খুঁজুন
                               
, ,
           

সাদমানের ৯৯, মিরপুর টেস্টে দাপুটে অবস্থানে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
সাদমানের ৯৯, মিরপুর টেস্টে দাপুটে অবস্থানে বাংলাদেশ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনটি দাপটের সঙ্গে শেষ করেছে বাংলাদেশ। ওপেনার সাদমান ইসলামের ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিনের খেলা শেষে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৭৪ ওভারে ৩ উইকেটে ২১৩ রান।

সেঞ্চুরি থেকে মাত্র এক রান দূরে ৯৯ রানে অপরাজিত রয়েছেন সাদমান। তাঁর সঙ্গে ১০ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন লিটন দাস। মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তবে ইনিংসের শুরুটা ভালো হয়নি স্বাগতিকদের। দলীয় ৯ রানেই জেইডেন সিলসের বলে ৭ রান করে আউট হন তানজিদ হাসান।

এরপর দ্বিতীয় উইকেটে সাদমান ইসলামের সঙ্গে ৫৯ রানের জুটি গড়েন মুমিনুল হক। ৫১ বলে ২৮ রান করে জোমেল ওয়ারিক্যানের শিকার হন তিনি। একই বোলারের বলে ১৯ রান করে ফেরেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। এতে ১১০ রানে তৃতীয় উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

সেখান থেকে দলকে এগিয়ে নেন সাদমান ও তাওহীদ হৃদয়। চতুর্থ উইকেটে দুজনের ব্যাটে আসে ৮৮ রান। ৮৪ বলে ৪২ রান করে পায়ে ব্যথা নিয়ে মাঠ ছাড়েন হৃদয়। তাঁর বিদায়ের সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ১৯৮ রান।

এরপর লিটন দাসকে নিয়ে দিনের বাকি সময় পার করেন সাদমান। ২১৯ বল মোকাবিলা করে ১০টি চারের সাহায্যে ৯৯ রান করেছেন এই বাঁহাতি ওপেনার। শুরু থেকে উইকেটের এক প্রান্ত আগলে রেখে তাঁর দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে স্বস্তিতে দিন শেষ করে বাংলাদেশ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে জোমেল ওয়ারিক্যান ৩৩ রান দিয়ে দুটি উইকেট নিয়েছেন। একটি উইকেট পেয়েছেন জেইডেন সিলস।

আলোকস্বল্পতার কারণে দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে আর কোনো উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিন সাদমানের সেঞ্চুরি এবং বড় সংগ্রহ গড়ার দিকে তাকিয়ে থাকবে স্বাগতিকরা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

কাঠ-কাগজে জিয়াবাড়ির ক্ষুদ্র প্রতিরূপ, প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিতে চান তরুণ

গাইবান্ধা সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
কাঠ-কাগজে জিয়াবাড়ির ক্ষুদ্র প্রতিরূপ, প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিতে চান তরুণ

কাঠ, হার্ডবোর্ড, কার্ডবোর্ড ও কাগজের মতো সাধারণ উপকরণ দিয়ে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়িতে অবস্থিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক পৈতৃক নিবাস ‘জিয়াবাড়ি’র ক্ষুদ্র প্রতিরূপ তৈরি করেছেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের তরুণ শিল্পী মো. কাওছার আলী। এক মাসের পরিশ্রমে তৈরি এই শিল্পকর্মটি এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে উপহার হিসেবে তুলে দিতে চান তিনি।

কাওছার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কিশামত সর্বানন্দ গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী মো. নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি রংপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি মিনি আর্ট বা ক্ষুদ্র শিল্পকর্ম তৈরি করে আয় করছেন তিনি। নিজের উপার্জন দিয়ে পড়াশোনার খরচ মেটানোর পাশাপাশি পরিবারকেও সহযোগিতা করছেন।

ইউটিউব দেখে জিয়াবাড়ি তৈরির পরিকল্পনা

প্রায় এক মাস আগে ইউটিউবে বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়িতে অবস্থিত ঐতিহাসিক জিয়াবাড়ির ছবি দেখে অনুপ্রাণিত হন কাওছার। এরপর নিজের জমানো টাকা ও বাবার আর্থিক সহযোগিতায় কাঠ, হার্ডবোর্ড, কার্ডবোর্ড, কাগজ, প্লাস্টিক, আঠা ও রং সংগ্রহ করেন। দীর্ঘ এক মাসের পরিশ্রমে তৈরি করেন বাড়িটির ক্ষুদ্র প্রতিরূপ।

এর আগে গ্রামীণ বসতবাড়ি, চায়ের দোকান, মুদি দোকান ও পাঠাগারসহ বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষুদ্র প্রতিরূপ তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা পেয়েছেন তিনি। এসব শিল্পকর্মের চাহিদা বাড়ায় মিনি আর্ট তৈরি এখন তাঁর আয়েরও একটি উৎস হয়ে উঠেছে।

শিল্পকর্ম দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়

কাওছারের তৈরি ক্ষুদ্র জিয়াবাড়িটি দেখতে প্রতিদিন তাঁর বাড়িতে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। অনেকে এর কারুকাজ খুঁটিয়ে দেখছেন, আবার কেউ স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি তুলছেন।

নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়ে কাওছার আলী বলেন, তাঁর সবচেয়ে বড় ইচ্ছা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে নিজের হাতে তৈরি ক্ষুদ্র জিয়াবাড়িটি উপহার দেওয়া। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে কিছুটা সময় দিলে দীর্ঘ পরিশ্রমের এই সৃষ্টি তাঁর হাতে তুলে দিতে পারবেন বলে আশা করেন তিনি।

ছেলের সৃজনশীলতায় খুশি বাবা

কাওছারের বাবা নুরুল ইসলাম ছেলের এই উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কাপড়ের ব্যবসা করে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলের শখের কাজেও সহযোগিতা করেছেন তিনি।

নুরুল ইসলাম বলেন, ছেলের সৃজনশীল কাজে তাঁরা সব সময় উৎসাহ দিয়েছেন। সরকারি ও উচ্চপর্যায়ের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে কাওছার আরও এগিয়ে যেতে পারবে বলে তিনি আশা করেন।

সহযোগিতার আশ্বাস স্থানীয় নেতাদের

কাওছারের শিল্পকর্মের প্রশংসা করেছেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মাহামুদুল হাসান প্রামাণিক। তিনি কাওছারের প্রতিভাকে সাধুবাদ জানিয়ে তাঁর তৈরি শিল্পকর্মটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

এ ছাড়া গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিকও কাওছারের কাজের প্রশংসা করেছেন এবং তাঁকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

সাধারণ উপকরণ দিয়ে ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম তৈরি করে কাওছার দেখিয়েছেন, শখ ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে আত্মনির্ভরতার পথ তৈরি করা সম্ভব। এখন নিজের হাতে গড়া ক্ষুদ্র জিয়াবাড়িটি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়ার স্বপ্ন পূরণের অপেক্ষায় রয়েছেন এই তরুণ শিল্পী।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত ৪৬, আহত ১৭৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২০ অপরাহ্ণ
স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত ৪৬, আহত ১৭৯

স্পেনে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৪৬ জন নিহত এবং ১৭৯ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টার কিছু পর মধ্য স্পেনের মোরা ও অরগাস শহরের মধ্যবর্তী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ-আন্দালুসিয়া দ্রুতগতির রেলপথে ট্রেন চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।

বাংলানিউজ২৪-এর বরাতে জানা যায়, দুর্ঘটনায় রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রেনফে ও ইরিও পরিচালিত দুটি ট্রেন জড়িত ছিল। একটি ট্রেন মাদ্রিদ থেকে সেভিয়ার দিকে যাচ্ছিল। সংঘর্ষে দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলের এক সরকারি মুখপাত্র।

তিনি জানান, দুর্ঘটনার কারণ ও হতাহতের পূর্ণ সংখ্যা নির্ধারণের কাজ চলছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনের কয়েকটি বগি খাদে কাত হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে জরুরি সেবাকর্মীরা পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।

এদিকে, তোলেদো শহরের কাছের উরদা পৌরসভার মেয়র ম্যানুয়েল গালান জানান, আহত ব্যক্তিদের আশ্রয় ও চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করতে একটি ক্রীড়া হল প্রস্তুত রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন জরুরি সেবাকর্মীরা।

রেল পরিচালনাকারী সংস্থা আদিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, দুই ট্রেনের পেছনের অংশে সংঘর্ষের পর মাদ্রিদ-আন্দালুসিয়া দ্রুতগতির রেলপথে চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলছে।

তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

শরিকদের দ্বন্দ্বে বন্ধ গভীর নলকূপ, ঝুঁকিতে ২০০ বিঘা জমির ফসল

জয়পুরহাট সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৬ অপরাহ্ণ
শরিকদের দ্বন্দ্বে বন্ধ গভীর নলকূপ, ঝুঁকিতে ২০০ বিঘা জমির ফসল

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় গভীর নলকূপের মালিকানাসংক্রান্ত বিরোধে সেচযন্ত্র বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। এতে প্রায় ২০০ বিঘা জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সময়মতো সেচ দিতে না পারায় উৎপাদন ও আর্থিক লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

উপজেলার বোড়াই মৌজায় তিন শরিকের যৌথ মালিকানায় স্থাপিত গভীর নলকূপটি বন্ধ থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দুই শরিকের অভিযোগ, অপর শরিক মো. সেলিম উদ্দিন মণ্ডল বিদ্যুৎ-সংযোগের প্রয়োজনীয় মালামাল নিজের বাড়িতে রাখায় নলকূপটি চালু করা যাচ্ছে না।

নলকূপটি চালু করে নিয়মিত সেচের পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবিতে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) কালাই উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন দুই শরিক মো. মুরশিদ আলম ও মো. নুর আলম সরকার।

আবেদনে বলা হয়, নলকূপটি দিয়ে এলাকার কৃষিজমিতে সেচের পানি সরবরাহ করা হয়। কিন্তু শরিকদের বিরোধের কারণে এটি বন্ধ থাকায় নির্ভরশীল কৃষকেরা সময়মতো জমিতে পানি দিতে পারছেন না। বিকল্প উৎস থেকেও সেচের পানি সংগ্রহের ব্যবস্থা না থাকায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল মোত্তালেব বলেন, ‘আমাদের জমিতে সেচের জন্য এই গভীর নলকূপের ওপর নির্ভর করতে হয়। নলকূপ বন্ধ থাকায় সময়মতো জমিতে পানি দেওয়া যাচ্ছে না। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা হয়েছে। আমরা চাই, দ্রুত সমস্যার সমাধান করে নলকূপটি চালু করা হোক।’

কৃষক মুনসুর বলেন, চাষাবাদে আগে থেকেই অনেক টাকা খরচ হয়েছে। সঠিক সময়ে সেচ দিতে না পারলে সেই খরচের সুফল পাওয়া কঠিন। নলকূপের মালিকদের বিরোধের কারণে কৃষকেরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

আরেক কৃষক খোরশেদ বলেন, জমির ফসলের ওপর নির্ভর করেই তাঁদের সংসার চলে। ফসলের ক্ষতি হলে পুরো পরিবারকে এর মাশুল দিতে হবে। নলকূপ বন্ধ থাকায় সেচ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে সেলিম উদ্দিন মণ্ডল বলেন, গভীর নলকূপটি একাধিক শরিকের মালিকানাধীন এবং এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কিছু বিরোধ রয়েছে। তবে কৃষকদের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে তিনি নলকূপ বন্ধ রাখেননি। বিদ্যুতের মালামাল নিজের বাড়িতে রাখার পেছনে নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ বলেন, গভীর নলকূপটি বন্ধ থাকায় প্রায় ২০০ বিঘা জমির কৃষকেরা সেচসংকটে পড়েছেন বলে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। শরিকদের মধ্যে বিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু কৃষকদের ফসলের ক্ষতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি