লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২১০ হেক্টর বেশি আমন আবাদ
অনুকূল আবহাওয়া, কৃষকদের আগ্রহ এবং সরকারের সময়োপযোগী কৃষি প্রণোদনায় চলতি মৌসুমে নড়াইলে রোপা আমন ধানের আবাদ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। জেলার তিন উপজেলায় এবার ৪৩ হাজার ৬৭৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২১০ হেক্টর বেশি। আবাদ বাড়ায় চলতি মৌসুমে জেলায় আমনের ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা। আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলন হতে পারে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।
লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আবাদ
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নড়াইলের তিন উপজেলায় মোট ৪৩ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের তদারকি, কৃষকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং অনুকূল পরিবেশের কারণে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে।
কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এবারের আবাদি জমি থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৯১ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে উৎপাদনের এ লক্ষ্য পূরণ হলে জেলার খাদ্যশস্য উৎপাদনে আমন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
তিন উপজেলাতেই বেড়েছে আবাদ
উপজেলাভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, নড়াইল সদর উপজেলায় ২০ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আবাদ হয়েছে ২০ হাজার ১৬৩ হেক্টরে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৩ হেক্টর বেশি জমিতে চাষ করেছেন কৃষকরা।
লোহাগড়া উপজেলায় ১১ হাজার ২৬৫ হেক্টর জমিতে আবাদ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে চাষ হয়েছে ১১ হাজার ৪৫০ হেক্টরে। এ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৮৫ হেক্টর বেশি জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। অন্যদিকে কালিয়া উপজেলায় ১২ হাজার ৬০ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ১২ হাজার ৬২ হেক্টরে। এ উপজেলায়ও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে দুই হেক্টর বেশি জমিতে আমন চাষ হয়েছে।
কৃষি প্রণোদনায় বাড়ছে কৃষকের আগ্রহ
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নড়াইল জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিপু মজুমদার জানান, জেলার তিন উপজেলাতেই কৃষকরা অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে রোপা আমন চাষে অংশ নিয়েছেন। তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলে নির্ধারিত আবাদ লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে অর্জিত হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকদের বিনামূল্যে বিভিন্ন ধরনের কৃষি প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে প্রতিবছর রোপা আমন চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, খেত থেকে পাকা ধান কেটে ঘরে তোলা পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে নড়াইল জেলায় আমনের বাম্পার ফলন হবে বলে তাঁরা আশাবাদী। আবাদি জমির পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় নড়াইলের আমন মৌসুমে ইতিবাচক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন কৃষকদের প্রত্যাশা, শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকবে এবং ঘরে উঠবে কাঙ্ক্ষিত ফসল।
কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি
আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]