সবজি পর্যাপ্ত, তবু বেগুনের কেজি ১২০ টাকা
শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে, সরবরাহেও বড় কোনো ঘাটতি চোখে পড়ছে না। তারপরও রাজধানীর বাজারগুলোতে সবজির দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে। অধিকাংশ সবজি কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ও টমেটোর মতো কিছু সবজির দাম কেজিতে ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। গত কয়েক দিনের তুলনায় দু-একটি সবজির দাম কিছুটা কমলেও সামগ্রিক বাজারে স্বস্তি ফেরেনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর রামপুরা, খিলগাঁও ও বনশ্রী এলাকার বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সবজির পাশাপাশি মাছ ও মাংসের দামও আগের মতোই রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতা ও ক্রেতারা। তাঁদের ভাষ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
কোন সবজি কত দামে বিক্রি হচ্ছে
বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি আলু ৩০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, শিম ৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ঝিঙা ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৫০ টাকা, পেঁপে ২৫ টাকা এবং কাঁকরোল ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের দাম প্রকার ও মানভেদে কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১২০ টাকা। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে। রসুনের দাম কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ২০০ টাকা। এ ছাড়া ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ৮০ টাকা এবং আকারভেদে লাউ ৫০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দু-একটি সবজির দাম কিছুটা কমলেও অনেক পণ্যের দাম আগের অবস্থায় রয়েছে। ফলে বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লেও ক্রেতারা প্রত্যাশিত স্বস্তি পাচ্ছেন না।
পরিবহন খরচকে দায়ী করছেন বিক্রেতারা
মেরাদিয়া বাজারের সবজি বিক্রেতা আব্দুস সালাম বলেন, আগের তুলনায় কিছু সবজির দাম কমেছে। তবে সামনে আরও দাম কমবে কি না, তা নিয়ে তিনি আশাবাদী নন। তাঁর মতে, শীতকালীন সবজি বাজারে এলেও পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম খুব বেশি কমার সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে পণ্য কিনতে হলে খুচরা বাজারে কম দামে বিক্রি করা কঠিন। বিক্রেতারা কম দামে কিনতে পারলে ক্রেতাদের কাছেও কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হবে। আব্দুস সালামের ভাষ্য, বাজারে কিছুটা দরপতন হলেও কয়েকটি সবজির দাম আগের মতোই রয়েছে। তাই আপাতত বাজারদরে বড় ধরনের পরিবর্তন হবে বলে তিনি মনে করছেন না।
মাছ-মাংসের দামেও স্বস্তি নেই
সবজির পাশাপাশি মাছ ও মাংসের বাজারেও উচ্চমূল্য অব্যাহত রয়েছে। বাজারে দেশি মুরগি কেজিপ্রতি ৬৬০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা এবং কক মুরগি ৩৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। গরুর মাংসের দাম কেজিতে ৮২০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা। মাছের বাজারে আকার ও মানভেদে রুই মাছের দাম কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা। বড় আকারের তেলাপিয়া ও পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৩০০ টাকা দরে। চিংড়ির দাম ৭৫০ টাকা এবং মলা মাছের দাম ৫০০ টাকা কেজি। ক্রেতাদের অভিযোগ, সবজি, মাছ ও মাংস—কোনো পণ্যের দামই তাঁদের প্রত্যাশা অনুযায়ী কমছে না। ফলে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর জন্য প্রতিদিনের বাজার খরচ মেটানো কঠিন হয়ে উঠছে।
গত বছরের তুলনায় পটলের দাম বেশি
বাজার করতে আসা ক্রেতা মশিউর রহমান বলেন, গত বছর একই সময়ে প্রতি কেজি পটল ৩০ থেকে ৪০ টাকায় কেনা যেত। অথচ এবার তা প্রায় দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে। মাসের শুরুর দিকে পটলের দাম কেজিপ্রতি ১২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল বলেও জানান তিনি।
মশিউর রহমান বলেন, সবজি, মাছ ও মাংসের দাম বেশি থাকায় বাজার করতে গিয়ে কোনো স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে না। পণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, সেভাবে পরিবারের আয় বাড়ছে না। ফলে বাড়তি খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর মতো অনেক ক্রেতার অভিযোগ, বাজারে পণ্যের সরবরাহ থাকলেও দাম কমছে না। বিশেষ করে বেগুন ও পটলের মতো পরিচিত সবজি কিনতেও এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।
নিত্যপণ্যের দামে সংসার চালানো কঠিন
আরেক ক্রেতা মনির হোসেন বলেন, সবজি, মাছ-মাংস থেকে শুরু করে মুদি পণ্য—কোনো বাজারেই স্বস্তি নেই। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় সাধারণ পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এভাবে দাম বাড়তে থাকলে তাঁর মতো সীমিত আয়ের পরিবারের পক্ষে সংসার চালানো আরও কঠিন হবে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
বাজার তদারকি জোরদারের দাবি ক্রেতাদের
ক্রেতাদের মতে, বাজারে পণ্যের সরবরাহ ও দাম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। উৎপাদন ও সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও কেন অনেক সবজির দাম বেশি থাকছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তাঁরা। মনির হোসেনের দাবি, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য রাখার জন্য বাজারে কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে পণ্যের দাম নির্ধারণ ও বিক্রির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামও কমবে—এমন প্রত্যাশা ক্রেতাদের। তবে পরিবহন ও অন্যান্য ব্যয়ের প্রভাব, পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের ব্যবধান এবং বাজার তদারকির কার্যকারিতা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতির উন্নতি কবে হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি
আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]