রেল সচিবের সরকারি সফর, সঙ্গে স্ত্রী; সফরসূচি ঘিরে নানা প্রশ্ন
সরকারি সফরের সূচি অনুযায়ী পাবনা ও কুষ্টিয়ায় রেলওয়ের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শনে গিয়ে স্ত্রীকে সঙ্গে রাখার ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম। সরকারি সফরের নামে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ভ্রমণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে রেলওয়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে সচিবের দাবি, তিনি সরকারি সফরের অংশ হিসেবেই রেলওয়ের স্থাপনা পরিদর্শন করছেন। সরকারি সফরে সপরিবারে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। যদিও সফরে স্ত্রীকে সঙ্গে নেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেননি সচিব।
২২ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি সফর
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জারি করা সফরসূচি অনুযায়ী, সচিব ফাহিমুল ইসলাম ২২ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলা সফর করছেন। গত ১৭ অক্টোবর সচিবের একান্ত সচিব ও উপসচিব মো. শামীমুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ সফরকে সরকারি সফর হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সফরসূচিতে ঢাকা, পাবনা ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপককে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে সড়কপথে পাকশী রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছান সচিব। পরে পাকশী রেলওয়ের ভিআইপি রেস্টহাউসে অবস্থান ও মধ্যাহ্নভোজ শেষে বিকেলে রেলওয়ের বিভিন্ন স্থাপনা এবং ঐতিহাসিক হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে স্ত্রী ঢাকা মেডিকেল কলেজের গাইনি বিভাগের অধ্যাপক ডা. তাহমিনা হোসেনসহ কয়েকজন ছিলেন।
সফরসূচিতে নাম থাকলেও উপস্থিত ছিলেন না কয়েকজন কর্মকর্তা
পরিদর্শনকালে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আবু হেনা মোস্তফা আলম, বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ নাজিব কায়সার এবং বিভাগীয় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট রেজওয়ান উর রহমানসহ রেলওয়ের কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তবে সফরসূচিতে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক আহম্মদ হোসেন মাসুম, সচিবের একান্ত সচিব মো. শামীমুর রহমান এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকীর উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তাঁদের কাউকে সেখানে দেখা যায়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক আহম্মদ হোসেন মাসুম জানান, সচিব নিজেই নিজের মতো করে সবকিছু ঘুরে দেখতে চেয়েছেন। এ কারণে তাঁরা সফরে যোগ দেননি। সচিবের একান্ত সচিব শামীমুর রহমানও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।
সরকারি পদ ও সম্পদের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন
সরকারি সফরে স্ত্রীকে সঙ্গে রাখার বিষয়টি সামনে আসার পর এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রেলওয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, সরকারি সফরের আড়ালে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে সরকারি পদমর্যাদা ও সম্পদ ব্যবহার করা হলে তা অনিয়ম এবং সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের শামিল হতে পারে। তবে এ ঘটনায় সরকারি অর্থ ব্যয়, সফরসংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘন কিংবা সরকারি সুবিধার অপব্যবহার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা তদন্তের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
সচিবের বক্তব্য কী
অভিযোগের বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম জানিয়েছেন, সরকারি সফরের অংশ হিসেবেই তিনি রেলওয়ের স্থাপনা পরিদর্শনে এসেছেন। সরকারি সফরে স্ত্রীকে সঙ্গে নেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা না দিলেও তাঁর দাবি, এ ধরনের সফরে সপরিবারে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সচিব জানান, আগামী নভেম্বরের শেষ দিকে ঢাকা-পাবনা রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হবে। ট্রেনটির ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
কুষ্টিয়ায় পরিদর্শন শেষে ঢাকায় ফেরার সূচি
ঘোষিত সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে পাকশী রেলওয়ে রেস্টহাউসে অবস্থানের পর শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে কুষ্টিয়া সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা সচিবের। সেদিন বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া কোর্ট রেলওয়ে স্টেশন এলাকা এবং বিকেলে কুষ্টিয়া রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনের সূচি রয়েছে।
কুষ্টিয়া সার্কিট হাউসে রাত যাপনের পর শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে তাঁর ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারি সফরে পরিবারের সদস্যকে সঙ্গে নেওয়ার বিষয়টি ঘিরে তৈরি হওয়া প্রশ্নের জবাবে সচিবের বক্তব্য থাকলেও, সফরের ব্যয় ও সরকারি সুবিধা ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি


আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]