খুঁজুন
                               
, ,
           

ফোনের অ্যাপ আপডেট না করলে যে ৫ সমস্যায় পড়তে পারেন

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৬ অপরাহ্ণ
ফোনের অ্যাপ আপডেট না করলে যে ৫ সমস্যায় পড়তে পারেন

স্মার্টফোনে বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহারের সময় নিয়মিতই আপডেটের নোটিফিকেশন পান ব্যবহারকারীরা। কিন্তু অনেকেই অ্যাপ ঠিকঠাক কাজ করছে—এমন ধারণা থেকে নতুন সংস্করণ ইনস্টল না করে নোটিফিকেশনটি এড়িয়ে যান। আপাতদৃষ্টিতে এতে সমস্যা না হলেও দীর্ঘদিন অ্যাপ আপডেট না করলে নিরাপত্তা, পারফরম্যান্স ও সামঞ্জস্যের ক্ষেত্রে নানা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

নতুন ফিচার যোগ করার পাশাপাশি অ্যাপের নিরাপত্তা ত্রুটি দূর করা, বাগ ঠিক করা, পারফরম্যান্স উন্নত করা এবং নতুন অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএস সংস্করণের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও করা হয় আপডেটের মাধ্যমে।

নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে

নিয়মিত অ্যাপ আপডেট করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো নিরাপত্তা। কোনো অ্যাপের পুরোনো সংস্করণে নিরাপত্তা ত্রুটি থাকলে সাইবার অপরাধীরা সেটিকে কাজে লাগিয়ে ফোন বা অ্যাপের ভেতরে থাকা তথ্যের ক্ষতি করার সুযোগ পেতে পারে।

কোনো নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত হওয়ার পর সেটি সমাধানের জন্য নির্মাতারা সাধারণত নতুন সংস্করণ প্রকাশ করেন। তাই দীর্ঘদিন আপডেট না করলে ত্রুটিটি ঠিক করার পরও ব্যবহারকারীর ফোনে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ সংস্করণ থেকে যেতে পারে।

নতুন ফিচার থেকে বঞ্চিত হবেন

অ্যাপ নির্মাতারা নিয়মিত নতুন সুবিধা যুক্ত করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মিউজিক, পডকাস্ট, কেনাকাটা কিংবা বিভিন্ন সেবার অ্যাপে নতুন ফিচার পেতে হলে অনেক সময় সর্বশেষ সংস্করণ ইনস্টল করা প্রয়োজন হয়।

পুরোনো সংস্করণ ব্যবহার করলে এসব সুবিধা পাওয়া নাও যেতে পারে। ফলে নতুন ফিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কখনো কখনো অ্যাপ ব্যবহারের অভিজ্ঞতাও অন্যদের তুলনায় সীমিত হয়ে পড়ে।

তবে আপডেটের পর অ্যাপের ইন্টারফেসে পরিবর্তন আসতে পারে। এমনকি আগে থাকা কোনো ফিচার পরিবর্তিত বা বাদও যেতে পারে।

বাগ ও ধীরগতি কমাতে

অ্যাপের কারিগরি ত্রুটি বা বাগ সমাধান করাও আপডেটের অন্যতম উদ্দেশ্য। কোনো অ্যাপ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া, ধীরগতিতে কাজ করা কিংবা অস্বাভাবিকভাবে বেশি ব্যাটারি ও ফোনের রিসোর্স ব্যবহার করার মতো সমস্যা দেখা দিলে নতুন সংস্করণে তার সমাধান থাকতে পারে।

এ ছাড়া অ্যাপের কোড ও বিভিন্ন প্রযুক্তিগত অংশ উন্নত করার মাধ্যমে কার্যকারিতা বাড়ানো হয়। ফলে আপডেটের পর অ্যাপ আগের তুলনায় দ্রুত ও স্থিতিশীলভাবে কাজ করতে পারে।

নতুন অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএসের সঙ্গে সামঞ্জস্য

স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেম নিয়মিত পরিবর্তিত হচ্ছে। নতুন অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএস সংস্করণ চালু হলে অ্যাপ নির্মাতাদেরও প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাপের ভেতরে পরিবর্তন আনতে হয়।

অ্যাপ পুরোনো থাকলে নতুন অপারেটিং সিস্টেমের কিছু সুবিধা ঠিকভাবে কাজ নাও করতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অ্যাপ চালু করতে বা নির্দিষ্ট ফিচার ব্যবহার করতেও সমস্যা হতে পারে। এমনকি কিছু অ্যাপ একপর্যায়ে সর্বশেষ সংস্করণ ইনস্টল না করলে ব্যবহার বন্ধ করে দিতে পারে।

স্বয়ংক্রিয় আপডেট চালু করবেন যেভাবে

অ্যাপ আপডেটের ঝামেলা কমাতে অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন—দুই ধরনের ডিভাইসেই স্বয়ংক্রিয় আপডেট চালুর সুযোগ রয়েছে।

অ্যান্ড্রয়েডে: গুগল প্লে স্টোর খুলে প্রোফাইল ছবিতে ট্যাপ করতে হবে। এরপর Settings → Network preferences → Auto-update apps অপশনে গিয়ে স্বয়ংক্রিয় আপডেট চালু করা যায়।

আইফোনে: Settings → Apps → App Store-এ গিয়ে App Updates অপশনটি চালু করতে হবে।

তবে স্বয়ংক্রিয় আপডেট চালু থাকলেও মাঝেমধ্যে প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোরে গিয়ে আপডেট বাকি আছে কি না দেখে নেওয়া ভালো। কারণ সব আপডেট সবসময় একই সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইনস্টল নাও হতে পারে।

সব মিলিয়ে, অ্যাপ আপডেটকে শুধু নতুন ফিচার পাওয়ার বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। স্মার্টফোনের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সর্বোচ্চ কার্যকারিতা নিশ্চিত করতেও নিয়মিত আপডেট করা গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/জেএন

১০ অক্টোবর দিল্লির রাজপথে ‘জেন জ়ি’ ঝড়?

কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩১ অপরাহ্ণ
১০ অক্টোবর দিল্লির রাজপথে ‘জেন জ়ি’ ঝড়?

দিল্লির রাজপথ কি ফের উত্তাল হতে চলেছে? ১০ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কক্রোচ জনতা পার্টির কর্মসূচিকে ঘিরে এখন সেই প্রশ্নই সামনে। দলের দাবি, এটি নিছক কোনও রাজনৈতিক দলের বিক্ষোভ নয়; যুবসমাজ ও জেন জ়ি-র গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার বৃহত্তর প্রতিবাদ। ভোটার তালিকা সংশোধন থেকে ফর্ম ৬—প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার এই বিষয়গুলোকেই নাগরিকের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে পরিণত করে আন্দোলনের পরিধি বাড়াতে চাইছে তারা।

যন্তর মন্তর শুধু জায়গা নয়, প্রতিরোধের প্রতীক
দলের সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাশের বক্তব্যে কর্মসূচির কৌশলও স্পষ্ট। যন্তর মন্তরকে কেন্দ্র করে জমায়েতের পরিকল্পনা থাকলেও পুলিশ বাধা দিলে যে জায়গায় থামানো হবে, সেখানেই বসে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা এসেছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট কোনও স্থান নয়, প্রতিবাদের ধারাবাহিকতাকেই গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। নেতাদের আগাম আটক বা গ্রেফতারের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন সৌরভ। তাঁর বার্তা, প্রশাসনিক পদক্ষেপে আন্দোলন থামবে না। এই অবস্থান থেকেই বোঝা যায়, ১০ অক্টোবরের কর্মসূচিকে নিছক প্রতীকী বিক্ষোভ হিসেবে দেখছে না কক্রোচ জনতা পার্টি। বরং পুলিশি বাধা বা গ্রেফতারকেও আন্দোলনের রাজনৈতিক বয়ানের অংশ করে তোলার প্রস্তুতি রয়েছে।

  • সেনা পরিবারের উঠান থেকে বাম ছাত্ররাজনীতির সামনের সারিতে
  • নির্বাচন কমিশন-বিরোধী আন্দোলনে নতুন মুখ নেহা বোরা

ফর্ম ৬ থেকে ভোটাধিকার—ইস্যুর বিস্তার
আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকা এবং ফর্ম ৬। দলের অভিযোগ, ফর্ম ৬ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া পর্যবেক্ষণের অসঙ্গতি রয়েছে। এই দাবির আইনি ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি বা সংশোধনের প্রক্রিয়া সরাসরি নাগরিকের ভোটাধিকারকে স্পর্শ করে।

আন্দোলনকারীরা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সমালোচনাকে তাই বৃহত্তর গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে নিয়ে যেতে চাইছেন। ১০ অক্টোবরের কর্মসূচির সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে, এই ইস্যু রাজনৈতিক দলের গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ নাগরিকের উদ্বেগে পরিণত হয় কি না তার ওপর।

নিটের মঞ্চ থেকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে
এই আন্দোলনের আবহে নেহা বোরার উপস্থিতি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। নিট নিয়ে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গত জুন-জুলাইয়ে যন্তর মন্তরের আন্দোলনে টানা ২৩ দিনের অনশনে অংশ নিয়ে জাতীয় স্তরে পরিচিতি পান জেএনইউর এই পিএইচডি গবেষক। কয়েক মাসের মধ্যেই ফের রাজপথে তিনি। এবার লক্ষ্য নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ২ ও ৩ অক্টোবর দিল্লির বিক্ষোভে অংশ নিয়ে পুলিশের হাতে আটকও হন নেহা।

একই সঙ্গে থিয়েটারকর্মী ও এআইএসএর সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা এখন ছাত্ররাজনীতির পরিচিত মুখ। রাজনৈতিক বক্তব্যে থিয়েটারের প্রভাবও লক্ষণীয়—আবেগ, গল্প বলার ভঙ্গি এবং মঞ্চসুলভ উপস্থাপনা তাঁকে অন্য অনেক ছাত্রনেতার থেকে আলাদা করেছে।

সেনা পরিবারের উঠান থেকে বাম রাজনীতির ময়দান
নেহার রাজনৈতিক যাত্রার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক তাঁর পারিবারিক পটভূমি। উত্তরাখণ্ডের খতিমায় জন্ম। বাবা ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকায় ছোটবেলা কেটেছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। শিলিগুড়িতে পড়াশোনার সময় শিল্প, বিতর্ক ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। চারু মজুমদার, পাবলো নেরুদা ও অরুন্ধতী রায়ের লেখার সঙ্গে পরিচয় তাঁর চিন্তার জগতে প্রভাব ফেলে। পরে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ছাত্ররাজনীতিতে যোগ দিয়ে বামপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।

১০ অক্টোবর কি নতুন রাজনৈতিক ভাষা তৈরি করবে?
আগামী ১০ অক্টোবরের গুরুত্ব তাই শুধু জমায়েতের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে ক্ষোভকে কতটা বৃহত্তর নাগরিক অসন্তোষে রূপ দেওয়া যায়, সেটিই হবে বড় প্রশ্ন। সেই জায়গায় নেহা বোরার মতো তরুণ মুখের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

রাজনীতিতে প্রজন্ম বদলের লক্ষণ শুধু নতুন সংগঠনের উত্থানে দেখা যায় না; পুরনো প্রশ্নকে নতুন ভাষায় তুলে ধরার মধ্যেও তার প্রকাশ ঘটে। ভোটার তালিকা, অধিকার ও প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন যদি সত্যিই জেন জ়ি-র রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে জায়গা করে নেয়, তবে ১০ অক্টোবরের দিল্লির রাজপথ শুধু আরেকটি বিক্ষোভের সাক্ষী থাকবে না—তা হয়ে উঠতে পারে নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক সক্রিয়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

কালের আলো/জিএম/এমকে

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশে দুটি সেনাক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৫ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশে দুটি সেনাক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ ঠেকাতে দুটি সেনাক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নোয়াখালীপাড়া ও রঙ্গিখালী পাহাড়ি এলাকায় ১০ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের অধীনে এসব ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ি এসব এলাকায় নিয়মিত অপহরণের ঘটনা ঘটে। সেনাক্যাম্প স্থাপন করা হলে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতর ও বাইরে মাদক, অস্ত্র, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত অভিযান চলছে। এসব অভিযানে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) একজন ডিআইজি নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং অন্যান্য বাহিনীও সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক কারবার, অনলাইন জুয়া, মানবপাচার এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর আনাগোনা বড় সমস্যা। পাশাপাশি সাধারণ অপরাধও সংঘটিত হচ্ছে। এসব নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও এপিবিএন নিয়মিত কাজ করছে।

তিনি জানান, সম্প্রতি এপিবিএনের আইনগত কাঠামোয় তদন্তের সুযোগ রাখা হয়েছে। বাহিনীটিতে প্রায় ৪০০ সাব-ইন্সপেক্টর পর্যায়ের কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদের তদন্তের ক্ষমতা দেওয়ায় ক্যাম্পের অপরাধ তদন্তে এপিবিএনের কর্মকর্তারা আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরে নষ্ট হয়ে যাওয়া ফেন্সিং ও কাঁটাতার পুনর্নির্মাণ করা হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে আলোর ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন এবং কন্ট্রোল ও ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

যুদ্ধ বা সীমান্তে জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের অধীনে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) নির্ধারিত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আলাদা উচ্চপর্যায়ের কমিটি দেখছে। আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা এবং জাতিসংঘের নেতৃত্বে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব বলে তারা বিশ্বাস করেন।

তিনি বলেন, সমস্যাটি সমাধানে সরকার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সময় অনেক অতিবাহিত হওয়ায় সংকট আরও জটিল হয়েছে। দ্রুত এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে রোহিঙ্গাদের জন্য পৃথক কারাগার স্থাপনের কোনো প্রস্তাব তার জানা নেই বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ একাডেমি ও কারাগার

বৈঠক শেষে জঙ্গল সলিমপুর নিয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকারি জমি ও পাহাড়কে সুশাসনের আওতায় আনতে সেখানে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে।

জঙ্গল সলিমপুরে সারদার আদলে একটি পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য জমি দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের জন্য ৭২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। বায়েজিদ লিংক রোডের পাশে নতুন কারাগারটি স্থানান্তর করা হবে।

এ ছাড়া অবৈধভাবে বসতি স্থাপনকারীদের পুনর্বাসন এবং এলাকায় থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুর একসময় সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য ছিল। এলাকাটিকে সুশাসন ও শৃঙ্খলার মধ্যে আনা হবে। পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি, র‍্যাব ও এপিবিএনের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জায়গা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করে আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসন নিশ্চিত করবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

বিইউএফটিতে জাতীয় উদ্যোক্তা মেলা, গুরুত্ব এআইনির্ভর ব্যবসায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৯ অপরাহ্ণ
বিইউএফটিতে জাতীয় উদ্যোক্তা মেলা, গুরুত্ব এআইনির্ভর ব্যবসায়

উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ব্যবসায়িক সমাধানকে উৎসাহ দিতে বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজিতে (বিইউএফটি) শুরু হয়েছে ‘বিইউএফটি জাতীয় উদ্যোক্তা মেলা ২০২৬ (৩.০)’।

বুধবার (৭ অক্টোবর) শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এ মেলা আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) শেষ হবে। বিইউএফটি বিজনেস ক্লাবের আয়োজনে এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সহযোগিতায় আয়োজিত মেলায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, উদ্যোক্তা ও শিল্প খাতের পেশাজীবীরা অংশ নিচ্ছেন।

এবারের মেলার প্রতিপাদ্য—‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মকে ক্ষমতায়ন: উদ্যোক্তা, উদ্ভাবন ও টেকসই ডিজিটাল রূপান্তর’। শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হওয়ার প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সহায়তা এবং উদ্ভাবনী ও টেকসই ব্যবসায়িক উদ্যোগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ উদীয়মান প্রযুক্তির ব্যবহার উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

মেলার উদ্বোধনী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বিইউএফটি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মেসবা উদ্দিন আলী, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার আইয়ুব নবী খান, মালয়েশিয়ার স্পেকট্রাম ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়সারুল হক, বিইউএফটির ভারপ্রাপ্ত উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর হোসেন এবং রেজিস্ট্রার মো. রফিকুজ্জামান।

এ ছাড়া ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শেখ আবদুর রহিমসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

মেলায় শিক্ষার্থীদের শিল্প খাতের পেশাজীবীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসায়িক ধারণা নিয়ে কাজ করা, উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবন বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন এবং সম্ভাব্য ব্যবসায়িক উদ্যোগ সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন তারা।

আয়োজনে ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্র ও ব্যবসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, উদ্যোক্তা হওয়ার সক্ষমতা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রস্তুত করে তোলার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

আজ মেলার দ্বিতীয় দিনের বিভিন্ন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। এসব আয়োজনে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, উদ্যোক্তা হওয়ার দক্ষতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায়িক উদ্যোগ গ্রহণে সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি