খুঁজুন
                               
, ,
           

মোদির বাসভবনের কাছে ১৫০ বছরের মসজিদ উচ্ছেদের নোটিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৩ অপরাহ্ণ
মোদির বাসভবনের কাছে ১৫০ বছরের মসজিদ উচ্ছেদের নোটিশ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রায় দেড় শ বছরের পুরোনো রেসকোর্স মসজিদ উচ্ছেদের নোটিশ জারি করেছে দেশটির জমি ও উন্নয়ন দপ্তর। নথিভুক্ত ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি এবং পৌরসভার নথিতে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকা সত্ত্বেও মসজিদটিকে সরকারি জমিতে নির্মিত ‘অবৈধ স্থাপনা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নোটিশে মসজিদ কর্তৃপক্ষকে ছয় দিনের মধ্যে প্রাঙ্গণ খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের কাছাকাছি অবস্থিত এই মসজিদকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচ্ছেদ নোটিশের পর মসজিদটি রক্ষায় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুসলিম নেতারা মসজিদটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি হিসেবে স্বীকৃতি এবং দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ব্যবহার বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনার অভিযোগ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগরবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন জমি ও উন্নয়ন দপ্তর মসজিদ কমিটির কাছে উচ্ছেদের নোটিশ পাঠিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সরকারি জমিতে অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছে। এ কারণে কর্তৃপক্ষ মসজিদটিকে অননুমোদিত স্থাপনা হিসেবে বিবেচনা করছে। নোটিশ অনুযায়ী, নির্ধারিত ছয় দিনের মধ্যে মসজিদ প্রাঙ্গণ খালি করতে হবে। তবে মসজিদ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ নির্দেশের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সরবরাহ করা তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ নেই। অন্যদিকে, নয়াদিল্লি পৌর পরিষদের সরকারি ওয়েবসাইটে রেসকোর্স মসজিদকে ঐতিহ্যবাহী সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে একদিকে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি এবং অন্যদিকে অবৈধ নির্মাণের অভিযোগে উচ্ছেদের উদ্যোগ—এই দুই বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে।

ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি হিসেবে স্বীকৃতির দাবি
মসজিদটি রক্ষার দাবিতে সরব হয়েছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) সংসদ সদস্য আসাদুদ্দিন ওয়েইসি। তিনি কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। ওয়েইসির বক্তব্য অনুযায়ী, রেসকোর্স মসজিদটি ১৯৭৭ সাল থেকে গেজেটভুক্ত ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি হিসেবে স্বীকৃত। দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসায় মসজিদটি ওয়াক্‌ফ সংশোধন আইনের অধীনে সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য বলেও তিনি যুক্তি দিয়েছেন। ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি সাধারণত ধর্মীয় বা জনকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা সম্পত্তিকে বোঝায়। এ ধরনের সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনি বিধান রয়েছে। তবে কোনো স্থাপনা ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত থাকলেই জমির মালিকানা বা উচ্ছেদসংক্রান্ত সব বিরোধ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্পত্তি হয়ে যায় না। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নথি, জমির মালিকানা এবং প্রযোজ্য আইন গুরুত্বপূর্ণ। রেসকোর্স মসজিদের ক্ষেত্রে ওয়াক্‌ফ হিসেবে স্বীকৃতি এবং পৌরসভার ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়গুলো সামনে এনে উচ্ছেদ কার্যক্রম পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হচ্ছে।

মসজিদ ও কবরস্থান রক্ষায় জামিয়াতের উদ্যোগ
মসজিদটি রক্ষার দাবিতে ভারতের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম সংগঠন জামিয়াত উলামায়ে হিন্দের একটি প্রতিনিধিদলও উদ্যোগ নিয়েছে। গত সোমবার সংগঠনটির প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রতিনিধিদলটি মসজিদ এবং এর সংলগ্ন কবরস্থানকে সম্ভাব্য উচ্ছেদ বা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার অনুরোধ জানায়। মন্ত্রীর কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে তারা সরকারি ঐতিহ্য তালিকায় মসজিদটির নাম অন্তর্ভুক্ত থাকার বিষয়টি তুলে ধরে। একই সঙ্গে মসজিদটির বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের সংযোগ পুনর্বহালের দাবিও জানানো হয়। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্ছেদের নোটিশ জারির পর মসজিদটির বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সরবরাহ করা তথ্যে পাওয়া যায়নি।

নামাজ আদায়ের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি
জামিয়াত উলামায়ে হিন্দের প্রতিনিধিরা মুসল্লিদের স্বাভাবিকভাবে মসজিদে প্রবেশ এবং নামাজ আদায়ের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, মসজিদ ও কবরস্থানের ঐতিহাসিক এবং ধর্মীয় গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টির সমাধান করা প্রয়োজন। প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিষয়টি সমাধানে সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা করার আশ্বাস দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় বা জমি ও উন্নয়ন দপ্তরের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ নোটিশ প্রত্যাহার, সময়সীমা বাড়ানো কিংবা সংযোগ পুনর্বহালের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

দিল্লিসহ বিভিন্ন স্থানে উচ্ছেদ নিয়ে বিতর্ক
রেসকোর্স মসজিদকে ঘিরে এই ঘটনা এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন ভারতের বিভিন্ন স্থানে সরকারি জমি দখল ও অবৈধ নির্মাণের অভিযোগে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে বিতর্ক চলছে। দিল্লি ও উত্তর প্রদেশসহ বিভিন্ন রাজ্যে মসজিদসহ ধর্মীয় স্থাপনা ভেঙে ফেলার ঘটনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ সাধারণত জমির মালিকানা, নির্মাণের অনুমোদন এবং সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের বিষয়গুলোকে পদক্ষেপের কারণ হিসেবে তুলে ধরে। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় সংগঠন ও সমালোচকদের একাংশ স্থাপনাগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব, ধর্মীয় অধিকার এবং আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণের বিষয়টি সামনে আনেন। তবে প্রতিটি উচ্ছেদ বা স্থাপনা অপসারণের ঘটনা আলাদা আইনি ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে বিচার করা প্রয়োজন। রেসকোর্স মসজিদের ক্ষেত্রে এখন মূল প্রশ্ন হচ্ছে, ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্তি ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়গুলো উচ্ছেদসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে কীভাবে বিবেচিত হবে। মসজিদ কমিটি, মুসলিম সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতারা বিষয়টি সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ চাইছেন। অন্যদিকে, উচ্ছেদ নোটিশের পেছনে জমির মালিকানা ও অনুমোদনসংক্রান্ত অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ নথি সামনে না আসা পর্যন্ত বিরোধটির আইনি অবস্থান সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন।

কালের আলো/জিকেএম/এসএ

পূজার ছুটিতে ফাঁকা রাজধানী, নিরাপত্তায় বাড়তি নজরদারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ণ
পূজার ছুটিতে ফাঁকা রাজধানী, নিরাপত্তায় বাড়তি নজরদারি

দুর্গাপূজা ও সরকারি ছুটিতে অনেক মানুষ রাজধানী ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ায় ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একদিকে পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার, অন্যদিকে আবাসিক এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কে চলছে নিয়মিত টহল। চুরি, ডাকাতি ও যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দিন-রাত দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।

বুধবার (২১ অক্টোবর) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, দুর্গাপূজার ছুটিতে অনেক মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তার চাপ বেড়েছে। তবে এ ধরনের পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনে পুলিশ অভ্যস্ত।

তিনি বলেন, রমনা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান বলেন, প্রতিটি থানাকে এ সময়ে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিয়মিত টহল কার্যক্রমও চলছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি ছুটিতে রাজধানীর অনেক বাসিন্দা গ্রামের বাড়িতে গেছেন। এ সুযোগে বাসাবাড়িতে চুরি, ডাকাতি বা অন্য কোনো অপরাধ যাতে না ঘটে, সে বিষয়েও পুলিশ কাজ করছে।

আবাসিক এলাকায় বিশেষ নজরদারি

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পূজার ছুটিতে রাজধানীর রামপুরা, খিলগাঁও, মগবাজার, মালিবাগ, মিরপুর, বাড্ডা, উত্তরা ও ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। অনেক বাসিন্দা পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ায় এসব এলাকার নিরাপত্তায় বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।

পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকেও নজরদারি চলছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, আবাসিক এলাকা ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

রাজধানীর মেরাদিয়া পূজামণ্ডপে টহলরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) বলেন, পূজার সময়ে তাদের নিরবচ্ছিন্ন দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। একটি ডিউটি শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই আবার দায়িত্ব শুরু হচ্ছে। তবে এ ধরনের পরিস্থিতিতে কাজ করতে তারা অভ্যস্ত।

তিনি জানান, খিলগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকা ভাগ করে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে, যাতে কেউ কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে।

পূজামণ্ডপ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় টহল

পুলিশের পাশাপাশি এসআরবির পক্ষ থেকেও পূজা ও ফাঁকা রাজধানীর নিরাপত্তায় টহল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পূজামণ্ডপের পাশাপাশি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এসআরবি-৩-এর মিডিয়া অফিসার মেহেদি ইমরান সিদ্দিকী বলেন, নিয়মিত টহলের পাশাপাশি দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন ও মানুষের চলাচলও তুলনামূলক কম। এ পরিস্থিতিতে পূজামণ্ডপে নির্বিঘ্নে উৎসব উদ্‌যাপন নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফাঁকা বাসাবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

দেবী দুর্গার বিদায়, সিঁদুর খেলায় মেতে উঠলেন নারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
দেবী দুর্গার বিদায়, সিঁদুর খেলায় মেতে উঠলেন নারীরা

দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর বেদনা, আবার এক বছর পর ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা—এ দুই অনুভূতিকে সঙ্গে নিয়ে বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলায় মেতেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীরা। লাল সিঁদুরের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ। নাচ, গান ও মিষ্টিমুখের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি চলছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, লাল শাড়ি ও সাদা শাড়িতে লাল পাড় পরা নারীদের উপস্থিতিতে মুখর পূজামণ্ডপ। দেবীকে সিঁদুর ছোঁয়াতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছেন ভক্তরা। বাদ্যের তালে তালে চলছে সিঁদুর খেলা ও বিদায়ের আয়োজন।

দুর্গাপূজার শেষ পর্বের অন্যতম রীতি ‘দেবী বরণ’। এই রীতির অংশ হিসেবে বিবাহিত নারীরা সিঁদুর, পান ও মিষ্টি নিয়ে প্রথমে দেবী দুর্গার কপাল ও চরণে সিঁদুর স্পর্শ করান। এরপর একে অপরের কপাল ও মুখে সিঁদুর মাখিয়ে দেন। মিষ্টিমুখ, নাচ ও গানের মধ্য দিয়ে তারা দেবীকে হাসিমুখে বিদায় জানান।

ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, বিবাহিত নারীরা স্বামীর মঙ্গল ও সংসারের কল্যাণ কামনায় সিঁদুর খেলায় অংশ নেন। তাদের বিশ্বাস, দেবী দুর্গা আগামী বছর আবার ফিরে আসবেন। সেই প্রত্যাশা ও আনন্দের মধ্য দিয়েই দশমীর এই আয়োজন সম্পন্ন হয়। যদিও সিঁদুর খেলা মূলত বিবাহিত নারীদের রীতি, তবু পূজামণ্ডপে অবিবাহিত তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিও দেখা যায়। অনেকে গালে ও হাতে সিঁদুর মেখে উৎসবে অংশ নেন।

পূজা দিতে আসা এক তরুণী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিয়ে ছাড়া মাথায় সিঁদুর দেওয়া যায় না। আমাদের একদিন বিয়ে হবে, তখন ভালো স্বামী ও সুখের সংসারের কামনায় আমরা সিঁদুর খেলায় আসি। বিয়ে হলে আমরাও সিঁথিতে সিঁদুর পরব।’

রঞ্জনা দাস বলেন, স্বামীর মঙ্গল কামনায় এই রীতি পালন করা হয়। মা দুর্গা আগামী বছর আবার শাঁখা-সিঁদুর নিয়ে ফিরে আসবেন—এমন বিশ্বাস থেকেই তারা সিঁদুর খেলায় অংশ নেন। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি জানিয়েছে, বুধবার বিকেল ৩টায় বিজয়া শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর রাজধানীর সদরঘাটের ওয়াইজঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।

দেবীর বিদায়ের বিষাদকে আনন্দে রূপ দিয়ে সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে ভক্তরা একদিকে যেমন দুর্গাকে বিদায় জানান, অন্যদিকে তেমনি আগামী বছর আবারও তাঁর আগমনের প্রত্যাশায় অপেক্ষা শুরু করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বিজয়া দশমীতে বুড়িগঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জন, বাড়তি সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
বিজয়া দশমীতে বুড়িগঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জন, বাড়তি সতর্কতা

বিজয়া দশমী উপলক্ষে রাজধানীর সদরঘাট-সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল থেকে বিভিন্ন মণ্ডপের প্রতিমা নৌকায় করে বিসর্জনস্থলে নেওয়া হচ্ছে। এ উপলক্ষে নদী ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে নৌ পুলিশ ও থানা পুলিশ।

সদরঘাট নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রব জানান, পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে ওয়াটার বোর্ড ও স্পিডবোট নিয়ে নৌ পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। বিসর্জন কার্যক্রম চলা পর্যন্ত দিন-রাত বাড়তি নিরাপত্তা বজায় রাখা হবে।

তিনি জানান, বুধবার বিকেল ৩টার মধ্যে কয়েকটি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। পরে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে প্রতিমা নিয়ে ভক্তরা নৌকায় করে বুড়িগঙ্গা নদীতে আসতে থাকেন।

পুরান ঢাকার কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল জানান, কোতোয়ালি থানা-সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে একটি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে থানা পুলিশের পক্ষ থেকেও সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে পুরান ঢাকার কোতোয়ালি থানা এলাকা দিয়ে অধিকাংশ প্রতিমা বিসর্জনের জন্য বুড়িগঙ্গা নদীর দিকে নেওয়া হচ্ছে। বিসর্জনস্থলগুলোতে নিরাপত্তার পাশাপাশি যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিমা বহনকারী যান ও নৌকার চলাচল নির্বিঘ্ন করতে সড়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশও সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করছে।

প্রতিমা বিসর্জন কার্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি