খুঁজুন
                               
, ,
           

সংস্কৃতি ও মতাদর্শে দলীয় কর্তৃত্ব জোরদার করছে চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৮ অপরাহ্ণ
সংস্কৃতি ও মতাদর্শে দলীয় কর্তৃত্ব জোরদার করছে চীন

সংস্কৃতি, গণমাধ্যম, সাহিত্য, শিল্পকলা, ধর্ম ও ইন্টারনেটের ওপর কমিউনিস্ট পার্টির কর্তৃত্ব আরও সুসংহত করতে উদ্যোগী হয়েছে চীন। দেশটির প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সাংস্কৃতিক চিন্তাধারাকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ও মতাদর্শিক নিয়ন্ত্রণকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা জোরদার হচ্ছে। চীনের সরকারি ভাষ্যে এর লক্ষ্য জাতীয় ঐক্য, সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। তবে সমালোচকদের দৃষ্টিতে, এ ধরনের নীতির ফলে স্বাধীন চিন্তা ও সৃজনশীলতার পরিসর সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

গত ১২ অক্টোবর চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম *পিপলস ডেইলি*তে প্রকাশিত একটি তাত্ত্বিক নিবন্ধে শি চিনপিংয়ের সাংস্কৃতিক চিন্তাধারাকে দলীয় নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করার পূর্ণাঙ্গ কাঠামো হিসেবে তুলে ধরা হয়। পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্ক্সবাদ স্কুলের অধ্যাপক সান লাইবিনের লেখা নিবন্ধে সম্প্রতি প্রকাশিত *শি চিনপিং কালচারাল অ্যান্থলজি*র প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ডের বিষয়বস্তু আলোচনা করা হয়েছে। নিবন্ধে সংকলনটিকে কেবল তাত্ত্বিক বক্তব্যের সমষ্টি হিসেবে নয়, বরং প্রচার, মতাদর্শ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্ব কার্যকর করার নির্দেশিকা হিসেবেও উপস্থাপন করা হয়েছে।

সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রে দলীয় নেতৃত্ব
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কাছে মতাদর্শিক নিয়ন্ত্রণ নতুন কোনো ধারণা নয়। লেনিনবাদী রাজনৈতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দলটি দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্র পরিচালনা ও রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে মতাদর্শকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে আসছে। তবে শি চিনপিংয়ের নেতৃত্বে এই ধারণাকে আরও বিস্তৃত ও সুসংহত কাঠামোয় রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে। সান লাইবিনের নিবন্ধে দলীয় নেতৃত্বকে ‘সামগ্রিক ও সর্বব্যাপী’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এ ধারণার আওতায় কেবল সংবাদমাধ্যম বা রাজনৈতিক প্রচার নয়, সাহিত্য, শিল্পকলা, ধর্মীয় কর্মকাণ্ড এবং ইন্টারনেটের মতো ক্ষেত্রও অন্তর্ভুক্ত।

নিবন্ধে মার্ক্সবাদী তত্ত্বের আলোকে সমাজের প্রভাবশালী চিন্তা ও বস্তুগত সম্পর্কের মধ্যে যোগসূত্র তুলে ধরা হয়েছে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির এই ব্যাখ্যায় অর্থনীতি ও রাষ্ট্রের ওপর রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি জনমত ও মানুষের চিন্তাজগতের ওপরও নেতৃত্ব বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। এর অর্থ, সাংস্কৃতিক নীতির লক্ষ্য শুধু সরকারি বক্তব্য প্রচারেই সীমাবদ্ধ নয়। কোন ধারণা গ্রহণযোগ্য হবে, জাতীয় পরিচয় কীভাবে সংজ্ঞায়িত হবে এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কোন রাজনৈতিক লক্ষ্যকে সমর্থন করবে—এসব ক্ষেত্রেও পার্টির কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

গণমাধ্যম ও ইন্টারনেটে নিয়ন্ত্রণের দর্শন
শি চিনপিংয়ের সাংস্কৃতিক নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ গণমাধ্যম ও ডিজিটাল পরিসর। সান লাইবিনের নিবন্ধে ‘সঠিক জনমত পরিচালনা’কে পার্টি ও জনগণের স্বার্থের সহায়ক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিপরীতে, ভুল জনমত পরিচালনাকে উভয়ের জন্য ক্ষতিকর বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

ইন্টারনেটের ক্ষেত্রেও সেটিকে ‘সঠিকভাবে পরিচালনা ও ব্যবহার’ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তথ্যপ্রবাহ ও জনমত গঠনের প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব বজায় রাখার দর্শন প্রতিফলিত হয়েছে। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে তথ্য নিয়ন্ত্রণকে কেবল কোনো সংকট বা বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবিলার ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে না; বরং রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

নিবন্ধে পার্টির শৃঙ্খলা ও জনগণের অংশগ্রহণের মধ্যে সামঞ্জস্যের কথাও বলা হয়েছে। সেখানে পার্টির বৈশিষ্ট্য ও জনগণের বৈশিষ্ট্যকে অভিন্ন এবং পরস্পরবিরোধী নয় বলে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দলীয় রাজনৈতিক লক্ষ্য ও জনগণের স্বার্থ একই জায়গায় মিলিত হয়—এমন ধারণা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা দেখা যায়। তবে বাস্তবে নাগরিকদের দাবি, সাংস্কৃতিক পছন্দ কিংবা রাজনৈতিক মতামত সব সময় সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে এক নাও হতে পারে। ফলে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের সীমা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার অবকাশ রয়েছে।

জাতীয় নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাসের যুক্তি
চীনের সাংস্কৃতিক নীতির পেছনে জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিবেচনাও রয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন, বিদেশি সমালোচনা এবং ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে বেইজিং অভ্যন্তরীণ জনমত ও জাতীয় বয়ানের ওপর নিয়ন্ত্রণকে দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষার অংশ হিসেবে দেখছে।

সরকারি দৃষ্টিভঙ্গিতে সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস, জাতীয় সংহতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই কাঠামোয় সংস্কৃতিকে জাতীয় পরিচয় শক্তিশালী করা এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও পুনর্জাগরণের লক্ষ্য এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক আনুগত্যকে সাংস্কৃতিক ঐক্যের সঙ্গে যুক্ত করা হলে মতাদর্শিক ভিন্নমতকে সামাজিক সংহতির জন্য হুমকি হিসেবে দেখার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। এর ফলে স্বাধীন মতপ্রকাশ ও বিকল্প চিন্তার জায়গা সীমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সৃজনশীলতা ও স্বাধীন চিন্তা নিয়ে প্রশ্ন
চীনের এই সাংস্কৃতিক কাঠামোর সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন রয়েছে—জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার প্রয়াস কীভাবে স্বাধীন চিন্তা ও সৃজনশীলতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকবে? একদিকে উদ্ভাবন, সাংস্কৃতিক বিকাশ ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করার কথা বলা হচ্ছে। অন্যদিকে, এসব কর্মকাণ্ডের জন্য রাজনৈতিকভাবে নির্ধারিত সীমারেখা থাকলে সৃজনশীলতার স্বাধীনতা কতটা বজায় থাকবে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

সমালোচনা ও বিতর্কের সুযোগ থাকলেও কোন বক্তব্য গ্রহণযোগ্য এবং কোনটি মতাদর্শিক বিচ্যুতি হিসেবে বিবেচিত হবে, তা নির্ধারণের কর্তৃত্ব যদি মূলত পার্টির হাতে থাকে, তাহলে স্বাধীন বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার ক্ষেত্র সীমিত হতে পারে। বিশেষ করে সাহিত্য, শিল্পকলা ও ডিজিটাল মাধ্যমে নতুন ধারণা প্রকাশের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা সৃজনশীল পরীক্ষানিরীক্ষার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এ নীতির দীর্ঘমেয়াদি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রভাব কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ভর করবে বাস্তব প্রয়োগ এবং ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগের ওপর।

দীর্ঘমেয়াদি শাসনব্যবস্থার অংশ সাংস্কৃতিক নীতি
সান লাইবিনের নিবন্ধে আলোচিত *শি চিনপিং কালচারাল অ্যান্থলজি*তে ৭৮টি লেখা রয়েছে। নিবন্ধে এসব লেখাকে শি চিনপিংয়ের তাত্ত্বিক কর্তৃত্ব এবং চীনের ‘সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাসের’ প্রতিফলন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, সংকলনটি শি চিনপিংয়ের সাংস্কৃতিক বক্তব্যের সংকলনের পাশাপাশি মতাদর্শিক নেতৃত্বকে দীর্ঘমেয়াদি শাসনব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়। বেইজিংয়ের দৃষ্টিতে সাংস্কৃতিক ঐক্য জাতীয় শক্তির উৎস। তবে দলীয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে গড়ে তোলা ঐক্য স্বাধীন চিন্তা ও সৃজনশীলতার বিকাশে কতটা সহায়ক হবে, তা নিয়ে বিতর্ক থেকেই যাচ্ছে।

সূত্র: ডেইলি মিরর, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

মানবতাবিরোধী অপরাধে হানিফের সর্বোচ্চ সাজা

আদালত প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৪ অপরাহ্ণ
মানবতাবিরোধী অপরাধে হানিফের সর্বোচ্চ সাজা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় অপর তিন আসামি কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী এবং কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। মামলার চার আসামিই পলাতক।

এক অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড, অন্য অভিযোগে কারাদণ্ড
রায়ে মাহবুব উল আলম হানিফকে একটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং দুটি অভিযোগে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর তিন আসামি সদর উদ্দিন খান, আসগর আলী ও আতাউর রহমান আতাকে একটি অভিযোগে আমৃত্যু সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুটি অভিযোগে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া আরেকটি অভিযোগে চার আসামিকেই যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামির স্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

ছয়জনকে হত্যাসহ তিন অভিযোগ
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়া শহরে ছয়জনকে হত্যাসহ মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয় চার আসামির বিরুদ্ধে। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়া এবং হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল তাঁদের বিরুদ্ধে।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৫, ১৭ ও ৩০ জুলাই এবং ৩ আগস্ট আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন হানিফ। এসব বৈঠক ও সভায় দেওয়া বক্তব্যকে সমর্থন করার অভিযোগ আনা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ২৯ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবে একটি আলোচনা সভায় আন্দোলনকারীদের ‘জামায়াত’, ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘সাম্প্রদায়িক’ আখ্যা দিয়ে আন্দোলন দমনে হত্যা ও নির্যাতনে উসকানি, প্ররোচনা এবং সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও ছিল।

প্রসিকিউশনের অভিযোগে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন তৎকালীন সরকারের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার উদ্দেশ্যে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনাকে সমর্থন করেছিলেন হানিফ। ড্রোনের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের শনাক্ত করা এবং হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে আন্দোলন দমনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তেও তাঁর সমর্থন ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশজুড়ে আন্দোলনকারীদের হত্যা ও গুরুতর আহত করার ঘটনায় উসকানি ও সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন।

কুষ্টিয়ায় আন্দোলন দমনে বল প্রয়োগের নির্দেশের অভিযোগ
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হানিফের নেতৃত্বে সদর উদ্দিন খান, আসগর আলী ও আতাউর রহমান আতাসহ অন্য নেতারা বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে নিরীহ ও নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে কুষ্টিয়া শহরে আন্দোলন দমনে সর্বোচ্চ বল প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, ওই বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ওপর বল প্রয়োগ, গুলি চালানো, হত্যা ও নির্যাতনে উসকানি এবং সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। এ অভিযোগে হানিফের পাশাপাশি সদর উদ্দিন খান, আসগর আলী ও আতাউর রহমান আতাকেও আসামি করা হয়।

৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ
মামলার তৃতীয় অভিযোগটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে ছয়জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনা নিয়ে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন ও উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত এসব ঘটনার দায় নির্ধারণে প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম এবং প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

৫ আগস্টের ভিডিওর সঙ্গে তাহসিফের মৃত্যুর যোগসূত্র নিয়ে জল্পনা

আদালত প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৬ অপরাহ্ণ
৫ আগস্টের ভিডিওর সঙ্গে তাহসিফের মৃত্যুর যোগসূত্র নিয়ে জল্পনা

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মরদেহ রাজধানীর তুরাগ নদ থেকে উদ্ধারের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তাঁর নিখোঁজ হওয়া, মরদেহ উদ্ধারের পরিস্থিতি এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময় গণভবনের পেছন থেকে ধারণ করা আলোচিত একটি ভিডিও প্রকাশের সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের একাংশ।

তবে ৫ আগস্টের ওই ভিডিওর সঙ্গে তাহসিফের মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণও এখনো জানা যায়নি। এ অবস্থায় ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন পরিচিতজন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানানো ব্যক্তিরা।

৫ আগস্টের ভিডিও ঘিরে রাজনৈতিক সন্দেহ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন ব্যবহারকারী দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময় ধারণ করা ভিডিওটি প্রকাশ বা ভাইরাল হওয়ার পেছনে তাহসিফ সৌরির ভূমিকা ছিল। তাঁর সাবেক সহপাঠী ও পরিচিতদের কেউ কেউ ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এ বিষয়ে নিজেদের ধারণা তুলে ধরেছেন। তাঁদের একাংশের আশঙ্কা, মৃত্যুর পেছনে দুর্ঘটনা বা ব্যক্তিগত বিরোধের বাইরে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। তবে এসব বক্তব্য মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ব্যক্তিগত মতামত ও সন্দেহ। এগুলোর পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

তাহসিফের এক সাবেক সহপাঠী কেএসএম ইনতিসার ইনজিমাম ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, ৫ আগস্টের আলোচিত ভিডিও ভাইরাল হওয়ার সঙ্গে তাহসিফের সম্পৃক্ততা ছিল। তিনি জানান, আদমজী কলেজে তাঁরা একসঙ্গে পড়াশোনা করেছেন এবং পরে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে ৭৯ বিএমএ ইক্যুইভ্যালেন্ট কোর্সমেট হিসেবে জয়েন্ট সার্ভিস কোর্স করেছেন। নিজের পোস্টে ইনজিমাম তাহসিফের মৃত্যুকে ঘিরে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, মৃত্যুর পেছনে দুর্ঘটনা বা ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত না হলে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা উচিত। তবে এটি তাঁর ব্যক্তিগত ধারণা, তদন্তে প্রতিষ্ঠিত কোনো তথ্য নয়।

মৃত্যুর সঙ্গে ভিডিওর যোগসূত্র এখনো অপ্রমাণিত
ইনজিমাম তাঁর পোস্টে আরও দাবি করেন, আলোচিত ভিডিও প্রকাশের পর তাহসিফকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হয়েছিল। তাঁর জানা মতে, এসব ঘটনার পরও তাহসিফের বিরুদ্ধে কোনো পুলিশি মামলা করা হয়নি। তিনি নিজের বক্তব্যে তাহসিফের আগের কর্মজীবন ও পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগের কথাও উল্লেখ করেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন সন্দেহ প্রকাশের পাশাপাশি কেউ কেউ সতর্ক করেছেন, প্রমাণ ছাড়া তাহসিফের মৃত্যুর সঙ্গে ৫ আগস্টের ভিডিওর সরাসরি যোগসূত্র টানা উচিত নয়। মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে অনুমাননির্ভর বক্তব্যের পরিবর্তে তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।

সিসিটিভি ও ফোনের তথ্য সংরক্ষণের দাবি
তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক তানভীর হাসান জোহাসহ অনেকে। তাঁরা মনে করেন, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও আলামত দ্রুত সংরক্ষণ করা জরুরি। তানভীর হাসান জোহা নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে বলেন, তাহসিফের নিখোঁজ হওয়া ও মরদেহ উদ্ধারের খবরের আনুষ্ঠানিক সত্যতা এবং বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত জানানো প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ঘটনা সত্য হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করতে হবে। এ জন্য ময়নাতদন্তের পাশাপাশি তাহসিফের শেষ চলাচলের সিসিটিভি ফুটেজ, ফোনের তথ্য এবং সম্ভাব্য হুমকি-সংক্রান্ত আলামত সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তাঁর মতে, আলোচিত ভিডিও প্রকাশের সঙ্গে তাহসিফের সম্পর্কের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠেছে, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে। তবে প্রমাণ পাওয়ার আগে ওই ঘটনার সঙ্গে মৃত্যুর যোগসূত্র ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। তানভীর হাসান জোহা আরও উল্লেখ করেন, কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় বা তাঁকে নিয়ে অন্যদের মূল্যায়ন যা-ই হোক, তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা জানার অধিকার পরিবারের রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতিও জনসমক্ষে জানানোর দাবি জানান তিনি।

চাকরিচ্যুতির তথ্য সামনে আনলেন সাংবাদিক
অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের তাঁর ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে বিমান বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত হওয়া চার কর্মকর্তার মধ্যে তাহসিফ সৌরিও ছিলেন। তাঁর পোস্টে তাহসিফের মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পানিতে ডুবে মৃত্যুর সম্ভাবনা বিবেচনায় নেওয়া হয়ে থাকলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্ট আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে চাকরিচ্যুতির ঘটনা এবং তাহসিফের মৃত্যুর মধ্যে কোনো সম্পর্ক রয়েছে—এমন তথ্য এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

২৭ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ, পরদিন উদ্ধার মরদেহ
পুলিশ ও নৌ পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তাহসিফ গত ২৭ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ি ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নৌ পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়। মরদেহ উদ্ধারের সময় তাঁর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা না গেলেও পকেটে থাকা আইফোনের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হয় বলে আগের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাহসিফ কীভাবে নিখোঁজ হয়েছিলেন, কী পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে এবং এর পেছনে কোনো অপরাধমূলক ঘটনা রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের ফলাফল ও তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতেই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।

তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা
তাহসিফের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দাবি, সন্দেহ ও মতামত প্রকাশিত হচ্ছে। তবে এসব আলোচনার কোনোটিকেই এখন পর্যন্ত মৃত্যুর কারণের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, সম্ভাব্য সিসিটিভি ফুটেজ, ফোনের তথ্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আলামত যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ এবং আলোচিত ভিডিওর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক থাকলে তার সত্যতা নির্ধারিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

সবজি পর্যাপ্ত, তবু বেগুনের কেজি ১২০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
সবজি পর্যাপ্ত, তবু বেগুনের কেজি ১২০ টাকা

শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে, সরবরাহেও বড় কোনো ঘাটতি চোখে পড়ছে না। তারপরও রাজধানীর বাজারগুলোতে সবজির দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে। অধিকাংশ সবজি কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ও টমেটোর মতো কিছু সবজির দাম কেজিতে ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। গত কয়েক দিনের তুলনায় দু-একটি সবজির দাম কিছুটা কমলেও সামগ্রিক বাজারে স্বস্তি ফেরেনি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর রামপুরা, খিলগাঁও ও বনশ্রী এলাকার বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সবজির পাশাপাশি মাছ ও মাংসের দামও আগের মতোই রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতা ও ক্রেতারা। তাঁদের ভাষ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

কোন সবজি কত দামে বিক্রি হচ্ছে
বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি আলু ৩০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, শিম ৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ঝিঙা ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৫০ টাকা, পেঁপে ২৫ টাকা এবং কাঁকরোল ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের দাম প্রকার ও মানভেদে কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১২০ টাকা। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে। রসুনের দাম কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ২০০ টাকা। এ ছাড়া ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ৮০ টাকা এবং আকারভেদে লাউ ৫০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দু-একটি সবজির দাম কিছুটা কমলেও অনেক পণ্যের দাম আগের অবস্থায় রয়েছে। ফলে বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লেও ক্রেতারা প্রত্যাশিত স্বস্তি পাচ্ছেন না।

পরিবহন খরচকে দায়ী করছেন বিক্রেতারা
মেরাদিয়া বাজারের সবজি বিক্রেতা আব্দুস সালাম বলেন, আগের তুলনায় কিছু সবজির দাম কমেছে। তবে সামনে আরও দাম কমবে কি না, তা নিয়ে তিনি আশাবাদী নন। তাঁর মতে, শীতকালীন সবজি বাজারে এলেও পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম খুব বেশি কমার সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে পণ্য কিনতে হলে খুচরা বাজারে কম দামে বিক্রি করা কঠিন। বিক্রেতারা কম দামে কিনতে পারলে ক্রেতাদের কাছেও কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হবে। আব্দুস সালামের ভাষ্য, বাজারে কিছুটা দরপতন হলেও কয়েকটি সবজির দাম আগের মতোই রয়েছে। তাই আপাতত বাজারদরে বড় ধরনের পরিবর্তন হবে বলে তিনি মনে করছেন না।

মাছ-মাংসের দামেও স্বস্তি নেই
সবজির পাশাপাশি মাছ ও মাংসের বাজারেও উচ্চমূল্য অব্যাহত রয়েছে। বাজারে দেশি মুরগি কেজিপ্রতি ৬৬০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা এবং কক মুরগি ৩৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। গরুর মাংসের দাম কেজিতে ৮২০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা। মাছের বাজারে আকার ও মানভেদে রুই মাছের দাম কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা। বড় আকারের তেলাপিয়া ও পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৩০০ টাকা দরে। চিংড়ির দাম ৭৫০ টাকা এবং মলা মাছের দাম ৫০০ টাকা কেজি। ক্রেতাদের অভিযোগ, সবজি, মাছ ও মাংস—কোনো পণ্যের দামই তাঁদের প্রত্যাশা অনুযায়ী কমছে না। ফলে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর জন্য প্রতিদিনের বাজার খরচ মেটানো কঠিন হয়ে উঠছে।

গত বছরের তুলনায় পটলের দাম বেশি
বাজার করতে আসা ক্রেতা মশিউর রহমান বলেন, গত বছর একই সময়ে প্রতি কেজি পটল ৩০ থেকে ৪০ টাকায় কেনা যেত। অথচ এবার তা প্রায় দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে। মাসের শুরুর দিকে পটলের দাম কেজিপ্রতি ১২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল বলেও জানান তিনি।

মশিউর রহমান বলেন, সবজি, মাছ ও মাংসের দাম বেশি থাকায় বাজার করতে গিয়ে কোনো স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে না। পণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, সেভাবে পরিবারের আয় বাড়ছে না। ফলে বাড়তি খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর মতো অনেক ক্রেতার অভিযোগ, বাজারে পণ্যের সরবরাহ থাকলেও দাম কমছে না। বিশেষ করে বেগুন ও পটলের মতো পরিচিত সবজি কিনতেও এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

নিত্যপণ্যের দামে সংসার চালানো কঠিন
আরেক ক্রেতা মনির হোসেন বলেন, সবজি, মাছ-মাংস থেকে শুরু করে মুদি পণ্য—কোনো বাজারেই স্বস্তি নেই। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় সাধারণ পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এভাবে দাম বাড়তে থাকলে তাঁর মতো সীমিত আয়ের পরিবারের পক্ষে সংসার চালানো আরও কঠিন হবে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

বাজার তদারকি জোরদারের দাবি ক্রেতাদের
ক্রেতাদের মতে, বাজারে পণ্যের সরবরাহ ও দাম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। উৎপাদন ও সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও কেন অনেক সবজির দাম বেশি থাকছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তাঁরা। মনির হোসেনের দাবি, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য রাখার জন্য বাজারে কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে পণ্যের দাম নির্ধারণ ও বিক্রির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামও কমবে—এমন প্রত্যাশা ক্রেতাদের। তবে পরিবহন ও অন্যান্য ব্যয়ের প্রভাব, পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের ব্যবধান এবং বাজার তদারকির কার্যকারিতা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতির উন্নতি কবে হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি