খুঁজুন
                               
, ,
           

আইনি জটিলতায় তানজিন তিশা, আটকে আছে অভিষেক সিনেমা

বিনোদন ডেস্ক,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
আইনি জটিলতায় তানজিন তিশা, আটকে আছে অভিষেক সিনেমা

জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশার ক্যারিয়ার ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। একদিকে শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে আইনি জটিলতা, অন্যদিকে অভিষেক সিনেমা ‘সোলজার’-এর মুক্তি নিয়ে সংশয়। শাড়ি বিতর্ককে কেন্দ্র করে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলা ট্রিবিউন। সর্বশেষ মামলায় তাকে আগামী ২৩ নভেম্বর আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) শাড়ি নিয়ে করা আগের মামলার বাদীকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নতুন মামলাটি করেন ফ্যাশন ডিজাইনার ও ভেলমেট-ইয়ুথ ম্যাগাজিনের সম্পাদক সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরী। ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মু. মাহবুব-উল-আলমের আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে মামলাটি গ্রহণ করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রনিও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

হত্যার হুমকির অভিযোগ বাদীর

সানায়া চৌধুরীর অভিযোগ, শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে তার নারাজি আবেদন গত রোববার (২৫ অক্টোবর) মঞ্জুর করেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম। শুনানি ও সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণের পর আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেন। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

বাদীর দাবি, আদালতের এ আদেশের পর তানজিন তিশা বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন এবং তার বাসায় লোকজন পাঠিয়েছেন। এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি নতুন মামলা করেছেন।

সানায়া চৌধুরী বলেন, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা করেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তানজিন তিশার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সামাজিক মাধ্যমে তিশার প্রশ্ন

নতুন মামলার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তানজিন তিশা ঘটনাটিকে তার সম্মান, ক্যারিয়ার ও অর্জন ধ্বংসের পরিকল্পিত প্রচেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন।

তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, অভিযোগ উঠলেই কি তা সত্য হয়ে যায়? আদালতের রায়ের আগেই সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজনকে দোষী সাব্যস্ত করা কতটা যুক্তিসংগত, সে প্রশ্নও তুলেছেন অভিনেত্রী।

তিশার বক্তব্য, তার কাছে ঘটনার বিষয়ে তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। তবে সেগুলো কীভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন রেখেছেন। অর্থাৎ, অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছেন তিনি।

শাড়ি নিয়ে আগের মামলায় জামিন

শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে গত বছরের ২৭ অক্টোবর তানজিন তিশার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন এ্যাপোনিয়া ফ্যাশনের নির্বাহী মো. আমিনুল ইসলাম। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির অনলাইন পেজ থেকে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি পছন্দ করার পর সেটি অভিনেত্রীর বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। শাড়িটি পরে প্রতিষ্ঠানটির প্রচার করার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদী।

বাদীর দাবি, ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি শাড়িটি গ্রহণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিশা সেটি পরে প্রচার করেননি। এ ঘটনায় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়। মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদনও করা হয়েছিল।

চলতি বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে হাজির হয়ে জামিন চান তানজিন তিশা। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিনেত্রী দাবি করেছিলেন, শাড়িটি তাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। তার ভাষ্য, দীর্ঘ ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে একটি শাড়ির ঘটনায় আদালতে আসতে হওয়া তার জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি সঠিক ও ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

অনিশ্চয়তায় অভিষেক সিনেমা ‘সোলজার’

আইনি জটিলতার পাশাপাশি তানজিন তিশার প্রথম সিনেমা ‘সোলজার’ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। গত বছর শাকিব খানের সঙ্গে সিনেমাটিতে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন অভিনেত্রী।

গত বছরের অক্টোবরে সিনেমাটির শুটিং শুরু হয়। পরে আড়াই মিনিটের একটি ভিডিও প্রকাশ করে ওই বছরের ডিসেম্বরে মুক্তির সম্ভাব্য সময় জানানো হয়েছিল। তবে সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করে মুক্তির সময় ২০২৬ সালের ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়।

বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সিনেমাটির শুটিং এখনো শেষ হয়নি। এ ছাড়া নির্মাতার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। দফায় দফায় শিল্পীদের শিডিউল নেওয়া হলেও শুটিং শেষ না হওয়ায় সিনেমাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ফলে একদিকে একাধিক মামলার আইনি প্রক্রিয়া, অন্যদিকে প্রথম সিনেমার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়—সব মিলিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখে রয়েছেন তানজিন তিশা। তবে মামলাগুলোর অভিযোগ এখনো বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়; অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

সিদ্ধ ডিম নাকি অমলেট, কোনটিতে বেশি পুষ্টি?

লাইফস্টাইল ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
সিদ্ধ ডিম নাকি অমলেট, কোনটিতে বেশি পুষ্টি?

বাঙালির প্রতিদিনের খাবারে ডিমের উপস্থিতি বেশ পরিচিত। সকালের নাশতায় সিদ্ধ ডিম, দুপুরে বা রাতে ডিমের তরকারি, আবার কখনো অমলেট কিংবা পোচ—নানা উপায়ে খাওয়া হয় পুষ্টিকর এই খাবার। তবে ডিম সিদ্ধ করে খাওয়া ভালো, নাকি ভেজে খেলে বেশি পুষ্টি পাওয়া যায়, তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে।

কারও ধারণা, ডিম ভাজলে এর প্রোটিন নষ্ট হয়ে যায়। আবার কেউ মনে করেন, সিদ্ধ ডিমেই সব পুষ্টিগুণ সবচেয়ে ভালোভাবে পাওয়া যায়। পুষ্টিবিজ্ঞানের তথ্য বলছে, রান্নার পদ্ধতি বদলালেও ডিমের প্রোটিনের মোট পরিমাণে সাধারণত বড় কোনো পরিবর্তন হয় না। তবে রান্নায় ব্যবহৃত তেল, মাখন কিংবা অন্যান্য উপকরণ খাবারটির মোট ক্যালরি ও চর্বির পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

প্রোটিনের পরিমাণ কি বদলে যায়?
ডিমকে উন্নত মানের প্রোটিনের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একটি বড় ডিমে সাধারণত প্রায় ৬ থেকে ৬ দশমিক ৩ গ্রাম প্রোটিন থাকে। সিদ্ধ করা হোক কিংবা ভাজা—ডিমের নিজস্ব প্রোটিনের পরিমাণ মোটামুটি একই থাকে।

রান্নার সময় তাপের প্রভাবে প্রোটিনের গঠনে পরিবর্তন ঘটে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ডিনেচারেশন’। এতে প্রোটিন নষ্ট হয়ে যায় না; বরং শরীরের হজমপ্রক্রিয়ায় তা ভেঙে শোষণ করা সহজ হতে পারে।

তবে ভাজা ডিমে তেল, মাখন, দুধ বা চিজ যোগ করলে খাবারটির ক্যালরি, চর্বি ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ বদলে যায়। তাই সিদ্ধ ও ভাজা ডিমের পুষ্টিগত পার্থক্য বুঝতে শুধু প্রোটিন নয়, রান্নায় ব্যবহৃত উপকরণও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

কাঁচা ডিম খেলে কি বেশি পুষ্টি পাওয়া যায়?
অনেকে মনে করেন, রান্না না করে কাঁচা ডিম খেলে বেশি পুষ্টি পাওয়া যায়। কিন্তু এ ধারণার পক্ষে যথেষ্ট ভিত্তি নেই। বরং রান্না করা ডিমের প্রোটিন শরীর তুলনামূলকভাবে বেশি দক্ষতার সঙ্গে হজম ও শোষণ করতে পারে।

তাপের প্রভাবে ডিমের প্রোটিনের গঠন পরিবর্তিত হওয়ায় হজমকারী এনজাইমের পক্ষে তা ভেঙে ফেলা সহজ হয়। এ ছাড়া কাঁচা বা অপর্যাপ্ত রান্না করা ডিমে সালমোনেলার মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকার ঝুঁকি রয়েছে। এসব ব্যাকটেরিয়া খাদ্যবাহিত অসুস্থতার কারণ হতে পারে।

তাই পুষ্টি পাওয়ার আশায় কাঁচা ডিম খাওয়ার বদলে ভালোভাবে রান্না করা ডিম খাওয়াই নিরাপদ।

সিদ্ধ, পোচ নাকি ভাজা—কোনটি ভালো?
পুষ্টির দিক থেকে তিন ধরনের ডিমই ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে কোনটি বেশি উপযোগী, তা নির্ভর করে রান্নার পদ্ধতি এবং ব্যক্তির খাদ্যাভ্যাসের ওপর।

সিদ্ধ ডিম: এতে বাড়তি তেল বা মাখন লাগে না। ফলে অতিরিক্ত ক্যালরি ছাড়াই ডিমের প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি পাওয়া যায়। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে এটি সুবিধাজনক বিকল্প।

পোচ ডিম: অল্প পানিতে রান্না করা পোচ ডিমেও বাড়তি তেল ছাড়াই পুষ্টি পাওয়া সম্ভব। তবে ডিমটি যথেষ্ট সময় রান্না করা জরুরি।

ভাজা ডিম: অল্প তেলে হালকা আঁচে ভাজলে ডিমের পুষ্টিগুণ ভালোভাবেই বজায় থাকে। তবে বেশি তেল, মাখন বা চিজ ব্যবহার করলে ক্যালরি ও চর্বির পরিমাণ বেড়ে যায়।

খুব বেশি তাপে দীর্ঘ সময় রান্না করা কিংবা ডিম পুড়িয়ে ফেলা এড়িয়ে চলা ভালো। এতে স্বাদ ও গুণগত মানের অবনতি হতে পারে।

প্রতিদিন ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে কী খেয়াল রাখবেন?
ডিমের পুষ্টিগুণ পেতে রান্নার পদ্ধতির পাশাপাশি সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। ডিমের সঙ্গে শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর খাবার রাখলে খাদ্যতালিকায় পুষ্টির বৈচিত্র্য বাড়ে।

যাঁদের হৃদ্‌রোগ, কোলেস্টেরল বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসমস্যা রয়েছে, তাঁদের ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী ডিম খাওয়ার পরিমাণ নির্ধারণ করা ভালো। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

তাহলে কোনটি বেছে নেবেন?
সব মিলিয়ে, সিদ্ধ ডিম ও অল্প তেলে ভাজা ডিম—দুটিই পুষ্টিকর। শুধু ভাজা হয়েছে বলে ডিমের প্রোটিন নষ্ট হয়ে যায়, এমন নয়। তবে বাড়তি তেল বা মাখন ছাড়াই খাওয়া যায় বলে সিদ্ধ ডিম ক্যালরি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধাজনক।

তাই স্বাদ ও অভ্যাস অনুযায়ী ডিম খেতে পারেন। মূল বিষয় হলো, ডিম ভালোভাবে রান্না করা, অতিরিক্ত তেল ব্যবহার না করা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা।

কালের আলো/এএএন/জেএন

পানি পান করার সময় যে বিষয়গুলো জানা জরুরি

লাইফস্টাইল ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ণ
পানি পান করার সময় যে বিষয়গুলো জানা জরুরি

দাঁড়িয়ে পানি পান করলে কিডনির ক্ষতি হয়, হজমে সমস্যা দেখা দেয়, এমনকি হাঁটুরও ক্ষতি হতে পারে—এমন ধারণা অনেকের মধ্যেই প্রচলিত। ছোটবেলা থেকেই অনেকে বসে পানি পান করার পরামর্শ শুনে বড় হয়েছেন। কিন্তু এসব কথার পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে?

স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রচলিত ধারণা আর বৈজ্ঞানিক তথ্যের মধ্যে সব সময় মিল থাকে না। বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে পানি পান করলেই কিডনি, হজমপ্রক্রিয়া কিংবা হাঁটুর ক্ষতি হয়—এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। পানি পান করার সময় শরীরের অবস্থানের চেয়ে ধীরে পান করা এবং শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

দাঁড়িয়ে পানি পান করলে কি কিডনি নষ্ট হয়?
অনেকের ধারণা, দাঁড়িয়ে পানি পান করলে পানি সরাসরি কিডনিতে চলে যায়। এতে কিডনি স্বাভাবিকভাবে কাজ করার সুযোগ পায় না। তবে শরীরের পানি গ্রহণ ও ব্যবহারের প্রক্রিয়া এমন নয়।

পানি প্রথমে পরিপাকতন্ত্রে প্রবেশ করে। সেখান থেকে শোষিত হয়ে রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অংশে পৌঁছায়। কিডনি রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ও অতিরিক্ত পানি ছেঁকে শরীরের তরল ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

দাঁড়িয়ে পানি পান করার কারণে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়—এমন নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। কিডনির সুস্থতা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং বিদ্যমান শারীরিক সমস্যার যথাযথ চিকিৎসা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

হজমের ওপর কি প্রভাব পড়ে?
দাঁড়িয়ে পানি পান করলে হজমের সমস্যা হয়—এমন ধারণাও প্রচলিত। তবে বসে ও দাঁড়িয়ে পানি পান করার কারণে হজমপ্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য ঘটে, এমন শক্তিশালী প্রমাণ নেই।

পানি শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি পুষ্টি উপাদান পরিবহন, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং মল নরম রাখতে সহায়তা করে। পানি পান করার সময় তাড়াহুড়া করলে কারও কারও অস্বস্তি হতে পারে। তাই ধীরে ধীরে পানি পান করা এবং একবারে অতিরিক্ত পানি পান না করাই ভালো।

হাঁটুতে ব্যথা বা জয়েন্টের ক্ষতি হয়?
দাঁড়িয়ে পানি পান করলে হাঁটুতে ব্যথা হয় কিংবা জয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়—এমন দাবিরও পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

হাঁটুর ব্যথার পেছনে আঘাত, অতিরিক্ত চাপ, বয়সজনিত পরিবর্তন, বাত বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে। শুধু দাঁড়িয়ে পানি পান করাকে হাঁটুর ক্ষতির কারণ হিসেবে বিবেচনা করার যৌক্তিক ভিত্তি নেই।

তবে আগে থেকেই হাঁটুতে ব্যথা, ভারসাম্যের সমস্যা কিংবা দাঁড়িয়ে থাকতে অসুবিধা থাকলে বসে পানি পান করাই সুবিধাজনক হতে পারে।

তাহলে কীভাবে পানি পান করা ভালো?
পানি বসে পান করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলে সেভাবেই পান করতে পারেন। আবার সুস্থ অবস্থায় দাঁড়িয়ে পানি পান করলেও সাধারণত তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।

পানি পানের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা ভালো—

তৃষ্ণা পেলে পানি পান করুন এবং সারা দিনে শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী তরল গ্রহণ করুন।
একবারে অনেকটা পানি পান না করে ধীরে ধীরে পান করুন।
গরম আবহাওয়া, শরীরচর্চা বা অতিরিক্ত ঘামের সময় পানির চাহিদা বাড়তে পারে।
কিডনি, হৃদ্‌যন্ত্র বা অন্য কোনো রোগের কারণে চিকিৎসক পানি পানের পরিমাণ সীমিত করে দিলে সেই নির্দেশনা মেনে চলুন।

প্রচলিত ধারণা নয়, গুরুত্ব দিন নির্ভরযোগ্য তথ্যে
সব মিলিয়ে, দাঁড়িয়ে পানি পান করলেই কিডনি নষ্ট হয়, হজমে সমস্যা দেখা দেয় কিংবা হাঁটুর ক্ষতি হয়—এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। সুস্থ মানুষের জন্য বসে বা দাঁড়িয়ে পানি পান করার চেয়ে পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ এবং পান করার অভ্যাস বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তাই লোকমুখে প্রচলিত কথা শুনে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যতথ্যের ওপর আস্থা রাখা উচিত।

কালের আলো/এমডিএইচ/জেএন

বাজারে স্বস্তি নেই, কমেছে শুধু আলু-পেঁয়াজের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৪ অপরাহ্ণ
বাজারে স্বস্তি নেই, কমেছে শুধু আলু-পেঁয়াজের দাম

রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যে চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। কয়েকটি পণ্য ছাড়া অধিকাংশ সবজি কেজিপ্রতি ৮০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। কিছু পণ্যের দাম কমলেও সামগ্রিক বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। গত সপ্তাহের তুলনায় আলু ও পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা করে কমেছে। দেশি রসুনের দাম কমেছে ২০ টাকা এবং চায়না আদার দাম কমেছে ৪০ টাকা। তবে ডিম, মাংস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদি পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বর কাঁচাবাজার এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজার করতে আসা ক্রেতাদের ভাষ্য, সবজিসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে প্রয়োজন অনুযায়ী কেনাকাটা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য সংসারের খরচ সামলানো ক্রমেই কঠিন হচ্ছে।

বেশির ভাগ সবজির দাম ৮০ টাকার ওপরে
মিরপুরের বাজারে দেশি টমেটো প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, ভারতীয় টমেটো ১২০ টাকা এবং কাঁচা টমেটো ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি গাজরের দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকা, চায়না গাজর ১৪০ টাকা এবং ভারতীয় নতুন আলু ১৬০ টাকা। এ ছাড়া লম্বা বেগুন ৮০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ১০০ টাকা এবং কালো গোল বেগুন ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শিম ও দেশি শসার দাম কেজিপ্রতি ১২০ টাকা। উচ্ছে ও করল্লা ৮০ টাকা, কাকরোল ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ১০০ টাকা, হাইব্রিড পটল ৮০ টাকা এবং দেশি পটল ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে চিচিঙ্গা, ধুন্দল, ঝিঙা ও বরবটির দাম কেজিপ্রতি ৮০ টাকা। কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, মূলা ৬০ টাকা এবং কচুরমুখী ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ১৬০ টাকা এবং ধনেপাতা ২০০ টাকা। হাইব্রিড শসা ৮০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকার ও মানভেদে প্রতিটি লাউ ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চালকুমড়া ৬০ টাকা, ফুলকপি ৬০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি হালি কাঁচা কলা ও লেবু বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়।

দাম ওঠানামার পেছনে সরবরাহের প্রভাব
সবজির দামের পার্থক্যের বিষয়ে বিক্রেতা মো. শাহ আলম বলেন, পণ্যের মান ও গুণগত বৈশিষ্ট্যের ওপর দাম নির্ভর করে। ভালো মানের সবজির দাম তুলনামূলক বেশি থাকে। অন্যদিকে, ভ্যান বা বাজারের বাইরের রাস্তার পাশে বিক্রি হওয়া সবজির দাম কিছুটা কম হতে পারে।

আরেক বিক্রেতা জানান, প্রতিদিন সবজির দাম ওঠানামা করে। বাজারে সরবরাহ কমে গেলে দাম বাড়ে। আবার পরিবহনের জন্য ট্রাক না পাওয়া কিংবা হঠাৎ বৃষ্টির মতো পরিস্থিতিও দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিক্রেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সবজির দাম নির্ধারণে সরবরাহ, পরিবহন ও পণ্যের মানের মতো বিষয়গুলো ভূমিকা রাখে। তবে ক্রেতাদের জন্য এসব ওঠানামার মধ্যেও প্রয়োজনীয় সবজি কেনার খরচ সামলানো কঠিন হয়ে উঠছে।

‘নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বেঁচে থাকা কঠিন
টেংরা ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা, মেনি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, বেলে ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং বোয়াল মাছ ৬০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। রূপচাঁদা মাছ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে। নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদি পণ্যের বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্যাকেটজাত পোলাওয়ের চাল প্রতি কেজি ২৩০ টাকা এবং খোলা পোলাওয়ের চাল মানভেদে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ছোট মসুর ডালের দাম কেজিপ্রতি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, মোটা মসুর ডাল ৯০ টাকা, বড় মুগ ডাল ১৪০ টাকা, ছোট মুগ ডাল ১৭০ টাকা, খেসারির ডাল ৮৫ টাকা, বুটের ডাল ১২০ টাকা, ছোলা ১০৫ টাকা এবং মাষকলাইয়ের ডাল ১৮০ টাকা। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ২০৪ টাকা। খোলা সয়াবিন তেল কেজিপ্রতি ২০৫ টাকা এবং খোলা সরিষার তেল লিটারপ্রতি ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৌটাজাত ও খোলা ঘির দাম কেজিপ্রতি ১ হাজার ৪০০ টাকা। প্যাকেটজাত ও খোলা চিনি ১১০ টাকা কেজি, দুই কেজির প্যাকেট ময়দা ১৭০ টাকা এবং দুই কেজির প্যাকেট আটা ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মসলার বাজারেও দাম বেশ চড়া। প্রতি কেজি এলাচ ৫ হাজার ৪০০ টাকা, দারুচিনি ৫০০ টাকা, লবঙ্গ ১ হাজার ৪০০ টাকা, সাদা ও কালো গোলমরিচ ১ হাজার ৩০০ টাকা করে এবং জিরা ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাজুবাদামের দাম কেজিপ্রতি ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং কাঠবাদাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা। সব মিলিয়ে, আলু-পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দাম কিছুটা কমলেও রাজধানীর বাজারে খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্য ক্রেতাদের ওপর চাপ তৈরি করছে। সবজি, মাছ, মাংস ও মুদি পণ্যের বর্তমান দামে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের নিয়মিত সংসার খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি