খুঁজুন
                               
, ,
           

কিউবা থেকে হলিউড, যেভাবে তারকা হলেন আনা দে আরমাস

বিনোদন ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
কিউবা থেকে হলিউড, যেভাবে তারকা হলেন আনা দে আরমাস

হলিউডে নিজের সৌন্দর্য ও অভিনয়দক্ষতা দিয়ে আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন কিউবান-স্প্যানিশ অভিনেত্রী আনা দে আরমাস। রহস্য, থ্রিলার থেকে শুরু করে জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র—বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের নজর কেড়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয় ‘নাইভস আউট’ সিনেমায় অভিনয়ের পর। পর্দায় সাবলীল উপস্থিতি ও চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতা তাকে হলিউডের আলোচিত অভিনেত্রীদের একজন করে তুলেছে।

কিউবা থেকে হলিউডের পথে
আনা দে আরমাসের জন্ম ১৯৮৮ সালের ৩০ এপ্রিল কিউবার সান্তা ক্রুজ দেল নর্তে শহরে। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল তার। সেই আগ্রহ থেকেই অভিনয় নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন এবং অল্প বয়সেই অভিনয়জগতে পা রাখেন।

কিউবার চলচ্চিত্রে কাজের মধ্য দিয়ে অভিনয়জীবন শুরু হলেও পরে স্পেনে পাড়ি জমান আনা। সেখানে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পান। এরপর হলিউডে নিজের অবস্থান তৈরি করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। নতুন ভাষা ও ভিন্ন সংস্কৃতির পরিবেশে কাজের চ্যালেঞ্জ থাকলেও ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে নিজের জায়গা করে নেন তিনি।

‘নাইভস আউট’ থেকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি
আনা দে আরমাসের ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া রহস্যধর্মী চলচ্চিত্র ‘নাইভস আউট’-এর মাধ্যমে। এতে মার্তা ক্যাব্রেরা চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা পান তিনি। এই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারে সেরা অভিনেত্রী—মিউজিক্যাল বা কমেডি বিভাগে মনোনয়নও পেয়েছিলেন।

এরপর একের পর এক বড় প্রযোজনার চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ আসে তার সামনে। ‘নো টাইম টু ডাই’ সিনেমায় প্যালোমা চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়েন। অল্প সময়ের উপস্থিতিতেও তার প্রাণবন্ত অভিনয় চলচ্চিত্রটির উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ হয়ে ওঠে।

মেরিলিন মনরোর চরিত্রে অভিনয়
২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ব্লন্ড’ চলচ্চিত্রে হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী মেরিলিন মনরোর চরিত্রে অভিনয় করেন আনা। চরিত্রটির জন্য তাকে দীর্ঘ প্রস্তুতি নিতে হয়েছিল। মেরিলিনের ব্যক্তিত্ব, কণ্ঠস্বর ও জীবনের নানা দিক পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করেন তিনি। সিনেমাটি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা হলেও আনার অভিনয় আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়। এ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি অস্কারে সেরা অভিনেত্রী বিভাগে মনোনয়ন পান।

এই অভিজ্ঞতা তার অভিনয়জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করে। একই সঙ্গে প্রমাণিত হয়, শুধু সৌন্দর্যনির্ভর চরিত্র নয়, জটিল ও চ্যালেঞ্জিং ভূমিকাতেও নিজেকে তুলে ধরতে সক্ষম তিনি।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আগ্রহ
পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি আনা দে আরমাসের ব্যক্তিগত জীবনও প্রায়ই সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় আসে। বিশেষ করে হলিউডের পরিচিত তারকাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ রয়েছে। অভিনেতা টম ক্রুজের সঙ্গে তার সম্পর্কের গুঞ্জনও একসময় আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। তবে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সাধারণত প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা বলেন না আনা।

তারকাখ্যাতির বাইরে অভিনয়কে গুরুত্ব দেওয়াই আনার ক্যারিয়ারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ভিন্নধর্মী চরিত্রে কাজের আগ্রহ এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে ধারাবাহিক উপস্থিতি তাকে হলিউডের উল্লেখযোগ্য অভিনেত্রীদের কাতারে জায়গা করে দিয়েছে। সামনে আরও নতুন চরিত্রে তাকে দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন ভক্তরা।

কালের আলো/এএএন/জেএন

সাইবার হয়রানির অভিযোগে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৬ অপরাহ্ণ
সাইবার হয়রানির অভিযোগে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ

ফ্যাশন ডিজাইনার ও নারী উদ্যোক্তা সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরীর মানহানি, ভুল তথ্য প্রচার ও সাইবার হয়রানির অভিযোগে মডেল-অভিনেত্রী তানজিন নাহার তিশাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে তিশার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে সংশ্লিষ্ট ছবি ও লেখা দুই দিনের মধ্যে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায়ের চেম্বার থেকে এ আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।

ফেসবুক পোস্ট ঘিরে অভিযোগ
নোটিশে বলা হয়েছে, গত ২৭ অক্টোবর তানজিন নাহার তিশা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সানায়া আনামের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ছবি ও ভুল তথ্য প্রকাশ করেন। এর মাধ্যমে সানায়ার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া গত বছরের ৭ নভেম্বর ফেসবুক মেসেঞ্জারে সানায়াকে ভাইরাল করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তিশার নামে উদ্ধৃত একটি বার্তায় বলা হয়, ‘ফেমাস হইলে হইলো, আমি তোমার ছবি আপলোড করে দিব নে’। পরবর্তী সময়ে সানায়ার ছবি ফেসবুকে প্রকাশের মাধ্যমে তার সম্মানহানি করা হয়েছে বলেও নোটিশে দাবি করা হয়েছে।

পেশাগত পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তির অভিযোগ
আইনি নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তিশার ফেসবুক পোস্টে দুজনকে বোন হিসেবে উল্লেখ করার মধ্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ও উপহাসের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সানায়া আনাম একজন ফ্যাশন ডিজাইনার এবং নারী উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত হলেও পোস্টে তাদের পেশাগত পরিচয় নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া ছবি প্রকাশের বিষয়টিকে সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩-এর লঙ্ঘন হিসেবে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুই দিনের মধ্যে পোস্ট সরানোর নির্দেশ
নোটিশে তানজিন নাহার তিশাকে তা পাওয়ার দুই দিনের মধ্যে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে সানায়া আনামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ছবি ও লেখা সরিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা পালন না করলে আর্থিক মানহানির অভিযোগে এবং সাইবার ট্রাইব্যুনালসহ দেশের প্রচলিত আদালতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তানজিন নাহার তিশার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কালের আলো/এএএন/জেএন

মন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে ধরা পড়ল চিকিৎসক অনুপস্থিতি

কুমিল্লা সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২০ অপরাহ্ণ
মন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে ধরা পড়ল চিকিৎসক অনুপস্থিতি

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে ১২ চিকিৎসককে কর্মস্থলে পাননি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পাঁচ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। অন্যত্র সংযুক্তিতে থাকা সাত চিকিৎসককে নিজ কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনারও নির্দেশনা দিয়েছেন মন্ত্রী।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকদের উপস্থিতি, রোগীদের সেবার মান এবং হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। এ সময় রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যার খোঁজ নেন। পাশাপাশি দুই অসহায় ব্যক্তিকে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

৫১ চিকিৎসকের মধ্যে অনুপস্থিত ১২ জন
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট চিকিৎসক রয়েছেন ৫১ জন। মন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনের সময় তাঁদের মধ্যে ১২ জনকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। অনুপস্থিত চিকিৎসকদের মধ্যে সাতজন অন্যত্র সংযুক্তিতে দায়িত্ব পালন করছেন। বাকি পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে নিজ কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। এ পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা পাঁচ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে অন্যত্র সংযুক্তিতে থাকা সাত চিকিৎসককে তাঁদের নির্ধারিত কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনার নির্দেশনা দেন তিনি। চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং উপজেলা পর্যায়ে রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

১৫১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে হাসপাতাল
পরিদর্শনকালে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে বর্তমান অবস্থা থেকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণাও দেন সরদার সাখাওয়াত হোসেন। হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে সেখানে আধুনিক চিকিৎসাসুবিধা ও বিশেষায়িত সেবার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিকল্পনার আওতায় হাসপাতালে ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া প্রসূতি মায়েদের জন্য ২০ শয্যার ওয়ার্ড, নবজাতকদের জন্য ২০ শয্যার ব্যবস্থা, পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক ফিজিওথেরাপি সেবা এবং একটি ব্রেস্টফিডিং সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব সুবিধা চালু করা গেলে কিডনি রোগী, গর্ভবতী মা, নবজাতক এবং ফিজিওথেরাপি প্রয়োজন এমন রোগীদের স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

১৬ দিনের মধ্যে দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্নের পরিকল্পনা
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হাসপাতালের উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া আগামী ১৫ থেকে ১৬ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আগামী ১ নভেম্বর নতুন করে যোগদান করতে যাওয়া ৪৮ জন চিকিৎসকের মধ্য থেকে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক পদায়নের আশ্বাস দেন তিনি। উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসকের ঘাটতি কমানো এবং রোগীদের চিকিৎসার জন্য দূরের হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কমাতে প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অসন্তোষ
হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আগের তুলনায় উন্নতি দেখলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাও জরুরি।

হাসপাতালসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বর্জ্য ফেলার জন্য উপজেলায় উপযুক্ত জমির সংকট রয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানান মন্ত্রী। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উপযুক্ত ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা-ও বিবেচনা করা হবে। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে পরিচালনা করা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি পরিদর্শনে গুরুত্ব পায়।

বিকল যানবাহন মেরামত ও অ্যাম্বুলেন্সের পরিকল্পনা
পরিদর্শনকালে হাসপাতালের বিকল যানবাহনগুলোর বিষয়েও খোঁজ নেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এসব যানবাহন কন্ডেমনেশন প্রক্রিয়ায় নেওয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন তিনি। অন্যদিকে, হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স সংকটের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, আগামী অর্থবছরের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। জরুরি রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা আধুনিক করার উদ্যোগ
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। বর্তমান সরকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, মুরাদনগর হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান আগের তুলনায় ভালো মনে হয়েছে। তবে পরিদর্শনের সময় কিছু অনিয়ম তাঁর নজরে এসেছে। এসব বিষয়ে চিকিৎসকদের সতর্ক করা হয়েছে। চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় জনবল পদায়ন, আধুনিক চিকিৎসাসুবিধা সম্প্রসারণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের মাধ্যমে মুরাদনগরের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজ ও কার্যকর করার আশ্বাস দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

মাকে হারালেন চিত্রনায়িকা পপি, ঢাকায় প্রথম জানাজা

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৮ অপরাহ্ণ
মাকে হারালেন চিত্রনায়িকা পপি, ঢাকায় প্রথম জানাজা

মা হারালেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপি। তাঁর মা মরিয়ম বেগম আর নেই। মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর মগবাজারের ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

চলচ্চিত্র পরিচালক বদিউল আলম খোকন মরিয়ম বেগমের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহের প্রথম জানাজা ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে খুলনায় গ্রামের বাড়িতে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হবে।

দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন নানা শারীরিক জটিলতায়
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরিয়ম বেগম দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগ ও বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ১৪ অক্টোবর দিবাগত রাতে রাজধানীর গুলশানের নিকেতনে নিজ বাসায় স্ট্রোক করেন তিনি। পরে রাত পৌনে ২টার দিকে তাঁকে মগবাজারের ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। মঙ্গলবার রাতে পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। এর মধ্যেই রাত দেড়টার দিকে মারা যান তিনি।

দীর্ঘদিন পর্দার আড়ালে পপি
একসময় ঢাকাই চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় করেছেন পপি। জনপ্রিয় বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের ভালোবাসা অর্জন করেন তিনি। নিজের অভিনয় দিয়ে চলচ্চিত্রাঙ্গনে তৈরি করেছিলেন স্বতন্ত্র পরিচিতি।

তবে দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রয়েছেন এই অভিনেত্রী। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে মায়ের মৃত্যুর খবরটি নতুন করে শোকের আবহ তৈরি করেছে চলচ্চিত্র অঙ্গনে।

মরিয়ম বেগমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন তাঁর পরিচিতজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। মায়ের মৃত্যুতে পপি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এমডিএইচ/জেএন