খুঁজুন
                               
, ,
           

হোয়াটসঅ্যাপ কি আপনার তথ্য বিক্রি করে, জানুন আসল সত্য

সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৫ অপরাহ্ণ
হোয়াটসঅ্যাপ কি আপনার তথ্য বিক্রি করে, জানুন আসল সত্য

প্রতিদিনের ব্যক্তিগত কথোপকথন, ছবি, ভিডিও কিংবা জরুরি নথি আদান-প্রদানে হোয়াটসঅ্যাপ এখন অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। পরিবার, বন্ধু থেকে শুরু করে অফিসের কাজ—সব ক্ষেত্রেই জনপ্রিয় এই বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ ব্যবহার করছেন কোটি কোটি মানুষ। কিন্তু অ্যাপটিতে ব্যক্তিগত তথ্য কতটা নিরাপদ? হোয়াটসঅ্যাপ কি ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করে, নাকি সেগুলো অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে?

হোয়াটসঅ্যাপে ব্যক্তিগত বার্তা ও কলের নিরাপত্তায় রয়েছে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন প্রযুক্তি। এর ফলে সাধারণ ব্যক্তিগত চ্যাট ও কলের বিষয়বস্তু কেবল প্রেরক ও প্রাপক দেখতে বা শুনতে পারেন। হোয়াটসঅ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাও সাধারণভাবে এসব বার্তার বিষয়বস্তু পড়তে পারে না। তবে এই সুরক্ষা থাকার অর্থ এই নয় যে ব্যবহারকারীর অন্য কোনো তথ্য সংগ্রহ করা হয় না।

অ্যাকাউন্ট পরিচালনা, সেবা সচল রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য হোয়াটসঅ্যাপ বিভিন্ন ধরনের ব্যক্তিগত ও কারিগরি তথ্য সংগ্রহ করে। কিছু ক্ষেত্রে মেটার অন্যান্য সেবার সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানও হতে পারে। তাই তথ্য সংগ্রহ, তথ্য শেয়ার এবং তথ্য বিক্রির মধ্যে পার্থক্য বোঝা জরুরি।

কী কী তথ্য সংগ্রহ করে হোয়াটসঅ্যাপ?
হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের সময় বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে রয়েছে ব্যবহারকারীর দেওয়া তথ্য, অ্যাপ ব্যবহারের সময় তৈরি হওয়া কারিগরি তথ্য এবং অন্য ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে পাওয়া কিছু তথ্য। অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ফোন নম্বর দিতে হয়। এ ছাড়া প্রোফাইলের নাম, ছবি ও ব্যবহারকারীর দেওয়া অন্যান্য তথ্যও সেবাটির সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। অ্যাপ সচল রাখতে ডিভাইসের ধরন, ইন্টারনেট সংযোগ, আইপি ঠিকানা, ব্যবহারের সময়সংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য কারিগরি তথ্যও প্রক্রিয়াকরণ করা হতে পারে।

অন্যদিকে, ব্যবহারকারীর ফোনের কন্ট্যাক্ট তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের তথ্যও নির্দিষ্ট অনুমতি ও ব্যবহৃত সুবিধার ভিত্তিতে প্রক্রিয়াকরণ হতে পারে। তবে ঠিক কোন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, তা নির্ভর করে অ্যাপের সংস্করণ, ব্যবহৃত সুবিধা, অনুমতি এবং সংশ্লিষ্ট গোপনীয়তা নীতির ওপর। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব তথ্য সংগ্রহের অর্থ এই নয় যে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত চ্যাটের সব কথাবার্তা পড়ে ফেলতে পারে। ব্যক্তিগত বার্তার বিষয়বস্তু এবং অ্যাপ ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য এক বিষয় নয়।

মেটার সঙ্গে কি আপনার তথ্য শেয়ার হয়?
হোয়াটসঅ্যাপ মেটার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। ফলে সেবাটি পরিচালনা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্দিষ্ট সুবিধা চালু রাখার জন্য মেটার সঙ্গে কিছু তথ্য আদান-প্রদান হতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ, হোয়াটসঅ্যাপের কোনো কনটেন্ট অন্য মেটা সেবায় শেয়ার করা হলে সেই কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য প্রক্রিয়াকরণের প্রয়োজন হতে পারে। আবার ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা মেটার বিভিন্ন সেবা ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও তথ্যের ব্যবহার ভিন্ন হতে পারে। তবে মেটার সঙ্গে কিছু তথ্য শেয়ার হওয়ার অর্থ এই নয় যে প্রতিষ্ঠানটি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো ব্যক্তিগত বার্তা পড়তে পারে। এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন চালু থাকা সাধারণ ব্যক্তিগত চ্যাট ও কলের বিষয়বস্তু এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকে।

এখানে একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন—তথ্য সংগ্রহ, অন্য সেবার সঙ্গে তথ্য শেয়ার এবং তথ্য বিক্রি এক নয়। হোয়াটসঅ্যাপ তথ্য সংগ্রহ করে বা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে শেয়ার করে বলেই ব্যবহারকারীর সব ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করা হয়, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।

ব্যক্তিগত বার্তা কতটা নিরাপদ?
হোয়াটসঅ্যাপের ব্যক্তিগত বার্তা ও কলে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন ব্যবহৃত হয়। এ প্রযুক্তিতে বার্তা প্রেরকের ডিভাইস থেকে এমনভাবে সুরক্ষিত থাকে যে নির্ধারিত প্রাপক ছাড়া অন্য কেউ সাধারণভাবে তার বিষয়বস্তু পড়তে পারেন না। এই সুরক্ষা ব্যক্তিগত লেখা, ছবি, ভিডিও, ভয়েস মেসেজ ও নথির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তবে ব্যবহারকারী নিজে বার্তা অন্য কাউকে দেখালে, প্রাপক স্ক্রিনশট নিলে কিংবা ডিভাইসের নিরাপত্তা ভেঙে কেউ প্রবেশাধিকার পেলে এনক্রিপশন একাই সব ধরনের ঝুঁকি ঠেকাতে পারে না।

এ ছাড়া চ্যাটের বিষয়বস্তু এনক্রিপ্ট করা থাকলেও অ্যাকাউন্ট ও সেবা ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত সব তথ্য একইভাবে সুরক্ষিত থাকে না। তাই শুধু এনক্রিপশন আছে জেনেই সব ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য সম্পূর্ণ নিরাপদ ধরে নেওয়া উচিত নয়।

গোপনীয়তা বাড়াতে যেসব সেটিংস কাজে আসবে
হোয়াটসঅ্যাপে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য কারা দেখতে পারবেন, তা নিয়ন্ত্রণের জন্য বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে। অ্যাপের প্রাইভেসি সেটিংস থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী এসব সুবিধা পরিবর্তন করা যায়।

প্রোফাইলের তথ্য নিয়ন্ত্রণ: প্রোফাইল ছবি, ‘লাস্ট সিন’, অনলাইন থাকার তথ্য ও ‘অ্যাবাউট’ কারা দেখতে পারবেন, তা নির্ধারণ করুন।

গ্রুপে যুক্ত হওয়ার অনুমতি: কে আপনাকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করতে পারবেন, তা নিয়ন্ত্রণ করুন।

ডিসঅ্যাপিয়ারিং মেসেজ: নির্দিষ্ট সময় পর বার্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাওয়ার সুবিধা চালু করতে পারেন। তবে এতে অন্যের সংরক্ষণ করা কপি বা স্ক্রিনশট মুছে যাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।

চ্যাট লক: গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথন আলাদা করে লক করে রাখতে পারেন।

টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন: অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বাড়াতে এই সুবিধা চালু করুন এবং যাচাইকরণ কোড কাউকে দেবেন না।

অ্যাপ লক: ডিভাইস সমর্থন করলে আঙুলের ছাপ বা অন্য কোনো অনুমোদিত পদ্ধতিতে অ্যাপে প্রবেশাধিকার সীমিত করুন।

নিয়মিত এসব সেটিংস পর্যালোচনা করলে ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো সম্ভব।

চ্যাটের ব্যাকআপেও কি ঝুঁকি আছে?
ফোন হারিয়ে গেলে কিংবা নতুন ডিভাইসে হোয়াটসঅ্যাপ চালু করলে পুরোনো কথোপকথন ফিরিয়ে আনতে চ্যাটের ব্যাকআপ কাজে লাগে। তবে ব্যাকআপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। হোয়াটসঅ্যাপে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপটেড ব্যাকআপ চালু করার সুবিধা রয়েছে। এটি সক্রিয় করলে ব্যাকআপের তথ্য সুরক্ষিত রাখতে পাসওয়ার্ড বা ৬৪ সংখ্যার এনক্রিপশন কি ব্যবহার করা যায়। এতে যথাযথ অনুমোদন ছাড়া ব্যাকআপের বিষয়বস্তু পড়া কঠিন হয়।

তবে এই পাসওয়ার্ড বা এনক্রিপশন কি হারিয়ে গেলে ব্যাকআপ পুনরুদ্ধার করা কঠিন, এমনকি অসম্ভবও হতে পারে। তাই নিরাপদ স্থানে প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করা জরুরি। ব্যাকআপের এনক্রিপশন চালু আছে কি না, সেটিও সেটিংসে গিয়ে যাচাই করে নেওয়া উচিত।

তাহলে হোয়াটসঅ্যাপ কি তথ্য বিক্রি করে?
প্রশ্নটির উত্তর দিতে হলে তথ্য সংগ্রহ, তথ্য শেয়ার এবং তথ্য বিক্রির মধ্যে পার্থক্য করতে হবে। হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর কিছু তথ্য সংগ্রহ করে এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মেটার অন্যান্য সেবা বা সংশ্লিষ্ট সেবাদাতাদের সঙ্গে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও আদান-প্রদান করতে পারে। কিন্তু এ থেকেই ব্যবহারকারীর সব ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করা হয়—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। ব্যবহারকারীর তথ্য কীভাবে সংগ্রহ, ব্যবহার ও শেয়ার করা হয়, তা জানতে হোয়াটসঅ্যাপের হালনাগাদ গোপনীয়তা নীতি পড়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যোগাযোগ, অন্যান্য সেবায় তথ্য শেয়ার এবং ক্লাউড ব্যাকআপের ক্ষেত্রে কী নিয়ম প্রযোজ্য, তা বুঝে নেওয়া জরুরি।

ডিজিটাল যোগাযোগের যুগে গোপনীয়তা রক্ষার দায়িত্ব শুধু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নয়, ব্যবহারকারীরও। কোন তথ্য শেয়ার করছেন, অ্যাপকে কী অনুমতি দিচ্ছেন এবং অ্যাকাউন্ট কতটা সুরক্ষিত রাখছেন—এসব বিষয়ে সচেতন থাকলে ব্যক্তিগত তথ্যের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

কালের আলো/এসএ/জেএন

১৯৯ রানেই চার উইকেট হারিয়ে চাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

স্পোর্টস ডেস্ক,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৮ অপরাহ্ণ
১৯৯ রানেই চার উইকেট হারিয়ে চাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাট হাতে বড় সংগ্রহ গড়ার পর বল হাতেও দাপট দেখাচ্ছে বিসিবি একাদশ। প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭১ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) একাদশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯৯ রান সংগ্রহ করেছে ক্যারিবীয়রা। শুরুতে কয়েকজন ব্যাটার রান পেলেও বড় জুটি গড়ে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না তারা। বিসিবি একাদশের বোলাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে সফরকারীদের বড় সংগ্রহের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথম দিনে ব্যাটিংয়ে নেমে ভালো সংগ্রহ গড়ে বিসিবি একাদশ। ৭ উইকেটে ৩৭১ রান তোলার পর ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকরা। ফলে বড় সংগ্রহের জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই চাপ সামলাতে হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে বাংলাদেশের দেওয়া বড় সংগ্রহের বিপরীতে সফরকারীরা এখন পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে রান তুলতে পারলেও ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিতে পারেনি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৫ রান করেছেন ওপেনার জন ক্যাম্পবেল। ৭৮ বলের ইনিংসে ৯টি চার ও ২টি ছক্কা হাঁকান তিনি। ভালো ব্যাটিংয়ের পর রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন এই ওপেনার। অন্য ওপেনার তেজনারায়ণ চন্দরপল করেন ৯০ বলে ৩১ রান। শুরুতে তাঁরা রান তুললেও পরবর্তী সময়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এ ছাড়া ব্রেন্ডন কিং ৩৫ বলে ৪০ রান করে সাজঘরে ফেরেন। অনিক দেববর্মার বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। কাভেম হজ করেন ১৩ রান এবং জশুয়া ডি সিলভার ব্যাট থেকে আসে ১১ রান। ব্যাটারদের ব্যক্তিগত কিছু ভালো ইনিংস থাকলেও বড় জুটি গড়ে ইনিংসকে এগিয়ে নিতে না পারায় চাপে রয়েছে সফরকারীরা।

বিসিবি একাদশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল মো. হোসেন। তিনি তুলে নিয়েছেন ২ উইকেট। অনিক দেববর্মা পেয়েছেন ১ উইকেট। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান তোলার গতি নিয়ন্ত্রণে রাখছেন বাংলাদেশের বোলাররা।

৫০ ওভারে ১৯৯ রান তুললেও চার উইকেট হারানোয় সফরকারীদের সামনে এখন বড় জুটি গড়ার চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে বাকি উইকেটগুলো দ্রুত তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আরও চাপে ফেলার লক্ষ্য থাকবে বিসিবি একাদশের বোলারদের। দুই দিনের এই প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশের বড় সংগ্রহের পর বোলারদের পারফরম্যান্সও আলোচনায় এসেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা রান পেলেও নিয়মিত উইকেট হারানোয় ইনিংসের ভিত মজবুত করতে পারেনি। ম্যাচের এই পর্যায়ে বাংলাদেশের বোলাররা চাপ ধরে রাখতে পারলে সফরকারীদের বড় সংগ্রহে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। তবে হাতে উইকেট থাকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগও রয়েছে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

প্রশাসনের ধাওয়া এড়িয়ে মেঘনায় ইলিশ ধরছেন জেলেরা

চাঁদপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫২ অপরাহ্ণ
প্রশাসনের ধাওয়া এড়িয়ে মেঘনায় ইলিশ ধরছেন জেলেরা

মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চললেও চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীতে বন্ধ হচ্ছে না ইলিশ শিকার। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান, জেল-জরিমানা এবং অবৈধ জাল ও নৌকা জব্দের পরও একশ্রেণির জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরছেন। অভিযানের ট্রলারের তুলনায় জেলেদের ইঞ্জিনচালিত নৌকার গতি বেশি হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে ধাওয়া করেও তাঁদের আটক করা যাচ্ছে না। ফলে নদীতে ফেলে যাওয়া জাল জব্দ করেই অভিযান শেষ করতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) মতলব উত্তরের এখলাসপুর এলাকার মেঘনা নদীতে এমন চিত্র দেখা গেছে। পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের অভিযানের ট্রলার দেখেই দ্রুতগতির ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে পালিয়ে যান জেলেরা। অভিযান পরিচালনাকারীরা সর্বোচ্চ গতিতে ধাওয়া করেও তাঁদের আটক করতে পারেননি। একপর্যায়ে জেলেরা নদীতে জাল ফেলে পালিয়ে গেলে সেগুলো জব্দ করেন মৎস্য বিভাগের কর্মীরা।

অভিযানের ট্রলার দেখলেই পালিয়ে যান জেলেরা
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মেঘনা নদীতে প্রশাসন ও জেলেদের মধ্যে যেন চোর-পুলিশ খেলা চলছে। অভিযানের ধরন ও ট্রলারের গতি সম্পর্কে ধারণা থাকায় জেলেরা দ্রুতগতির ইঞ্জিনচালিত নৌকা ব্যবহার করছেন। নদীতে অভিযানের ট্রলার দেখা গেলেই তাঁরা নৌকার গতি বাড়িয়ে পালিয়ে যান।

স্থানীয় বাসিন্দা নুরী আলম বলেন, অভিযানের ট্রলারের চেয়ে জেলেদের নৌকার গতি বেশি হওয়ায় তাঁদের আটক করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে গভীর রাতে এবং প্রশাসনের টহল শেষ হওয়ার পর নদীতে মাছ ধরার প্রবণতা বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে শুধু নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেই নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুতগতির নৌকা ব্যবহার করে জেলেরা নদীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় নজরদারি ও ধাওয়ার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

৭ অক্টোবর থেকে চলছে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা
উপজেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে গত ৭ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। এ সময়ে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত ও বিক্রি নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। নদীর বিভিন্ন এলাকায় টহল, অবৈধ জাল জব্দ এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগের মধ্যেও নদীর দুর্গম এলাকা ও শাখা নদীগুলোতে নজরদারির ঘাটতির সুযোগ নিচ্ছেন কিছু জেলে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, পেশাদার জেলেদের পাশাপাশি মৌসুমি জেলেরাও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছ ধরছেন। এতে নিয়ম মেনে নদীতে না নামা জেলেদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

৩৪ অভিযান ও পাঁচ মোবাইল কোর্টে আটক জেলে
উপজেলা মৎস্য বিভাগের তথ্যানুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে এ পর্যন্ত ৩৪টি অভিযান ও পাঁচটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে বেশ কয়েকজন জেলেকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকিরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।

অভিযানগুলোতে সাতটি নৌকা, দেড় লাখ মিটারের বেশি অবৈধ জাল এবং ২০৫ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা ভেঙে মাছ ধরার বিরুদ্ধে প্রশাসনের এসব পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলেও নদীতে অবৈধভাবে ইলিশ আহরণের ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। জব্দ করা জাল ও নৌকার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অভিযান চলাকালে জেলেরা পালিয়ে গেলে তাঁদের আটক করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং একই ধরনের অপরাধ পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি থাকে।

নিষেধাজ্ঞায় কর্মহীন জেলেদের সংসারে সংকট
নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদীতে মাছ ধরতে না পারায় অনেক জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ আর্থিক সংকটে ভুগছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সরকারি খাদ্যসহায়তা পেলেও তা দিয়ে পরিবারের সব খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ জেলেদের। একদিকে মা ইলিশ সংরক্ষণের জন্য মাছ ধরা বন্ধ রাখা জরুরি, অন্যদিকে এ সময়ে জেলেদের জীবিকা ও পরিবারের খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে জেলেদের জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে তাঁদের নিয়ম মেনে চলতে উৎসাহিত করা সহজ হতে পারে। স্থানীয়দের মতে, নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা জেলেরা যখন মাছ ধরতে পারছেন না, তখন অন্য কেউ গোপনে নদীতে মাছ ধরলে তা তাঁদের জন্য অন্যায্য পরিস্থিতি তৈরি করে। ফলে অবৈধভাবে ইলিশ শিকার বন্ধে নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি জেলেদের সহায়তা কার্যক্রমও গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

জনবল ও বাজেট সংকটে অভিযান পরিচালনা
মতলব উত্তর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সজিব চন্দ্র দে বলেন, জনবল সংকট, বাজেটের স্বল্পতাসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মা ইলিশ সংরক্ষণে সাধ্যমতো চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি জানান, সীমিত সামর্থ্যের কারণে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব না হলেও অভিযান মোটামুটি সফল হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো যৌথভাবে কাজ করছে এবং মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মেঘনা নদীতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি দুর্গম এলাকা ও শাখা নদীতে নজরদারি বাড়ানো, দ্রুতগতির নৌকা ব্যবহার করে পালিয়ে যাওয়া জেলেদের শনাক্ত করা এবং অবৈধ জাল জব্দের কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রজনন মৌসুমে ইলিশ সংরক্ষণে প্রয়োজন কার্যকর নজরদারি
মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ নিশ্চিত করা ইলিশের উৎপাদন ও ভবিষ্যৎ মৎস্যসম্পদ রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরা অব্যাহত থাকলে সংরক্ষণের লক্ষ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। মতলব উত্তরের মেঘনায় অভিযান ও জব্দ কার্যক্রম চললেও অবৈধ ইলিশ শিকার বন্ধ না হওয়ায় নিষেধাজ্ঞার বাকি সময়ে নজরদারি আরও কার্যকর করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে কর্মহীন জেলেদের সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে আইন মেনে চলার পরিবেশ তৈরিতে তা সহায়ক হতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ফেসবুকে অস্ত্র প্রদর্শন এনসিপি নেতাকে ঘিরে বিতর্ক

পাবনা সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৬ অপরাহ্ণ
ফেসবুকে অস্ত্র প্রদর্শন এনসিপি নেতাকে ঘিরে বিতর্ক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পাবনার সাঁথিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ওই নেতার নাম মুজাহিদ ফকির। তিনি এনসিপির সাঁথিয়া পৌর শাখার সদস্যসচিব। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অস্ত্রটি আসল কি না এবং সেটি প্রদর্শনের পেছনে কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ফেসবুক স্টোরিতে ভিডিওটি প্রকাশ করেন মুজাহিদ ফকির। প্রায় এক ঘণ্টা পর সেটি সরিয়ে নেওয়া হলেও এর আগেই অনেকে ভিডিওটি ডাউনলোড ও স্ক্রিনশট নিয়ে রাখেন। পরে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ওই নেতার এমন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান অনেকে।

ফেসবুক স্টোরি থেকে ছড়িয়ে পড়ে ভিডিও
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দুজন ব্যক্তির হাত ও পায়ের কিছু অংশ দেখা যায়। তাঁদের একজন মেঝেতে একটি আগ্নেয়াস্ত্র রাখেন। পরে অন্যজন সেটি হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করেন এবং প্রদর্শন করেন। তবে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের কারও মুখ কিংবা শরীরের অন্য কোনো অংশ স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি। ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই অস্ত্রটির প্রকৃতি ও প্রদর্শনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ভিডিওতে থাকা অস্ত্রটি প্রকৃত আগ্নেয়াস্ত্র কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি যাচাই করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়া হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পেজ ও আইডির মাধ্যমে সেটি ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকে একজন রাজনৈতিক নেতার এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

অস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে রাজনৈতিক নেতার সমালোচনা
এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম। তিনি বলেন, যে ধরনের অস্ত্রই হোক, এভাবে প্রদর্শনের উদ্দেশ্য জনমনে ভীতি বা আতঙ্ক সৃষ্টি করা বলে তাঁরা মনে করছেন। আব্দুল করিমের দাবি, রাজনৈতিক নেতাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা উচিত নয়। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী ভালো কাজে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করেও মন্ত্রিত্ব হারিয়েছেন। সেখানে রাজনৈতিক নেতা হয়ে মুজাহিদ ফকিরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ উঠছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা, অস্ত্র প্রদর্শনের মতো ঘটনা এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।

তবে অস্ত্র প্রদর্শনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুলিশের তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। ভিডিওতে প্রদর্শিত অস্ত্রের প্রকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনার প্রেক্ষাপট যাচাইয়ের ওপরই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করছে। ভিডিও প্রকাশের বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক এ বিষয়ে সাঁথিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. বকুল বলেন, কয়েক দিন ধরেই মুজাহিদ ফকিরের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না এবং ভিডিওটিও দেখেননি বলে জানান।

বকুল বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে শুনেছেন। খোঁজখবর নিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে পরে বিস্তারিত জানাতে পারবেন। এদিকে অভিযোগের বিষয়ে মুজাহিদ ফকিরের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে ভিডিওটি প্রকাশের কারণ কিংবা সেখানে থাকা অস্ত্র সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

আগের ভিডিও নিয়ে পুলিশের তদন্তে খেলনা পিস্তলের তথ্য
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, মুজাহিদ ফকির এর আগেও ফেসবুকে আগ্নেয়াস্ত্রের ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করেছিলেন। তবে সে সময় পুলিশের তদন্তে সেটি খেলনা পিস্তল বলে প্রমাণিত হয়েছিল। এবার ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে থাকা অস্ত্রটি প্রকৃত আগ্নেয়াস্ত্র কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান ওসি। তিনি বলেন, অস্ত্রটি আসল হলে সেটি প্রদর্শনের কোনো আইনি বৈধতা রয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ আরও তদন্ত করছে, রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল পদে থেকে জনমনে ভীতি বা আতঙ্ক সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছিল কি না। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ওসি।

অস্ত্রের সত্যতা যাচাইয়ের পর নেওয়া হবে ব্যবস্থা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র প্রদর্শনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় এখন মূলত দুটি বিষয় সামনে এসেছে—ভিডিওতে থাকা অস্ত্রটি আসল কি না এবং সেটি প্রদর্শনের পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, এসব বিষয় যাচাই করেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অস্ত্রটির প্রকৃতি বা ভিডিও প্রকাশের উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, ভিডিওর বিষয়বস্তু এবং অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ের পরই ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি