খুঁজুন
                               
, ,
           

এসএসসি অকৃতকার্যদের বিশেষ পরীক্ষা ও একাদশে ভর্তির সুযোগসহ ৫ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৬ অপরাহ্ণ
এসএসসি অকৃতকার্যদের বিশেষ পরীক্ষা ও একাদশে ভর্তির সুযোগসহ ৫ দাবি

এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য চলতি বছর বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আয়োজন, একই শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ এবং প্রয়োজনে পরবর্তী বছর কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগসহ পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছে। এসব দাবি পূরণ না হলে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনেরও ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘এসএসসি ২০২৬ শিক্ষার্থী অধিকার আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে কামাল আহমেদ মজুমদার স্কুলের আল-আমিন, সন্দ্বীপ পাবলিক স্কুলের ফুয়াদ এবং একরামুল হক আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের আরিনা বক্তব্য দেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী রেবেকা সুলতানা।

এক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া মানেই ভবিষ্যৎ শেষ নয়
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা বলেন, একটি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া মানেই একজন শিক্ষার্থীর মেধা, সম্ভাবনা কিংবা ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে যাওয়া নয়। শিক্ষার্থীদের ঘাটতি পূরণ, নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ এবং নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করাও একটি দায়িত্বশীল শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁরা বলেন, নিয়মবহির্ভূত কোনো সুবিধা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মানবিক, বাস্তবসম্মত ও শিক্ষাবান্ধব সমাধান চান তাঁরা।শিক্ষার্থীদের মতে, বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হলে অকৃতকার্যরা দ্রুত নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারবেন। এতে তাঁদের শিক্ষাজীবনে দীর্ঘ বিরতি তৈরি হওয়ার ঝুঁকিও কমবে।

চলতি বছরই বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আয়োজনের দাবি
শিক্ষার্থীদের প্রথম দাবি, এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষায় অকৃতকার্যদের জন্য চলতি বছরই বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার আয়োজন করতে হবে। এর মাধ্যমে তাঁরা পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ পাবেন। দ্বিতীয় দাবিতে বলা হয়েছে, পরীক্ষার সিলেবাস, মানবণ্টন, প্রশ্নপদ্ধতি, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং অংশগ্রহণের যোগ্যতা সম্পর্কে দ্রুত সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রকাশ করতে হবে। এতে শিক্ষার্থীরা যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

দ্রুত পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের দাবি
তৃতীয় দাবিতে শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সময় দিয়ে পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা এবং পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশের কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, বিশেষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের যেন একই শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের মতে, পরীক্ষার আয়োজন, ফল প্রকাশ ও কলেজে ভর্তির সময়সূচির মধ্যে সমন্বয় করা গেলে তাঁদের শিক্ষাজীবন অযথা পিছিয়ে পড়বে না।

একাদশে ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি
চতুর্থ দাবিতে বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের একই শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা মনে করেন, শুধু পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ দিলেই হবে না; সেই ফলের ভিত্তিতে পরবর্তী শ্রেণিতে পড়াশোনা শুরু করার সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও শিক্ষাবর্ষ হারানোর আশঙ্কা থেকে যাবে।

পরীক্ষা আয়োজন সম্ভব না হলে বিকল্প ব্যবস্থা
পঞ্চম দাবিতে বলা হয়েছে, কোনো অনিবার্য কারণে চলতি বছর বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আয়োজন সম্ভব না হলে এসএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। পাশাপাশি, পরবর্তী বছর কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় নীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে ভর্তি, নিবন্ধন, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং ফলাফলসংক্রান্ত বিধিবিধানের মধ্যে সমন্বয় করে কার্যকর ব্যবস্থা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ডগুলোর প্রতি আহ্বান
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রতি তাঁদের পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তাঁরা।

প্রসঙ্গত, সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে চলতি বছর অন্তর্বর্তী পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং ফল প্রকাশের তিন মাসের মধ্যে এ পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বছর থেকে এসএসসিতেও এ পদ্ধতি চালুর কথা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

তবে এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য চলতি বছর বিশেষ পরীক্ষা আয়োজন বা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়নি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

১৯৯ রানেই চার উইকেট হারিয়ে চাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

স্পোর্টস ডেস্ক,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৮ অপরাহ্ণ
১৯৯ রানেই চার উইকেট হারিয়ে চাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাট হাতে বড় সংগ্রহ গড়ার পর বল হাতেও দাপট দেখাচ্ছে বিসিবি একাদশ। প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭১ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) একাদশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯৯ রান সংগ্রহ করেছে ক্যারিবীয়রা। শুরুতে কয়েকজন ব্যাটার রান পেলেও বড় জুটি গড়ে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না তারা। বিসিবি একাদশের বোলাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে সফরকারীদের বড় সংগ্রহের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথম দিনে ব্যাটিংয়ে নেমে ভালো সংগ্রহ গড়ে বিসিবি একাদশ। ৭ উইকেটে ৩৭১ রান তোলার পর ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকরা। ফলে বড় সংগ্রহের জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই চাপ সামলাতে হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে বাংলাদেশের দেওয়া বড় সংগ্রহের বিপরীতে সফরকারীরা এখন পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে রান তুলতে পারলেও ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিতে পারেনি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৫ রান করেছেন ওপেনার জন ক্যাম্পবেল। ৭৮ বলের ইনিংসে ৯টি চার ও ২টি ছক্কা হাঁকান তিনি। ভালো ব্যাটিংয়ের পর রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন এই ওপেনার। অন্য ওপেনার তেজনারায়ণ চন্দরপল করেন ৯০ বলে ৩১ রান। শুরুতে তাঁরা রান তুললেও পরবর্তী সময়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এ ছাড়া ব্রেন্ডন কিং ৩৫ বলে ৪০ রান করে সাজঘরে ফেরেন। অনিক দেববর্মার বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। কাভেম হজ করেন ১৩ রান এবং জশুয়া ডি সিলভার ব্যাট থেকে আসে ১১ রান। ব্যাটারদের ব্যক্তিগত কিছু ভালো ইনিংস থাকলেও বড় জুটি গড়ে ইনিংসকে এগিয়ে নিতে না পারায় চাপে রয়েছে সফরকারীরা।

বিসিবি একাদশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল মো. হোসেন। তিনি তুলে নিয়েছেন ২ উইকেট। অনিক দেববর্মা পেয়েছেন ১ উইকেট। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান তোলার গতি নিয়ন্ত্রণে রাখছেন বাংলাদেশের বোলাররা।

৫০ ওভারে ১৯৯ রান তুললেও চার উইকেট হারানোয় সফরকারীদের সামনে এখন বড় জুটি গড়ার চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে বাকি উইকেটগুলো দ্রুত তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আরও চাপে ফেলার লক্ষ্য থাকবে বিসিবি একাদশের বোলারদের। দুই দিনের এই প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশের বড় সংগ্রহের পর বোলারদের পারফরম্যান্সও আলোচনায় এসেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা রান পেলেও নিয়মিত উইকেট হারানোয় ইনিংসের ভিত মজবুত করতে পারেনি। ম্যাচের এই পর্যায়ে বাংলাদেশের বোলাররা চাপ ধরে রাখতে পারলে সফরকারীদের বড় সংগ্রহে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। তবে হাতে উইকেট থাকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগও রয়েছে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

প্রশাসনের ধাওয়া এড়িয়ে মেঘনায় ইলিশ ধরছেন জেলেরা

চাঁদপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫২ অপরাহ্ণ
প্রশাসনের ধাওয়া এড়িয়ে মেঘনায় ইলিশ ধরছেন জেলেরা

মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চললেও চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীতে বন্ধ হচ্ছে না ইলিশ শিকার। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান, জেল-জরিমানা এবং অবৈধ জাল ও নৌকা জব্দের পরও একশ্রেণির জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরছেন। অভিযানের ট্রলারের তুলনায় জেলেদের ইঞ্জিনচালিত নৌকার গতি বেশি হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে ধাওয়া করেও তাঁদের আটক করা যাচ্ছে না। ফলে নদীতে ফেলে যাওয়া জাল জব্দ করেই অভিযান শেষ করতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) মতলব উত্তরের এখলাসপুর এলাকার মেঘনা নদীতে এমন চিত্র দেখা গেছে। পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের অভিযানের ট্রলার দেখেই দ্রুতগতির ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে পালিয়ে যান জেলেরা। অভিযান পরিচালনাকারীরা সর্বোচ্চ গতিতে ধাওয়া করেও তাঁদের আটক করতে পারেননি। একপর্যায়ে জেলেরা নদীতে জাল ফেলে পালিয়ে গেলে সেগুলো জব্দ করেন মৎস্য বিভাগের কর্মীরা।

অভিযানের ট্রলার দেখলেই পালিয়ে যান জেলেরা
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মেঘনা নদীতে প্রশাসন ও জেলেদের মধ্যে যেন চোর-পুলিশ খেলা চলছে। অভিযানের ধরন ও ট্রলারের গতি সম্পর্কে ধারণা থাকায় জেলেরা দ্রুতগতির ইঞ্জিনচালিত নৌকা ব্যবহার করছেন। নদীতে অভিযানের ট্রলার দেখা গেলেই তাঁরা নৌকার গতি বাড়িয়ে পালিয়ে যান।

স্থানীয় বাসিন্দা নুরী আলম বলেন, অভিযানের ট্রলারের চেয়ে জেলেদের নৌকার গতি বেশি হওয়ায় তাঁদের আটক করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে গভীর রাতে এবং প্রশাসনের টহল শেষ হওয়ার পর নদীতে মাছ ধরার প্রবণতা বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে শুধু নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেই নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুতগতির নৌকা ব্যবহার করে জেলেরা নদীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় নজরদারি ও ধাওয়ার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

৭ অক্টোবর থেকে চলছে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা
উপজেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে গত ৭ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। এ সময়ে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত ও বিক্রি নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। নদীর বিভিন্ন এলাকায় টহল, অবৈধ জাল জব্দ এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগের মধ্যেও নদীর দুর্গম এলাকা ও শাখা নদীগুলোতে নজরদারির ঘাটতির সুযোগ নিচ্ছেন কিছু জেলে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, পেশাদার জেলেদের পাশাপাশি মৌসুমি জেলেরাও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছ ধরছেন। এতে নিয়ম মেনে নদীতে না নামা জেলেদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

৩৪ অভিযান ও পাঁচ মোবাইল কোর্টে আটক জেলে
উপজেলা মৎস্য বিভাগের তথ্যানুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে এ পর্যন্ত ৩৪টি অভিযান ও পাঁচটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে বেশ কয়েকজন জেলেকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকিরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।

অভিযানগুলোতে সাতটি নৌকা, দেড় লাখ মিটারের বেশি অবৈধ জাল এবং ২০৫ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা ভেঙে মাছ ধরার বিরুদ্ধে প্রশাসনের এসব পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলেও নদীতে অবৈধভাবে ইলিশ আহরণের ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। জব্দ করা জাল ও নৌকার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অভিযান চলাকালে জেলেরা পালিয়ে গেলে তাঁদের আটক করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং একই ধরনের অপরাধ পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি থাকে।

নিষেধাজ্ঞায় কর্মহীন জেলেদের সংসারে সংকট
নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদীতে মাছ ধরতে না পারায় অনেক জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ আর্থিক সংকটে ভুগছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সরকারি খাদ্যসহায়তা পেলেও তা দিয়ে পরিবারের সব খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ জেলেদের। একদিকে মা ইলিশ সংরক্ষণের জন্য মাছ ধরা বন্ধ রাখা জরুরি, অন্যদিকে এ সময়ে জেলেদের জীবিকা ও পরিবারের খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে জেলেদের জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে তাঁদের নিয়ম মেনে চলতে উৎসাহিত করা সহজ হতে পারে। স্থানীয়দের মতে, নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা জেলেরা যখন মাছ ধরতে পারছেন না, তখন অন্য কেউ গোপনে নদীতে মাছ ধরলে তা তাঁদের জন্য অন্যায্য পরিস্থিতি তৈরি করে। ফলে অবৈধভাবে ইলিশ শিকার বন্ধে নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি জেলেদের সহায়তা কার্যক্রমও গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

জনবল ও বাজেট সংকটে অভিযান পরিচালনা
মতলব উত্তর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সজিব চন্দ্র দে বলেন, জনবল সংকট, বাজেটের স্বল্পতাসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মা ইলিশ সংরক্ষণে সাধ্যমতো চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি জানান, সীমিত সামর্থ্যের কারণে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব না হলেও অভিযান মোটামুটি সফল হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো যৌথভাবে কাজ করছে এবং মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মেঘনা নদীতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি দুর্গম এলাকা ও শাখা নদীতে নজরদারি বাড়ানো, দ্রুতগতির নৌকা ব্যবহার করে পালিয়ে যাওয়া জেলেদের শনাক্ত করা এবং অবৈধ জাল জব্দের কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রজনন মৌসুমে ইলিশ সংরক্ষণে প্রয়োজন কার্যকর নজরদারি
মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ নিশ্চিত করা ইলিশের উৎপাদন ও ভবিষ্যৎ মৎস্যসম্পদ রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরা অব্যাহত থাকলে সংরক্ষণের লক্ষ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। মতলব উত্তরের মেঘনায় অভিযান ও জব্দ কার্যক্রম চললেও অবৈধ ইলিশ শিকার বন্ধ না হওয়ায় নিষেধাজ্ঞার বাকি সময়ে নজরদারি আরও কার্যকর করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে কর্মহীন জেলেদের সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে আইন মেনে চলার পরিবেশ তৈরিতে তা সহায়ক হতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ফেসবুকে অস্ত্র প্রদর্শন এনসিপি নেতাকে ঘিরে বিতর্ক

পাবনা সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৬ অপরাহ্ণ
ফেসবুকে অস্ত্র প্রদর্শন এনসিপি নেতাকে ঘিরে বিতর্ক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পাবনার সাঁথিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ওই নেতার নাম মুজাহিদ ফকির। তিনি এনসিপির সাঁথিয়া পৌর শাখার সদস্যসচিব। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অস্ত্রটি আসল কি না এবং সেটি প্রদর্শনের পেছনে কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ফেসবুক স্টোরিতে ভিডিওটি প্রকাশ করেন মুজাহিদ ফকির। প্রায় এক ঘণ্টা পর সেটি সরিয়ে নেওয়া হলেও এর আগেই অনেকে ভিডিওটি ডাউনলোড ও স্ক্রিনশট নিয়ে রাখেন। পরে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ওই নেতার এমন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান অনেকে।

ফেসবুক স্টোরি থেকে ছড়িয়ে পড়ে ভিডিও
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দুজন ব্যক্তির হাত ও পায়ের কিছু অংশ দেখা যায়। তাঁদের একজন মেঝেতে একটি আগ্নেয়াস্ত্র রাখেন। পরে অন্যজন সেটি হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করেন এবং প্রদর্শন করেন। তবে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের কারও মুখ কিংবা শরীরের অন্য কোনো অংশ স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি। ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই অস্ত্রটির প্রকৃতি ও প্রদর্শনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ভিডিওতে থাকা অস্ত্রটি প্রকৃত আগ্নেয়াস্ত্র কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি যাচাই করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়া হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পেজ ও আইডির মাধ্যমে সেটি ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকে একজন রাজনৈতিক নেতার এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

অস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে রাজনৈতিক নেতার সমালোচনা
এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম। তিনি বলেন, যে ধরনের অস্ত্রই হোক, এভাবে প্রদর্শনের উদ্দেশ্য জনমনে ভীতি বা আতঙ্ক সৃষ্টি করা বলে তাঁরা মনে করছেন। আব্দুল করিমের দাবি, রাজনৈতিক নেতাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা উচিত নয়। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী ভালো কাজে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করেও মন্ত্রিত্ব হারিয়েছেন। সেখানে রাজনৈতিক নেতা হয়ে মুজাহিদ ফকিরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ উঠছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা, অস্ত্র প্রদর্শনের মতো ঘটনা এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।

তবে অস্ত্র প্রদর্শনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুলিশের তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। ভিডিওতে প্রদর্শিত অস্ত্রের প্রকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনার প্রেক্ষাপট যাচাইয়ের ওপরই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করছে। ভিডিও প্রকাশের বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক এ বিষয়ে সাঁথিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. বকুল বলেন, কয়েক দিন ধরেই মুজাহিদ ফকিরের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না এবং ভিডিওটিও দেখেননি বলে জানান।

বকুল বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে শুনেছেন। খোঁজখবর নিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে পরে বিস্তারিত জানাতে পারবেন। এদিকে অভিযোগের বিষয়ে মুজাহিদ ফকিরের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে ভিডিওটি প্রকাশের কারণ কিংবা সেখানে থাকা অস্ত্র সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

আগের ভিডিও নিয়ে পুলিশের তদন্তে খেলনা পিস্তলের তথ্য
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, মুজাহিদ ফকির এর আগেও ফেসবুকে আগ্নেয়াস্ত্রের ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করেছিলেন। তবে সে সময় পুলিশের তদন্তে সেটি খেলনা পিস্তল বলে প্রমাণিত হয়েছিল। এবার ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে থাকা অস্ত্রটি প্রকৃত আগ্নেয়াস্ত্র কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান ওসি। তিনি বলেন, অস্ত্রটি আসল হলে সেটি প্রদর্শনের কোনো আইনি বৈধতা রয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ আরও তদন্ত করছে, রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল পদে থেকে জনমনে ভীতি বা আতঙ্ক সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছিল কি না। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ওসি।

অস্ত্রের সত্যতা যাচাইয়ের পর নেওয়া হবে ব্যবস্থা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র প্রদর্শনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় এখন মূলত দুটি বিষয় সামনে এসেছে—ভিডিওতে থাকা অস্ত্রটি আসল কি না এবং সেটি প্রদর্শনের পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, এসব বিষয় যাচাই করেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অস্ত্রটির প্রকৃতি বা ভিডিও প্রকাশের উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, ভিডিওর বিষয়বস্তু এবং অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ের পরই ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি