খুঁজুন
                               
, ,
           

শয্যা ৫০০, রোগী আড়াই হাজার; খুলনা মেডিকেলে চরম দুর্ভোগ

খুলনা সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৪ অপরাহ্ণ
শয্যা ৫০০, রোগী আড়াই হাজার; খুলনা মেডিকেলে চরম দুর্ভোগ

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (খুমেক) শয্যাসংকট দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে। ৫০০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসছেন দুই থেকে আড়াই হাজারেরও বেশি রোগী। অতিরিক্ত রোগীর চাপে শয্যা না পেয়ে ওয়ার্ডের মেঝে, বারান্দা, সিঁড়ির পাশ এমনকি চলাচলের পথেও বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা এবং স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা কঠিন হয়ে পড়ছে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান ভরসা এ হাসপাতাল। রোগীর চাপ সামলাতে হাসপাতালটির শয্যাসংখ্যা ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ৫০০ করা হলেও বাস্তব পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। প্রয়োজনের তুলনায় অবকাঠামো, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল কম থাকায় প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা।

মেঝে-বারান্দায় চলছে চিকিৎসা

হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, শয্যা না পেয়ে শত শত রোগীকে মেঝে ও বারান্দায় তোশক কিংবা পাটি বিছিয়ে থাকতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও সিঁড়ির পাশ ও মানুষের চলাচলের পথেও রোগীদের অবস্থান করতে দেখা যায়। এতে রোগীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে।

কলারোয়া থেকে সন্তানকে চিকিৎসা করাতে আসা আসমা বেগম বলেন, তাঁর সন্তান হাম রোগে আক্রান্ত। দুই দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি করলেও অনেক চেষ্টা করেও একটি শয্যা পাননি। বাধ্য হয়ে বারান্দার মেঝেতেই সন্তানের চিকিৎসা করাচ্ছেন তিনি।

দৌলতপুর থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে আসা ফিরোজও শয্যা না পেয়ে বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি জানান, হাসপাতালে অবস্থানকালে তাঁদের দুটি মুঠোফোন চুরি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতাল এলাকায় চোর ও দালালদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ নেই।

চিকিৎসার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ

রোগী ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগ, শয্যা না থাকায় অনেককে ঠান্ডা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। গুরুতর অসুস্থ রোগীদেরও কখনো কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা বারান্দায় অপেক্ষা করতে হয়। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা রোগীদের জন্য এ পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

অতিরিক্ত রোগীর চাপে চিকিৎসাসেবার পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হচ্ছে। শয্যাসংকটের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা, রোগীদের নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আড়াই হাজার রোগীর সেবা দেওয়া কঠিন

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ৫০০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে আড়াই হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। রোগীর সংখ্যা কিছুটা বেশি হলে সীমিত সামর্থ্যে ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হলেও দুই হাজারের বেশি রোগীর নিয়মিত সেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, ‘আমরা রোগীদের ফিরিয়ে দিতে পারি না। মানবিক কারণে সবাইকে ভর্তি নিতে হয়। কিন্তু ৫০০ শয্যার জন্য বরাদ্দকৃত ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং চিকিৎসক-নার্স দিয়ে আড়াই হাজার রোগীর সেবা দেওয়া প্রায় অসম্ভব।’

তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে হাসপাতালের বিদ্যমান অবকাঠামো ও চিকিৎসা উপকরণ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে চিকিৎসাসেবার মান বজায় রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

দুই হাজার শয্যার দাবি

হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল নিয়োগের ওপর জোর দিয়েছেন উপপরিচালক ডা. সুজাত আহমেদ।

তাঁর মতে, হাসপাতালটিকে দুই হাজার শয্যায় উন্নীত করা এবং সে অনুযায়ী ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জনবল নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় বিপুলসংখ্যক রোগীকে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হবে না।

সংশ্লিষ্টদের মতে, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রোগীর চাপ সামলাতে শুধু শয্যাসংখ্যা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; এর সঙ্গে চিকিৎসক-নার্স নিয়োগ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নয়নও নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষের চিকিৎসার প্রধান আশ্রয়স্থলটিতে রোগীদের দুর্ভোগ কমানো কঠিন হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ভবন আছে শয্যা আছে, চিকিৎসক নেই চার কেন্দ্রে

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৭ অপরাহ্ণ
ভবন আছে শয্যা আছে, চিকিৎসক নেই চার কেন্দ্রে

ভবন আছে, শয্যা আছে, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামও রয়েছে। চিকিৎসক ও কর্মীদের থাকার জন্য ডরমেটরি এবং বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে জেনারেটরও স্থাপন করা হয়েছে। তবু চিকিৎসক সংকটে উদ্বোধনের আট বছর পরও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি ঝিনাইদহের চারটি ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। ফলে এসব কেন্দ্রে প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে প্রসূতি নারী ও শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেতে ছুটতে হচ্ছে দূরের হাসপাতালে।

২০১৮ সালে উদ্বোধন, আট বছরেও পূর্ণাঙ্গ সেবা নেই
গ্রামীণ মানুষের দোরগোড়ায় মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ঝিনাইদহে চারটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। কেন্দ্রগুলো ২০১৮ সালে উদ্বোধন করা হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় এখনো সেগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি।

কেন্দ্রগুলো রয়েছে শৈলকুপা উপজেলার দুধসর ও কাঁচেরকোল গ্রামে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দক্ষিণ কাষ্টসাগরা এলাকায় এবং কালীগঞ্জ পৌরসভা এলাকায়। প্রতিটি কেন্দ্রে ১০টি শয্যা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে গর্ভবতী মায়েদের প্রসবকালীন সেবা, সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার এবং শিশুদের চিকিৎসা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও জনবলসংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবার সেই লক্ষ্য পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

ভবন ও সরঞ্জাম প্রস্তুত, মিলছে না প্রয়োজনীয় চিকিৎসা
প্রতিটি কেন্দ্রের তিনতলা ভবনে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, শয্যা ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি রয়েছে। চিকিৎসক ও কর্মীদের আবাসনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হলে ব্যবহারের জন্য রয়েছে জেনারেটর।

কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নিয়োগ না হওয়ায় এসব সুবিধা কাজে লাগিয়ে পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে সরকারি অর্থে নির্মিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো থেকে স্থানীয় জনগণ যে ধরনের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার কথা, তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে দূরের হাসপাতালে নেওয়ার ঝুঁকি ও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গ্রামীণ এলাকায় কাছাকাছি প্রসূতিসেবার ব্যবস্থা না থাকায় রোগী ও তাঁদের স্বজনদের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।

হাসপাতাল আছে, কিন্তু ডাক্তার নেই
দুধসর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আওয়াল বলেন, এলাকার মা ও শিশুদের চিকিৎসার সুবিধা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় তাঁরা ঠিকমতো চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের জরুরি প্রয়োজনে দূরের হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়।

একই গ্রামের বাসিন্দা রাশিদা বেগম বলেন, দরিদ্র মানুষের জন্য কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। ভবন ও শয্যা থাকলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রত্যাশিত সুবিধা পাচ্ছেন না। দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে কেন্দ্রটিতে সেবার ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। mকাঁচেরকোল গ্রামের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিপুল অর্থ ব্যয়ে হাসপাতাল নির্মাণ করা হলেও মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছে না। দ্রুত জনবল নিয়োগ দিয়ে কেন্দ্রগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হলে এলাকার হাজারো মানুষ উপকৃত হবেন।

প্রতিটি কেন্দ্রে দুজন চিকিৎসক নিয়োগের সুপারিশ
ঝিনাইদহ পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল করিম জানান, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রগুলো চালু রাখার উদ্যোগ রয়েছে। তবে চিকিৎসক নিয়োগ না হওয়ায় পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে দুজন করে চিকিৎসক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ানো সম্ভব হবে।

দ্রুত জনবল নিয়োগের দাবি স্থানীয়দের
মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চারটি কেন্দ্র পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, নতুন করে অবকাঠামো নির্মাণের চেয়ে বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ করে সেবা নিশ্চিত করা এখন জরুরি। বিশেষ করে প্রসূতি নারীদের জরুরি চিকিৎসা এবং শিশুদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা স্থানীয় পর্যায়ে নিশ্চিত করা গেলে দূরের হাসপাতালে যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত সক্ষমতা কাজে লাগাতে দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ ও পূর্ণাঙ্গ সেবা চালুর কার্যকর উদ্যোগ চান তাঁরা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

৩০০ ফুট বাঁধ ধসে প্লাবনের শঙ্কায় উপকূলবাসী

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
৩০০ ফুট বাঁধ ধসে প্লাবনের শঙ্কায় উপকূলবাসী

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের বন্যতলা এলাকায় খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। আকস্মিক ঝোড়ো হাওয়া ও নদীর উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে বাঁধের প্রায় ৩০০ ফুট অংশ ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে বন্যতলা গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী প্রতাপনগর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আতঙ্কিত গ্রামবাসী নিজেদের বসতভিটা ও জনপদ রক্ষায় রাতেই স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করেছেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিভাগ-২-এর আওতাধীন ৭/১ পোল্ডারের বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে এ ভাঙন দেখা দেয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা চলছে।

৩০০ ফুট বাঁধ ধসে, কোথাও অবশিষ্ট মাত্র দেড় ফুট
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়া শুরু হলে খোলপেটুয়া নদীতে ঢেউয়ের তীব্রতা বেড়ে যায়। নদীর প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে বন্যতলা এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের প্রায় ৩০০ ফুট অংশে ফাটল ধরে। পরে বাঁধের ওই অংশ ধসে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম জানান, ভাঙনকবলিত অংশের কোথাও কোথাও বাঁধের মাত্র এক থেকে দেড় ফুট অবশিষ্ট রয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাওয়ায় গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে সতর্ক করা হয় এবং বাঁধ রক্ষার কাজে অংশ নিতে আহ্বান জানানো হয়।

রাতেই জিও ব্যাগ নিয়ে বাঁধ রক্ষায় গ্রামবাসী
মসজিদের মাইকে ঘোষণা শোনার পর বন্যতলা গ্রাম ও আশপাশের এলাকা থেকে লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয়দের পাশাপাশি প্রতাপনগর ইউনিয়নের বাসিন্দারাও বাঁধ রক্ষার কাজে অংশ নেন। নিজেদের ঘরবাড়ি ও এলাকার জনপদ রক্ষায় তাঁরা স্বেচ্ছাশ্রমে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ভাঙন পয়েন্টে ফেলা শুরু করেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় রাতেও এ কার্যক্রম চলে। ভাঙন পয়েন্টের কিছু অংশে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। তবে পুরো ঝুঁকিপূর্ণ অংশের ভাঙন ঠেকাতে আরও কাজ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আবু দাউদ ঢালি বলেন, ভাঙন পয়েন্টটি পদ্মপুকুর ইউনিয়নের বন্যতলা এলাকায় হলেও এটি প্রতাপনগর ইউনিয়নের লাগোয়া। ওই স্থান দিয়ে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকলে প্রতাপনগর ইউনিয়ন বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। খবর পাওয়ার পর তিনি স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পাউবো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বাঁধ রক্ষার কাজ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সময়মতো জিও ব্যাগ না ফেলায় ক্ষোভ
বেড়িবাঁধের ভাঙন নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, বন্যতলা এলাকায় বাঁধ সংস্কারের জন্য অনেক আগেই ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছিল। খুলনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বাবুল এন্টারপ্রাইজ কাজটি পেয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবহারের জন্য বালুভর্তি হাজার হাজার জিও ব্যাগও প্রস্তুত করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো সময়মতো ঝুঁকিপূর্ণ অংশে ফেলা হয়নি। স্থানীয় ঘেরমালিক রবিউল ইসলাম বলেন, বাঁধ সংস্কারের কাজে ব্যবহারের জন্য বিপুলসংখ্যক জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হলেও সেগুলো যথাসময়ে ভাঙন পয়েন্টে ব্যবহার করা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, আগে থেকেই কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরিস্থিতি এতটা নাজুক হতো না।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত ভাঙন ঠেকানো না গেলে বন্যতলা গ্রামসহ পদ্মপুকুর ও প্রতাপনগর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীর পানিতে প্লাবিত হতে পারে। এতে বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও স্থানীয় জনজীবনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে।

পাউবো ও প্রশাসনকে অবহিত, চলছে জরুরি কাজ
ভাঙনের খবর পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু। তিনি বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক ও শ্যামনগরের ইউএনওকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা স্বেচ্ছাশ্রমে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন। সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহমান তাযকিয়া জানান, ভাঙনের খবর পাওয়ার পর রাতেই সেখানে লোক পাঠানো হয়। আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখা বালুভর্তি জিও ব্যাগ স্থানীয়দের সহায়তায় ভাঙন পয়েন্টে ফেলা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলের মধ্যে ভাঙন পয়েন্টে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ করা গেলে ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

প্রক্রিয়াগত কারণে জিও ব্যাগ ফেলতে দেরি: পাউবো
নির্বাহী প্রকৌশলী আরও জানান, বন্যতলার ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য আগেই ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছিল। ঠিকাদার জিও ব্যাগে বালু ভরে সেগুলো প্রস্তুতও রেখেছিলেন। তবে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে ব্যাগ গণনা ও মার্কিং করার পর সেগুলো ভাঙন পয়েন্টে ফেলার কথা ছিল। এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে গিয়ে জিও ব্যাগ ফেলার কাজে কিছুটা দেরি হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে বাঁধের ভাঙন ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত ও কার্যকরভাবে ভাঙন প্রতিরোধ করা না গেলে উপকূলীয় জনপদের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা। তাই জরুরি মেরামতকাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

খাদ্য গুদাম নির্মাণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার নির্দেশ মন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
খাদ্য গুদাম নির্মাণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার নির্দেশ মন্ত্রীর

দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্যশস্য সংরক্ষণের অবকাঠামো নির্মাণে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে টেকসই পরিকল্পনা করার নির্দেশ দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। একই সঙ্গে খাদ্যশস্যের মজুত সক্ষমতা বাড়ানো, গুদামের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকায় খাদ্য অধিদপ্তর ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী।

দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা বিবেচনায় গুদাম নির্মাণ
আফরোজা খানম বলেন, খাদ্যশস্য সংরক্ষণের জন্য নতুন অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে শুধু বর্তমান চাহিদা বিবেচনা করলে চলবে না। আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে দেশের খাদ্যশস্য সংরক্ষণের প্রয়োজন কতটা বাড়তে পারে, তা বিবেচনায় নিয়েই পরিকল্পনা করতে হবে। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত মজুত সক্ষমতা গড়ে তোলার পাশাপাশি গুদামগুলোর স্থায়িত্ব ও সংরক্ষণব্যবস্থার মান উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

উৎপাদন বেশি হয় এমন এলাকায় অগ্রাধিকার
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, যেসব এলাকায় খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেশি হয়, সেসব এলাকায় গুদাম নির্মাণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এতে উৎপাদিত খাদ্যশস্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা উন্নত করার সুযোগ তৈরি হবে। নতুন গুদাম নির্মাণের পাশাপাশি পুরোনো গুদামগুলোর সংস্কারেও গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। তাঁর মতে, খাদ্যশস্যের মজুত বাড়ানোর জন্য নতুন অবকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি বিদ্যমান গুদামগুলোর কার্যকারিতা ও মান উন্নয়নও জরুরি।

গুদামের মান ও প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্ব
অনুষ্ঠানে খাদ্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুর বক্তব্য দেন। তাঁরা খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা, গুদামের মান উন্নয়ন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। খাদ্যশস্য সংরক্ষণের অবকাঠামো উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তাও অনুষ্ঠানে গুরুত্ব পায়। খাদ্যশস্যের মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গুদাম নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কর্মকর্তারা উপস্থিত
খাদ্য অধিদপ্তর ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে খাদ্যসচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা বিবেচনায় খাদ্যশস্য সংরক্ষণের অবকাঠামো গড়ে তোলা, উৎপাদনপ্রবণ এলাকায় গুদাম নির্মাণ এবং পুরোনো গুদাম সংস্কারের মাধ্যমে দেশের খাদ্য মজুতব্যবস্থা আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি