খুঁজুন
                               
, ,
           

ভেনিস উৎসব থেকে ওটিটি, নানা অভিজ্ঞতা জানালেন সুনেরাহ

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
ভেনিস উৎসব থেকে ওটিটি, নানা অভিজ্ঞতা জানালেন সুনেরাহ

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল অভিনয়, নাচ ও উপস্থাপনা—বিনোদনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন। সম্প্রতি ‘ব্লেন্ডার্স চয়েস–দ্য ডেইলি স্টার ওটিটি অ্যান্ড ডিজিটাল কনটেন্ট অ্যাওয়ার্ডস’-এর পঞ্চম আসরে তাঁর অভিনীত সিনেমা ‘দাগি’ দর্শকপ্রিয়তার স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে সিনেমাটি দর্শকের প্রশংসা পেলেও ব্যক্তিগতভাবে কোনো পুরস্কারের মনোনয়ন না পাওয়া নিয়ে তাঁকে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনয়জীবন, শাস্ত্রীয় নৃত্যের অভিজ্ঞতা, ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ এবং বদলে যাওয়া বিনোদনজগৎ নিয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। নিজের কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি পুরস্কারের বাইরেও দর্শকের ভালোবাসাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

উপস্থাপনায় স্বচ্ছন্দ ছিলেন না সুনেরাহ
২০২২ সালে ‘দ্য ডেইলি স্টার ওটিটি অ্যান্ড ডিজিটাল কনটেন্ট অ্যাওয়ার্ডস’-এর প্রথম আসরে উপস্থাপকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন সুনেরাহ। তবে উপস্থাপনা তাঁর জন্য খুব সহজ কোনো কাজ ছিল না বলে জানিয়েছেন তিনি। সুনেরাহর ভাষ্য, স্বভাবগতভাবে তিনি কিছুটা লাজুক। মানুষের সামনে কথা বলা কিংবা সাক্ষাৎকারে নিজের কথা তুলে ধরার ক্ষেত্রেও একসময় অস্বস্তি বোধ করতেন। ধীরে ধীরে সেই জড়তা কাটিয়ে উঠেছেন তিনি। অভিনেত্রী জানান, আগে তিনি এখনকার মতো এতটা কথা বলতে পারতেন না। সময়ের সঙ্গে মানুষের সামনে নিজেকে প্রকাশ করার অভ্যাস তৈরি হয়েছে। ফলে উপস্থাপনা ও সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন।

শাস্ত্রীয় নৃত্যে মুগ্ধ করেছেন দর্শকদের
অভিনয়ের পাশাপাশি শাস্ত্রীয় নৃত্যেও প্রশিক্ষণ রয়েছে সুনেরাহর। তবে তাঁর এই দক্ষতার কথা অনেকেরই জানা ছিল না। ওটিটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ‘পাতার বাঁশরি’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে নিজের এই প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। সুনেরাহ মনে করেন, ওই পরিবেশনার মাধ্যমে দর্শকেরা তাঁর ব্যক্তিত্বের আরেকটি দিক দেখার সুযোগ পেয়েছেন। অনেকেই যে তাঁর শাস্ত্রীয় নৃত্যের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতেন না, সেটিও উপলব্ধি করেছেন তিনি।

অনুষ্ঠানে অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদের সঙ্গে মঞ্চ ভাগাভাগি করাও ছিল তাঁর জন্য আনন্দের অভিজ্ঞতা। দুজনের ব্যক্তিত্ব আলাদা হলেও তাঁদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া রয়েছে বলে জানান সুনেরাহ। মহড়ার সময় ইরফানকে নাচের ধাপ শেখাতে হয়েছে তাঁকে। বারবার অনুশীলন করার কারণে নিজের পরিবেশনাও আরও ভালো হয়েছে বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী। তাঁর মতে, সহশিল্পীকে শেখানোর অভিজ্ঞতা তাঁকে নিজের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও বাড়তি মনোযোগী করেছে।

‘দাগি’ নিয়ে দর্শকের ভালোবাসাই বড় প্রাপ্তি
সুনেরাহ অভিনীত ‘দাগি’ সিনেমাটি দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছে। সম্প্রতি ছবিটি দর্শকপ্রিয়তার পুরস্কারও জিতেছে। কিন্তু সিনেমাটি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকেই অনেকে তাঁকে প্রশ্ন করছেন, এত প্রশংসা পাওয়ার পরও তিনি কেন ব্যক্তিগতভাবে কোনো পুরস্কারের মনোনয়ন পাননি। এ বিষয়ে সুনেরাহ জানিয়েছেন, ছবিটি মুক্তির পর থেকে এমন প্রশ্ন তাঁকে বারবার শুনতে হচ্ছে। দর্শকেরা সিনেমাটি পছন্দ করেছেন এবং পুরস্কার জেতার পরও তাঁর মনোনয়ন না পাওয়া নিয়ে কৌতূহল প্রকাশ করছেন।

তবে পুরস্কারকেই স্বীকৃতির একমাত্র মাপকাঠি মনে করেন না তিনি। তাঁর কাছে একটি সিনেমার সামগ্রিক সাফল্য এবং দর্শকের ভালোবাসাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুনেরাহর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি চান ছবিটি ভালো করুক। কারণ, ‘দাগি’তে তিনি একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন এবং ছবিটির সাফল্য তাঁর কাছেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ব্যক্তিগত পুরস্কার না পেলেও দর্শকের প্রশংসা তাঁর কাজের জন্য বড় প্রাপ্তি।

ভেনিস উৎসবে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ নিয়ে অভিজ্ঞতা
সম্প্রতি নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে গিয়েছিলেন সুনেরাহ। সেখানে ছবিটি দর্শকেরা কীভাবে গ্রহণ করছেন, তা জানার বিষয়ে তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল। অভিনেত্রী জানান, প্রদর্শনীর সময় তিনি দর্শকদের প্রতিক্রিয়া গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছিলেন। ছবির গল্প, নির্মাণশৈলী ও অভিনয় দর্শকের কাছে কেমন লাগছে, সেটি বোঝার চেষ্টা করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দর্শকেরা সিনেমাটি উপভোগ করেছেন এবং বিভিন্ন দিকের প্রশংসা করেছেন।

ছবিতে তাঁর বিয়ের সাজও দর্শকদের নজর কেড়েছে। একজন দর্শক জানতে চেয়েছিলেন, পুরো সিনেমাজুড়ে কীভাবে একই ধরনের বিয়ের সাজ বজায় রেখেছিলেন তিনি। সুনেরাহ জানান, ভারী লেহেঙ্গা, পূর্ণাঙ্গ বিয়ের সাজ এবং হাতে-পায়ে আলতার মতো রং ব্যবহার করে তাঁকে ঐতিহ্যবাহী কনের সাজে থাকতে হয়েছে। প্রতিদিন শুটিংয়ের জন্য প্রস্তুতি নিতেই কয়েক ঘণ্টা লেগে যেত। এমনকি মাথায় ঘোমটা ঠিকভাবে আটকে দেওয়ার পর শুটিং শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশরুমে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ত বলে জানান তিনি। পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল বেশ কষ্টসাধ্য। তবে পর্দায় সেই সাজ সুন্দরভাবে ফুটে ওঠায় পরিশ্রম সার্থক হয়েছে বলে মনে করেন অভিনেত্রী।

ইউটিউব নাটক নিয়ে বদলে যাচ্ছে দর্শকের অভ্যাস
বর্তমানে ইউটিউব নাটকের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। দর্শকের দেখার অভ্যাসে পরিবর্তন আসায় বিনোদনশিল্পকেও নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে বলে মনে করেন সুনেরাহ। তাঁর মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিলস দেখা এবং দ্রুত এক ভিডিও থেকে অন্য ভিডিওতে চলে যাওয়ার অভ্যাস দর্শকের মনোযোগের ধরন বদলে দিয়েছে। পাশাপাশি বিনা মূল্যে ইউটিউব কনটেন্ট দেখার সুযোগও এই মাধ্যমের জনপ্রিয়তা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

তবে দর্শকের এই পরিবর্তনকে শুধু ইউটিউব নাটকের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখতে চান না তিনি। তাঁর মতে, সব মাধ্যমেই মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করা প্রয়োজন। সুনেরাহ মনে করেন, নেটফ্লিক্সের মতো আন্তর্জাতিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে যেসব মানের কাজ দর্শকেরা দেখেন, স্থানীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোকেও সেদিকে নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে সিনেমা, সিরিজ ও টেলিভিশন নাটক—সব ধরনের কনটেন্টেরই প্রয়োজন রয়েছে।

কারণ, প্রতিটি মাধ্যমের দর্শক আলাদা এবং তাঁদের পছন্দও ভিন্ন। তাই দর্শকের রুচি ও চাহিদা বুঝে মানসম্মত কাজ তৈরি করতে পারলেই বিনোদনশিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী। অভিনয়, নাচ ও উপস্থাপনায় নিজের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় কনটেন্টের মান নিয়ে ভাবছেন সুনেরাহ বিনতে কামাল। তাঁর কথায় উঠে এসেছে, পুরস্কার গুরুত্বপূর্ণ হলেও দর্শকের ভালোবাসা, কাজের মান এবং নতুন কিছু শেখার অভিজ্ঞতাও একজন শিল্পীর পথচলায় সমান তাৎপর্যপূর্ণ।

কালের আলো/এসএ/জেএন

 

পরিবেশ বাঁচিয়ে পোকা দমনে নতুন ভরসা পার্চিং

রংপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪২ অপরাহ্ণ
পরিবেশ বাঁচিয়ে পোকা দমনে নতুন ভরসা পার্চিং

রংপুরের কাউনিয়ায় আমন ধানক্ষেতে ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী পার্চিং পদ্ধতি। জমিতে গাছের ডাল, বাঁশের কঞ্চি কিংবা ধইঞ্চা গাছ স্থাপন করে পোকাখেকো পাখিদের বসার ব্যবস্থা করছেন কৃষকেরা। এসব পাখি ধানের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফসল রক্ষায় ভূমিকা রাখছে। এতে কীটনাশকের ব্যবহার ও উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি পরিবেশের ওপরও ক্ষতিকর প্রভাব কমছে।

কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাউনিয়ায় পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে কীটনাশক বা বালাইনাশক কেনার খরচ প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। ফলে কম খরচে ধান চাষের সুযোগ তৈরি হওয়ায় এ পদ্ধতির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। কাউনিয়ার কৃষকেরা মূলত দুই ধরনের পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন—ডেড পার্চিং ও লাইভ পার্চিং। ডেড পার্চিং পদ্ধতিতে ধানক্ষেতের আইল বা জমির বিভিন্ন স্থানে গাছের ডাল, বাঁশের কঞ্চি কিংবা খুঁটি পুঁতে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, লাইভ পার্চিংয়ে ধইঞ্চা বা অন্য কোনো জীবিত গাছ লাগিয়ে পাখিদের বসার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা হয়।

এসব ডাল ও গাছের ওপর বসে ফিঙে, শালিক, বুলবুলি ও দোয়েলসহ বিভিন্ন পোকাখেকো পাখি ধানক্ষেতের ক্ষতিকর পোকামাকড় ধরে খায়। এতে জমিতে রাসায়নিক কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হয়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আমন ধানের সবুজ মাঠের মধ্যে কোথাও ধানের শিষ বের হয়েছে, আবার কোথাও ধান পাকতে শুরু করেছে। দিগন্তজোড়া ধানক্ষেতের মাঝে চোখে পড়ে ধইঞ্চা গাছ, গাছের ডাল ও বাঁশের কঞ্চি। সেগুলোর ওপর বসে পাখিদের পোকামাকড় ধরতে দেখা যায়। কৃষকেরা জানান, পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে একদিকে যেমন কীটনাশক কেনার খরচ কমছে, অন্যদিকে পরিবেশও তুলনামূলকভাবে দূষণমুক্ত থাকছে। পাখির বিষ্ঠা জমিতে প্রাকৃতিক জৈব উপাদান হিসেবে যোগ হয়ে মাটির উর্বরতা বাড়াতেও সহায়তা করতে পারে।

নিজপাড়া গ্রামের কৃষক নাছির উদ্দিন বলেন, পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় পার্চিং পদ্ধতি বেশ কার্যকর। এটি পরিবেশবান্ধব এবং খরচও অনেক কম। এ কারণে তারা কীটনাশকের পরিবর্তে এ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। গদাই গ্রামের ধানচাষি শাহজাহান মণ্ডল বলেন, এবার তাদের জমির ধান বেশ সবুজ ও সতেজ হয়েছে। পুরো ক্ষেতেই পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন তিনি। আর কিছুদিন পর সোনালি ধান ঘরে তুলতে পারবেন বলে আশা করছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আমন ধানের ক্ষতিকর পোকামাকড়ের মধ্যে রয়েছে মাজরা পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা, চুঙ্গি পোকা ও লেদা পোকার মথ। পার্চিংয়ের ওপর বসা পাখিরা এসব পোকার বিভিন্ন পর্যায়ের কীট ও কীড়া ধরে খায়। ফলে পোকামাকড়ের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং তাদের বংশবিস্তার কমাতে এ পদ্ধতি সহায়তা করতে পারে।

কৃষি বিভাগের মতে, পার্চিং পদ্ধতির অন্যতম সুবিধা হলো—এতে বাড়তি রাসায়নিক উপকরণ কেনার প্রয়োজন হয় না। সহজলভ্য গাছের ডাল বা বাঁশের কঞ্চি দিয়েই পাখির বসার ব্যবস্থা করা যায়। ফলে বিশেষ করে সীমিত পুঁজির কৃষকেরা কম খরচে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারেন।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শে আমন মৌসুমের শুরুতেই কৃষকেরা এ প্রাকৃতিক পদ্ধতি প্রয়োগ করছেন। ধানের চারা রোপণের ২০ দিনের মধ্যে জমিতে পার্চিং স্থাপন করা প্রয়োজন। পোকার আক্রমণ শুরু হওয়ার আগেই এটি স্থাপন করলে পোকা দমনে উপকার পাওয়া যায়। তিনি জানান, প্রতি বিঘা বা ৩৩ শতক আমন জমিতে অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি গাছের ডাল কিংবা বাঁশের কঞ্চি পুঁতে দেওয়া উচিত। এগুলোর উচ্চতা ধানগাছের সর্বোচ্চ উচ্চতার চেয়ে কমপক্ষে এক ফুট বেশি হওয়া দরকার। এতে পাখিরা সহজে বসতে পারে এবং ধানক্ষেতের ওপর নজর রাখতে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সালাহউদ্দিন জানান, চলতি আমন মৌসুমে কাউনিয়ায় ১১ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১১ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমিতে। এ মৌসুমে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৩৫৫ টন। তিনি বলেন, চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমন ধানের মাঠের অবস্থা বেশ ভালো। এতে কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের অধিকাংশ কৃষক এবার পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন পরামর্শের মাধ্যমে কৃষকদের এ পদ্ধতির উপকারিতা সম্পর্কে জানানো হচ্ছে। ফলে চলতি মৌসুমে আগের তুলনায় বেশি জমিতে পার্চিং ব্যবহার করা হয়েছে।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, কম খরচে প্রাকৃতিকভাবে ক্ষতিকর পোকা দমন, কীটনাশকের ব্যবহার কমানো এবং পরিবেশ রক্ষায় পার্চিং পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে পোকামাকড়ের আক্রমণ ও ফসলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নেওয়াও জরুরি। কৃষকদের মধ্যে এ পদ্ধতির ব্যবহার আরও বাড়ানো গেলে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। সহজলভ্য উপকরণ ও পাখির প্রাকৃতিক ভূমিকা কাজে লাগিয়ে কাউনিয়ার কৃষকেরা আমন ধান চাষে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

গোখাদ্যের দাম বাড়ায় দিশেহারা নবাবগঞ্জের খামারিরা

দিনাজপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ণ
গোখাদ্যের দাম বাড়ায় দিশেহারা নবাবগঞ্জের খামারিরা

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় গোখাদ্যের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন গরু পালনকারী কৃষক ও খামারিরা। খড়, ভুসি ও সবুজ ঘাস কিনতে আগের তুলনায় বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে তাদের। এতে বেড়ে গেছে গরু পালনের ব্যয়, কমে আসছে লাভের পরিমাণ। বিশেষ করে অল্প পুঁজি নিয়ে গরু পালন করা প্রান্তিক খামারিরা পড়েছেন বেশি চাপে। খামারিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নতুন ধানের প্রতিটি আঁটি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়। ভুসির বস্তার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা। অন্যদিকে, নেপিয়ার ঘাসের প্রতিটি চারা কিনতে হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। বাড়তি দামে এসব খাদ্য কিনে দুধ উৎপাদন ও গরু মোটাতাজাকরণে লাভের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

নবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কৃষিকাজের পাশাপাশি গবাদিপশু পালন বহু পরিবারের আয়ের অন্যতম উৎস। কেউ দুধ বিক্রি করে সংসার চালান, আবার কেউ গরু মোটাতাজা করে বিক্রির মাধ্যমে বাড়তি আয় করেন। কিন্তু গোখাদ্যের দাম বাড়তে থাকায় এসব খামারের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, পশুখাদ্যের দাম যে হারে বাড়ছে, সে অনুপাতে দুধের বিক্রিমূল্য কিংবা গরুর বাজারদর বাড়ছে না। ফলে খামারিদের লাভ কমে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অনেকেই গরু পালনে আগ্রহ হারাতে পারেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নবাবগঞ্জে ৯৫টি দুগ্ধ খামার, ৮৫টি ছাগলের খামার ও ৩৮টি ভেড়ার খামার রয়েছে। এসব খামারের সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে আয় ও কর্মসংস্থানের বিষয়টি জড়িত।

উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের কুন্দন গ্রামের ক্ষুদ্র খামারি সাহেব আলী বলেন, গরুর খাবারের ব্যবস্থা করতেই এখন তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আগে যে টাকায় কয়েক দিনের খাবার কেনা যেত, এখন সেই টাকায় অনেক কম খাবার পাওয়া যায়। গরুকে না খাইয়ে রাখার সুযোগ নেই। ফলে সংসারের অন্যান্য খরচের পাশাপাশি পশুখাদ্যের টাকা জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

সাহেব আলী জানান, বর্তমানে নতুন ধানের প্রতিটি আঁটি ২০ থেকে ৩০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এতে গরু পালনের দৈনন্দিন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। দুধ উৎপাদনকারী খামারি জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েল বলেন, গরুর খাবারের খরচ বেড়ে গেলে দুধ বিক্রি করে তেমন লাভ থাকে না। নিয়মিত খাবার দিতে না পারলে দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে বেশি দাম দিয়েই খাবার কিনতে হচ্ছে। তিনি জানান, আগে ভুসির বস্তা ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় পাওয়া যেত। বর্তমানে তা প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। পাশাপাশি নেপিয়ার ঘাসের প্রতিটি চারার দাম পড়ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা।

গরুর খাবারের ব্যয় শুধু খড় ও ভুসি কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে খৈল, সবুজ ঘাস, শ্রমিকের মজুরি, চিকিৎসা ও পরিচর্যার খরচও যুক্ত রয়েছে। বাড়তি ব্যয় সামলাতে গিয়ে কোনো খামারি খাবারের পরিমাণ বা মান কমিয়ে দিলে গবাদিপশুর পুষ্টিতে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এতে গরুর ওজন বৃদ্ধি, দুধ উৎপাদন ও প্রজননক্ষমতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি পুষ্টির ঘাটতি পশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকেও দুর্বল করতে পারে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মানিক রহমান বলেন, খাদ্যের ঘাটতি হলে গরুর ওজন, দুধ উৎপাদন ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই খামারিদের সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি নিয়মিত পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো জরুরি। খাদ্যের দাম কিংবা সরবরাহ নিয়ে সমস্যা হলে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরামর্শ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. বিপুল কুমার চক্রবর্তী বলেন, গবাদিপশুর জন্য শুধু খড় দিলেই হবে না। এর সঙ্গে পর্যাপ্ত সবুজ ঘাস, পরিষ্কার পানি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম দানাদার খাবার দিতে হবে। খামারিরা বাড়ির আশপাশে নেপিয়ারসহ উপযোগী ঘাস চাষ করতে পারেন। পাশাপাশি মৌসুমে খড় সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করলে সংকটের সময় পশুখাদ্যের চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, গোখাদ্যের বাজারদর ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি খামারিদের ঘাস চাষে প্রশিক্ষণ, উন্নত পদ্ধতিতে খড় সংরক্ষণ এবং সাশ্রয়ী পশুখাদ্য উৎপাদনে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। ক্ষুদ্র খামারিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন ব্যয়ের চাপ কমানো সম্ভব হতে পারে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে গবাদিপশু পালন কৃষকের সম্পদ, পরিবারের বাড়তি আয়ের উৎস এবং অনেকের জীবিকার অবলম্বন। তাই গোখাদ্যের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব পড়তে পারে দুধ উৎপাদন ও স্থানীয় খামার ব্যবস্থায়। খামারিদের প্রত্যাশা, সাশ্রয়ী দামে পশুখাদ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

রাজধানীতে ৪৩ মামলা, গ্রেপ্তার ৬৬২ জন

আদালত প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ণ
রাজধানীতে ৪৩ মামলা, গ্রেপ্তার ৬৬২ জন

রাজধানী ঢাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৬২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন অপরাধে ৪৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন ও আমদানিনিষিদ্ধ নেশাজাতীয় দ্রব্যসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ডিএমপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মিরপুর বিভাগে সর্বোচ্চ ১৪০ জন রয়েছেন। এ ছাড়া ওয়ারী বিভাগে ৯৩ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৯২ জন, মতিঝিল বিভাগে ৮২ জন, লালবাগ বিভাগে ৭৮ জন, গুলশান বিভাগে ৭৮ জন, উত্তরা বিভাগে ৫৭ জন এবং রমনা বিভাগে ৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ গ্রেপ্তার করেছে ছয়জনকে।

অভিযানকালে পুলিশ একটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি চাকু, ৪ হাজার ৬২১ পিস ইয়াবা, ৭১২ গ্রাম গাঁজা এবং ৩০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া ৩০০ বোতল আমদানিনিষিদ্ধ অবৈধ নেশাজাতীয় দ্রব্য ইস্কাফ, একটি মোটরসাইকেল, পাঁচটি মোবাইল ফোন ও নগদ ৩৩ হাজার ৮২০ টাকা উদ্ধার করা হয়। ডিএমপি জানায়, রোববার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি