খুঁজুন
                               
, ,
           

দুই বছরে শেষ হওয়ার কথা, পাঁচ বছরেও অসম্পূর্ণ সেতু

টাঙ্গাইল সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫১ অপরাহ্ণ
দুই বছরে শেষ হওয়ার কথা, পাঁচ বছরেও অসম্পূর্ণ সেতু

টাঙ্গাইল মির্জাপুরে কলিমাজানি নদীর ওপর সেতু নির্মাণের কাজ দুই বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পাঁচ বছরেও তা সম্পন্ন হয়নি। প্রায় ৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুটির কাজ বারবার বন্ধ ও ধীরগতিতে চলায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই পাড়ের বাসিন্দারা। এখনো নদী পারাপারে খেয়া নৌকার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, শ্রমিকসহ স্থানীয়দের। কবে নাগাদ সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা কাটছে না।

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে কলিমাজানি নদীর ওপর সেতু নির্মাণের জন্য ৯ কোটি ৪৫ লাখ ১৮ হাজার ৬৮৮ টাকা ব্যয়ে দরপত্র আহ্বান করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। মেসার্স দুর্গা এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড আব্দুস সালাম খান নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটির কার্যাদেশ পায়। কার্যাদেশ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি নির্মাণকাজ শুরু হয়।

তবে সেতুর মূল কাজের অর্ধেকও শেষ হওয়ার আগে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তাগিদে মাঝেমধ্যে কাজ শুরু হলেও কিছুদিন পর আবার তা বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে দুই বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও সেতুর কাজ শেষ হয়নি। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পর ২০২৫ সালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার শাহজাহান পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর দুই পাড় থেকে সেতুর নির্মাণকাজ এগিয়েছে। তবে মাঝখানের কিছু অংশ এখনো অসম্পূর্ণ। ফলে আগের মতোই খেয়াঘাট দিয়ে নৌকায় নদী পারাপার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা।

এলাকাবাসী জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গোড়াই সোহাগপুর থেকে পিচঢালাই সড়কটি কলিমাজানি নদীর পাড় পর্যন্ত বিস্তৃত। নদীর উত্তর পাড় থেকে খেয়া নৌকায় পার হয়ে শিক্ষার্থীরা কলিমাজানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পথহারা উচ্চবিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। অন্যদিকে দক্ষিণ পাড় থেকে নৌকায় নদী পার হয়ে গোড়াই ইউনিয়ন পরিষদ এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানায় যাতায়াত করেন সাধারণ মানুষ ও শ্রমিকেরা।

সেতুটি নির্মিত হলে দুই পাড়ের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি কলিমাজানি, নয়াপাড়া ও ভানুয়াবহ গ্রামের বাসিন্দারা কালিয়াকৈর উপজেলার আড়াইগঞ্জ হয়ে ধামরাই, মানিকগঞ্জ ও ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাবেন।

কলিমাজানি গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব বাসিন্দা আব্দুল হালিম আক্ষেপ করে বলেন, ‘অনেক আশা করেছি, ব্রিজের ওপর দিয়ে হেঁটে নদীর ওপারে যাব। কাজের যে গতি, তাতে সেই আশা পূরণ হবে কি না বলতে পারছি না।’

সাবঠিকাদার মো. পারভেজ বলেন, আগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি কাজ পাওয়ায় এই সেতুর কাজে ধীরগতি দেখা দেয়। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সংকটও ছিল বলে তিনি শুনেছেন। বর্তমানে তাঁরা নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দ্রুত সেতুর মূল কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম বলেন, সেতুটির কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শুরুতে ভালোভাবেই কাজ করেছিল। পরে হঠাৎ কাজে গাফিলতি দেখা দেয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির অংশীদারেরা কাজ করছেন। সেতুর মূল কাজ শেষ করতে আর বেশি সময় লাগবে না বলে আশা করছেন তাঁরা।

তবে দীর্ঘদিনেও সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ কবে কমবে, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

নারিকেলবাগে প্লাস্টিক কারখানায় আগুন প্রাণ গেল একজনের

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
নারিকেলবাগে প্লাস্টিক কারখানায় আগুন প্রাণ গেল একজনের

ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি প্লাস্টিক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার নারিকেলবাগ এলাকার আমান প্লাস্টিক কারখানায় এ আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিটের প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম অগ্নিকাণ্ডে একজন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে কেরানীগঞ্জের নারিকেলবাগ এলাকায় আমান প্লাস্টিক কারখানায় আগুন লাগার খবর আসে। খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট। দুপুর ১২টা ৩২ মিনিটে তারা সেখানে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। এর মধ্যে পাঁচটি ইউনিট সরাসরি আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে অংশ নেয়। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় সোমবার দুপুর ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

অগ্নিকাণ্ডে একজনের মৃত্যু হলেও তিনি কারখানার শ্রমিক, কর্মচারী নাকি অন্য কেউ—তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুনে কারখানার কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। কারখানাটিতে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে। কেরানীগঞ্জের এই অগ্নিকাণ্ডে একজনের প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আগুনের সূত্রপাত, নিহত ব্যক্তির পরিচয় এবং কারখানার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া গেলে বিস্তারিত জানা যাবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

সাবমেরিন ক্যাবল ছিঁড়ে বিদ্যুৎহীন পুরো ইউনিয়ন

ফরিদপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৬ অপরাহ্ণ
সাবমেরিন ক্যাবল ছিঁড়ে বিদ্যুৎহীন পুরো ইউনিয়ন

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মাবেষ্টিত দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নে প্রায় আট মাস ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। নদীর তলদেশ দিয়ে স্থাপন করা সাবমেরিন ক্যাবল ছিঁড়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় ইউনিয়নের প্রায় দেড় হাজার পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, আর ব্যবহার করা যাচ্ছে না ফ্রিজ, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম।

পদ্মাবেষ্টিত দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নে নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ক্যাবলটি ছিঁড়ে যাওয়ায় প্রায় আট মাস ধরে পুরো ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সংযোগ পুনরায় চালু না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন কাজকর্ম থেকে শুরু করে শিক্ষাসহ নানা ক্ষেত্রে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাঁদের।

বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যার পর পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করতে না পারায় নিয়মিত পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। ইউনিয়নের নন্দলালপুর গ্রামের বাসিন্দা নয়ন শেখ বলেন, প্রায় আট মাস ধরে তাঁদের এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। সন্ধ্যা হলেই অন্ধকারে থাকতে হয়। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়াসহ দৈনন্দিন নানা কাজেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর দাবি জানান তিনি।

আরেক বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। টেলিভিশন, ফ্রিজসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে চলতে থাকায় তাঁরা খুব কষ্টে আছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সমস্যার সমাধান করে এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর অনুরোধ জানান। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পরিবারগুলোর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন বলেন, সাবমেরিন ক্যাবল ছিঁড়ে যাওয়ায় ইউনিয়নের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে এলাকার প্রায় দেড় হাজার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করা হোক। সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, পদ্মার তলদেশে তীব্র স্রোতের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনে বিলম্ব হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর দোহার জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) খায়রুল বাকী খান ইত্তেফাক ডিজিটালকে বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য স্থাপিত সাবমেরিন ক্যাবলটি অনেক পুরোনো। পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতের কারণে এতে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। নদীর তলদেশে প্রবল স্রোত থাকায় আপাতত নতুন করে ক্যাবল স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে নতুন সাবমেরিন ক্যাবলের বরাদ্দ পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। তাঁর আশা, আগামী নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে নতুন করে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে।দীর্ঘ আট মাসের ভোগান্তির পর নতুন সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের আশ্বাসে বিদ্যুৎ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা। তবে নতুন সংযোগ স্থাপন না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের দুর্ভোগ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এখন স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করবে এবং দেড় হাজার পরিবারের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

বাংলাদেশের আতিথেয়তায় মুগ্ধ ভারতীয় নিলাম সঞ্চালক

ক্রীড়া প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০০ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের আতিথেয়তায় মুগ্ধ ভারতীয় নিলাম সঞ্চালক

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবালের আমন্ত্রণে ডি থ্রি ট্রফির নিলাম পরিচালনা করতে বাংলাদেশে এসেছেন ভারতের অভিজ্ঞ নিলাম সঞ্চালক চারু শর্মা। ব্যস্ততা থাকলেও তামিমের অনুরোধ ফেলতে পারেননি তিনি। বাংলাদেশে এসে নিজের বাড়িতে ফেরার মতো অনুভূতি হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন এই ভারতীয় নিলাম সঞ্চালক।

সোমবার ডি থ্রি ট্রফির নিলাম পরিচালনার ফাঁকে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন চারু শর্মা। বাংলাদেশে ফিরে পুরোনো স্মৃতি মনে পড়ছে জানিয়ে তিনি কৃতজ্ঞতা জানান তামিম ইকবালকে।বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ পাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে চারু শর্মা বলেন, ‘অতীতে কয়েকবার আসা হয়েছে। অনেক দিন পর বাংলাদেশে এলাম। তামিম ইকবালকে ধন্যবাদ, সে-ই আমাকে কল করে। আমি একটু ব্যস্ত ছিলাম। তবে বললাম, একদম ভেবো না, আমি চলে আসব। এখানে এসে ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে নিজের বাড়িতে আছি।’

চারুর এই বক্তব্যে বাংলাদেশের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা এবং তামিমের আমন্ত্রণের গুরুত্ব ফুটে উঠেছে। ব্যস্ত সূচির মধ্যেও আমন্ত্রণ গ্রহণ করে ডি থ্রি ট্রফির নিলাম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। বাংলাদেশে প্রথম আসার সুনির্দিষ্ট সময়টি স্পষ্ট মনে নেই চারু শর্মার। তবে তাঁর ধারণা, ২০০৪ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সময় প্রথমবার এ দেশে এসেছিলেন তিনি। সেই সফরের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করেন এই নিলাম সঞ্চালক। চারু বলেন, ‘মনে নেই, তবে সম্ভবত ২০০৪ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে। খুব উপভোগ করেছিলাম। অনেক বন্ধু হয়েছিল। প্রতি রাতে আমরা ঘুরতে বের হতাম। ধারাভাষ্যকার অনেকেই আমার ভালো বন্ধু। একজন শামীম চৌধুরী। আবারও সবার সাথে দেখা করার সুযোগ হয়েছে, আমি খুবই খুশি।’

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশে ফিরে পুরোনো পরিচিতদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়ে আনন্দিত চারু। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে আগের সফরের স্মৃতি এবং বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত যোগাযোগের বিষয়টি। ডি থ্রি ট্রফির নিলাম আয়োজনের ধারণাটিও পছন্দ হয়েছে চারু শর্মার। তাঁর মতে, এ ধরনের পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হতে দলগুলোর কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে নিলাম দীর্ঘায়িত না করে প্রতিযোগিতাটিকে আকর্ষণীয়ভাবে পরিচালনা করা জরুরি।

নিলাম পরিচালনা নিয়ে নিজের আগ্রহের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি অনেক কাজই করি। তবে নিলাম পরিচালনা আমার প্রিয় কাজ। এবং বিশেষ করে এখানে যে কনসেপ্টে নিলাম হচ্ছে, খুব ভালো লাগল। সবার বুঝতে একটু সময় লাগতে পারে। বেশি সময়ও লাগানো যাবে না। ২-৩ দিন ধরে নিলাম করলে তো আর হবে না। তবে এক্সাইটিং করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। ক্যাটাগরি ‘এ’ তো রোমাঞ্চকর ছিল। এখন দ্রুত শেষ হয়ে যাবে।’ চারুর মতে, নতুন পদ্ধতির সঙ্গে দলগুলোর মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও নিলামের গতি ধরে রাখতে হবে। একই সঙ্গে পুরো আয়োজনকে রোমাঞ্চকর করে তোলার চেষ্টাও করছেন তিনি।

ডি থ্রি ট্রফির নিলাম পরিচালনার দায়িত্বের পাশাপাশি চারু শর্মার এই সফর বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর পুরোনো সম্পর্ক ঝালিয়ে নেওয়ারও সুযোগ তৈরি করেছে। আগের সফরের বন্ধু ও পরিচিতদের সঙ্গে আবার দেখা করতে পেরে তিনি খুশি। বাংলাদেশে এসে নিজের বাড়ির মতো অনুভূতির কথা জানানো এবং নিলাম আয়োজনের প্রশংসা—দুই বিষয়েই তাঁর ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। তামিম ইকবালের আমন্ত্রণে আসা এই সফরে তাই নিলাম পরিচালনার পাশাপাশি পুরোনো স্মৃতিও নতুন করে ফিরে এসেছে চারু শর্মার কাছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি