পুকুর দখল-ভরাট বন্ধে ৫ শহরে মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশ
চট্টগ্রাম, বগুড়া, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও সিলেট শহরের রেকর্ডভুক্ত পুকুরের তালিকা তিন মাসের মধ্যে হলফনামা আকারে আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এসব শহরে পুকুরের অবৈধ দখল ও ভরাট বন্ধে মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুলসহ এ আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) ১৫ দিনের মধ্যে সাত সদস্যবিশিষ্ট মনিটরিং কমিটি গঠন করতে হবে।
কমিটিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি থাকবেন। রেকর্ডভুক্ত পুকুরের দখল ও ভরাট ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে কমিটিকে। এ ছাড়া চার সপ্তাহের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুকুর দখল ও ভরাট বন্ধে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) রোববার রিট আবেদনটি করে। সংগঠনটির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
পরে লিখিত বক্তব্যে মনজিল মোরসেদ জানান, আদালত চার সপ্তাহের রুল জারি করেছেন। এতে পাঁচ শহরের রেকর্ডভুক্ত পুকুর রক্ষায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং পুকুরগুলো কার্যকরভাবে সংরক্ষণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০-এর ৬ ধারা অনুসরণ করে পুকুরের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ব্যতিক্রম ছাড়া অন্য অবৈধ দখল ও ভরাটের ঘটনায় পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ৮ ধারা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, রুলে তা-ও জানতে চেয়েছেন আদালত।সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এসব বিষয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতের এ আদেশের ফলে পাঁচ শহরের রেকর্ডভুক্ত পুকুর সংরক্ষণ এবং অবৈধ দখল ও ভরাট প্রতিরোধে প্রশাসনিক নজরদারি জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি
আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]