খুঁজুন
                               
, ,
           

জন্মদিনে পরীমণির চমক, প্রকাশ পেল ‘ফারজানা’র ফার্স্ট লুক

বিনোদন ডেস্ক,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
জন্মদিনে পরীমণির চমক, প্রকাশ পেল ‘ফারজানা’র ফার্স্ট লুক

ঢালিউড অভিনেত্রী পরীমণির জন্মদিন ঘিরে ছিল শিউলি ফুলের সুবাস আর নতুন সিনেমার চমক। জন্মদিনের আয়োজন সাজাতে চট্টগ্রাম থেকে বিমানে করে তাঁর জন্য পাঠানো হয়েছে শিউলি ফুল। অন্যদিকে বিশেষ এই দিনে প্রকাশ পেয়েছে তাঁর নতুন সিনেমা ‘ফারজানা’র ফার্স্ট লুক। এতে গ্ল্যামারাস অবয়বের বাইরে এক সংগ্রামী নারীর চরিত্রে দেখা গেছে অভিনেত্রীকে।

গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে পরীমণির জন্মদিনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের সিঁড়ি থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গা সাজানো হয়েছিল শিউলি ফুল দিয়ে। অভিনেত্রীর শাড়িতেও ছিল সুতোয় বোনা শিউলির নকশা।

জন্মদিনের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরীমণি জানিয়েছিলেন, তাঁর দুই মন শিউলি ফুল প্রয়োজন। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে চট্টগ্রামের এক ব্যক্তি বিমানে করে তাঁর জন্য শিউলি ফুল পাঠান। ফুলগুলো দিয়েই সাজানো হয় জন্মদিনের আয়োজনস্থল।

এ প্রসঙ্গে পরীমণি বলেন, শিউলি ফুলের কথা মাথায় রেখেই জন্মদিনের আয়োজনের পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক শিউলি ফুল চেয়ে পোস্টও দিয়েছিলেন। তবে ফুল বেশিক্ষণ সতেজ রাখা কঠিন হওয়ায় এত ফুল সংগ্রহ করা সহজ ছিল না। শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম থেকে বিমানে করে একজন ফুল পাঠানোয় তাঁর ইচ্ছা পূরণ হয়েছে।

জন্মদিনে নতুন সিনেমার খবর প্রকাশের রীতি অনুসরণ করে এবার পরীমণির ‘ফারজানা’ সিনেমার ফার্স্ট লুক প্রকাশ করা হয়েছে। পোস্টারে অভিনেত্রীকে দেখা গেছে ভিন্ন এক অবয়বে। তাঁর চেহারায় রয়েছে সংগ্রামের ছাপ, শরীরে জখমের দাগ—যা চরিত্রটির কঠিন জীবনের ইঙ্গিত দেয়।

সিনেমাটি পরিচালনা করছেন তারেক রহমান। নির্মাতার ভাষ্য, পরীমণি এতে একজন সংগ্রামী নারীর চরিত্রে অভিনয় করছেন। দর্শক এই সিনেমার মাধ্যমে অভিনেত্রীকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

সিনেমাটির কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে পরীমণি জানান, প্রায় ছয় মাস আগেই চরিত্রটির লুক চূড়ান্ত করা হয়েছিল। শুটিংয়ের পথে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। বর্তমানে সিনেমাটির শুটিং চলছে, কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে। বাকি কাজ শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন তিনি।

জন্মদিনের আয়োজনে শিউলি ফুলের ব্যতিক্রমী উপস্থিতি আর নতুন সিনেমার ফার্স্ট লুক—দুই মিলিয়ে পরীমণির এবারের জন্মদিন হয়ে উঠেছে বিশেষ। ‘ফারজানা’য় তাঁর নতুন চরিত্র দর্শকদের কতটা আকৃষ্ট করে, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

পরিবেশ বাঁচিয়ে পোকা দমনে নতুন ভরসা পার্চিং

রংপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪২ অপরাহ্ণ
পরিবেশ বাঁচিয়ে পোকা দমনে নতুন ভরসা পার্চিং

রংপুরের কাউনিয়ায় আমন ধানক্ষেতে ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী পার্চিং পদ্ধতি। জমিতে গাছের ডাল, বাঁশের কঞ্চি কিংবা ধইঞ্চা গাছ স্থাপন করে পোকাখেকো পাখিদের বসার ব্যবস্থা করছেন কৃষকেরা। এসব পাখি ধানের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফসল রক্ষায় ভূমিকা রাখছে। এতে কীটনাশকের ব্যবহার ও উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি পরিবেশের ওপরও ক্ষতিকর প্রভাব কমছে।

কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাউনিয়ায় পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে কীটনাশক বা বালাইনাশক কেনার খরচ প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। ফলে কম খরচে ধান চাষের সুযোগ তৈরি হওয়ায় এ পদ্ধতির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। কাউনিয়ার কৃষকেরা মূলত দুই ধরনের পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন—ডেড পার্চিং ও লাইভ পার্চিং। ডেড পার্চিং পদ্ধতিতে ধানক্ষেতের আইল বা জমির বিভিন্ন স্থানে গাছের ডাল, বাঁশের কঞ্চি কিংবা খুঁটি পুঁতে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, লাইভ পার্চিংয়ে ধইঞ্চা বা অন্য কোনো জীবিত গাছ লাগিয়ে পাখিদের বসার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা হয়।

এসব ডাল ও গাছের ওপর বসে ফিঙে, শালিক, বুলবুলি ও দোয়েলসহ বিভিন্ন পোকাখেকো পাখি ধানক্ষেতের ক্ষতিকর পোকামাকড় ধরে খায়। এতে জমিতে রাসায়নিক কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হয়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আমন ধানের সবুজ মাঠের মধ্যে কোথাও ধানের শিষ বের হয়েছে, আবার কোথাও ধান পাকতে শুরু করেছে। দিগন্তজোড়া ধানক্ষেতের মাঝে চোখে পড়ে ধইঞ্চা গাছ, গাছের ডাল ও বাঁশের কঞ্চি। সেগুলোর ওপর বসে পাখিদের পোকামাকড় ধরতে দেখা যায়। কৃষকেরা জানান, পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে একদিকে যেমন কীটনাশক কেনার খরচ কমছে, অন্যদিকে পরিবেশও তুলনামূলকভাবে দূষণমুক্ত থাকছে। পাখির বিষ্ঠা জমিতে প্রাকৃতিক জৈব উপাদান হিসেবে যোগ হয়ে মাটির উর্বরতা বাড়াতেও সহায়তা করতে পারে।

নিজপাড়া গ্রামের কৃষক নাছির উদ্দিন বলেন, পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় পার্চিং পদ্ধতি বেশ কার্যকর। এটি পরিবেশবান্ধব এবং খরচও অনেক কম। এ কারণে তারা কীটনাশকের পরিবর্তে এ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। গদাই গ্রামের ধানচাষি শাহজাহান মণ্ডল বলেন, এবার তাদের জমির ধান বেশ সবুজ ও সতেজ হয়েছে। পুরো ক্ষেতেই পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন তিনি। আর কিছুদিন পর সোনালি ধান ঘরে তুলতে পারবেন বলে আশা করছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আমন ধানের ক্ষতিকর পোকামাকড়ের মধ্যে রয়েছে মাজরা পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা, চুঙ্গি পোকা ও লেদা পোকার মথ। পার্চিংয়ের ওপর বসা পাখিরা এসব পোকার বিভিন্ন পর্যায়ের কীট ও কীড়া ধরে খায়। ফলে পোকামাকড়ের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং তাদের বংশবিস্তার কমাতে এ পদ্ধতি সহায়তা করতে পারে।

কৃষি বিভাগের মতে, পার্চিং পদ্ধতির অন্যতম সুবিধা হলো—এতে বাড়তি রাসায়নিক উপকরণ কেনার প্রয়োজন হয় না। সহজলভ্য গাছের ডাল বা বাঁশের কঞ্চি দিয়েই পাখির বসার ব্যবস্থা করা যায়। ফলে বিশেষ করে সীমিত পুঁজির কৃষকেরা কম খরচে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারেন।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শে আমন মৌসুমের শুরুতেই কৃষকেরা এ প্রাকৃতিক পদ্ধতি প্রয়োগ করছেন। ধানের চারা রোপণের ২০ দিনের মধ্যে জমিতে পার্চিং স্থাপন করা প্রয়োজন। পোকার আক্রমণ শুরু হওয়ার আগেই এটি স্থাপন করলে পোকা দমনে উপকার পাওয়া যায়। তিনি জানান, প্রতি বিঘা বা ৩৩ শতক আমন জমিতে অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি গাছের ডাল কিংবা বাঁশের কঞ্চি পুঁতে দেওয়া উচিত। এগুলোর উচ্চতা ধানগাছের সর্বোচ্চ উচ্চতার চেয়ে কমপক্ষে এক ফুট বেশি হওয়া দরকার। এতে পাখিরা সহজে বসতে পারে এবং ধানক্ষেতের ওপর নজর রাখতে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সালাহউদ্দিন জানান, চলতি আমন মৌসুমে কাউনিয়ায় ১১ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১১ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমিতে। এ মৌসুমে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৩৫৫ টন। তিনি বলেন, চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমন ধানের মাঠের অবস্থা বেশ ভালো। এতে কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের অধিকাংশ কৃষক এবার পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন পরামর্শের মাধ্যমে কৃষকদের এ পদ্ধতির উপকারিতা সম্পর্কে জানানো হচ্ছে। ফলে চলতি মৌসুমে আগের তুলনায় বেশি জমিতে পার্চিং ব্যবহার করা হয়েছে।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, কম খরচে প্রাকৃতিকভাবে ক্ষতিকর পোকা দমন, কীটনাশকের ব্যবহার কমানো এবং পরিবেশ রক্ষায় পার্চিং পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে পোকামাকড়ের আক্রমণ ও ফসলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নেওয়াও জরুরি। কৃষকদের মধ্যে এ পদ্ধতির ব্যবহার আরও বাড়ানো গেলে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। সহজলভ্য উপকরণ ও পাখির প্রাকৃতিক ভূমিকা কাজে লাগিয়ে কাউনিয়ার কৃষকেরা আমন ধান চাষে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

গোখাদ্যের দাম বাড়ায় দিশেহারা নবাবগঞ্জের খামারিরা

দিনাজপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ণ
গোখাদ্যের দাম বাড়ায় দিশেহারা নবাবগঞ্জের খামারিরা

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় গোখাদ্যের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন গরু পালনকারী কৃষক ও খামারিরা। খড়, ভুসি ও সবুজ ঘাস কিনতে আগের তুলনায় বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে তাদের। এতে বেড়ে গেছে গরু পালনের ব্যয়, কমে আসছে লাভের পরিমাণ। বিশেষ করে অল্প পুঁজি নিয়ে গরু পালন করা প্রান্তিক খামারিরা পড়েছেন বেশি চাপে। খামারিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নতুন ধানের প্রতিটি আঁটি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়। ভুসির বস্তার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা। অন্যদিকে, নেপিয়ার ঘাসের প্রতিটি চারা কিনতে হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। বাড়তি দামে এসব খাদ্য কিনে দুধ উৎপাদন ও গরু মোটাতাজাকরণে লাভের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

নবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কৃষিকাজের পাশাপাশি গবাদিপশু পালন বহু পরিবারের আয়ের অন্যতম উৎস। কেউ দুধ বিক্রি করে সংসার চালান, আবার কেউ গরু মোটাতাজা করে বিক্রির মাধ্যমে বাড়তি আয় করেন। কিন্তু গোখাদ্যের দাম বাড়তে থাকায় এসব খামারের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, পশুখাদ্যের দাম যে হারে বাড়ছে, সে অনুপাতে দুধের বিক্রিমূল্য কিংবা গরুর বাজারদর বাড়ছে না। ফলে খামারিদের লাভ কমে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অনেকেই গরু পালনে আগ্রহ হারাতে পারেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নবাবগঞ্জে ৯৫টি দুগ্ধ খামার, ৮৫টি ছাগলের খামার ও ৩৮টি ভেড়ার খামার রয়েছে। এসব খামারের সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে আয় ও কর্মসংস্থানের বিষয়টি জড়িত।

উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের কুন্দন গ্রামের ক্ষুদ্র খামারি সাহেব আলী বলেন, গরুর খাবারের ব্যবস্থা করতেই এখন তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আগে যে টাকায় কয়েক দিনের খাবার কেনা যেত, এখন সেই টাকায় অনেক কম খাবার পাওয়া যায়। গরুকে না খাইয়ে রাখার সুযোগ নেই। ফলে সংসারের অন্যান্য খরচের পাশাপাশি পশুখাদ্যের টাকা জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

সাহেব আলী জানান, বর্তমানে নতুন ধানের প্রতিটি আঁটি ২০ থেকে ৩০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এতে গরু পালনের দৈনন্দিন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। দুধ উৎপাদনকারী খামারি জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েল বলেন, গরুর খাবারের খরচ বেড়ে গেলে দুধ বিক্রি করে তেমন লাভ থাকে না। নিয়মিত খাবার দিতে না পারলে দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে বেশি দাম দিয়েই খাবার কিনতে হচ্ছে। তিনি জানান, আগে ভুসির বস্তা ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় পাওয়া যেত। বর্তমানে তা প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। পাশাপাশি নেপিয়ার ঘাসের প্রতিটি চারার দাম পড়ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা।

গরুর খাবারের ব্যয় শুধু খড় ও ভুসি কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে খৈল, সবুজ ঘাস, শ্রমিকের মজুরি, চিকিৎসা ও পরিচর্যার খরচও যুক্ত রয়েছে। বাড়তি ব্যয় সামলাতে গিয়ে কোনো খামারি খাবারের পরিমাণ বা মান কমিয়ে দিলে গবাদিপশুর পুষ্টিতে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এতে গরুর ওজন বৃদ্ধি, দুধ উৎপাদন ও প্রজননক্ষমতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি পুষ্টির ঘাটতি পশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকেও দুর্বল করতে পারে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মানিক রহমান বলেন, খাদ্যের ঘাটতি হলে গরুর ওজন, দুধ উৎপাদন ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই খামারিদের সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি নিয়মিত পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো জরুরি। খাদ্যের দাম কিংবা সরবরাহ নিয়ে সমস্যা হলে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরামর্শ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. বিপুল কুমার চক্রবর্তী বলেন, গবাদিপশুর জন্য শুধু খড় দিলেই হবে না। এর সঙ্গে পর্যাপ্ত সবুজ ঘাস, পরিষ্কার পানি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম দানাদার খাবার দিতে হবে। খামারিরা বাড়ির আশপাশে নেপিয়ারসহ উপযোগী ঘাস চাষ করতে পারেন। পাশাপাশি মৌসুমে খড় সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করলে সংকটের সময় পশুখাদ্যের চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, গোখাদ্যের বাজারদর ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি খামারিদের ঘাস চাষে প্রশিক্ষণ, উন্নত পদ্ধতিতে খড় সংরক্ষণ এবং সাশ্রয়ী পশুখাদ্য উৎপাদনে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। ক্ষুদ্র খামারিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন ব্যয়ের চাপ কমানো সম্ভব হতে পারে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে গবাদিপশু পালন কৃষকের সম্পদ, পরিবারের বাড়তি আয়ের উৎস এবং অনেকের জীবিকার অবলম্বন। তাই গোখাদ্যের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব পড়তে পারে দুধ উৎপাদন ও স্থানীয় খামার ব্যবস্থায়। খামারিদের প্রত্যাশা, সাশ্রয়ী দামে পশুখাদ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

রাজধানীতে ৪৩ মামলা, গ্রেপ্তার ৬৬২ জন

আদালত প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ণ
রাজধানীতে ৪৩ মামলা, গ্রেপ্তার ৬৬২ জন

রাজধানী ঢাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৬২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন অপরাধে ৪৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন ও আমদানিনিষিদ্ধ নেশাজাতীয় দ্রব্যসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ডিএমপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মিরপুর বিভাগে সর্বোচ্চ ১৪০ জন রয়েছেন। এ ছাড়া ওয়ারী বিভাগে ৯৩ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৯২ জন, মতিঝিল বিভাগে ৮২ জন, লালবাগ বিভাগে ৭৮ জন, গুলশান বিভাগে ৭৮ জন, উত্তরা বিভাগে ৫৭ জন এবং রমনা বিভাগে ৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ গ্রেপ্তার করেছে ছয়জনকে।

অভিযানকালে পুলিশ একটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি চাকু, ৪ হাজার ৬২১ পিস ইয়াবা, ৭১২ গ্রাম গাঁজা এবং ৩০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া ৩০০ বোতল আমদানিনিষিদ্ধ অবৈধ নেশাজাতীয় দ্রব্য ইস্কাফ, একটি মোটরসাইকেল, পাঁচটি মোবাইল ফোন ও নগদ ৩৩ হাজার ৮২০ টাকা উদ্ধার করা হয়। ডিএমপি জানায়, রোববার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি