দুর্গাপূজাকে ঘিরে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা, সতর্ক থাকার আহ্বান রিজভীর
আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে অরাজকতা সৃষ্টি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ষড়যন্ত্র হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। এ ধরনের অপতৎপরতা প্রতিহত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার পাশাপাশি পূজামণ্ডপ পাহারায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে শহীদ জেহাদ পরিষদের উদ্যোগে স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের ৩৬তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যে বিশ্বাসী। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এ দেশে মিলেমিশে বসবাস করছেন। বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার ঐতিহ্যও রয়েছে।
তিনি বলেন, এ ঐতিহ্যকে কলঙ্কিত করতে পরাজিত শক্তি ষড়যন্ত্র করতে পারে। তাই দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে অরাজকতা সৃষ্টি কিংবা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা যেন নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হয়, তা নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। কোনো অপশক্তি যাতে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে জন্য পূজামণ্ডপ পাহারায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে রিজভী বলেন, দেশে বারবার গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী শক্তি গণতন্ত্র ধ্বংসের চেষ্টা করেছে। নব্বইয়ের আন্দোলনে পরাজিত শক্তি এবং ২০২৪ সালের পরাজিত শক্তি বিভিন্ন সময়ে একসঙ্গে থেকে গণবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড ও হেলথ কার্ডের মতো বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি বন্ধ কলকারখানা চালু করে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান রিজভী।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, অপরাধীরা এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর সাহস কোথা থেকে পাচ্ছে। এ সময় জনগণের অর্থ লুটপাট ও পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কেউ বিদেশে পালিয়েছেন, আবার কেউ দেশের ভেতরে আত্মগোপনে রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
স্মরণসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, নাজিম উদ্দিন আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি






আপনার মতামত লিখুন
Array