদ্র্যের হার আরও ৫ শতাংশ কমে যাবে। তিনি বলেন, ‘এটাই তারেক রহমানের সরকারের বড় অর্জন।’

লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে নেতাকর্মীরা
শান্তিনগরের এ কর্মসূচিতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল হক বাবুল, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহিদুর রহমান এবং ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।সমাবেশে রিজভী রাজনৈতিক চক্রান্ত ও অপপ্রচারের অভিযোগের পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধ, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা এবং সরকারের অর্থনৈতিক উদ্যোগ নিয়েও বক্তব্য দেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

দাউদ ইব্রাহিমের অবস্থান নিয়ে জাতিসংঘকে ভারতের কড়া বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৮ অপরাহ্ণ
দাউদ ইব্রাহিমের অবস্থান নিয়ে জাতিসংঘকে ভারতের কড়া বার্তা

দাউদ ইব্রাহিমের বর্তমান অবস্থান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের সন্ত্রাসবাদ ও মানবাধিকারবিষয়ক এক বিশেষ প্রতিবেদনে ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধীদের অন্যতম দাউদ ইব্রাহিমকে ভারতে অবস্থানরত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ তথ্যের তীব্র আপত্তি জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের দাবি, দাউদ বহু আগেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন এবং জাতিসংঘের প্রতিবেদনে তার অবস্থান সম্পর্কে ভুল তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এ ঘটনায় তথ্যগত ভুল সংশোধনের পাশাপাশি এ ধরনের ভুল তথ্য প্রকাশের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছে ভারত।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে কী বলা হয়েছে?
জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক বেন সাউল গত জুলাইয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাউদ ইব্রাহিম ভারতে অবস্থান করছেন বলে উল্লেখ করেন। এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের প্রথম সচিব রঘু পুরি। জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে রঘু পুরি বলেন, প্রতিবেদনে দাউদ ইব্রাহিমের অবস্থান সম্পর্কে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা সংশোধন করা প্রয়োজন। তার দাবি, ২০০৩ সালে জাতিসংঘের তালিকাভুক্ত হওয়ার অনেক আগেই দাউদ ইব্রাহিম ভারত ছেড়ে পালিয়েছিলেন। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দাউদ এখনো দেশটির তালিকায় একজন পলাতক অপরাধী হিসেবে রয়েছেন। তবে তিনি বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে ভারতের বক্তব্য এবং জাতিসংঘের প্রতিবেদনের মধ্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে।

দাউদ ইব্রাহিমকে নিয়ে পাকিস্তানের প্রসঙ্গ কেন?
জাতিসংঘে ভারতের প্রতিনিধি রঘু পুরি দাউদ ইব্রাহিমের অবস্থান প্রসঙ্গে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদ শহরের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘের তালিকায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দাউদ এমন একটি দেশে অবস্থান করছেন, যেখানে একসময় আল-কায়েদার সাবেক নেতা ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল এবং পরে হত্যা করা হয়েছিল। এ বক্তব্যে ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। তবে দাউদ ইব্রাহিম বর্তমানে পাকিস্তানেই অবস্থান করছেন—এমন কোনো নতুন স্বাধীন প্রমাণ এই প্রতিবেদনের বক্তব্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় না। ফলে তার বর্তমান অবস্থান নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বিষয়টি নিশ্চিতভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে, এমনটা বলা যাচ্ছে না।

১৯৯৩ সালের হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরল ভারত
জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে রঘু পুরি আরও বলেন, বিশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৩ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে ডি কোম্পানি নামের একটি অপরাধী চক্রের নেতাকে তালিকাভুক্ত করেছিল। ভারতের দাবি, এভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করলে দাউদ ইব্রাহিম ও ডি কোম্পানির বিরুদ্ধে ভারতের দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রেক্ষাপট যথাযথভাবে উঠে আসে না।

রঘু পুরির ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩ সাল থেকেই দাউদ ইব্রাহিম ও ডি কোম্পানি ভারতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত এবং ভারতের কাছে ওয়ান্টেড। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দাউদকে নিয়ে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার নথিতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রেক্ষাপট স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। তাই বিশেষ প্রতিবেদনে ওই তথ্য যথাযথভাবে তুলে না ধরায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি।

জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার তালিকা নিয়ে আপত্তি
রঘু পুরি বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১২৬৭ নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার আওতায় দাউদ ইব্রাহিমকে তালিকাভুক্ত করার কারণসংক্রান্ত বিবরণে সংশ্লিষ্ট তথ্য উল্লেখ রয়েছে। তার অভিযোগ, বিশেষ প্রতিবেদনে সেই বিষয়গুলো যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। ভারতের মতে, দাউদ ইব্রাহিমের অবস্থান ও তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভুল তথ্য প্রকাশ বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। এ ধরনের ভুল সংশোধনের পাশাপাশি তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করার জন্য জবাবদিহিও প্রয়োজন।

দাউদ ইব্রাহিমের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত
দাউদ ইব্রাহিম দীর্ঘদিন ধরে ভারতের অন্যতম মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী হিসেবে পরিচিত। তাকে ঘিরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগও বহুদিনের। ভারত তাকে ১৯৯৩ সালের মুম্বাই ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনায় অভিযুক্ত করে আসছে।

সর্বশেষ জাতিসংঘের প্রতিবেদনে তার অবস্থান সম্পর্কে দেওয়া তথ্যকে কেন্দ্র করে সেই বিতর্ক আবার সামনে এসেছে। ভারত বলছে, দাউদ বহু আগেই দেশ ছেড়েছেন এবং তাকে ভারতে অবস্থানরত হিসেবে উল্লেখ করা সঠিক নয়। অন্যদিকে, তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য ছাড়া নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন। সূত্র: এনডিটিভি

কালের আলো/এসএ/এমএসআইপি

 

মহানবী (সা.)-এর বাণী উদ্ধৃত করে ওমানিদের প্রশংসায় রাজা চার্লস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪২ অপরাহ্ণ
মহানবী (সা.)-এর বাণী উদ্ধৃত করে ওমানিদের প্রশংসায় রাজা চার্লস

ওমানের মানুষের আতিথেয়তা, সহনশীলতা ও উদারতার প্রশংসা করতে গিয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি বাণী উদ্ধৃত করেছেন যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস। ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সম্মানে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ হাদিসের উল্লেখ করেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে ওমানের মানুষের ঐতিহাসিক মানবিক মূল্যবোধ, অতিথিপরায়ণতা এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রসঙ্গ।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের উইন্ডসর ক্যাসেলে অনুষ্ঠিত ওই রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে রাজা চার্লস ওমানের মানুষের সহনশীলতা ও নমনীয়তার প্রশংসা করেন। এ সময় তিনি সহিহ মুসলিমে বর্ণিত মহানবী (সা.)-এর একটি বাণী উদ্ধৃত করেন, যার মাধ্যমে ওমানের মানুষের আচরণ ও উদারতার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।

মহানবী (সা.)-এর বাণী উদ্ধৃত করে ওমানিদের প্রশংসা
বক্তব্যে রাজা তৃতীয় চার্লস বলেন, “তুমি যদি ওমানের মানুষের কাছে যেতে, তারা তোমাকে গালমন্দ করত না, আঘাতও করত না।” প্রতিবেদন অনুযায়ী, মহানবী (সা.)-এর এই বাণী উদ্ধৃত করে ওমানের মানুষের ঐতিহাসিক সহনশীলতা ও উদারতার প্রতি সম্মান জানান ব্রিটিশ রাজা। তার বক্তব্যে অতিথির প্রতি সম্মান প্রদর্শন, নম্র আচরণ এবং মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্ব বিশেষভাবে উঠে আসে।

ওমান দীর্ঘদিন ধরে আরব উপদ্বীপের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিচিত। দেশটির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে আতিথেয়তা এবং অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে থাকে। রাজা চার্লসের বক্তব্যেও সেই ঐতিহ্যের প্রতি স্বীকৃতি ও শ্রদ্ধার প্রতিফলন দেখা যায়।

উইন্ডসর ক্যাসেলে ওমানের সুলতানের সম্মানে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ
ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সম্মানে যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক উইন্ডসর ক্যাসেলে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। সেখানে রাজা তৃতীয় চার্লসের বক্তব্যে দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি ওমানের মানুষের ঐতিহাসিক মূল্যবোধের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের মতো কূটনৈতিক অনুষ্ঠানে আয়োজক দেশের পক্ষ থেকে অতিথি রাষ্ট্রের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জনগণের প্রশংসা করা হয়ে থাকে। রাজা চার্লসের বক্তব্যেও ওমানের মানুষের মানবিক আচরণ ও আতিথেয়তার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে।

যুক্তরাজ্য-ওমান সম্পর্কেও গুরুত্ব দিলেন রাজা চার্লস
বক্তব্যে শুধু ওমানের মানুষের প্রশংসাই নয়, যুক্তরাজ্য ও ওমানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেন ব্রিটিশ রাজা। দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ঐতিহাসিক বন্ধন এবং সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন তিনি।

যুক্তরাজ্য ও ওমানের সম্পর্ক কূটনীতি, বাণিজ্য ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিকশিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের এমন আয়োজন দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও জোরদার করার সুযোগ তৈরি করে।

ধর্মীয় বাণীর মাধ্যমে সাংস্কৃতিক শ্রদ্ধার প্রকাশ
একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণী উদ্ধৃত করার মধ্য দিয়ে রাজা চার্লস ওমানের ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন। তার বক্তব্যে আতিথেয়তা, সহনশীলতা ও মানবিক আচরণের মতো সর্বজনীন মূল্যবোধের গুরুত্বও সামনে এসেছে।

ওমানের সুলতানের সম্মানে আয়োজিত এই নৈশভোজে রাজা চার্লসের বক্তব্য তাই কেবল আনুষ্ঠানিক সৌজন্য প্রকাশে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক শ্রদ্ধা এবং পারস্পরিক বন্ধনকে গুরুত্ব দেওয়ার একটি উপলক্ষ হিসেবেও উঠে এসেছে। সূত্র: ওমান অবজার্ভার

কালের আলো/এসএ/জেএন