খুঁজুন
                               
, ,
           

বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে এআইয়ের ডেটা ব্যবসা, ২৯ বছরেই মেটার নেতৃত্বে কে এই ওয়াং

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০২ অপরাহ্ণ
বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে এআইয়ের ডেটা ব্যবসা, ২৯ বছরেই মেটার নেতৃত্বে কে এই ওয়াং

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দুনিয়ায় সাফল্য মানেই শুধু নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন নয়; সেই প্রযুক্তিকে শেখানোর জন্য প্রয়োজনীয় ডেটা প্রস্তুত করাও হতে পারে বড় ব্যবসার ভিত্তি। এই সম্ভাবনাই অল্প বয়সে চিনতে পেরেছিলেন আলেকজান্ডার ওয়াং। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই শুরু করেছিলেন এআইয়ের ডেটা নিয়ে কাজ। সেই উদ্যোগই তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটার নেতৃত্বের পর্যায়ে।

মাত্র ২৯ বছর বয়সে ওয়াং এখন মেটার এআই কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাঁর এই উত্থান একদিকে যেমন তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য অনুপ্রেরণার গল্প, অন্যদিকে তেমনি এআইশিল্পে ডেটা, দক্ষ জনবল ও বিনিয়োগের বাড়তে থাকা গুরুত্বেরও প্রতিফলন।

১৯ বছর বয়সেই চিনেছিলেন সম্ভাবনা
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) পড়ার সময় ২০১৬ সালে বন্ধু লুসি গুওকে সঙ্গে নিয়ে স্কেল এআই প্রতিষ্ঠা করেন আলেকজান্ডার ওয়াং। পরে ব্যবসার প্রসারে মনোযোগ দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা ছেড়ে দেন তিনি। তখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ছিল। কিন্তু এআই মডেলকে কার্যকরভাবে প্রশিক্ষণ দিতে প্রয়োজন ছিল বিপুল পরিমাণ নির্ভুল ও সুশৃঙ্খল ডেটা। ছবি, ভিডিও কিংবা অন্যান্য তথ্য শনাক্ত ও শ্রেণিবদ্ধ করে মডেলের উপযোগী করে তোলার কাজটিকেই ব্যবসার সুযোগ হিসেবে দেখেন ওয়াং।

শুরুতে স্বচালিত গাড়ির প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে ডেটা প্রস্তুতের সেবা দিত স্কেল এআই। সময়ের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বিস্তৃত হয়। এআই মডেলের প্রশিক্ষণের জন্য তথ্য সরবরাহের পাশাপাশি মডেলের কার্যকারিতা যাচাইয়ের মতো কাজেও যুক্ত হয় প্রতিষ্ঠানটি। এআই প্রযুক্তির ব্যবহার যত বেড়েছে, নির্ভরযোগ্য ডেটার চাহিদাও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, শক্তিশালী কম্পিউটার কিংবা উন্নত অ্যালগরিদম থাকলেই একটি মডেল কার্যকর হয় না; তাকে শেখানোর জন্য প্রয়োজন মানসম্মত তথ্য। এই চাহিদাকে কেন্দ্র করেই স্কেল এআইয়ের ব্যবসা বড় হতে থাকে।

২৪ বছরেই বিলিয়নিয়ার
স্কেল এআইয়ের দ্রুত প্রবৃদ্ধি ওয়াংকে প্রযুক্তি খাতের আলোচিত উদ্যোক্তাদের একজন করে তোলে। অল্প বয়সেই তাঁর প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন ও ব্যক্তিগত সম্পদ উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছে যায়। ২৪ বছর বয়সে তিনি নিজের উদ্যোগে বিলিয়নিয়ার হওয়া বিশ্বের অন্যতম কমবয়সী উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পান।

তবে ওয়াংয়ের সাফল্যের গল্প কেবল ব্যক্তিগত সম্পদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর উদ্যোগ দেখিয়েছে, প্রযুক্তির মূল পণ্য তৈরির বাইরেও সেই পণ্যকে কার্যকর করে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বড় ব্যবসা গড়ে তোলা সম্ভব। এআইয়ের ক্ষেত্রে ডেটা প্রস্তুত ও মূল্যায়নের কাজ একসময় প্রযুক্তির আড়ালে থাকলেও এখন তা শিল্পটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উন্নত মডেল তৈরির প্রতিযোগিতায় ডেটার মান, প্রক্রিয়াকরণ এবং নির্ভরযোগ্যতা ক্রমেই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

স্কেল এআইয়ে ১৪.৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ মেটার
ওয়াংয়ের ক্যারিয়ারে বড় মোড় আসে ২০২৫ সালে। সে বছর মেটা স্কেল এআইয়ে ১৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে প্রতিষ্ঠানটির ৪৯ শতাংশ অংশীদারত্ব নেয়। চুক্তির সময় স্কেল এআইয়ের মূল্যায়ন দাঁড়ায় প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার। এরপর ওয়াং মেটার এআই কার্যক্রমে যুক্ত হন এবং প্রতিষ্ঠানটির সুপারইন্টেলিজেন্স উদ্যোগের নেতৃত্বের দায়িত্ব পান। ফলে তাঁর ভূমিকা আর শুধু একটি ডেটা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ এআই কৌশল নির্ধারণের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছে তাঁর নাম।

ওপেনএআই, গুগল ও অ্যানথ্রপিকের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে মেটার জন্য উন্নত এআই মডেল তৈরি, দক্ষ গবেষক ও প্রকৌশলী নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। এই বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ওয়াংয়ের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বকে কাজে লাগাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

এআইয়ের লড়াই এখন মেধা ও বিনিয়োগেরও
বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এআই নিয়ে প্রতিযোগিতা এখন বহুমাত্রিক। কে বেশি কার্যকর মডেল তৈরি করতে পারবে, কে দ্রুত নতুন প্রযুক্তি বাজারে আনতে পারবে এবং কার প্রযুক্তি মানুষের দৈনন্দিন কাজকে আরও সহজ করবে—এসব প্রশ্নের পাশাপাশি দক্ষ কর্মীদের নিজেদের দলে আনার প্রতিযোগিতাও চলছে। এ ক্ষেত্রে ওয়াংয়ের মতো তরুণ উদ্যোক্তাদের গুরুত্ব বাড়ছে। প্রযুক্তির সম্ভাবনা বোঝার পাশাপাশি ব্যবসায়িক কৌশল, দক্ষ দল গঠন এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল বাজারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও বড় প্রতিষ্ঠানের কাছে মূল্যবান হয়ে উঠেছে।

মেটার এআই পরিকল্পনায় ওয়াংয়ের ভূমিকা তাই শুধু মডেল তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া, দক্ষ জনবল আকৃষ্ট করা এবং ভবিষ্যতের এআই প্রযুক্তির সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও তাঁর দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ।

সাফল্যের সঙ্গে রয়েছে নৈতিকতার প্রশ্ন
এআইয়ের জন্য ডেটা সংগ্রহ ও প্রস্তুতের ব্যবসা যত বড় হচ্ছে, ততই সামনে আসছে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, তথ্য ব্যবহারের নীতি এবং কর্মপরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন। স্কেল এআইয়ের কাজ ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।

প্রতিবেদনগুলোতে ডেটা প্রস্তুতের কাজে যুক্ত কর্মীদের অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য উদ্বেগের বিষয় উঠে এসেছে। এসব প্রশ্নের গুরুত্ব রয়েছে, কারণ এআই মডেলকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য বিপুল পরিমাণ তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে তথ্যের উৎস, ব্যবহারের অনুমতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কাজের পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। অর্থাৎ, এআইয়ের অগ্রগতি শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতা দিয়ে বিচার করার সুযোগ নেই। প্রযুক্তিটি কীভাবে তৈরি হচ্ছে, কোন ধরনের তথ্য ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সেই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে, সেসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তরুণদের জন্য কী শিক্ষা রয়েছে ওয়াংয়ের গল্পে?
আলেকজান্ডার ওয়াংয়ের যাত্রা থেকে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হতে পারে—প্রযুক্তির পরিবর্তনের মধ্যে নতুন সমস্যাকে চিহ্নিত করতে পারা একটি বড় দক্ষতা। তিনি এআইয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ার আগেই বুঝেছিলেন, মডেলকে কার্যকর করতে মানসম্মত ডেটা অপরিহার্য। সেই প্রয়োজনকে ঘিরেই গড়ে তুলেছিলেন নিজের ব্যবসা।

তবে তাঁর সাফল্য দেখে সবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা ছেড়ে উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত—এমন নয়। বরং তাঁর অভিজ্ঞতা দেখায়, নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে নিয়মিত শেখা, বাস্তব সমস্যার সমাধান খোঁজা এবং নিজের দক্ষতাকে সময়ের চাহিদার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র ২৯ বছর বয়সে মেটার এআই কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ওয়াংয়ের গল্প তাই শুধু একজন তরুণ বিলিয়নিয়ারের উত্থান নয়। এটি এমন এক প্রযুক্তিশিল্পের চিত্র, যেখানে ডেটা, মেধা ও সঠিক সময়ে সুযোগ শনাক্ত করার ক্ষমতা ভবিষ্যতের বড় ব্যবসা গড়ে দিতে পারে।সূত্র: রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ান

কালের আলো/এসএ/জেএন

ভারতের বিপক্ষে প্রতিশোধের লড়াই, কী পরিকল্পনা বাংলাদেশের?

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ
ভারতের বিপক্ষে প্রতিশোধের লড়াই, কী পরিকল্পনা বাংলাদেশের?

লিগ পর্বে ভারতের কাছে ৪৭-১৩ গোলের বড় ব্যবধানে হারের ক্ষত নিয়েই ফাইনালের মঞ্চে বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দল। এবার বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফির শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে সেই হারের জবাব দেওয়ার চ্যালেঞ্জ সামনে। তবে প্রতিপক্ষকে হারানোর স্বপ্নের পাশাপাশি আগের ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়াই এখন বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য।

ফাইনালের আগে দলের অনুশীলনে গুরুত্ব পেয়েছে দুটি বিষয়—ভারতের দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ প্রতিহত করা এবং বলের দখল ধরে রাখা। আগের ম্যাচে ভারতের গতি সামলাতে না পারার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার পুরো ৬০ মিনিট মনোযোগ ধরে রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ।

ভারতের দ্রুত পাল্টা আক্রমণ ঠেকানোই প্রধান লক্ষ্য
বাংলাদেশের স্প্যানিশ কোচ আনা আলোনসো ফ্রাগুয়ার মতে, আগের ম্যাচে ভারত পুরো ৬০ মিনিট একই গতিতে খেলতে পেরেছিল। বিশেষ করে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠে এসে বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে বিপাকে ফেলেছিল তারা। সেই আক্রমণগুলো থামাতে না পারাই বড় ব্যবধানের হারের অন্যতম কারণ।

তাই ফাইনালের প্রস্তুতিতে কোচের মূল পরিকল্পনা, ভারতকে সহজে ফাস্ট ব্রেকের সুযোগ না দেওয়া। বল হারানোর পর দ্রুত রক্ষণে ফিরে আসা, আক্রমণে অপ্রয়োজনীয় ভুল কমানো এবং প্রতিপক্ষের গতির সঙ্গে তাল মেলানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ভারতকে এবারের আসরের সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচনা করলেও লড়াইয়ের আশা ছাড়েননি আলোনসো। তাঁর বিশ্বাস, আগের ম্যাচের তুলনায় ভালো খেলতে পারলে ভারতকে সমানতালে চ্যালেঞ্জ জানানো সম্ভব। তবে সে জন্য খেলোয়াড়দের নিজেদের সেরাটা দিতে হবে এবং ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে হবে।

৬০ মিনিট মনোযোগ ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ
হ্যান্ডবলে একটি ছোট ভুলও দ্রুত বড় ব্যবধানে পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে প্রতিপক্ষ যখন দ্রুত পাল্টা আক্রমণে দক্ষ, তখন বলের নিয়ন্ত্রণ হারানো কিংবা আক্রমণে ভুল পাস দেওয়া বিপদ বাড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশের জন্য তাই শুধু আক্রমণ গড়ে তোলাই নয়, বল হারানোর পর দ্রুত নিজেদের রক্ষণ সাজানোও গুরুত্বপূর্ণ।

কোচের মতে, ভালো ফলের সম্ভাবনা তৈরি করতে হলে আক্রমণে ভুলের সংখ্যা কমাতে হবে এবং পুরো ম্যাচে মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। মাঝপথে একাগ্রতা হারালে আগের ম্যাচের মতো ব্যবধান বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে আরও বেশি অনুশীলন ও আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন কোচ। শক্তিশালী দলের বিপক্ষে নিয়মিত খেলার সুযোগ পেলে খেলোয়াড়দের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা ও ম্যাচের গতি সামলানোর সক্ষমতা বাড়তে পারে।

ভুল শুধরে ভালো ম্যাচ উপহার দিতে চান খেলোয়াড়েরা
ফাইনালের আগে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যেও নিজেদের ভুল সংশোধনের প্রত্যয় দেখা যাচ্ছে। দলের সদস্য মাসুদা আক্তার মনে করেন, আগের ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে নিতে পারলে ফাইনালে ভালো পারফরম্যান্স উপহার দেওয়া সম্ভব। মাসুদা আক্তারের কথায়, ‘ভুলগুলো শোধরাতে পারলে ভালো একটা ম্যাচ উপহার দেওয়া যাবে।’

তাঁর বক্তব্যে জয়ের নিশ্চয়তার চেয়ে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার অঙ্গীকারই বেশি স্পষ্ট। আগের ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারের পর এবার অন্তত আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই উপহার দিতে চায় বাংলাদেশ। গোলের ব্যবধান কমিয়ে ভারতের বিপক্ষে নিজেদের উন্নতির প্রমাণ দেখানোও দলের অন্যতম লক্ষ্য।

ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে দলীয় সমন্বয়ে আস্থা
দলের আরেক খেলোয়াড় আছিয়া আক্তারও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়ে দলীয় সমন্বয়কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফাইনালে ভারতের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ভালো করতে হলে সবাইকে একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই বিভাগেই সমন্বয় ধরে রাখা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ভারতের আক্রমণ থামানোর পাশাপাশি নিজেদের আক্রমণে কার্যকর হতে হবে বাংলাদেশকে। সুযোগ তৈরি করেও তা কাজে লাগাতে না পারলে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করা কঠিন হবে। তাই বলের দখল ধরে রাখা, আক্রমণে ধৈর্য দেখানো এবং ভুল কমানোর বিষয়গুলোই ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রতিশোধের স্বপ্ন, বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষা
লিগ পর্বে ৪৭-১৩ গোলের হার বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। ফাইনালে সেই ব্যবধানের স্মৃতি পেছনে ফেলে নতুনভাবে শুরু করতে হবে দলকে। তবে ভারতের বিপক্ষে প্রতিশোধ নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকলেও ম্যাচের ফল নির্ভর করবে মাঠের পারফরম্যান্সের ওপর। বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জ তাই দ্বিমুখী—ভারতের দ্রুতগতির আক্রমণ ঠেকানো এবং নিজেদের ভুলগুলো কাটিয়ে ওঠা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ ধরে রাখতে পারলে লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফাইনালে বাংলাদেশের লক্ষ্য শুধু আগের হারের জবাব দেওয়া নয়, নিজেদের খেলায় উন্নতির প্রমাণও রাখা। ৬০ মিনিটের লড়াইয়ে সেই পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর নারী হ্যান্ডবল দলের সমর্থকদের।

কালের আলো/এসএ/টিসি

টানা হারে বিদায়, বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে ক্ষুব্ধ হৃদয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৯ অপরাহ্ণ
টানা হারে বিদায়, বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে ক্ষুব্ধ হৃদয়

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে টানা দুই হারে ফাইনালের আগেই বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। বড় টুর্নামেন্টে শিরোপা জয়ের স্বপ্নের কথা বলা হলেও মাঠের পারফরম্যান্সে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না—দলের এই বাস্তবতা স্বীকার করেছেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। তাঁর মতে, ট্রফি জয়ের ক্ষুধা খেলোয়াড়দের মধ্যে থাকলেও সেই আকাঙ্ক্ষাকে পারফরম্যান্সে রূপ দিতে পারছে না দল।

বুধবার (২১ অক্টোবর) শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের কাছে ৭ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৯ রানে পরাজিত হয়েছিল দলটি। টানা দুই হারে ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে মাত্র ১৬০ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর ম্যাচে লড়াই জমিয়ে তোলার সুযোগও তৈরি করতে পারেনি হৃদয়ের দল।

শিরোপা জয়ের কথা বললেই হয় না, মাঠেও প্রমাণ দিতে হবে
বড় আসরে বাংলাদেশের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ব্যবধান নিয়ে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলে হতাশা প্রকাশ করেন তাওহীদ হৃদয়। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও সেই লক্ষ্যের সঙ্গে মাঠের পারফরম্যান্সের মিল থাকছে না।

হৃদয় বলেন, ‘যখনই আমরা বড় কোনো সিরিজ, ত্রিদেশীয় সিরিজ, এশিয়া কাপ কিংবা বিশ্বকাপ খেলতে যাই, ব্যক্তিগতভাবে এবং দল হিসেবে সবাই ট্রফি জিততে চাই। এই ক্ষুধাটা সবার মধ্যেই আছে। কিন্তু আমরা শুধু মুখেই বলি, আমাদের কাজে সেটার প্রতিফলন দেখা যায় না।’

ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের এই মন্তব্য বাংলাদেশের ক্রিকেটের দীর্ঘদিনের একটি সমস্যাকে সামনে নিয়ে এসেছে। বড় কোনো টুর্নামেন্টের আগে সমর্থকদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়, খেলোয়াড়েরাও শিরোপা জয়ের লক্ষ্য ঘোষণা করেন। কিন্তু মাঠে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখাতে না পারায় সেই স্বপ্ন বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

টানা দুই হারে ফাইনালের আগেই বিদায়
ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের শুরুটাই হয়েছিল হতাশাজনক। প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হারের পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল দলের সামনে। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচেও ব্যাটিং ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে আগে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৬০ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। এত কম পুঁজি নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা কঠিন ছিল। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় দলকে। দুই ম্যাচে দুই পরাজয়ে ফাইনালে ওঠার আগেই শেষ হয় বাংলাদেশের টুর্নামেন্ট।

ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতাকেই বড় সমস্যা বলছেন হৃদয়
দলের এমন পারফরম্যান্সের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ব্যাটিং ব্যর্থতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন হৃদয়। কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে দায়ী না করলেও শেষ দুই ম্যাচে ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্স নিয়ে তাঁর মূল্যায়ন ছিল কঠোর। হৃদয় বলেন, ‘আমি নির্দিষ্ট কোনো জায়গার দিকে আঙুল তুলতে চাই না। তবে পরিষ্কারভাবে বলতে গেলে, সমস্যা আমাদের ব্যাটসম্যানদের। শেষ দুই ম্যাচে আমরা খুবই বাজে ব্যাটিং করেছি। আর সে কারণেই পুরো দলকে ভুগতে হয়েছে।’

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো বাংলাদেশের ব্যাটিং দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। বড় সংগ্রহ গড়তে না পারা এবং প্রতিপক্ষের সামনে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বোলারদের জন্যও ম্যাচে ফেরার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। হৃদয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ব্যর্থতার দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে দেশের বাইরে ওয়ানডে ক্রিকেটে ব্যাটিংয়ের যে দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে, তা কাটিয়ে ওঠা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঘরের মাঠে সাফল্য থাকলেও বিদেশে ধারাবাহিকতা নেই
তবে সাম্প্রতিক দুই ম্যাচের ফলের ভিত্তিতে পুরো দলকে ব্যর্থ বলে বিবেচনা করতে রাজি নন হৃদয়। তাঁর মতে, ওয়ানডে ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের মাটিতে ভালো করেছে বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নেওয়ার আগে নিজেদের সর্বশেষ পাঁচটি ওয়ানডে সিরিজের চারটিতে জয় পেয়েছিল দল।

ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের সাফল্যও রয়েছে বাংলাদেশের। এসব ফলাফল দলের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেও দেশের বাইরে সেই পারফরম্যান্স ধরে রাখতে না পারার বিষয়টি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। হৃদয় বলেন, ‘এক-দুটি ম্যাচ বা সিরিজের ভিত্তিতে দলের কী হয়েছে, সেটা বলতে চাই না। দল ভালো অবস্থাতেই আছে। তবে আমি আগেও বলেছি, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাইরে আমাদের ব্যাটিং খুবই খারাপ হয়েছে, সেটা স্পষ্ট।’

বিদেশের মাটিতে ব্যাটিং দুর্বলতা কাটানোই বড় চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের ক্রিকেটে ঘরের মাঠে সাফল্য এবং বিদেশের মাটিতে ব্যর্থতার পার্থক্য নতুন নয়। নিজেদের পরিচিত কন্ডিশনে ভালো খেললেও ভিন্ন পরিবেশে ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে প্রায়ই সমস্যায় পড়ে দল। চলতি ত্রিদেশীয় সিরিজের ফলও সেই দুর্বলতাকে সামনে এনেছে।

বিশেষ করে বড় টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে শুধু শিরোপা জয়ের প্রত্যাশা প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়; সেই লক্ষ্য পূরণে ব্যাটিং, বোলিং ও সামগ্রিক দলীয় পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা দেখাতে হবে। তাওহীদ হৃদয়ের বক্তব্যেও সেই বাস্তবতার প্রতিফলন রয়েছে।

টানা দুই হারে সিরিজ থেকে বিদায়ের পর বাংলাদেশের সামনে এখন নিজেদের ব্যাটিং সমস্যা চিহ্নিত করে তা কাটিয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ। কারণ, শিরোপা জয়ের স্বপ্ন যত বড়ই হোক, মাঠের পারফরম্যান্সে তার প্রমাণ না মিললে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়া কঠিন।

কালের আলো/এসএ/এমএসআইপি

৩৩ হাজার ৮৫১ মণ্ডপে শান্তিপূর্ণ দুর্গোৎসব হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

বগুড়া সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২২ অপরাহ্ণ
৩৩ হাজার ৮৫১ মণ্ডপে শান্তিপূর্ণ দুর্গোৎসব হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সারা দেশে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব উদ্‌যাপিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বগুড়ার হোটেল মম-ইনের অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ প্রতিদিন আয়োজিত ‘উত্তরাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র বগুড়ার উন্নয়ন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর সম্পাদক লোটন একরাম।

মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে কোনো প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বাইরে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম—তিনটি পৃথক অঞ্চলে গিয়ে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেননি। এবার প্রধানমন্ত্রী এসব অঞ্চলে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত নির্বাচনে একটি গোষ্ঠী হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে নিজেদের সমর্থক হিসেবে বিবেচনা করত। সেই অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে তাঁরা বিএনপির প্রতি আস্থা রেখেছেন এবং দলটিকে ভোট দিয়ে বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সেই আস্থা ও বিশ্বাসের মূল্য দিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার কাজ করেছে। প্রশাসনের সদস্য ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা একসঙ্গে পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা দিয়েছেন। এর ফলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি