নিখোঁজ তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার তুরাগ নদ থেকে
নিখোঁজ হওয়ার পরদিন রাজধানীর তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। বুধবার বিকেলে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে বসবাসকারী এই সাবেক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে উত্তরখান থানার ডিউটি অফিসার শাহীনুর জামান মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাজাবাড়ি ঘাটের কাছে উদ্ধার মরদেহ
নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন জানান, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তুরাগ নদের রাজাবাড়ি ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আইফোনের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত
নৌ পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মরদেহ উদ্ধারের সময় প্রথমে ওই ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি। তাঁর বয়স আনুমানিক ২৮ বছর বলে ধারণা করা হয়। পরনে ছিল সাদা পায়জামা ও কালো জামা। হাতে একটি ঘড়ি ছিল এবং পকেটে পাওয়া যায় একটি আইফোন। পরে পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরি। তাঁর বাবার নাম কে এম এনায়েত হেলাল। তিনি সপরিবার রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।
মঙ্গলবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন তাহসিফ
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তাহসিফ গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নিখোঁজ হন। এরপর বুধবার বিকেলে তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ হওয়ার পর কীভাবে তিনি নদীর কাছে পৌঁছালেন এবং কী পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাঁর নিখোঁজ হওয়া ও মৃত্যুর মধ্যবর্তী সময়ের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
২০২৪ সালে চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন পাঁচ কর্মকর্তা
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২৮ আগস্টের আশপাশের সময়ে তাহসিফ সৌরিসহ বিমান বাহিনীর আরও চার কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। তবে তাঁদের চাকরিচ্যুতির কারণ কিংবা ওই ঘটনার সঙ্গে তাহসিফের মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি
আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]