ইকো চেম্বারেই ছড়াচ্ছে হাসিনার ফেরার গুঞ্জন: তথ্য উপদেষ্টা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পেছনে মানুষের নিজস্ব বিশ্বাস ও পছন্দের তথ্যের প্রতি আগ্রহকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তাঁর মতে, মানুষ অনেক সময় নিজের বিশ্বাসের সঙ্গে মেলে এমন তথ্যই গ্রহণ করতে আগ্রহী হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদমও একই ধরনের তথ্য বারবার সামনে এনে এ প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে ‘মিডিয়া অ্যান্ড ইনফরমেশন লিটারেসি’ বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসিনার ফেরা নিয়ে গুঞ্জনের নেপথ্যে ‘ইকো চেম্বার
শেখ হাসিনার বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আলোচনার উদাহরণ তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, কেউ যদি বিশ্বাস করেন যে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন এবং এরপর সবকিছু আবার নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে, তাহলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কিছু পেজ ও তথ্যের উৎস খুঁজে পাওয়া সম্ভব, যেগুলো তাঁর এই বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য প্রচার করছে। তথ্য উপদেষ্টার ভাষ্য, মানুষ নিজের পছন্দ ও বিশ্বাসের সঙ্গে মেলে এমন তথ্য শুনতে চায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম এবং নির্দিষ্ট কিছু তথ্যের উৎস সেই প্রবণতাকে কাজে লাগিয়ে একই ধরনের বক্তব্য বারবার সামনে আনতে পারে। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ইকো চেম্বার’।
তিনি বলেন, নিজের পছন্দের তথ্য গ্রহণ করা আর বস্তুনিষ্ঠ বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া এক বিষয় নয়। কোনো তথ্য নিজের বিশ্বাসের সঙ্গে মিলে গেলেই সেটি সত্য হয়ে যায় না। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া তথ্য যাচাই করে গ্রহণ করা জরুরি।
সরকারের বিরুদ্ধে ৪৫০টি অপতথ্য প্রচার অভিযানের দাবি
সরকারের বিরুদ্ধে অপতথ্য প্রচারের প্রসঙ্গ তুলে জাহেদ উর রহমান জানান, বর্তমান সরকারের ছয় মাস পূর্তিতে পরিচালিত এক পর্যালোচনায় সরকারের বিরুদ্ধে প্রায় ৪৫০টি পরিকল্পিত অপতথ্য প্রচার অভিযান শনাক্ত করা হয়েছিল বলে তাঁদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
এর মধ্যে প্রায় ১৫০টি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছিল বলে জানান তিনি। তবে এসব প্রচার অভিযানের ধরন, শনাক্ত করার পদ্ধতি কিংবা পৃথক ঘটনাগুলোর বিস্তারিত তথ্য অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়েছে কি না, তা মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
শুধু ব্যবস্থা নয়, সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ভুল তথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার ঠেকাতে প্রচলিত উদ্যোগ সব সময় কাঙ্ক্ষিত ফল দেয় না। তাই অপপ্রচার ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আগেই মানুষকে সচেতন করে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তাঁর মতে, তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা গেলে মানুষ সহজেই বিভ্রান্তিকর বা মনগড়া তথ্যের ফাঁদে পড়বে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো দাবি দেখার পর সেটির উৎস, নির্ভরযোগ্যতা ও প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন। ভুল তথ্য মোকাবিলায় গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং সাধারণ মানুষের তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ বলেও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অপতথ্য ও গুজবের বিস্তার আগেভাগে প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি
আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]