খুঁজুন
                               
, ,
           

তিন দশকের বৃক্ষপ্রেমে বদলে গেছে নওগাঁর সড়ক

নওগাঁ সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
তিন দশকের বৃক্ষপ্রেমে বদলে গেছে নওগাঁর সড়ক

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রাইগাঁ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও রাইগাঁ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান। পেশাগত পরিচয়ের বাইরেও তিনি পরিচিত একজন বৃক্ষপ্রেমী মানুষ হিসেবে। পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে ছাত্রজীবনেই গাছ লাগানোর যে উদ্যোগ শুরু করেছিলেন, তা এখন ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। নিজের বেতনের একটি অংশ ব্যয় করে গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করছেন তিনি। এ পর্যন্ত দেশের ৩০টি জেলায় প্রায় ৬৫ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেছেন বলে জানিয়েছেন এই অধ্যক্ষ।

গাছ লাগানোকে কেবল ব্যক্তিগত শখের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি আরিফুর রহমান। রাস্তার দুই পাশে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থানে গাছ লাগিয়ে সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন তিনি। তাঁর উদ্যোগে নওগাঁর বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয়েছে তালগাছের সারি, ফুলের বাগান ও সবুজে ঘেরা নানা স্থান। এসব উদ্যোগ স্থানীয় পরিবেশের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি পথচারী, কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য ছায়া ও উপকার বয়ে আনছে। নওগাঁর বদলগাছী-পত্নীতলা আঞ্চলিক সড়কের সাতপ্রাম থেকে ডাবরকুড়ি পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে সারি সারি তালগাছ চোখে পড়ে। প্রায় তিন দশক আগে রোপণ করা এসব গাছ এখন বেড়ে উঠে সড়কটির সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। স্থানীয়দের কাছে এলাকাটি ‘তালপার্ক’ নামেও পরিচিতি পেয়েছে।

সড়কটির দুই পাশে তালগাছ লাগানোর পেছনে রয়েছে অধ্যক্ষ আরিফুর রহমানের উদ্যোগ। ছাত্রজীবনে কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে তিনি তালবীজ রোপণ করেছিলেন। সময়ের সঙ্গে সেই বীজ থেকে জন্ম নেওয়া গাছগুলো বড় হয়েছে। এখন সড়কের পাশ দিয়ে চলাচলকারী মানুষ যেমন সবুজের সৌন্দর্য উপভোগ করেন, তেমনি মাঠে কাজ করা কৃষকেরাও গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিতে পারেন। ডাবরকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা বয়োজ্যেষ্ঠ লুৎফর রহমান জানান, প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছর আগে বদলগাছী-পত্নীতলা আঞ্চলিক সড়কটি প্রশস্ত করার সময় মাটি ফেলা হয়েছিল। সে সময় আরিফুর রহমান তাঁর কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে সড়কের দুই পাশে তালবীজ রোপণ করেন। সেই উদ্যোগের ফল এখন সড়কজুড়ে দৃশ্যমান। লুৎফর রহমানের ভাষ্য, তালগাছগুলো এলাকার সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি মাঠে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষের বিশ্রামের জায়গা হিসেবে কাজে আসছে। ঝড়-বৃষ্টির সময়ও মানুষ এসব গাছের নিচে আশ্রয় নেয়।

অধ্যক্ষ আরিফুর রহমানের বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের পেছনে রয়েছে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কমানোর চিন্তা। বিশেষ করে বজ্রপাতের ঝুঁকি থেকে মানুষকে সুরক্ষার প্রত্যাশা নিয়ে তিনি তালগাছের চারা রোপণ শুরু করেন। পরে ধীরে ধীরে তাঁর এই উদ্যোগে যুক্ত হয় বিভিন্ন প্রজাতির ফুল, ফল ও বনজ গাছ। তবে তালগাছ রোপণের পাশাপাশি বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতনতা, নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ এবং আবহাওয়া সংক্রান্ত সতর্কতা অনুসরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের উন্নয়ন ঘটানোর পাশাপাশি দুর্যোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

আরিফুর রহমান শুধু নিজের উদ্যোগে গাছ লাগিয়েই দায়িত্ব শেষ করেন না; শিক্ষার্থী ও ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা মানুষের মধ্যেও গাছের চারা বিতরণ করেন। কোথাও ঘুরতে গেলেও সঙ্গে গাছের চারা রাখেন। তাঁর এই অভ্যাসের কারণে অনেকের কাছে তিনি ‘সবুজের ফেরিওয়ালা’ নামে পরিচিতি পেয়েছেন।

তালগাছের পাশাপাশি সড়কের দুই পাশে কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, পলাশ, শিমুলসহ নানা প্রজাতির ফুল ও ফলের গাছ রোপণ করেছেন আরিফুর রহমান। এসব গাছের সমারোহে গড়ে ওঠা একটি স্থান ‘কৃষ্ণচূড়া ভ্যালি’ নামে পরিচিত। এ ছাড়া সান্তাহার রেলস্টেশন, নওগাঁর হাঁসাইগাড়ি বিল, পত্নীতলা উপজেলার নদীর পশ্চিম পাশ এবং সিলিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ ও বনায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। বিভিন্ন স্থানে কৃষ্ণচূড়া চত্বর গড়ে তোলার মাধ্যমেও সবুজ পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।

ফুলের গাছের সৌন্দর্য মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পাশাপাশি ফলজ ও বনজ গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল তৈরি এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রাকৃতিক সম্পদ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। এসব বিবেচনায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করছেন এই বৃক্ষপ্রেমী। মহাদেবপুর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে নিজ উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ করে আসছেন আরিফুর রহমান। তাঁর লক্ষ্য, গাছ লাগানোর কাজকে একটি নির্দিষ্ট এলাকা বা ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে দেওয়া।

প্রতি সপ্তাহে নিয়ম করে রোপণ করা গাছের পরিচর্যাও করেন তিনি। কারণ, শুধু চারা লাগালেই বনায়নের কাজ শেষ হয় না; গাছের বেঁচে থাকা ও বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিচর্যা প্রয়োজন। এ কারণে চারা রোপণের পাশাপাশি গাছের যত্ন নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দেওয়ার মাধ্যমে ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা তৈরি করার সুযোগ রয়েছে। একইভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ স্থানীয় মানুষকে পরিবেশ সংরক্ষণে যুক্ত করতে পারে। আরিফুর রহমানের উদ্যোগে এসব কার্যক্রমের সমন্বয় ঘটেছে। মাতাজি হাটের বাসিন্দা খালিদ হাসান বাবু বলেন, সড়কের দুই পাশে থাকা তালগাছ শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায়নি; ফল ও ছায়া দিয়েও স্থানীয়দের উপকার করছে। তাল মৌসুমে এসব গাছ থেকে রস সংগ্রহ ও তাল খাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। গাছের বিভিন্ন অংশ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করেন স্থানীয়রা।

তাঁর মতে, তালগাছের পাশাপাশি অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ রোপণ করেছেন। পরিবেশ রক্ষায় তাঁর এই উদ্যোগ মহাদেবপুর ছাড়িয়ে বিভিন্ন মানুষের প্রশংসা পাচ্ছে। গাছের ছায়া, ফল এবং অন্যান্য ব্যবহারিক সুবিধা স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগে। দীর্ঘদিন ধরে বেড়ে ওঠা গাছগুলো একদিকে যেমন প্রাকৃতিক পরিবেশকে সমৃদ্ধ করে, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্কও দৃঢ় করে। নিজের উদ্যোগ সম্পর্কে অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে পরিবেশকে রক্ষা করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য সবুজ পৃথিবী রেখে যাওয়াই তাঁর উদ্দেশ্য। এ পর্যন্ত রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকাসহ দেশের ৩০টি জেলায় ৬৫ হাজার গাছের চারা রোপণ করেছেন বলে জানান তিনি।

আরিফুর রহমানের স্বপ্ন, দেশের প্রতিটি জেলায় বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে প্রকৃতিকে সবুজে ভরিয়ে তোলা। তাঁর প্রত্যাশা, মানুষ গাছ লাগানোর পাশাপাশি গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণেও এগিয়ে আসবে। কারণ, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নয়; এটি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিষয়। ছাত্রজীবনে বন্ধুদের নিয়ে শুরু করা বৃক্ষরোপণ আজ তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগের গণ্ডি ছাড়িয়ে বৃহত্তর পরিবেশ সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে। নওগাঁর সড়কের পাশে তালগাছের সারি কিংবা বিভিন্ন স্থানে ফুলের গাছের সমারোহ—সবকিছুর মধ্যেই রয়েছে প্রকৃতিকে ভালোবাসার বার্তা। অধ্যক্ষ আরিফুর রহমানের এই উদ্যোগ অন্যদেরও গাছ লাগাতে এবং সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলতে উৎসাহিত করতে পারে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

এবার তিন ভাষায় নেটফ্লিক্সে দেখা যাবে মোশাররফ করিমের দুই সিরিজ

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৯ অপরাহ্ণ
এবার তিন ভাষায় নেটফ্লিক্সে দেখা যাবে মোশাররফ করিমের দুই সিরিজ

বাংলাদেশি অভিনেতা মোশাররফ করিমের অভিনীত জনপ্রিয় দুই সিরিজ ‘মহানগর’ ও ‘বোহেমিয়ান ঘোড়া’ এবার দেখা যাবে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে। বাংলা ভাষায় হইচইয়ে মুক্তি পাওয়া সিরিজগুলো হিন্দি, তামিল ও তেলুগু ভাষায় নেটফ্লিক্সে দেখানোর বিষয়ে চুক্তি করেছে প্ল্যাটফর্ম দুটি। আগামী দুই বছর এসব সিরিজ দেখার সুযোগ পাবেন দর্শকেরা।

এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের পরিচিত দুই সিরিজ আরও বড় পরিসরে দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হলো। ‘মহানগর’ নির্মাণ করেছেন আশফাক নিপুণ এবং ‘বোহেমিয়ান ঘোড়া’ পরিচালনা করেছেন অমিতাভ রেজা চৌধুরী। দুই সিরিজেই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম।

নেটফ্লিক্সে ‘মহানগর’ ও ‘বোহেমিয়ান ঘোড়া’
আশফাক নিপুণের নির্মাণে ‘মহানগর’ মুক্তির পর দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছিল। সিরিজটির এখন পর্যন্ত দুটি সিজন প্রকাশিত হয়েছে। অন্যদিকে অমিতাভ রেজা চৌধুরীর ‘বোহেমিয়ান ঘোড়া’র নতুন সিজন আসার ঘোষণাও সম্প্রতি দেওয়া হয়েছে।

নেটফ্লিক্সে একাধিক ভাষায় সিরিজগুলো যুক্ত হলে বাংলাদেশের বাইরের দর্শকেরাও গল্প ও অভিনয় উপভোগ করার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে মোশাররফ করিমের অভিনয় আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে নতুনভাবে তুলে ধরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

মৌলিক সিরিজ নির্মাণেও একসঙ্গে হইচই-নেটফ্লিক্স
শুধু পুরোনো সিরিজ পরিবেশন নয়, মৌলিক কনটেন্ট নির্মাণেও একসঙ্গে কাজ করবে হইচই স্টুডিওজ ও নেটফ্লিক্স। এ উদ্যোগের আওতায় হইচইয়ের নির্বাচিত গল্প নতুনভাবে রূপান্তর করা হবে। এতে যুক্ত হবেন নতুন নির্মাতা ও সৃজনশীল ব্যক্তিরা।

এই সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলা ভাষার গল্পকে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন এবং আরও বিস্তৃত দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নেটফ্লিক্সে থাকবে পশ্চিমবঙ্গের সিরিজও
বাংলাদেশের ‘মহানগর’ ও ‘বোহেমিয়ান ঘোড়া’র পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটি সিরিজও নেটফ্লিক্সে যুক্ত হচ্ছে। তালিকায় রয়েছে ‘ম্যাডাম ইনস্পেক্টর’, ‘সম্পূর্ণা’, ‘লজ্জা’, ‘একেন’, ‘অঞ্জান সায়ে’, ‘দ্য কার্স অব পর্ণশবরী’, ‘ব্লাডলাইনস’, ‘দ্য অ্যাডভেঞ্চারস অব দাদি অ্যান্ড জগ্গা’, ‘রাত অভি বাকি হ্যায়’, ‘অচিন্তা: ট্রায়াল বাই ল’, ‘কুইনস’ এবং ‘পরিণীতা: আ লাভ স্টোরি’।

বাংলা সিরিজের এমন আন্তর্জাতিক পরিবেশনা আঞ্চলিক গল্প ও নির্মাণকে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার নতুন সুযোগ তৈরি করছে।

কালের আলো/ইএকে/জেএন

২৪ ঘণ্টায় হামে মৃত্যু ৭ জন আক্রান্ত ১,১৩৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
২৪ ঘণ্টায় হামে মৃত্যু ৭ জন আক্রান্ত ১,১৩৫

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৩৫ জন। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৪ জনে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সর্বোচ্চ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে সিলেট বিভাগে। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে দুজন এবং চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১০৪ জনের হাম সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছিল। বাকি ১ হাজার ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ১১০ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে দেশে সন্দেহভাজন হাম রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭০ জনে। একই সময়ে নতুন করে ২৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্তের সংখ্যা ২৩ হাজার ২৭৩ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ১৫ মার্চ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩৩ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৮ জন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢামেকে নেওয়া হয় দীপু মনিকে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৮ অপরাহ্ণ
স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢামেকে নেওয়া হয় দীপু মনিকে

সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. দীপু মনিকে মেডিকেল পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাকে আবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল তাকে কারাগার থেকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পুলিশি পাহারায় তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনিকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর নাসির উদ্দিন সরকার। তিনি জানান, সাবেক সংসদ সদস্য ডা. দীপু মনিকে প্রাথমিক মেডিকেল পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে আনা হয়েছিল। nতিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর তাকে পুনরায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে দীপু মনিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় মেডিকেল চেকআপ ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তাকে কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তবে কী ধরনের মেডিকেল পরীক্ষা করা হয়েছে কিংবা তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রতিবেদনে জানানো হয়নি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি