খুঁজুন
                               
, ,
           

বিজয়-রাশমিকার দাম্পত্যে ফাটল, নাকি নিছক গুঞ্জন?

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৭ অপরাহ্ণ
বিজয়-রাশমিকার দাম্পত্যে ফাটল, নাকি নিছক গুঞ্জন?

দক্ষিণী চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় তারকা জুটি বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানাকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। ইনস্টাগ্রামে বিজয় তাঁর স্ত্রী রাশমিকাকে আনফলো করেছেন—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়তেই তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন অনেকে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই আলোচনার পেছনে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি বিষয় নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি।

বিজয়ের ইনস্টাগ্রাম ঘিরে যত আলোচনা
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনে দাবি করা হয়, বিজয় দেবরাকোন্ডা নাকি ইনস্টাগ্রামে রাশমিকা মান্দানাকে আনফলো করে দিয়েছেন। বিষয়টি সামনে আসার পর অনুরাগীদের মধ্যে প্রশ্ন ওঠে, বিয়ের পর এই তারকা দম্পতির সম্পর্কে কোনো দূরত্ব তৈরি হয়েছে কি না।

তবে বিজয়ের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের ফলোয়িং তালিকা যাচাই করে দেখা যায়, তিনি কাউকেই অনুসরণ করেন না। তাঁর ফলোয়িং সংখ্যা শূন্য হওয়ায় সেখানে রাশমিকাও নেই। ফলে রাশমিকাকে আলাদাভাবে আনফলো করার যে দাবি ছড়িয়েছে, তার পক্ষে কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, রাশমিকা এখনো ইনস্টাগ্রামে বিজয়কে অনুসরণ করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই বিজয়ের ফলোয়িং তালিকায় রাশমিকার নাম না থাকাকে তাঁদের সম্পর্কের অবনতির প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

দাম্পত্য কলহের খবর নিশ্চিত নয়
বিজয় ও রাশমিকার সম্পর্ক নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা আলোচনা হয়ে আসছে। বিয়ের পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের নিয়ে বিভিন্ন গুঞ্জন ছড়াচ্ছে।

তবে এই মুহূর্তে তাঁদের মধ্যে কোনো দাম্পত্য কলহ বা সম্পর্কের টানাপোড়েনের খবর সংশ্লিষ্ট তারকাদের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। ইনস্টাগ্রামে কাউকে অনুসরণ করা বা না করার বিষয়টি ব্যক্তিগত পছন্দের অংশও হতে পারে। তাই শুধু ফলোয়িং তালিকা দেখে কোনো তারকা দম্পতির সম্পর্ক নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।

‘কফি উইথ করণ’-এ প্রেমের গল্প
সম্প্রতি জনপ্রিয় চ্যাট শো ‘কফি উইথ করণ সিজন ৯’-এ হাজির হয়ে নিজেদের প্রেম ও বিয়ের নানা গল্প ভাগ করে নিয়েছেন বিজয় ও রাশমিকা। সেখানে বিজয় জানান, রাশমিকাকে ইতালিতে নিয়ে গিয়ে প্রস্তাব দেওয়ার ইচ্ছা ছিল তাঁর। কিন্তু পছন্দমতো আংটি না পাওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

শেষ পর্যন্ত বিয়ের আগে সংগীতের অনুষ্ঠানে রাশমিকাকে প্রস্তাব দেন বিজয়। তাঁর ইচ্ছা ছিল, জীবনের বিশেষ এই মুহূর্তের অনুভূতি থেকে যেন রাশমিকা বঞ্চিত না হন। তাঁদের প্রেমের এই গল্প অনুরাগীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।

দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর বিয়ে
২০১৮ সালে প্রথমবার একসঙ্গে কাজ করার পর থেকেই বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানাকে ঘিরে প্রেমের গুঞ্জন শুরু হয়। দীর্ঘদিন তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তাঁরা বরাবরই সতর্ক ছিলেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে উদয়পুরের একটি রাজপ্রাসাদে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে বিয়ে করেন এই তারকা জুটি। দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে পরিণয়ে রূপ দেওয়ার পর তাঁদের নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ আরও বেড়েছে।

সব মিলিয়ে, বিজয়ের ইনস্টাগ্রাম ফলোয়িং তালিকা ঘিরে তৈরি হওয়া আলোচনা আপাতত ভুল বোঝাবুঝির ফল বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। তাঁদের দাম্পত্যে সমস্যা চলছে—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য সামনে আসেনি।

কালের আলো/এসএ/এমএস

 

ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বই থেকে বাদ প্রজ্ঞার প্রতীক দাঁড়িপাল্লা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২০ অপরাহ্ণ
ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বই থেকে বাদ প্রজ্ঞার প্রতীক দাঁড়িপাল্লা

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বই থেকে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত দাঁড়িপাল্লার ছবি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বইয়ে উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা—এই চারটি স্তরের নাম থাকলেও কোনো প্রতীক বা আইকন রাখা হবে না। রোববার (২৫ অক্টোবর) এনসিটিবির সদস্য এ কে এম শওকত আলী খান গণমাধ্যমকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

প্রজ্ঞার স্তরে থাকবে না কোনো প্রতীক
এনসিটিবির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ অধ্যায়ে থাকা জ্ঞানের পিরামিডে চারটি স্তরের নাম আগের মতোই থাকবে। তবে প্রতিটি স্তর বোঝাতে ব্যবহৃত প্রতীকগুলো বাদ দেওয়া হবে। বিশেষ করে প্রজ্ঞার স্তরে থাকা দাঁড়িপাল্লার ছবিটি আর রাখা হচ্ছে না।

এনসিটিবির সদস্য এ কে এম শওকত আলী খান বলেন, ‘উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা—এ চার স্তরের নাম থাকবে। তবে এখানে কোনো আইকন থাকবে না। এ বছর এভাবেই যাবে। পরের বছর বিষয়গুলো পুনরায় আরও পরিমার্জন করব, যাতে কোনো ভুল তথ্য না যায়।’

ছাপানো বইয়ে যুক্ত হবে সংশোধিত পৃষ্ঠা
ইতিমধ্যে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের বড় একটি অংশ ছাপানো হয়ে গেছে। ফলে পুরো বই নতুন করে ছাপানোর পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠাটি সংশোধন করে শিক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, যেসব বই ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে চলে গেছে, সেগুলোর জ্ঞানের পিরামিড থাকা পৃষ্ঠার ওপর নতুন করে ছাপানো পরিমার্জিত পৃষ্ঠা যুক্ত করা হবে। এতে পুরো বই পরিবর্তন না করেই বিতর্কিত প্রতীকটি বাদ দেওয়া সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পুরো বই পুনরায় ছাপাতে গেলে অতিরিক্ত অর্থ ও সময়ের প্রয়োজন হতো। তাই আপাতত শুধু সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আগেই বন্ধ করা হয়েছিল ছাপার কাজ
দাঁড়িপাল্লার প্রতীক নিয়ে বিতর্কের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে বইটির ছাপার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল এনসিটিবি। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া বইগুলো সংগ্রহ করে প্রতীক পরিবর্তনের পর আবার শিক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করার কথা জানানো হয়েছিল।

তবে তখন দাঁড়িপাল্লার পরিবর্তে কোন প্রতীক ব্যবহার করা হবে, তা নিশ্চিত করা হয়নি। পরে শনিবার (২৪ অক্টোবর) প্রেস মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে এনসিটিবি। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠায় নতুন করে ছাপানো একটি পরিমার্জিত পৃষ্ঠা যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। কয়েকজন প্রেস মালিকও এ প্রক্রিয়ায় সম্মতি দেন বলে জানা গেছে।

জ্ঞানের পিরামিডে চারটি স্তর
ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ পাঠে শিক্ষার্থীদের বোঝানোর জন্য জ্ঞানের পিরামিডের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। পিরামিডটিতে নিচ থেকে ওপরের দিকে রয়েছে উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা—এই চারটি স্তর।

আগের নকশায় উপাত্তের স্তরে পাই চার্ট বা ঘড়ির মতো বৃত্তাকার প্রতীক, তথ্যের স্তরে পরমাণু বা নেটওয়ার্কের মতো দেখতে প্রতীক এবং জ্ঞানের স্তরে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। সর্বোচ্চ স্তর প্রজ্ঞা বোঝাতে রাখা হয়েছিল দাঁড়িপাল্লার ছবি। নতুন সিদ্ধান্তে এসব প্রতীকের কোনোটিই আর থাকবে না।

আগের বইয়েও ছিল দাঁড়িপাল্লা
প্রজ্ঞার প্রতীক নিয়ে বিতর্কের বিষয়টি বুঝতে আগের শিক্ষাবর্ষের বইয়ের দিকে তাকানো প্রয়োজন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন এনে অন্তর্বর্তী সরকার ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে যায়। সেই অনুযায়ী, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য পরিমার্জিত ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়েও প্রজ্ঞার স্তরে দাঁড়িপাল্লার ছবি রাখা হয়েছিল।

তবে চলতি শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে আবার দাঁড়িপাল্লার ছবি ফিরে আসার পর বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটে প্রতীকটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিটিবি।

ছাপানো হচ্ছে প্রায় ৩১ কোটি বই
এনসিটিবি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ের প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানো হচ্ছে। এর বেশির ভাগই ইতিমধ্যে ছাপা হয়ে গেছে। অন্যদিকে, আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য সব শ্রেণি মিলিয়ে প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানোর কাজ চলছে।

বিপুলসংখ্যক বই ছাপানোর কার্যক্রমের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠায় সংশোধনী যুক্ত করে বিতর্কিত প্রতীকটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু ও উপস্থাপনা আরও পরিমার্জনের কথাও জানিয়েছে এনসিটিবি।

কালের আলো/এসএ/আরআইকে

 

বাংলাদেশে গণতন্ত্রের লড়াই নিয়ে যা বললেন স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১১ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে গণতন্ত্রের লড়াই নিয়ে যা বললেন স্পিকার

সংসদীয় গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে বেশ কিছু সাদৃশ্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে দুই দেশের সংসদীয় ব্যবস্থা, গণতন্ত্রের বিকাশ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে সহযোগিতার বিষয় উঠে আসে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুইডেন বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। সুইডেনের সংসদ এককক্ষবিশিষ্ট এবং দেশটি সংসদীয় প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা অনুসরণ করে। সংসদীয় গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মিল রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। স্পিকারের মতে, দুই দেশের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন করা গেলে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা সম্প্রসারণে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের মানুষ সব সময় গণতন্ত্রপ্রিয় উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এ দেশের মানুষ জীবন দিতেও পিছপা হননি। তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষ সেই শাসনের অবসান ঘটিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস দেশটির সংসদীয় কাঠামো সম্পর্কে স্পিকারকে অবহিত করেন। তিনি জানান, সুইডেনের পার্লামেন্টে মোট ৩৪৯টি আসন রয়েছে। সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে চার বছরের জন্য নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রদূত বলেন, সুইডেন আনুষ্ঠানিকভাবে একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র হলেও দেশটির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা সংসদ ও সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ এবং ককাস গঠনের বিষয়ে উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করে। সংসদীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

কুবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামী হেফাজতে

শিক্ষা প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৪ অপরাহ্ণ
কুবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামী হেফাজতে

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ফার্মেসি বিভাগের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ফারজানা ইসলাম নামের ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বামী নাজমুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে কিছু বলতে রাজি হয়নি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সাইনবোর্ড এলাকার স্বামীর বাসা থেকে ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর স্বামী নাজমুল ইসলাম একই বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

বিয়ের পর নির্যাতনের অভিযোগ পরিবারের
ফারজানার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন তাঁর স্বামী। প্রায় তিন বছর আগে একই বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। এরপর থেকে দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

ফারজানার ভাই আরিফুল ইসলাম জানান, তাঁর বোনের পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, নাজমুল প্রথমদিকে বেকার থাকলেও চাকরি পাওয়ার পর অর্থের চাহিদা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে অর্থের জন্য চাপ দেওয়ার পাশাপাশি ফারজানার ওপর নির্যাতনও চলতে থাকে।

নারী নির্যাতনের মামলা করেছিলেন ফারজানা
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরে মারধরের শিকার হয়ে ফারজানা স্বামীর বাসা ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে এ ঘটনায় তিনি নারী নির্যাতনের মামলা করেন।

পরিবারের দাবি, মামলার পর নাজমুলের পরিবারের সদস্যরা ভবিষ্যতে আর নির্যাতন করা হবে না বলে আশ্বাস দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। পরে দুই পরিবারের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে মামলাটি প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ফারজানার ভাই আরিফুলের অভিযোগ, ঘটনার আগের দিন বিকেলে নাজমুলের দুলাভাই তাঁকে ফোন করে মামলা প্রত্যাহার হয়েছে কি না, তা জানতে চান। জবাবে তিনি জানান, মামলা প্রত্যাহার হয়ে গেছে এবং এ-সংক্রান্ত কাগজপত্রও পাওয়া গেছে বলে তিনি জানেন।

পরিবারের দাবি, মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ফারজানাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে এটি পরিবারের অভিযোগ; পুলিশি তদন্ত ও ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও কথা হয়েছিল ভাইয়ের সঙ্গে
আরিফুল ইসলাম জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাঁর সঙ্গে ফারজানার কথা হয়েছিল। তখন বোনের কথাবার্তায় অস্বাভাবিক কিছু বুঝতে পারেননি তিনি। রাতে খাওয়ার জন্য ফারজানা চিপস ও কোমল পানীয়ও কিনেছিলেন বলে জানান আরিফুল।

তবে রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে তাঁকে ফোন করে ফারজানার মৃত্যুর খবর জানানো হয়। হঠাৎ এমন খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।

স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গাজী সুমন মাহতাব জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফারজানাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পায়। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী নাজমুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ঘটনাটি আত্মহত্যা হতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

ফারজানার মৃত্যুকে ঘিরে পরিবারের পক্ষ থেকে নির্যাতন ও পরিকল্পিত হত্যার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

কালের আলো/এসএ/এমএএইচ