খুঁজুন
                               
, ,
           

ইঞ্জিনের অভাবে বাড়ছে না রেলের পণ্য পরিবহন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৭ অপরাহ্ণ
ইঞ্জিনের অভাবে বাড়ছে না রেলের পণ্য পরিবহন

ইঞ্জিন সংকটের কারণে পণ্য পরিবহনে সক্ষমতা বাড়াতে পারছে না বাংলাদেশ রেলওয়ে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকায় কনটেইনার পরিবহন এবং বিভিন্ন গন্তব্যে জ্বালানি ও খাদ্যশস্য বহনকারী ট্রেন চলাচল করলেও প্রয়োজনের তুলনায় এসব ট্রেনের সংখ্যা কম। নতুন ইঞ্জিন সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী সেগুলো বহরে যুক্ত হতে ২০২৯ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের রেলপথ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে উপস্থাপিত মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৯ সালে ৬০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহ করা গেলে কনটেইনার, জ্বালানি, খাদ্যশস্যসহ অন্যান্য পণ্যবাহী ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে রেলওয়ের রাজস্ব আয় বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।রেলওয়ের ইঞ্জিন সংকট মোকাবিলায় একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। নতুন করে ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদন করা হয়েছে। পাশাপাশি আগে অনুমোদিত আরও ৩০টি লোকোমোটিভ সংগ্রহের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত গ্রিন রেলওয়ে প্রকল্পের আওতায় আরও ২০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রেলওয়ের পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকায় কনটেইনার আনা-নেওয়া রেলওয়ের পণ্য পরিবহন কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর পাশাপাশি বিভিন্ন গন্তব্যে জ্বালানি ও খাদ্যশস্য পরিবহন করা হয়। রেলপথে তুলনামূলক কম খরচে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পণ্য পরিবহনের সুযোগ থাকায় এ খাতে আয় বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় ইঞ্জিনের অভাবে পণ্যবাহী ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো যাচ্ছে না। ফলে রেলপথে পণ্য পরিবহনের যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না। পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে পারলে রেলওয়ের রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি সড়কপথের ওপর পণ্যবাহী যানবাহনের চাপ কমানোরও সুযোগ তৈরি হতে পারে।

মোংলা বন্দর থেকেও রেলপথে পণ্য পরিবহন করা হচ্ছে, তবে তা সীমিত পরিসরে। বর্তমানে বন্দরটি থেকে টাঙ্গাইলের সয়দাবাদ ও জয়পুরহাটে মোলাসেস বা চিটাগুড় পরিবহন করা হচ্ছে।বৈঠকে জানানো হয়, মোংলা বন্দর থেকে বর্তমানে অন্য কোনো পণ্য পরিবহনের চাহিদা রেলওয়ের কাছে নেই। এদিকে মোংলা-বেনাপোল রুটে ৯৫ ও ৯৬ নম্বর ট্রেন চলাচল করছে।মোংলা বন্দর থেকে ঢাকায় ট্রেন চালুর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে পর্যায়ক্রমে ২০০টি ব্রডগেজ কোচ যুক্ত হবে। এরই মধ্যে ১৮টি কোচ এসে পৌঁছেছে। বাকি কোচগুলো পাওয়া এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর মোংলা-ঢাকা রুটে ট্রেন পরিচালনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এ রুটে ট্রেন চালুর নির্দিষ্ট সময়সূচি বৈঠকে জানানো হয়নি।

বৈঠকে রেলওয়ের অনলাইন টিকিট বিক্রি ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। বর্তমানে অনলাইন টিকিট বিক্রি ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে সহজ ডটকম। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের চুক্তির মেয়াদ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হবে।

চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অনলাইন টিকিট ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন ভেন্ডর নিয়োগে দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কমিটিকে জানানো হয়। নতুন প্রতিষ্ঠান নিয়োগের মাধ্যমে অনলাইন টিকিট ব্যবস্থাপনা কীভাবে পরিচালিত হবে, তা পরবর্তী প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রেলওয়ের বাজেট বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং অপারেটিং রেশিও পর্যালোচনা করা হয়। রেলওয়েকে ধীরে ধীরে লোকসান থেকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেয় সংসদীয় কমিটি।এ ছাড়া লেভেল ক্রসিংয়ে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, আইনজীবী নিয়োগ এবং আদালতে বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তির বিষয়ে আলোচনা ও নির্দেশনা দেওয়া হয়।

কমিটির পক্ষ থেকে ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং বেনাপোল থেকে খুলনা পর্যন্ত সকালে কমিউটার ট্রেন চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন রেলপথ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলি আসগার এমপি। এতে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদসহ কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।এ সময় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

ইরানে যুদ্ধ নাকি কূটনীতি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার হাতে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ণ
ইরানে যুদ্ধ নাকি কূটনীতি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার হাতে?

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনার উদ্যোগ নিচ্ছে ইরানের সরকারপন্থী মধ্যপন্থী ও উদারপন্থী শিবির। তবে দেশটির কট্টরপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো কোনো ধরনের সমঝোতার বিরোধিতা করে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত নয়।

ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এ নিয়ে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব তীব্র হয়ে উঠেছে। একদিকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ঘনিষ্ঠরা সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধান খুঁজছেন, অন্যদিকে কট্টরপন্থীরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র কেবল শক্তির ভাষাই বোঝে। ফলে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আন্তর্জাতিক চাপের পাশাপাশি ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশটির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হয়। সংঘাতের প্রভাবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলায় ইরানসহ আরব দেশগুলোর অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।

রাজপথে কট্টরপন্থীদের ‘আপস নয়, লড়াই চাই’ স্লোগান
ইরানের বড় শহরগুলোতে প্রায় ২০০ দিন ধরে রাতের বেলায় সমাবেশ করছেন কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর সমর্থকেরা। শুরুতে এসব সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রতিবাদ এবং সরকারের প্রতি সমর্থন জানানো হলেও সময়ের সঙ্গে তা সুসংগঠিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রূপ নিয়েছে। এখন এসব সমাবেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগের বিরোধিতা করা হচ্ছে।

কট্টরপন্থীদের স্লোগানের মধ্যে রয়েছে, ‘আপস নয়, আত্মসমর্পণ নয়—আমেরিকার বিরুদ্ধে লড়াই চাই’ এবং ‘শত্রুর সঙ্গে আলোচনা মাতৃভূমির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’।

গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তেহরানে ফেরার সময়ও বিক্ষোভ করেন তাঁদের সমর্থকেরা। ওই অধিবেশনে পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের নিন্দা জানানোর পাশাপাশি কূটনীতির গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন। প্রেসিডেন্টের কাছে আলোচনাবিরোধী অবস্থান জানানোর প্রচেষ্টা হিসেবেই ওই বিক্ষোভকে দেখা হয়।

রাজপথের কর্মসূচির বাইরেও ইরানের ক্ষমতাকাঠামোয় কট্টরপন্থীদের প্রভাব রয়েছে। তেহরানের নগর প্রশাসন ও পার্লামেন্টে তাঁদের শক্ত অবস্থান রয়েছে। ধর্মীয় বক্তা, শোকগাথা পাঠকারী, শিক্ষাঙ্গন ও গণমাধ্যমেও তাঁদের প্রভাব বিস্তৃত।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিশংসনের উদ্যোগ
কট্টরপন্থী পায়দারি ফ্রন্টের ঘনিষ্ঠ পার্লামেন্ট সদস্য আমির হোসেন সাবেতি বলেছেন, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করা উচিত নয়।

সাবেতির ভাষ্য, ইরানকে ধ্বংস করার লক্ষ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে আসেনি। বরং দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালানোর উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায় রয়েছে ওয়াশিংটন। তাঁর মতে, যারা আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ ঠেকানো বা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আশা করেছিলেন, তাঁরা আন্তর্জাতিক রাজনীতির বাস্তবতা বুঝতে পারেননি।

তিনি বলেন, ‘বিশ্ব শুধু একটি ভাষাই বোঝে। তা হলো শক্তির ভাষা।’

এ অবস্থানের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে ইরানের পার্লামেন্টেও। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে অভিশংসনের প্রস্তাব জমা দিয়েছেন কট্টরপন্থী সদস্যরা। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আরাগচির নিউইয়র্ক সফরের পর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এ ছাড়া বিদেশি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেওয়াকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার একটি প্রস্তাবও পার্লামেন্টে বিবেচনাধীন রয়েছে। এমন আইন কার্যকর হলে তা কট্টরপন্থীদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে অভিশংসনের উদ্যোগের মধ্যেও সরকারপন্থী রাজনৈতিক শিবির যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান ধরে রেখেছে।

আলোচনার পথ এখনো খোলা দেখছেন পেজেশকিয়ানের ঘনিষ্ঠরা
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের ঘনিষ্ঠ সাংবাদিক দাভুদ হেশমতির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলে কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। তাঁর ধারণা, ইরানের সরকার উৎখাতের বড় লক্ষ্য থেকে সরে এসে ওয়াশিংটন তুলনামূলক সীমিত কিছু লক্ষ্য অর্জনের দিকে মনোযোগ দিতে পারে। এতে কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

হেশমতি বলেন, কট্টরপন্থীরা মনে করেন, কয়েক দফা সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র নিজে থেকেই যুদ্ধ থেকে সরে যাবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি তাঁদের সেই ধারণাকে সমর্থন করে না।

তাঁর মতে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া বা যুদ্ধের অবসান নিয়ে যাঁরা আপত্তি তুলছেন, তাঁদের অবস্থান কার্যত সংঘাত দীর্ঘায়িত করার পক্ষে। অথচ যুদ্ধ থেকে কী অর্জন করা সম্ভব, সে বিষয়ে তাঁদের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই।

হেশমতি আরও বলেন, ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোই হতে পারে সংঘাত অবসানের পথ। সামরিক শক্তির ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য সব সময় যুদ্ধের প্রয়োজন হয় না; কূটনৈতিক আলোচনা ও চুক্তিও বিকল্প হতে পারে।

তবে অতীতের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি হওয়া অবিশ্বাসের বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেছেন।

কট্টরপন্থীরা প্রভাবশালী, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাঁদের হাতে নয়
রাজনৈতিক বিশ্লেষক নেগার মোর্তাজাভির মতে, ইরানের কট্টরপন্থীরা কোনো প্রান্তিক রাজনৈতিক শক্তি নন। তাঁরা সুসংগঠিত এবং দেশটির ক্ষমতাকাঠামোর গভীরে তাঁদের অবস্থান। সমর্থকদের সংগঠিত করা, রাজনৈতিক বিতর্কের গতিপথ নির্ধারণ এবং সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টিতে তাঁদের যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে।

তবে রাজনৈতিক প্রভাব থাকলেই যুদ্ধ ও শান্তির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পাওয়া যায় না বলে মনে করেন তিনি। ইরানের পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর পর্যায়ে।

মোর্তাজাভির ভাষ্য, কট্টরপন্থীরা আলোচনার উদ্যোগকে জটিল করে তুলতে পারেন। আলোচনাপন্থী রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে অভিশংসনের হুমকি দিতে পারেন এবং কূটনৈতিক তৎপরতা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করতে পারেন। তবে সর্বোচ্চ নেতৃত্ব সমর্থন দিলে তাঁদের পক্ষে কোনো চুক্তি পুরোপুরি ঠেকিয়ে দেওয়া কঠিন।

তিনি বলেন, যুদ্ধের পুরো সময়েই তেহরান কূটনীতির দরজা খোলা রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া এবং সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করার সিদ্ধান্ত সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেই এসেছে। কট্টরপন্থীরা এখন পর্যন্ত সেই উদ্যোগ পুরোপুরি বন্ধ করতে পারেননি।

মোর্তাজাভির মতে, অতীতেও পারমাণবিক চুক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার উদ্যোগ নিয়ে কট্টরপন্থীদের বিরোধিতা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তাঁদের ঊর্ধ্বতন ক্ষমতাকেন্দ্র থেকে।

সংঘাতের অবসানে কোন পথে যাবে তেহরান
ইরানে কট্টরপন্থীদের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার দাবি এবং মধ্যপন্থীদের কূটনৈতিক উদ্যোগ—দুই ধারার রাজনৈতিক তৎপরতাই অব্যাহত রয়েছে। রাজপথের সমাবেশ ও টেলিভিশন আলোচনায় যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান জোরালো হলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিশংসন প্রক্রিয়ার অগ্রগতিতে বিলম্ব এবং মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত থাকার বিষয়টি ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কট্টরপন্থীরা আলোচনার পথে চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের অবস্থানের ওপর। ফলে দেশটির সরকার শেষ পর্যন্ত সামরিক সংঘাত দীর্ঘায়িত করবে, নাকি কূটনৈতিক সমঝোতার পথে এগোবে—তা নির্ধারণে অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কালের আলো/এমএসআইপি/জেএন

এসআইআর নিয়ে বিতর্কের মুখে নিজেদের অবস্থান জানাল ভারতের ইসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৩ অপরাহ্ণ
এসআইআর নিয়ে বিতর্কের মুখে নিজেদের অবস্থান জানাল ভারতের ইসি

ভারতের ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে বিতর্কের মধ্যে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় কমিশন দাবি করেছে, এসআইআর-সংক্রান্ত তিনটি নির্দেশসহ তাদের সব সিদ্ধান্তই সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়েছে। কোনো সিদ্ধান্তই এককভাবে নেননি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার।

কমিশনের অভ্যন্তরে মতবিরোধ এবং সিইসির একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই হলফনামা জমা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো বিষয়ে সদস্যদের ভিন্নমত বা প্রশ্ন থাকতে পারে। তবে আলোচনার পর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সেটিকে অভ্যন্তরীণ বিরোধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

তিনটি নির্দেশ নিয়ে বিতর্ক
হলফনামায় বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৪ জুন, ২৭ অক্টোবর এবং ২০২৬ সালের ১৪ মে এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশন যে তিনটি নির্দেশ জারি করেছিল, সেগুলো সবই সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে।

কমিশনের দাবি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতামত ও পর্যবেক্ষণ বিবেচনা করা হয়। নথি প্রথমে নির্বাচন কমিশনারদের কাছে পাঠানো হয়, এরপর তা মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে যায়। জরুরি পরিস্থিতিতে অনলাইনেও অনুমোদন নেওয়া হয় এবং পরে তা নথিভুক্ত করা হয়।

হলফনামায় আরও বলা হয়েছে, কোনো নথিতে কমিশনের একজন সদস্যের ব্যক্তিগত মন্তব্য বা প্রশ্নকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। কমিশনের অভ্যন্তরীণ নথি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের অনুমতিও কাউকে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ঘিরে মামলা
একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ও জ্ঞানেশ কুমারের এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ পাঠান আদালত।

সেই নোটিশের জবাবেই গত সোমবার হলফনামা জমা দেয় কমিশন। মঙ্গলবার এ বিষয়ে আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

ফর্ম ৬ নিয়ে বিতর্কের ব্যাখ্যা
এসআইআর প্রক্রিয়ায় নতুন ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদনপত্র ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন আনার অভিযোগও উঠেছে। এ বিষয়ে কমিশন হলফনামায় জানিয়েছে, ফর্ম ৬-এ কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। কমিশনের দাবি, এ ধরনের পরিবর্তন করার একমাত্র এখতিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের।

কমিশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নতুন ভোটারদের অনলাইন আবেদনের সঙ্গে একটি পৃথক ঘোষণাপত্র যুক্ত করা হয়েছে। এতে আবেদনকারীর মা-বাবা, দাদা-দাদি কিংবা নানা-নানির নাম ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় ছিল কি না, তা জানতে চাওয়া হয়। অনলাইন আবেদনের সঙ্গে এই ঘোষণাপত্র যুক্ত থাকায় কারও কারও কাছে মনে হয়েছে, ফর্ম ৬ পরিবর্তন করা হয়েছে। কমিশন বলছে, এটি ভুল ধারণা।

বাদ পড়া ভোটারদের নথি সংগ্রহে বাড়ি যাবেন কর্মকর্তারা
পুরোনো ভোটার তালিকার সঙ্গে যেসব ভোটারের নাম মেলানো যায়নি, অর্থাৎ যাঁদের ম্যাপিং হয়নি, তাঁদের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে ব্যাখ্যাও দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ভোটারকে শুনানির জন্য ব্যক্তিগতভাবে কমিশনের কার্যালয়ে হাজির হতে হবে না। বুথ স্তরের কর্মকর্তারা তাঁদের বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করবেন। বিশেষ পরিস্থিতিতে শুনানির প্রয়োজন হলে অনলাইনেও তা আয়োজন করা হবে।

ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা বাদ দেওয়ার ক্ষমতা কার?
ইসিআইনেট ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার অভিযোগও উঠেছে। এর জবাবে কমিশন বলেছে, এই ব্যবস্থায় কোনো ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা বা বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন নিবন্ধন কর্মকর্তার (ইআরও) নির্দেশ বাধ্যতামূলক।

গোয়ার ভোটার তালিকা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে কমিশন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ৯৭ জন ভোটারের মধ্যে ৮৮ জনের নাম ইতিমধ্যে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখার আবেদন নিয়েও হলফনামায় অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতিদের মতো সিইসিকেও নির্দিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ছাড়া পদ থেকে সরানো বা দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া যায় না।

হলফনামায় নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশির একটি চিঠির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার মণীশ গর্গের কার্যক্রম নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তাঁরা ক্যাবিনেট সচিব টি ভি সোমনাথনকে চিঠি দিয়েছিলেন। কমিশনের দাবি, দুই নির্বাচন কমিশনারের যৌথ নির্দেশের কারণে ডেপুটি কমিশনারের নির্দেশিকা কার্যকর করা হয়নি।

এসআইআর নিয়ে একের পর এক অভিযোগ ও আইনি চ্যালেঞ্জের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের এই হলফনামা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন সুপ্রিম কোর্টে শুনানিতে বিষয়টি কোন দিকে গড়ায়, সেদিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।

কালের আলো/এএএন/জেএন

যুদ্ধবিরতি ভেঙে সংঘাত, সৌদিকে লক্ষ্য করে ফের হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১২ অপরাহ্ণ
যুদ্ধবিরতি ভেঙে সংঘাত, সৌদিকে লক্ষ্য করে ফের হামলা

সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চল লক্ষ্য করে আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের দাবি, ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের ছোড়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও চারটি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যেই মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে জোটটি।

জোটের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের দিকে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে চারটি ড্রোন ছোড়া হয়। তবে এসব হামলায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংসের দাবি
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।

একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের দিকে ছোড়া চারটি ড্রোনও প্রতিহত করার দাবি করেছে জোট। হামলার বিষয়ে হুতিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সৌদি সিভিল ডিফেন্স পূর্বাঞ্চল ও খারজ গভর্নরেটে আগাম সতর্কতা জারি করেছিল। পরে সংস্থাটি জানায়, উভয় এলাকায় বিপদ কেটে গেছে।

লোহিত সাগর ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের কৌশলগত এলাকাগুলো ঘিরে হুতিদের তৎপরতা এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক পদক্ষেপে আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়েছে। গত মাসে লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে হুতিদের অগ্রযাত্রার পর তাদের বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

এ সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর একটি বাব আল-মানদেব প্রণালি। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই নৌপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানিসহ বৈশ্বিক পণ্য পরিবহনে এ পথের কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। ফলে প্রণালিটি ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ও জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

ভেঙেছে যুদ্ধবিরতি, নতুন করে সংঘাত
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত অনেকটাই কমে আসে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই বিরতি ভেঙে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও লড়াই শুরু হয়েছে।

ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে। অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে।

সাম্প্রতিক সংঘাতে সৌদি আরবের বিমানবন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো ও বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও সামনে এসেছে। নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার এ ঘটনা দুই পক্ষের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি/জেএন