দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে ডিসিইউর প্রথম বর্ষের পরীক্ষা ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (ডিসিইউ) ২০২৫ সালের অনার্স প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলবে। আগামী ৩ নভেম্বর শুরু হয়ে পরীক্ষা চলবে ২০২৭ সালের ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষার সূচি নির্ধারণ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের আশঙ্কা, এতে একাডেমিক কার্যক্রমে ধীরগতি, পড়াশোনার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়া এবং সেশনজট আরও বাড়তে পারে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শহিদুল্লাহ স্বাক্ষরিত পরীক্ষার রুটিন প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়। পরীক্ষা দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবহারিক পরীক্ষার সময়সূচি ও ফল প্রকাশ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে তাঁদের মধ্যে।
দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলবে লিখিত পরীক্ষা
ডিসিইউর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, অনার্স প্রথম বর্ষের ২৪টি বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষা আগামী ৩ নভেম্বর শুরু হবে। পরীক্ষা চলবে ২০২৭ সালের ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। বিজ্ঞান অনুষদের ব্যবহারিক পরীক্ষার সময়সূচি পরে আলাদাভাবে প্রকাশ করা হবে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা চললে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম পিছিয়ে পড়তে পারে। এমনিতেই সেশনজটের কারণে তাঁদের পড়াশোনায় বিলম্ব হচ্ছে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর দ্রুত ও পরিকল্পিতভাবে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যাশা থাকলেও পরীক্ষার দীর্ঘ সূচি সেই প্রত্যাশা পূরণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
নতুন প্রশাসনেও সেশনজটের আশঙ্কা শিক্ষার্থীদের
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী নাজমুল নাহিদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শেষ করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগলে রোডম্যাপ অনুযায়ী ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা জানুয়ারিতে কীভাবে নেওয়া হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। নাজমুল নাহিদের ভাষ্য, শিক্ষার্থীরা আগে থেকেই সেশনজটে রয়েছেন। নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁদের প্রত্যাশা ছিল, একাডেমিক কার্যক্রমে গতি আসবে এবং সেশনজট কমবে। কিন্তু পরীক্ষার দীর্ঘ সময়সূচি দেখে সেই প্রত্যাশা পূরণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আগে সাত কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিল, আর এখন সেগুলো ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধীনে সংযুক্ত হয়েছে। তবে পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন তিনি।
দীর্ঘ বিরতিতে নষ্ট হচ্ছে পড়াশোনার ধারাবাহিকতা
সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আতিক বলেন, ৩ নভেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত তাঁদের লিখিত পরীক্ষা চলবে দুই মাস সাত দিন। এর সঙ্গে ব্যবহারিক পরীক্ষা যুক্ত হলে পুরো পরীক্ষাপ্রক্রিয়া শেষ করতে পাঁচ থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। তিনি জানান, পরীক্ষার সূচিতে একাধিক ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ৩০ দিনের বিরতি থাকায় পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। দীর্ঘ বিরতিতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও পড়াশোনার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। আতিকের মতে, এভাবে পরীক্ষা দীর্ঘায়িত হলে সেশনজটের ঝুঁকির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ ও আর্থিক সংকট বাড়তে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষার রুটিন পুনর্বিবেচনা এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ডিসেম্বরে ছুটির কারণে সময় বেশি লাগছে: পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক
পরীক্ষা দীর্ঘ সময় ধরে চলার বিষয়ে ডিসিইউর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ডিসেম্বর মাসে প্রায় ১৭ দিনের ছুটি থাকায় কলেজগুলো বন্ধ থাকে। এ কারণে পরীক্ষার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগছে। তবে বিজ্ঞান বিভাগের যেসব বিষয়ের পরীক্ষা আগে শেষ হবে, সেগুলোর ব্যবহারিক পরীক্ষা আগেই শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এতে ব্যবহারিক পরীক্ষার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
দ্রুত ফল প্রকাশের বিষয়টিও বিবেচনায়
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শহিদুল্লাহ আরও বলেন, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে পরীক্ষা নেওয়া হলে ছুটির পরিমাণ তুলনামূলক কম থাকে। ফলে ওই সময়ের মধ্যে কম সময় নিয়ে পরীক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব হতে পারে। দ্রুত ফলাফল প্রকাশের বিষয়টিও প্রশাসনের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি। এ নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। তবে শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি, শুধু পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ নয়, পুরো একাডেমিক কার্যক্রমের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করা, ব্যবহারিক পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা কমানো এবং দ্রুত ফল প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া না হলে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেও সেশনজটের সমস্যা অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের।
কালের আলো/আরআইকে/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]