খুঁজুন
                               
, ,
           

স্টারলিংক নিয়ে মুখোমুখি মাস্ক-ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৬ অপরাহ্ণ
স্টারলিংক নিয়ে মুখোমুখি মাস্ক-ভারত

ভারতের বিশাল বাজারে প্রবেশের অপেক্ষায় ইলন মাস্কের স্টারলিংক। প্রয়োজনীয় লাইসেন্স পাওয়ার পরও দেশটিতে বাণিজ্যিক সেবা চালু করতে পারছে না স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানটি। আর এই বিলম্ব নিয়েই এবার সরাসরি মুখোমুখি হয়েছে স্টারলিংক ও ভারত সরকার।

স্পেসএক্সের কর্ণধার ইলন মাস্ক অভিযোগ করেছেন, ভারতের কিছু ‘অলিগার্ক’ ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী নিজেদের একচেটিয়া ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে স্টারলিংকের প্রবেশ ঠেকিয়ে দিচ্ছে। তবে তার এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে নয়াদিল্লি।

ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দাবি, স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবার জন্য দেশটিতে একটি ন্যায্য ও বৈষম্যহীন নিয়ন্ত্রক কাঠামো রয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে আটকে রাখার সুযোগ নেই; বরং লাইসেন্সপ্রাপ্ত সব কোম্পানিকেই একই ধরনের নিরাপত্তা যাচাই ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করতে হচ্ছে।

মাস্কের অভিযোগ, ‘একচেটিয়া ব্যবসা’ রক্ষায় বাধা

বুধবার (৭ অক্টোবর)  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইলন মাস্ক প্রশ্ন তোলেন, ভারতে স্টারলিংকের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে কারা বাধা দিচ্ছে। তার অভিযোগ, ভারতের কিছু প্রভাবশালী ‘অলিগার্ক’ নিজেদের একচেটিয়া ব্যবসায়িক প্রভাব বজায় রাখার স্বার্থে স্টারলিংকের প্রবেশ আটকে দিচ্ছেন। মাস্কের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ভারতের বাজারে স্টারলিংকের প্রবেশ নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসেছে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে—স্টারলিংককে আলাদাভাবে আটকে রাখা হচ্ছে না।

পাল্টা জবাব দিল ভারত

মাস্কের অভিযোগের পর বৃহস্পতিবার ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানায়, স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবার লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে সব প্রতিষ্ঠানের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য। মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, লাইসেন্স পাওয়ার পর প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকেই নির্ধারিত নিরাপত্তা শর্ত পূরণ করতে হয়। বর্তমানে লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা মূল্যায়ন চলছে। অর্থাৎ, ভারতের দাবি—স্টারলিংকের জন্য আলাদা কোনো বাধা তৈরি করা হয়নি; বরং দেশটির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মধ্য দিয়েই এগোতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে।

তিন প্রতিষ্ঠান পেয়েছে লাইসেন্স

ভারতে স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবা চালুর দৌড়ে বর্তমানে তিনটি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইলন মাস্কের স্টারলিংক, ভারতী গ্রুপ-সমর্থিত ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব এবং জিও প্ল্যাটফর্মসের মালিকানাধীন জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস। এ ছাড়া জেফ বেজোসের অ্যামাজন লিও-ও লাইসেন্সের অপেক্ষায় রয়েছে। ভারতীয় মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, লাইসেন্স পাওয়া তিন প্রতিষ্ঠানই বর্তমানে প্রায় একই নিয়ন্ত্রক পর্যায়ে রয়েছে। নিরাপত্তা যাচাই শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো স্পেকট্রাম বরাদ্দের জন্য পরবর্তী ধাপে যেতে পারবে।

এক বছরের বেশি সময় ধরে অপেক্ষায় স্টারলিংক

স্টারলিংক ভারতে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স পেয়েছে এক বছরেরও বেশি সময় আগে। কিন্তু এখনো দেশটিতে বাণিজ্যিক পরিষেবা চালুর চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ভারতে সেবা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর বড় অংশ ইতোমধ্যে প্রস্তুত।

ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেস ২০২৬-এ স্পেসএক্সের স্টারলিংক বিজনেস অপারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রেয়ার জানান, ভারতে ইতোমধ্যে ২০টি গেটওয়ে সাইট স্থাপন করা হয়েছে। এসব সাইটে রয়েছে শত শত অ্যান্টেনা। শুধু অবকাঠামো নয়, ভারতীয় নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করতে ব্যবহারকারীদের তথ্য দেশটির ভেতরেই সংরক্ষণের ব্যবস্থাও করেছে স্টারলিংক।

তাহলে আটকে আছে কোথায়?

স্টারলিংকের বাণিজ্যিক যাত্রা শুরুর পথে এখন মূল বাধা হিসেবে সামনে এসেছে নিরাপত্তা যাচাই ও স্পেকট্রাম বরাদ্দের প্রক্রিয়া। ভারত বলছে, প্রক্রিয়াটি সব লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই সমান। আর মাস্কের অভিযোগ—প্রভাবশালী ব্যবসায়িক স্বার্থ স্টারলিংকের প্রবেশে বাধা তৈরি করছে। এই দুই বিপরীত বক্তব্যের মধ্যেই ভারতের প্রায় দেড়শ কোটি মানুষের বিশাল বাজারে স্টারলিংকের প্রবেশ এখনো অনিশ্চিত।

সামনে বড় বাজার, তাই লড়াইটাও বড়

স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের বৈশ্বিক বাজারে ভারতকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে দেখা হয়। দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে স্টারলিংকের মতো স্যাটেলাইটভিত্তিক সেবার বড় সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভারতের নিরাপত্তা, তথ্য সংরক্ষণ ও স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা নিয়ে কঠোর অবস্থান স্টারলিংকের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে প্রশ্ন এখন একটাই—মাস্কের অভিযোগের পর কি দ্রুত মিলবে স্টারলিংকের চূড়ান্ত অনুমোদন, নাকি ভারতের কঠোর নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ায় আরও দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হবে বিশ্বের অন্যতম আলোচিত স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানটিকে?

কালের আলো/জেএন

তাহসিফের মৃত্যু তদন্তে মিলল মোটরসাইকেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৮ অপরাহ্ণ
তাহসিফের মৃত্যু তদন্তে মিলল মোটরসাইকেল

তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরীর ভাসমান মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেলটি তাহসিফের বলে ধারণা করা হলেও বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান মোস্তফা কামাল এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটি মোটরসাইকেল পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি তাহসিফের মোটরসাইকেল। তবে মোটরসাইকেলটির মালিকানা নিশ্চিত করতে যাচাই-বাছাই চলছে।

মাজার বস্তি এলাকায় পাওয়া যায় মোটরসাইকেল
পিবিআইয়ের পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে মাজার বস্তি এলাকায় মোটরসাইকেলটি পাওয়া গেছে। এটি তাহসিফের কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

মামলার তদন্ত করছে নৌ পুলিশ, ছায়া তদন্তে পিবিআই
শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে পাঠানো ওই বার্তায় পিবিআই জানায়, বিমানবাহিনীর সাবেক এই কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলাটি তদন্ত করছে নৌ পুলিশ। তবে ঘটনাটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করেছে এবং নৌ পুলিশকে সহযোগিতা করছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, তদন্তে পাওয়া তথ্য ও উপাত্ত নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। নৌ পুলিশকে সহযোগিতার জন্য পুলিশের অন্যান্য ইউনিটের মতো পিবিআইও কাজ করছে। তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি জানতে তদন্ত চলছে। মোটরসাইকেলটি তাঁর কি না, সেটি নিশ্চিত হওয়া গেলে তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত কিছু জানানো হয়নি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

১৬ বছর পর ফিরছে জামালগঞ্জ স্টেশনের যাত্রীসেবা

জয়পুরহাট সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৪ অপরাহ্ণ
১৬ বছর পর ফিরছে জামালগঞ্জ স্টেশনের যাত্রীসেবা

দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার জামালগঞ্জ রেলস্টেশনের যাত্রীসেবা। এই পথে নিয়মিত ট্রেন চলাচল করলেও স্টেশনটিতে স্বাভাবিক কার্যক্রম না থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনে ওঠানামা করতে হয়। দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি কমাতে অবশেষে স্টেশনটি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। রেলওয়ের পাকশী বিভাগের উদ্যোগে স্টেশনটির কার্যক্রম পুনরায় চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে স্টেশনের কার্যক্রম, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ফলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় যাত্রীরা।

জনবল সংকটে ১৬ বছর ধরে বন্ধ
রেলওয়ের পাকশী বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, স্টেশনমাস্টার ও পয়েন্টসম্যানের অভাবে ২০১০ সালের ২৫ নভেম্বর থেকে জামালগঞ্জ রেলস্টেশনের অপারেটিং কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। গত ২৬ অক্টোবর জারি করা এক চিঠিতে স্টেশনটির কার্যক্রম চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগগুলোকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠিতে স্টেশনমাস্টার ও পয়েন্টসম্যান পদায়নের প্রক্রিয়া চলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাকশী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের সই করা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় স্টেশনের অবকাঠামো, সিগন্যালিং ব্যবস্থা ও পরিচালন সরঞ্জাম সচল করা প্রয়োজন। একই চিঠিতে পাকশী বিভাগের ৫৬টি স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ থাকার তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে।

ট্রেন থামে, তবু যাত্রীদের দুর্ভোগ
স্টেশনটির কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও এই রেলপথে ট্রেন চলাচল অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু যাত্রী ওঠানামার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, গত তিন থেকে চার বছর ধরে স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেন থামানো হয় না। এর পরিবর্তে প্ল্যাটফর্মবিহীন ২ নম্বর লাইনে ট্রেন থামানো হচ্ছে। ফলে যাত্রীদের উঁচু-নিচু পথ পেরিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনে উঠতে ও নামতে হয়। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা। কখনো কখনো নির্ধারিত স্টেশনে নামতে না পেরে পরের স্টেশনে গিয়ে নামতে হয় যাত্রীদের। এতে তাঁদের সময় ও অর্থ—দুটিই অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে।

পর্যটকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন
স্থানীয়দের মতে, জামালগঞ্জ রেলস্টেশন শুধু আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, পর্যটকদের জন্যও এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের কাছাকাছি হওয়ায় পর্যটকদের যাতায়াতেও স্টেশনটি সুবিধা দিতে পারে। তাই স্টেশনটি চালু হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকদেরও যাতায়াত সহজ হবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

জনবল সংকটে বাড়ছে রেলকর্মীদের চাপ
স্টেশন বন্ধ থাকার কারণে শুধু যাত্রীরাই নন, রেলওয়ের কর্মীরাও নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় কর্মরত রেলকর্মীদের ওপর বাড়তি দায়িত্বের চাপ তৈরি হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলওয়ের এক স্টেশনমাস্টার জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কাজও সামলাতে হয় তাঁকে। তাঁর মতে, বন্ধ স্টেশনগুলো চালুর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা জরুরি। এতে যাত্রীসেবা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি কর্মরত কর্মীদের অতিরিক্ত কাজের চাপও কমবে।

সিগন্যাল ও অবকাঠামো সচলের নির্দেশনা
রেলওয়ের চিঠিতে জামালগঞ্জ স্টেশনের লুপ লাইন ফিটকরণ, সিগন্যালিং সরঞ্জাম কার্যকর করা এবং বৈদ্যুতিক ফিটিংস সচল করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ জন্য পাকশী বিভাগের বিভাগীয় প্রকৌশলী-২, বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী এবং বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি স্টেশনমাস্টার ও পয়েন্টসম্যান পদায়নের প্রক্রিয়াও চলছে।

জামালগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার মো. হাসিবুল হাসান জানান, স্টেশনটি চালুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চিঠি তিনি দেখেছেন। এতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। দীর্ঘ ১৬ বছর পর জামালগঞ্জ রেলস্টেশন চালুর উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তবে কেবল নির্দেশনা বা প্রস্তুতি নয়, দ্রুত প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে স্টেশনটিতে নিয়মিত যাত্রীসেবা চালু হোক—এটাই এখন তাঁদের প্রত্যাশা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

দক্ষ চালক তৈরিতে জোর, নিরাপদ সড়কের পথে বিআরটিসির বড় কর্মসূচি

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৭ অপরাহ্ণ
দক্ষ চালক তৈরিতে জোর, নিরাপদ সড়কের পথে বিআরটিসির বড় কর্মসূচি

দেশে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো, পেশাদার চালকের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের সম্ভাবনা বাড়ানোর লক্ষ্যে বড় পরিসরে চালক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে পরিচালিত দুটি কর্মসূচির আওতায় মোট ৬৮ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নতুন চালক তৈরি করার পাশাপাশি পেশায় নিয়োজিত চালকদের দক্ষতা হালনাগাদ করার উদ্যোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ উদ্যোগ শুধু চালক তৈরির একটি কর্মসূচি নয়; বরং সড়ক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বিদেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

  • দুই প্রকল্পে ৬৮ হাজার চালককে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা
  • কর্মরত চালকদের জন্য থাকছে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ
  • আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ চালকের চাহিদা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা

দুই প্রকল্পে প্রশিক্ষণ পাবেন ৬৮ হাজার চালক
বিআরটিসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রজেক্টের (বিআরএসপি) আওতায় ৬০ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৪০ হাজার তরুণকে নতুন করে পেশাদার চালক হিসেবে গড়ে তোলা হবে। অন্যদিকে, পেশায় আগে থেকেই যুক্ত ২০ হাজার চালককে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ দেওয়া হবে।

২০২৬ সালের মে মাসে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম চলবে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত। বিআরটিসির চারটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং ২৩টি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বিআরটিসির প্রাক্কলন ও কাজের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ (আইসিডব্লিউএস) বিভাগের মহাব্যবস্থাপক ফাতেমা বেগমের মতে, এই উদ্যোগ দক্ষ চালক তৈরির পাশাপাশি দেশের সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে।

অন্যদিকে, এডিবির অর্থায়নে স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রামের (এসআইসিআইপি) আওতায় আরও আট হাজার নতুন চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। ফলে দুটি কর্মসূচি মিলিয়ে মোট প্রশিক্ষণ লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়াচ্ছে ৬৮ হাজারে।

দক্ষতার পাশাপাশি নিরাপদ চালনার ওপর জোর
চালক প্রশিক্ষণের প্রচলিত ধারণা সাধারণত গাড়ি চালানো শেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিআরটিসির এই কর্মসূচিগুলোতে চালনার কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি নিরাপদ ড্রাইভিং, যানবাহনের প্রাথমিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং যান্ত্রিক ত্রুটি শনাক্ত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ করে কর্মরত পেশাদার চালকদের জন্য রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে গাড়ি চালালেই একজন চালকের সব দক্ষতা হালনাগাদ থাকে, এমন নয়। ট্রাফিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তাবিধি, যানবাহনের প্রযুক্তি এবং সড়কে ঝুঁকি মোকাবিলার কৌশল সম্পর্কে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

বিআরএসপি প্রকল্পে নতুন চালক তৈরির পাশাপাশি অভিজ্ঞ চালকদের প্রশিক্ষণের অন্তর্ভুক্তি তাই তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন চালকদের দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি বর্তমানে সড়কে চলাচলকারী চালকদের আচরণ ও সক্ষমতার উন্নয়নও জরুরি।

মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে সুযোগ তৈরির লক্ষ্য
এডিবির অর্থায়নে পরিচালিত এসআইসিআইপি কর্মসূচিতে বিদেশে কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে চালক হিসেবে কাজের সুযোগ বাড়াতে প্রশিক্ষণার্থীদের ইংরেজি ও আরবি ভাষায় যোগাযোগের দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচিতে প্রশিক্ষণের মেয়াদ ৩৬০ ঘণ্টা। এতে আত্মরক্ষামূলক ড্রাইভিং, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, যান্ত্রিক ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং পেশাদার চালক হিসেবে প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক দক্ষতা শেখানো হয়।

বিআরটিসির তথ্য অনুযায়ী, এসআইসিআইপি কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হয় ২০২৪ সালের ১ জুলাই। প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ শুরু হয় ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি। ইতোমধ্যে চারটি ধাপে ২ হাজার ৮৫০ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। পঞ্চম ধাপে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন আরও ৬৫০ জন।

প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করা ব্যক্তিদের সরকার স্বীকৃত সনদ এবং বিনা মূল্যে পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত উপস্থিতির ভিত্তিতে প্রশিক্ষণার্থীরা যাতায়াত ও টিফিন ভাতাও পাচ্ছেন।

ভাষাগত দক্ষতা যুক্ত করার বিষয়টি এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে চালকের কাজ পেতে শুধু গাড়ি চালাতে জানাই যথেষ্ট নয়; নিয়োগকর্তার নির্দেশনা বোঝা, ট্রাফিক আইন অনুসরণ, যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও প্রয়োজন।

নারী চালক তৈরিতে নতুন সম্ভাবনা
বিআরটিসির চালক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি নারী যাত্রীদের হয়রানি প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির জন্য রাখা হয়েছে জেন্ডার অ্যাকশন প্ল্যান।

নারীদের ড্রাইভিং পেশায় উৎসাহিত করা এবং ‘পিঙ্ক বাস’ সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যেও দক্ষ নারী চালক তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে নারী প্রশিক্ষণার্থীদের আগ্রহ তুলনামূলক কম থাকলেও বর্তমানে এই পেশায় আসার প্রবণতা বাড়ছে।

গণপরিবহনে নারী চালকের অংশগ্রহণ বাড়লে নারীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে নারী যাত্রীদের জন্য পরিবহনসেবায় অংশগ্রহণ ও স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এসব লক্ষ্য অর্জনে প্রশিক্ষণের সুযোগের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, বৈষম্যহীন পরিবেশ, উপযুক্ত কর্মঘণ্টা এবং নিয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আগের অভিজ্ঞতা এবার কতটা কাজে লাগবে?
চালক প্রশিক্ষণে বিআরটিসির পূর্ব অভিজ্ঞতাও রয়েছে। সংস্থাটি এর আগে স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামের (এসইআইপি) আওতায় অন্তত ৪৭ হাজার ৫০০ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান বিআরএসপি প্রকল্পে প্রথম দফায় প্রায় ৬ হাজার ৪০০ জন নতুন চালকের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় প্রায় ৬ হাজার ৬০০ জনের প্রশিক্ষণ চলছে। কর্মরত পেশাদার চালকদের রিফ্রেশার প্রশিক্ষণও শিগগিরই শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রশিক্ষণের পর ফল নিশ্চিত চ্যালেঞ্জ
৬৮ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ দেশের পরিবহন খাত ও শ্রমবাজারের জন্য সম্ভাবনাময়। কিন্তু বিপুলসংখ্যক প্রশিক্ষণার্থীকে স্বল্প সময়ে প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে মানের ক্ষেত্রে আপস করা হলে প্রত্যাশিত সুফল ব্যাহত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাওয়া দরকার।

প্রথমত, প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামো, প্রশিক্ষক, যানবাহন এবং ব্যবহারিক অনুশীলনের মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, লাইসেন্স দেওয়ার আগে চালকের বাস্তব দক্ষতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি। তৃতীয়ত, প্রশিক্ষণ শেষে দেশীয় পরিবহন প্রতিষ্ঠান ও বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। চতুর্থত, প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতার অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করা দরকার। পাশাপাশি নারী প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা এবং পেশাগত বাধা দূর করার উদ্যোগ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। বিআরটিসির কর্মকর্তারা আগ্রহী চালকদের নিকটস্থ প্রশিক্ষণকেন্দ্রে যোগাযোগ করে নিবন্ধনের তথ্য জানার পরামর্শ দিয়েছেন।

কালের আলো/ওয়াইএ/এমকে