কাঠ-কাগজে জিয়াবাড়ির ক্ষুদ্র প্রতিরূপ, প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিতে চান তরুণ
কাঠ, হার্ডবোর্ড, কার্ডবোর্ড ও কাগজের মতো সাধারণ উপকরণ দিয়ে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়িতে অবস্থিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক পৈতৃক নিবাস ‘জিয়াবাড়ি’র ক্ষুদ্র প্রতিরূপ তৈরি করেছেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের তরুণ শিল্পী মো. কাওছার আলী। এক মাসের পরিশ্রমে তৈরি এই শিল্পকর্মটি এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে উপহার হিসেবে তুলে দিতে চান তিনি।
কাওছার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কিশামত সর্বানন্দ গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী মো. নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি রংপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি মিনি আর্ট বা ক্ষুদ্র শিল্পকর্ম তৈরি করে আয় করছেন তিনি। নিজের উপার্জন দিয়ে পড়াশোনার খরচ মেটানোর পাশাপাশি পরিবারকেও সহযোগিতা করছেন।
ইউটিউব দেখে জিয়াবাড়ি তৈরির পরিকল্পনা
প্রায় এক মাস আগে ইউটিউবে বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়িতে অবস্থিত ঐতিহাসিক জিয়াবাড়ির ছবি দেখে অনুপ্রাণিত হন কাওছার। এরপর নিজের জমানো টাকা ও বাবার আর্থিক সহযোগিতায় কাঠ, হার্ডবোর্ড, কার্ডবোর্ড, কাগজ, প্লাস্টিক, আঠা ও রং সংগ্রহ করেন। দীর্ঘ এক মাসের পরিশ্রমে তৈরি করেন বাড়িটির ক্ষুদ্র প্রতিরূপ।
এর আগে গ্রামীণ বসতবাড়ি, চায়ের দোকান, মুদি দোকান ও পাঠাগারসহ বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষুদ্র প্রতিরূপ তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা পেয়েছেন তিনি। এসব শিল্পকর্মের চাহিদা বাড়ায় মিনি আর্ট তৈরি এখন তাঁর আয়েরও একটি উৎস হয়ে উঠেছে।
শিল্পকর্ম দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়
কাওছারের তৈরি ক্ষুদ্র জিয়াবাড়িটি দেখতে প্রতিদিন তাঁর বাড়িতে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। অনেকে এর কারুকাজ খুঁটিয়ে দেখছেন, আবার কেউ স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি তুলছেন।
নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়ে কাওছার আলী বলেন, তাঁর সবচেয়ে বড় ইচ্ছা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে নিজের হাতে তৈরি ক্ষুদ্র জিয়াবাড়িটি উপহার দেওয়া। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে কিছুটা সময় দিলে দীর্ঘ পরিশ্রমের এই সৃষ্টি তাঁর হাতে তুলে দিতে পারবেন বলে আশা করেন তিনি।
ছেলের সৃজনশীলতায় খুশি বাবা
কাওছারের বাবা নুরুল ইসলাম ছেলের এই উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কাপড়ের ব্যবসা করে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলের শখের কাজেও সহযোগিতা করেছেন তিনি।
নুরুল ইসলাম বলেন, ছেলের সৃজনশীল কাজে তাঁরা সব সময় উৎসাহ দিয়েছেন। সরকারি ও উচ্চপর্যায়ের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে কাওছার আরও এগিয়ে যেতে পারবে বলে তিনি আশা করেন।
সহযোগিতার আশ্বাস স্থানীয় নেতাদের
কাওছারের শিল্পকর্মের প্রশংসা করেছেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মাহামুদুল হাসান প্রামাণিক। তিনি কাওছারের প্রতিভাকে সাধুবাদ জানিয়ে তাঁর তৈরি শিল্পকর্মটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
এ ছাড়া গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিকও কাওছারের কাজের প্রশংসা করেছেন এবং তাঁকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
সাধারণ উপকরণ দিয়ে ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম তৈরি করে কাওছার দেখিয়েছেন, শখ ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে আত্মনির্ভরতার পথ তৈরি করা সম্ভব। এখন নিজের হাতে গড়া ক্ষুদ্র জিয়াবাড়িটি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়ার স্বপ্ন পূরণের অপেক্ষায় রয়েছেন এই তরুণ শিল্পী।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি
আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]