খুঁজুন
                               
, ,
           

এসআইআর নিয়ে বিতর্কের মুখে নিজেদের অবস্থান জানাল ভারতের ইসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৩ অপরাহ্ণ
এসআইআর নিয়ে বিতর্কের মুখে নিজেদের অবস্থান জানাল ভারতের ইসি

ভারতের ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে বিতর্কের মধ্যে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় কমিশন দাবি করেছে, এসআইআর-সংক্রান্ত তিনটি নির্দেশসহ তাদের সব সিদ্ধান্তই সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়েছে। কোনো সিদ্ধান্তই এককভাবে নেননি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার।

কমিশনের অভ্যন্তরে মতবিরোধ এবং সিইসির একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই হলফনামা জমা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো বিষয়ে সদস্যদের ভিন্নমত বা প্রশ্ন থাকতে পারে। তবে আলোচনার পর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সেটিকে অভ্যন্তরীণ বিরোধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

তিনটি নির্দেশ নিয়ে বিতর্ক
হলফনামায় বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৪ জুন, ২৭ অক্টোবর এবং ২০২৬ সালের ১৪ মে এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশন যে তিনটি নির্দেশ জারি করেছিল, সেগুলো সবই সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে।

কমিশনের দাবি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতামত ও পর্যবেক্ষণ বিবেচনা করা হয়। নথি প্রথমে নির্বাচন কমিশনারদের কাছে পাঠানো হয়, এরপর তা মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে যায়। জরুরি পরিস্থিতিতে অনলাইনেও অনুমোদন নেওয়া হয় এবং পরে তা নথিভুক্ত করা হয়।

হলফনামায় আরও বলা হয়েছে, কোনো নথিতে কমিশনের একজন সদস্যের ব্যক্তিগত মন্তব্য বা প্রশ্নকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। কমিশনের অভ্যন্তরীণ নথি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের অনুমতিও কাউকে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ঘিরে মামলা
একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ও জ্ঞানেশ কুমারের এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ পাঠান আদালত।

সেই নোটিশের জবাবেই গত সোমবার হলফনামা জমা দেয় কমিশন। মঙ্গলবার এ বিষয়ে আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

ফর্ম ৬ নিয়ে বিতর্কের ব্যাখ্যা
এসআইআর প্রক্রিয়ায় নতুন ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদনপত্র ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন আনার অভিযোগও উঠেছে। এ বিষয়ে কমিশন হলফনামায় জানিয়েছে, ফর্ম ৬-এ কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। কমিশনের দাবি, এ ধরনের পরিবর্তন করার একমাত্র এখতিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের।

কমিশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নতুন ভোটারদের অনলাইন আবেদনের সঙ্গে একটি পৃথক ঘোষণাপত্র যুক্ত করা হয়েছে। এতে আবেদনকারীর মা-বাবা, দাদা-দাদি কিংবা নানা-নানির নাম ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় ছিল কি না, তা জানতে চাওয়া হয়। অনলাইন আবেদনের সঙ্গে এই ঘোষণাপত্র যুক্ত থাকায় কারও কারও কাছে মনে হয়েছে, ফর্ম ৬ পরিবর্তন করা হয়েছে। কমিশন বলছে, এটি ভুল ধারণা।

বাদ পড়া ভোটারদের নথি সংগ্রহে বাড়ি যাবেন কর্মকর্তারা
পুরোনো ভোটার তালিকার সঙ্গে যেসব ভোটারের নাম মেলানো যায়নি, অর্থাৎ যাঁদের ম্যাপিং হয়নি, তাঁদের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে ব্যাখ্যাও দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ভোটারকে শুনানির জন্য ব্যক্তিগতভাবে কমিশনের কার্যালয়ে হাজির হতে হবে না। বুথ স্তরের কর্মকর্তারা তাঁদের বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করবেন। বিশেষ পরিস্থিতিতে শুনানির প্রয়োজন হলে অনলাইনেও তা আয়োজন করা হবে।

ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা বাদ দেওয়ার ক্ষমতা কার?
ইসিআইনেট ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার অভিযোগও উঠেছে। এর জবাবে কমিশন বলেছে, এই ব্যবস্থায় কোনো ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা বা বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন নিবন্ধন কর্মকর্তার (ইআরও) নির্দেশ বাধ্যতামূলক।

গোয়ার ভোটার তালিকা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে কমিশন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ৯৭ জন ভোটারের মধ্যে ৮৮ জনের নাম ইতিমধ্যে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখার আবেদন নিয়েও হলফনামায় অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতিদের মতো সিইসিকেও নির্দিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ছাড়া পদ থেকে সরানো বা দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া যায় না।

হলফনামায় নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশির একটি চিঠির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার মণীশ গর্গের কার্যক্রম নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তাঁরা ক্যাবিনেট সচিব টি ভি সোমনাথনকে চিঠি দিয়েছিলেন। কমিশনের দাবি, দুই নির্বাচন কমিশনারের যৌথ নির্দেশের কারণে ডেপুটি কমিশনারের নির্দেশিকা কার্যকর করা হয়নি।

এসআইআর নিয়ে একের পর এক অভিযোগ ও আইনি চ্যালেঞ্জের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের এই হলফনামা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন সুপ্রিম কোর্টে শুনানিতে বিষয়টি কোন দিকে গড়ায়, সেদিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।

কালের আলো/এএএন/জেএন

যুদ্ধবিরতি ভেঙে সংঘাত, সৌদিকে লক্ষ্য করে ফের হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১২ অপরাহ্ণ
যুদ্ধবিরতি ভেঙে সংঘাত, সৌদিকে লক্ষ্য করে ফের হামলা

সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চল লক্ষ্য করে আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের দাবি, ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের ছোড়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও চারটি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যেই মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে জোটটি।

জোটের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের দিকে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে চারটি ড্রোন ছোড়া হয়। তবে এসব হামলায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংসের দাবি
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।

একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের দিকে ছোড়া চারটি ড্রোনও প্রতিহত করার দাবি করেছে জোট। হামলার বিষয়ে হুতিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সৌদি সিভিল ডিফেন্স পূর্বাঞ্চল ও খারজ গভর্নরেটে আগাম সতর্কতা জারি করেছিল। পরে সংস্থাটি জানায়, উভয় এলাকায় বিপদ কেটে গেছে।

লোহিত সাগর ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের কৌশলগত এলাকাগুলো ঘিরে হুতিদের তৎপরতা এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক পদক্ষেপে আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়েছে। গত মাসে লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে হুতিদের অগ্রযাত্রার পর তাদের বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

এ সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর একটি বাব আল-মানদেব প্রণালি। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই নৌপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানিসহ বৈশ্বিক পণ্য পরিবহনে এ পথের কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। ফলে প্রণালিটি ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ও জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

ভেঙেছে যুদ্ধবিরতি, নতুন করে সংঘাত
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত অনেকটাই কমে আসে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই বিরতি ভেঙে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও লড়াই শুরু হয়েছে।

ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে। অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে।

সাম্প্রতিক সংঘাতে সৌদি আরবের বিমানবন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো ও বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও সামনে এসেছে। নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার এ ঘটনা দুই পক্ষের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি/জেএন

এল ক্লাসিকোয় হারের কারণ জানালেন পেদ্রি ও ফ্লিক

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৫ অপরাহ্ণ
এল ক্লাসিকোয় হারের কারণ জানালেন পেদ্রি ও ফ্লিক

নিজেদের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হার। লা লিগায় টানা নয় জয়ের পর এই পরাজয় বার্সেলোনার জন্য বড় ধাক্কা। হারের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নিজেদের ভুলের কথা স্বীকার করেছেন বার্সার মিডফিল্ডার পেদ্রি। অন্যদিকে কোচ হান্সি ফ্লিক মনে করছেন, খেলোয়াড়দের ক্লান্তি ও চোটের সমস্যাও দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছে।

ম্যাচের প্রথমার্ধে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারেনি বার্সেলোনা। বারবার বল হারানো এবং রক্ষণে ভুলের কারণে প্রতিপক্ষকে সুযোগ করে দিয়েছে তারা। পেদ্রির মতে, এসব ভুলের মাশুলই দিতে হয়েছে দলকে।

ম্যাচ শেষে পেদ্রি বলেন, ‘প্রথমার্ধে আমরা নিজেদের মতো খেলতে পারিনি। খুব ধীরগতিতে খেলেছি, আর অনেকবার বোকামি করে বল হারিয়েছি। এসব ভুলের মাশুল দিতে হয়েছে আমাদের। দ্বিতীয় গোলটার সময়ও আমরা ঠিকভাবে রক্ষণ সামলাতে পারিনি। ওরা দ্রুত আক্রমণে উঠেছিল, আর আমরা সেটা ঠেকাতে পারিনি।’

এক সপ্তাহে দ্বিতীয় হার বার্সার
লা লিগায় প্রথম নয় ম্যাচ জয়ের পর রিয়ালের কাছে হেরে থামল বার্সেলোনার জয়যাত্রা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১১ ম্যাচ জয়ের পর প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) কাছে হেরেছিল কাতালান ক্লাবটি। এবার এল ক্লাসিকোয় পরাজয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে টানা দ্বিতীয় হারের মুখ দেখল ফ্লিকের দল।

তবে এই হারকে দলের সামর্থ্য নিয়ে বড় কোনো সতর্কবার্তা হিসেবে দেখতে রাজি নন বার্সা কোচ। তাঁর মতে, খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা, ক্লান্তি এবং রক্ষণভাগে একাধিক খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছে।

ফ্লিক বলেন, ‘দুটি হার নিয়ে আমি হতাশ। তবে এটাকে রিয়েলিটি চেক বলব না। বিষয়টা হলো, খেলোয়াড়েরা কতটা সতেজ আছে এবং তাদের শারীরিক অবস্থা কেমন। প্রথমার্ধে আমরা ভালো খেলিনি, কিন্তু সমতা ফেরানোর পর দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের খেলায় উন্নতি হয়েছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমরা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। রিয়াল আমাদের খুব বেশি জায়গা দেয়নি।’

ব্যস্ত সূচি ও ভ্রমণের ধকল
বার্সেলোনার সাম্প্রতিক ব্যস্ত সূচির কথাও তুলে ধরেছেন ফ্লিক। একের পর এক ম্যাচের পাশাপাশি দীর্ঘ ভ্রমণ ও হোটেলে অবস্থান খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে বলে মনে করেন তিনি।

বার্সা কোচ বলেন, ‘গত কয়েকটা সপ্তাহ সহজ ছিল না। আপনারা শুধু ম্যাচগুলোই দেখেন, কিন্তু সেভিয়ার পথে তিন ঘণ্টা বিমানে থাকা, হোটেলে ফেরা, এরপর প্যারিসে যাওয়া—এগুলো অনেক কিছু। তবে হেরে যাওয়ার পর আমি এ নিয়ে কথা বলতে চাই না; জেতার সময় এগুলো বলা ভালো।’

টানা দুই হারে হতাশা থাকলেও লা লিগার পয়েন্ট তালিকায় এখনো ২৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা। ফলে শিরোপার লড়াইয়ে এখনই পিছিয়ে পড়েছে, এমনটা বলার সুযোগ নেই।

এল ক্লাসিকোর জয় নয়, রিয়ালের লক্ষ্য শিরোপা
বার্সেলোনার মাঠে জয় পেলেও আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চান না রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হোসে মরিনিও। তাঁর কাছে এল ক্লাসিকোর জয় গুরুত্বপূর্ণ হলেও মৌসুমের চূড়ান্ত লক্ষ্য লা লিগার শিরোপা জেতা।

ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মরিনিও বলেন, ‘এটা দারুণ একটা জয়, কিন্তু কাজে ফেরার পর আমি কাউকে অতিরিক্ত আত্মতুষ্ট হতে দেব না। আজ জিতে যদি আমরা এল সারদিনেরোয় গিয়ে হেরে যাই, তাহলে আজকের জয়ের গুরুত্বও একই থাকবে না। কারণ, রিয়াল মাদ্রিদ ক্যাম্প ন্যুতে জেতার জন্য খেলে না। রিয়াল মাদ্রিদ শিরোপা জেতার জন্য খেলে। আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’

এল ক্লাসিকোয় জয় নিয়ে উচ্ছ্বাস থাকলেও সামনে আরও কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে রিয়ালকে। অন্যদিকে বার্সেলোনার সামনে এখন ভুল শুধরে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ।

কালের আলো/এমএসআইপি/জেএন

শুধু ক্রিকেটারদের দোষ নয়, প্রস্তুতিতেও ঘাটতি দেখছে বিসিবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৭ অপরাহ্ণ
শুধু ক্রিকেটারদের দোষ নয়, প্রস্তুতিতেও ঘাটতি দেখছে বিসিবি

টেস্ট ক্রিকেটে ভালো করলেও ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না বাংলাদেশ। সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর এবার ব্যর্থতার কারণ খুঁজতে নিজেদের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। শুধু ক্রিকেটারদের দায়ী না করে, তাদের প্রস্তুত করার প্রক্রিয়ায় কোনো ঘাটতি আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখতে চান বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল।

এ লক্ষ্যে জাতীয় দলের কোচিং স্টাফ, অধিনায়ক, নির্বাচক এবং বিসিবির বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন তিনি। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার ওই সভায় জাতীয় দলের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো ও অনুশীলনপদ্ধতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

ব্যর্থতার দায় শুধু ক্রিকেটারদের নয়
জাতীয় দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বোর্ডের নিজস্ব কার্যক্রমও পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন তামিম। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পেছনে খেলোয়াড়দের ঘাটতি যেমন থাকতে পারে, তেমনি তাদের প্রস্তুত করার পদ্ধতিতেও সমস্যা থাকতে পারে।

বৈঠক শেষে তামিম বলেন, ‘যে কোনো ব্যর্থতার জন্য শুধু খেলোয়াড়দের দিকে আঙুল তোলার আগে আমরা নিজেদের মধ্যে কথা বলে বুঝতে চেয়েছি, আমাদের কোনো ভুলের জন্য তারা খারাপ খেলছে কি না, তাদের ওয়ানডের জন্য প্রস্তুত করায় প্রক্রিয়াগত কোনো ভুল আছে কি না।’

বিসিবি সভাপতির ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে আলোচনায় বেশ কিছু বিষয় উঠে এসেছে। সেগুলোর সমাধান খুঁজে বের করার কাজ ভবিষ্যতে জাতীয় দলসহ ক্রিকেটের অন্য পর্যায়েও চালানো হবে।

৩০০-৩৫০ রান করার অভ্যাস গড়তে নতুন উদ্যোগ
ওয়ানডে ক্রিকেটে বড় সংগ্রহ গড়া কিংবা বড় লক্ষ্য তাড়া করার সক্ষমতা বাড়াতে ঘরোয়া ক্রিকেটের অনুশীলন ও প্রস্তুতিপদ্ধতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখছে বিসিবি।

তামিমের মতে, জাতীয় দল ওয়ানডেতে ৩০০ থেকে ৩৫০ রান করতে চাইলে কিংবা এমন লক্ষ্য তাড়া করতে চাইলে ক্রিকেটারদের আগে থেকেই এ ধরনের পরিস্থিতিতে খেলার অভ্যাস থাকতে হবে। অথচ ঘরোয়া ৫০ ওভারের ক্রিকেটে প্রতি মৌসুমে খুব বেশি ম্যাচে এমন বড় লক্ষ্য তাড়া করার পরিস্থিতি তৈরি হয় না।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের জাতীয় দল ওয়ানডেতে ৩০০-৩৫০ করুক, ৩০০-৩৫০ রান তাড়া করুক। কিন্তু ঘরোয়া ৫০ ওভারের ক্রিকেটে কি তারা সেটা করছে? খুব বেশি হলে প্রতি মৌসুমে এ রকম দুই-তিনটা ম্যাচই হয়, যেখানে এত রান তাড়া করতে হয়। এখন ঘরোয়া ক্রিকেটেই যদি তাদের এই চর্চাটা না থাকে, তাহলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গিয়ে কীভাবে করবে!’

অনুশীলনেই থাকবে ম্যাচের চ্যালেঞ্জ
বড় লক্ষ্য তাড়া করার অভ্যাস গড়ে তুলতে ব্যাটসম্যান ও বোলারদের নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অনুশীলন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বিসিবি। প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে ছয়-সাতজন ব্যাটসম্যানের বিপরীতে ছয়-সাতজন বোলার থাকবেন। ব্যাটসম্যানদের সামনে থাকবে ৩২০ থেকে ৩৫০ রান করার লক্ষ্য। নির্ধারিত ৫০ ওভারের মধ্যে সেই লক্ষ্য পূরণ করতে হবে তাঁদের। অন্যদিকে বোলারদের কাজ হবে ব্যাটসম্যানদের লক্ষ্য অর্জনে বাধা দেওয়া।

এ ধরনের অনুশীলনে ক্রিকেটাররা বাস্তব ম্যাচের চাপ, রান তোলার গতি এবং বড় লক্ষ্য তাড়া করার কৌশল নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে বোলাররাও বড় সংগ্রহ আটকে দেওয়ার পরিস্থিতিতে নিজেদের দক্ষতা যাচাই করতে পারবেন।

তামিমের মতে, এটি বড় রান করার অভ্যাস তৈরির একটি সম্ভাব্য উপায়। সামনে বিভিন্ন পর্যায়ের দলের অনুশীলনেও এ ধরনের সেশন দেখা যেতে পারে।

ঘরোয়া ক্রিকেটেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত
বিসিবির পরিকল্পনা শুধু জাতীয় দলের অনুশীলনে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ক্রিকেটারদের প্রস্তুতির ভিত্তি শক্ত করতে ঘরোয়া ক্রিকেটের বিভিন্ন পর্যায়েও প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের কথা ভাবছে বোর্ড।

ওয়ানডে ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা আনতে বড় লক্ষ্য নির্ধারণ, সেই লক্ষ্য অর্জনের অনুশীলন এবং ম্যাচের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো—এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিতে চায় বিসিবি।

তবে আলোচনায় উঠে আসা পরিকল্পনাগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তামিম। আপাতত ব্যর্থতার কারণ চিহ্নিত করে প্রস্তুতির ঘাটতি দূর করার দিকেই নজর দিচ্ছে বোর্ড।

কালের আলো/এএএন/জেএন