খুঁজুন
                               
, ,
           

পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ভারতকে রুবিওর আশ্বাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫০ অপরাহ্ণ
পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ভারতকে রুবিওর আশ্বাস

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তান ও চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক নিয়ে ভারতের উদ্বেগের মধ্যে দেশটির স্বার্থ ক্ষুণ্ন না করার আশ্বাস দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেছেন, বিশ্বের অন্য কোনো দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষতির বিনিময়ে গড়ে উঠবে না। পাকিস্তানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠতা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যে তাঁর এই বক্তব্য সামনে এসেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের গুরুত্বের পাশাপাশি পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তাও উঠে এসেছে। রুবিওর মতে, পাকিস্তানের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে এমন পদক্ষেপ নিরুৎসাহিত করা সম্ভব, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা বা সংঘাত বাড়িয়ে তুলতে পারে।

নিক্সন-কিসিঞ্জার আমলের সঙ্গে বর্তমানের তুলনা নয়
১৯৭০-এর দশকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জারের সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকে ছিল বলে ঐতিহাসিকভাবে আলোচনা রয়েছে। ওই সময় স্নায়ুযুদ্ধের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠেছিল। ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন নীতির ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা নিয়ে বর্তমান সময়েও আলোচনা হয়। তবে রুবিও মনে করেন, ওই সময়ের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির সরাসরি তুলনা করা ঠিক হবে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সত্তরের দশকের পর বিশ্বরাজনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং বিভিন্ন দেশের কৌশলগত অবস্থানে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে ১৯৭০-এর দশককে উদাহরণ হিসেবে টানবেন না, কারণ সেই সময়ের সঙ্গে আজকের বিশ্বের মিল নেই। সে সময় স্নায়ুযুদ্ধসহ যেসব আন্তর্জাতিক সমীকরণ ছিল, সেগুলোর অনেক কিছুই এখন আর নেই। রুবিওর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটনের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতিকে অতীতের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার ভিত্তিতে বিচার না করার অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে আলাদা কূটনৈতিক বাস্তবতার আলোকে দেখার ইঙ্গিতও পাওয়া যায়।

আসিম মুনিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে রুবিও বলেন, অন্য কোনো দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষতির বিনিময়ে হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ এবং দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টি ভারতের কৌশলগত হিসাব-নিকাশে গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ, সীমান্ত উত্তেজনা এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত মতপার্থক্য রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ইসলামাবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ালে নয়াদিল্লির উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। রুবিও অবশ্য তাঁর বক্তব্যে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং সহযোগিতার বিভিন্ন উদ্যোগই প্রমাণ করে যে ওয়াশিংটন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়।

ভারত সফর ও বাণিজ্য চুক্তির প্রসঙ্গ
ভারত সফর, বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের প্রতিশ্রুতি এবং দুই দেশের যৌথ কূটনৈতিক কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে রুবিও বলেন, এসব উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্যও রয়েছে। এসব পার্থক্য সামাল দিয়ে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া দুই দেশের কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রুবিওর বক্তব্যে মূলত এই বার্তা উঠে এসেছে যে, পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং ওয়াশিংটন একাধিক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে নিজেদের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছে।

পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগে সংঘাত ঠেকানোর প্রত্যাশা
রুবিও বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ বজায় রাখা জরুরি। ওয়াশিংটন ইতিবাচকভাবে নিজেদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে এমন পদক্ষেপ নিরুৎসাহিত করতে পারে, যা সম্ভাব্য সংঘাতের দিকে পরিস্থিতিকে ঠেলে দিতে পারে। তাঁর মতে, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করা সম্ভব হলে তা ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের সংবেদনশীলতা বিবেচনায় দুই দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে কোন নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিরুৎসাহিত করার কথা তিনি বলেছেন, সে বিষয়ে সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখে সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানোর সুযোগ তৈরি করা।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানও জটিল
এদিকে, দুই দিনের ভারত সফরে থাকা মার্কো রুবিও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের জটিলতার কথাও স্বীকার করেছেন। চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধের সমাধান নিয়ে তিনি বলেন, বিষয়গুলো বেশ জটিল। সমাধান সহজ হলে যুদ্ধটি অনেক আগেই শেষ হয়ে যেত। রুবিওর এই মন্তব্যে আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সীমাবদ্ধতার বিষয়টি উঠে এসেছে। বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা-স্বার্থ, রাজনৈতিক অবস্থান এবং যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে মতপার্থক্যের কারণে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ জটিল হয়ে উঠতে পারে। ভারত সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে একদিকে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের গুরুত্ব, অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে। একই সঙ্গে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ তাঁর আলোচনায় আন্তর্জাতিক কূটনীতির জটিল বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

কালের আলো/এমএস/এসএ

পূজার ছুটিতে ফাঁকা রাজধানী, নিরাপত্তায় বাড়তি নজরদারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ণ
পূজার ছুটিতে ফাঁকা রাজধানী, নিরাপত্তায় বাড়তি নজরদারি

দুর্গাপূজা ও সরকারি ছুটিতে অনেক মানুষ রাজধানী ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ায় ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একদিকে পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার, অন্যদিকে আবাসিক এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কে চলছে নিয়মিত টহল। চুরি, ডাকাতি ও যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দিন-রাত দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।

বুধবার (২১ অক্টোবর) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, দুর্গাপূজার ছুটিতে অনেক মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তার চাপ বেড়েছে। তবে এ ধরনের পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনে পুলিশ অভ্যস্ত।

তিনি বলেন, রমনা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান বলেন, প্রতিটি থানাকে এ সময়ে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিয়মিত টহল কার্যক্রমও চলছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি ছুটিতে রাজধানীর অনেক বাসিন্দা গ্রামের বাড়িতে গেছেন। এ সুযোগে বাসাবাড়িতে চুরি, ডাকাতি বা অন্য কোনো অপরাধ যাতে না ঘটে, সে বিষয়েও পুলিশ কাজ করছে।

আবাসিক এলাকায় বিশেষ নজরদারি

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পূজার ছুটিতে রাজধানীর রামপুরা, খিলগাঁও, মগবাজার, মালিবাগ, মিরপুর, বাড্ডা, উত্তরা ও ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। অনেক বাসিন্দা পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ায় এসব এলাকার নিরাপত্তায় বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।

পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকেও নজরদারি চলছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, আবাসিক এলাকা ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

রাজধানীর মেরাদিয়া পূজামণ্ডপে টহলরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) বলেন, পূজার সময়ে তাদের নিরবচ্ছিন্ন দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। একটি ডিউটি শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই আবার দায়িত্ব শুরু হচ্ছে। তবে এ ধরনের পরিস্থিতিতে কাজ করতে তারা অভ্যস্ত।

তিনি জানান, খিলগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকা ভাগ করে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে, যাতে কেউ কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে।

পূজামণ্ডপ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় টহল

পুলিশের পাশাপাশি এসআরবির পক্ষ থেকেও পূজা ও ফাঁকা রাজধানীর নিরাপত্তায় টহল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পূজামণ্ডপের পাশাপাশি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এসআরবি-৩-এর মিডিয়া অফিসার মেহেদি ইমরান সিদ্দিকী বলেন, নিয়মিত টহলের পাশাপাশি দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন ও মানুষের চলাচলও তুলনামূলক কম। এ পরিস্থিতিতে পূজামণ্ডপে নির্বিঘ্নে উৎসব উদ্‌যাপন নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফাঁকা বাসাবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

দেবী দুর্গার বিদায়, সিঁদুর খেলায় মেতে উঠলেন নারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
দেবী দুর্গার বিদায়, সিঁদুর খেলায় মেতে উঠলেন নারীরা

দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর বেদনা, আবার এক বছর পর ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা—এ দুই অনুভূতিকে সঙ্গে নিয়ে বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলায় মেতেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীরা। লাল সিঁদুরের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ। নাচ, গান ও মিষ্টিমুখের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি চলছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, লাল শাড়ি ও সাদা শাড়িতে লাল পাড় পরা নারীদের উপস্থিতিতে মুখর পূজামণ্ডপ। দেবীকে সিঁদুর ছোঁয়াতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছেন ভক্তরা। বাদ্যের তালে তালে চলছে সিঁদুর খেলা ও বিদায়ের আয়োজন।

দুর্গাপূজার শেষ পর্বের অন্যতম রীতি ‘দেবী বরণ’। এই রীতির অংশ হিসেবে বিবাহিত নারীরা সিঁদুর, পান ও মিষ্টি নিয়ে প্রথমে দেবী দুর্গার কপাল ও চরণে সিঁদুর স্পর্শ করান। এরপর একে অপরের কপাল ও মুখে সিঁদুর মাখিয়ে দেন। মিষ্টিমুখ, নাচ ও গানের মধ্য দিয়ে তারা দেবীকে হাসিমুখে বিদায় জানান।

ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, বিবাহিত নারীরা স্বামীর মঙ্গল ও সংসারের কল্যাণ কামনায় সিঁদুর খেলায় অংশ নেন। তাদের বিশ্বাস, দেবী দুর্গা আগামী বছর আবার ফিরে আসবেন। সেই প্রত্যাশা ও আনন্দের মধ্য দিয়েই দশমীর এই আয়োজন সম্পন্ন হয়। যদিও সিঁদুর খেলা মূলত বিবাহিত নারীদের রীতি, তবু পূজামণ্ডপে অবিবাহিত তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিও দেখা যায়। অনেকে গালে ও হাতে সিঁদুর মেখে উৎসবে অংশ নেন।

পূজা দিতে আসা এক তরুণী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিয়ে ছাড়া মাথায় সিঁদুর দেওয়া যায় না। আমাদের একদিন বিয়ে হবে, তখন ভালো স্বামী ও সুখের সংসারের কামনায় আমরা সিঁদুর খেলায় আসি। বিয়ে হলে আমরাও সিঁথিতে সিঁদুর পরব।’

রঞ্জনা দাস বলেন, স্বামীর মঙ্গল কামনায় এই রীতি পালন করা হয়। মা দুর্গা আগামী বছর আবার শাঁখা-সিঁদুর নিয়ে ফিরে আসবেন—এমন বিশ্বাস থেকেই তারা সিঁদুর খেলায় অংশ নেন। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি জানিয়েছে, বুধবার বিকেল ৩টায় বিজয়া শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর রাজধানীর সদরঘাটের ওয়াইজঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।

দেবীর বিদায়ের বিষাদকে আনন্দে রূপ দিয়ে সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে ভক্তরা একদিকে যেমন দুর্গাকে বিদায় জানান, অন্যদিকে তেমনি আগামী বছর আবারও তাঁর আগমনের প্রত্যাশায় অপেক্ষা শুরু করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বিজয়া দশমীতে বুড়িগঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জন, বাড়তি সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
বিজয়া দশমীতে বুড়িগঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জন, বাড়তি সতর্কতা

বিজয়া দশমী উপলক্ষে রাজধানীর সদরঘাট-সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল থেকে বিভিন্ন মণ্ডপের প্রতিমা নৌকায় করে বিসর্জনস্থলে নেওয়া হচ্ছে। এ উপলক্ষে নদী ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে নৌ পুলিশ ও থানা পুলিশ।

সদরঘাট নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রব জানান, পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে ওয়াটার বোর্ড ও স্পিডবোট নিয়ে নৌ পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। বিসর্জন কার্যক্রম চলা পর্যন্ত দিন-রাত বাড়তি নিরাপত্তা বজায় রাখা হবে।

তিনি জানান, বুধবার বিকেল ৩টার মধ্যে কয়েকটি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। পরে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে প্রতিমা নিয়ে ভক্তরা নৌকায় করে বুড়িগঙ্গা নদীতে আসতে থাকেন।

পুরান ঢাকার কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল জানান, কোতোয়ালি থানা-সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে একটি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে থানা পুলিশের পক্ষ থেকেও সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে পুরান ঢাকার কোতোয়ালি থানা এলাকা দিয়ে অধিকাংশ প্রতিমা বিসর্জনের জন্য বুড়িগঙ্গা নদীর দিকে নেওয়া হচ্ছে। বিসর্জনস্থলগুলোতে নিরাপত্তার পাশাপাশি যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিমা বহনকারী যান ও নৌকার চলাচল নির্বিঘ্ন করতে সড়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশও সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করছে।

প্রতিমা বিসর্জন কার্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি