খুঁজুন
                               
, ,
           

তাহসিফের মৃত্যু নিয়ে এখনই মুখ খুলছেন না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৩ অপরাহ্ণ
তাহসিফের মৃত্যু নিয়ে এখনই মুখ খুলছেন না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকার তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির (২৮) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো মন্তব্য করতে চান না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জেনে এ বিষয়ে কথা বলবেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাকাডেমির ঐতিহাসিক প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাহসিফের মৃত্যুর প্রসঙ্গ উঠে আসে। এ ঘটনায় তদন্তের আগে কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর অবস্থান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তদন্ত ও ময়নাতদন্তের পর বক্তব্য দেবেন মন্ত্রী
সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা প্রশ্নের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক তদন্ত ও ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত তথ্য জেনে তিনি এ বিষয়ে কথা বলবেন। তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ। মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘিরে কোনো অনুমান বা অপ্রমাণিত তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পরিবর্তে তদন্তের তথ্য সামনে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।

পুলিশকে জনবান্ধব হওয়ার আহ্বান
সারদায় পুলিশ অ্যাকাডেমির প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে বক্তব্যে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। সেবা নিতে আসা সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি পুলিশকে আরও আন্তরিক হতে হবে। তিনি বলেন, ভয়ভীতি ও পক্ষপাতিত্ব উপেক্ষা করে জনগণকে আইনি সেবা ও সুরক্ষা দিতে হবে। মানুষের পাশে থেকে সেবা দেওয়ার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করে পুলিশকে সত্যিকার অর্থে ‘জনগণের পুলিশ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, মানুষের জন্য কাজ করেই মানুষের হৃদয় জয় করতে হবে। পুলিশের আচরণ, দায়িত্ব পালন ও সেবার মানের মধ্য দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করা জরুরি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন সরকারের অগ্রাধিকার
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে পুনর্ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতের সরকারের আমলে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভঙ্গুর পুলিশ বাহিনীকে পুনর্গঠিত করে দক্ষ, আধুনিক, মানবিক ও সেবামুখী বাহিনীতে রূপান্তরের জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন, জনবল বৃদ্ধি, যানবাহন কেনা, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হয় মরদেহ
নৌপুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার তুরাগ নদ থেকে তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন নৌপুলিশের ঢাকা অঞ্চলের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন। তবে কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তদন্ত ও ময়নাতদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

ঋণ শোধেই গেল ১৩৫ কোটি

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৬ অপরাহ্ণ
ঋণ শোধেই গেল ১৩৫ কোটি

নতুন বৈদেশিক সহায়তা হিসেবে দেশে যে ডলার আসছে, তার দ্বিগুণেরও বেশি চলে যাচ্ছে পুরোনো ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ৬৬ কোটি ২৩ লাখ ডলার পেয়েছে সরকার। অথচ আগের নেওয়া ঋণের আসল ও সুদ শোধ করতেই ব্যয় হয়েছে ১৩৫ কোটি ১২ লাখ ডলারের বেশি। অর্থাৎ, নতুন সহায়তার চেয়ে ঋণ পরিশোধে প্রায় ৬৯ কোটি ডলার বেশি খরচ হয়েছে। এর মধ্যে আরও উদ্বেগের দিক হলো, গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বৈদেশিক সহায়তার অর্থছাড় কমেছে ৪২.৩ শতাংশ। নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতি বাড়লেও বাস্তবে অর্থ আসছে কম—ইআরডির সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বৈদেশিক অর্থায়নের এই বিপরীত চিত্র।

  • তিন মাসে বৈদেশিক সহায়তার অর্থছাড় কমেছে ৪২.৩ শতাংশ
  • বিপরীতে আসল-সুদ পরিশোধ বেড়েছে ৫.৬ শতাংশ
  • নতুন অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ

ঋণ পরিশোধে বাড়ছে ব্যয়অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বিদেশি ঋণের আসল পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ৮৫ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ ব্যয় ছিল ৮১ কোটি ৬৯ লাখ ৯০ হাজার ডলার। এক বছরের ব্যবধানে আসল পরিশোধের ব্যয় বেড়েছে ৪ কোটি ১৯ লাখ ৩০ হাজার ডলার।

সুদ পরিশোধেও ব্যয় বেড়েছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এ খাতে সরকারকে দিতে হয়েছে ৪৯ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে সুদ বাবদ ব্যয় ছিল ৪৬ কোটি ২৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অর্থাৎ, এক বছরে সুদ পরিশোধের ব্যয় বেড়েছে ২ কোটি ৯৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার। আসল ও সুদ মিলিয়ে তিন মাসে মোট পরিশোধের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩৫ কোটি ১২ লাখ ৩০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই ব্যয় বেড়েছে ৫.৬ শতাংশ।

সহায়তার অর্থছাড়ে বড় পতন
ঋণ পরিশোধের ব্যয় বাড়লেও নতুন বৈদেশিক সহায়তার প্রকৃত অর্থছাড়ে দেখা গেছে উল্টো প্রবণতা। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে উন্নয়ন সহযোগীরা ছাড় করেছে ৬৬ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১১৪ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে অর্থছাড় কমেছে ৪৮ কোটি ৬২ লাখ ৮০ হাজার ডলার। শতাংশের হিসাবে পতন ৪২.৩।

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে পাওয়া অর্থের মধ্যে ৫৪ কোটি ১৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার ঋণ এবং ১১ কোটি ৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার অনুদান। অর্থাৎ, প্রকৃত সহায়তার বড় অংশই ঋণ হিসেবে এসেছে। ফলে নতুন অর্থায়নের ক্ষেত্রে অনুদানের তুলনায় ঋণের ওপর নির্ভরতা বেশি থাকছে।

তবে এক প্রান্তিকের এই পরিসংখ্যান দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থসংকট তৈরি হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। অর্থছাড়ের পতন কতটা প্রকল্প বাস্তবায়ন বা সরকারি ব্যয়ে প্রভাব ফেলছে, তা বুঝতে প্রকল্পভিত্তিক অর্থপ্রাপ্তি ও ব্যয়ের তথ্যও প্রয়োজন।

প্রতিশ্রুতি বেড়েছে, অর্থ আসছে কম
বৈদেশিক সহায়তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, উন্নয়ন সহযোগীদের নতুন অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি বাড়লেও বাস্তবে অর্থছাড় কমেছে। ইআরডির হিসাবে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ১২৭ কোটি ৩০ লাখ ডলারের ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৯১ কোটি ৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার। এক বছরে প্রতিশ্রুতি বেড়েছে ৩৬ কোটি ২৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা প্রায় ৪০ শতাংশ। নতুন প্রতিশ্রুতির মধ্যে ১১৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার ঋণ এবং ১২ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার অনুদান হিসেবে দেওয়ার কথা রয়েছে।

বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনা
প্রথম প্রান্তিকের তথ্য তিনটি প্রবণতা সামনে এনেছে। প্রথমত, পুরোনো ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে ব্যয় বাড়ছে। দ্বিতীয়ত, নতুন বৈদেশিক সহায়তার প্রকৃত অর্থছাড় কমেছে। তৃতীয়ত, নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতি বাড়লেও সেই অর্থ বাস্তবে ছাড় হওয়ার গতি একই হারে বাড়েনি।

এই পরিস্থিতিতে প্রতিশ্রুত অর্থ দ্রুত ছাড় করানো এবং ঋণের অর্থ কার্যকরভাবে ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা বা ব্যয় বৃদ্ধি হলে ঋণের অর্থ থেকে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুফল পেতে দেরি হতে পারে, অথচ ঋণ পরিশোধের দায় বহাল থাকে।

এ ছাড়া বৈদেশিক ঋণ ডলারের মতো মুদ্রায় পরিশোধ করতে হয় বলে টাকার অবমূল্যায়ন হলে একই পরিমাণ ঋণ শোধে স্থানীয় মুদ্রায় বেশি অর্থ প্রয়োজন হতে পারে। তবে ঋণ পরিশোধ ও সহায়তার অর্থছাড়ের ব্যবধানকে দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক মুদ্রার নিট প্রবাহের পূর্ণাঙ্গ চিত্র হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। রপ্তানি আয়, প্রবাসী আয়, বিদেশি বিনিয়োগসহ অন্যান্য বৈদেশিক লেনদেনও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/টিইকে/এমকে

সংস্কৃতি ও মতাদর্শে দলীয় কর্তৃত্ব জোরদার করছে চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৮ অপরাহ্ণ
সংস্কৃতি ও মতাদর্শে দলীয় কর্তৃত্ব জোরদার করছে চীন

সংস্কৃতি, গণমাধ্যম, সাহিত্য, শিল্পকলা, ধর্ম ও ইন্টারনেটের ওপর কমিউনিস্ট পার্টির কর্তৃত্ব আরও সুসংহত করতে উদ্যোগী হয়েছে চীন। দেশটির প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সাংস্কৃতিক চিন্তাধারাকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ও মতাদর্শিক নিয়ন্ত্রণকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা জোরদার হচ্ছে। চীনের সরকারি ভাষ্যে এর লক্ষ্য জাতীয় ঐক্য, সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। তবে সমালোচকদের দৃষ্টিতে, এ ধরনের নীতির ফলে স্বাধীন চিন্তা ও সৃজনশীলতার পরিসর সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

গত ১২ অক্টোবর চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম *পিপলস ডেইলি*তে প্রকাশিত একটি তাত্ত্বিক নিবন্ধে শি চিনপিংয়ের সাংস্কৃতিক চিন্তাধারাকে দলীয় নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করার পূর্ণাঙ্গ কাঠামো হিসেবে তুলে ধরা হয়। পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্ক্সবাদ স্কুলের অধ্যাপক সান লাইবিনের লেখা নিবন্ধে সম্প্রতি প্রকাশিত *শি চিনপিং কালচারাল অ্যান্থলজি*র প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ডের বিষয়বস্তু আলোচনা করা হয়েছে। নিবন্ধে সংকলনটিকে কেবল তাত্ত্বিক বক্তব্যের সমষ্টি হিসেবে নয়, বরং প্রচার, মতাদর্শ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্ব কার্যকর করার নির্দেশিকা হিসেবেও উপস্থাপন করা হয়েছে।

সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রে দলীয় নেতৃত্ব
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কাছে মতাদর্শিক নিয়ন্ত্রণ নতুন কোনো ধারণা নয়। লেনিনবাদী রাজনৈতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দলটি দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্র পরিচালনা ও রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে মতাদর্শকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে আসছে। তবে শি চিনপিংয়ের নেতৃত্বে এই ধারণাকে আরও বিস্তৃত ও সুসংহত কাঠামোয় রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে। সান লাইবিনের নিবন্ধে দলীয় নেতৃত্বকে ‘সামগ্রিক ও সর্বব্যাপী’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এ ধারণার আওতায় কেবল সংবাদমাধ্যম বা রাজনৈতিক প্রচার নয়, সাহিত্য, শিল্পকলা, ধর্মীয় কর্মকাণ্ড এবং ইন্টারনেটের মতো ক্ষেত্রও অন্তর্ভুক্ত।

নিবন্ধে মার্ক্সবাদী তত্ত্বের আলোকে সমাজের প্রভাবশালী চিন্তা ও বস্তুগত সম্পর্কের মধ্যে যোগসূত্র তুলে ধরা হয়েছে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির এই ব্যাখ্যায় অর্থনীতি ও রাষ্ট্রের ওপর রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি জনমত ও মানুষের চিন্তাজগতের ওপরও নেতৃত্ব বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। এর অর্থ, সাংস্কৃতিক নীতির লক্ষ্য শুধু সরকারি বক্তব্য প্রচারেই সীমাবদ্ধ নয়। কোন ধারণা গ্রহণযোগ্য হবে, জাতীয় পরিচয় কীভাবে সংজ্ঞায়িত হবে এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কোন রাজনৈতিক লক্ষ্যকে সমর্থন করবে—এসব ক্ষেত্রেও পার্টির কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

গণমাধ্যম ও ইন্টারনেটে নিয়ন্ত্রণের দর্শন
শি চিনপিংয়ের সাংস্কৃতিক নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ গণমাধ্যম ও ডিজিটাল পরিসর। সান লাইবিনের নিবন্ধে ‘সঠিক জনমত পরিচালনা’কে পার্টি ও জনগণের স্বার্থের সহায়ক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিপরীতে, ভুল জনমত পরিচালনাকে উভয়ের জন্য ক্ষতিকর বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

ইন্টারনেটের ক্ষেত্রেও সেটিকে ‘সঠিকভাবে পরিচালনা ও ব্যবহার’ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তথ্যপ্রবাহ ও জনমত গঠনের প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব বজায় রাখার দর্শন প্রতিফলিত হয়েছে। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে তথ্য নিয়ন্ত্রণকে কেবল কোনো সংকট বা বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবিলার ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে না; বরং রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

নিবন্ধে পার্টির শৃঙ্খলা ও জনগণের অংশগ্রহণের মধ্যে সামঞ্জস্যের কথাও বলা হয়েছে। সেখানে পার্টির বৈশিষ্ট্য ও জনগণের বৈশিষ্ট্যকে অভিন্ন এবং পরস্পরবিরোধী নয় বলে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দলীয় রাজনৈতিক লক্ষ্য ও জনগণের স্বার্থ একই জায়গায় মিলিত হয়—এমন ধারণা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা দেখা যায়। তবে বাস্তবে নাগরিকদের দাবি, সাংস্কৃতিক পছন্দ কিংবা রাজনৈতিক মতামত সব সময় সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে এক নাও হতে পারে। ফলে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের সীমা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার অবকাশ রয়েছে।

জাতীয় নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাসের যুক্তি
চীনের সাংস্কৃতিক নীতির পেছনে জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিবেচনাও রয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন, বিদেশি সমালোচনা এবং ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে বেইজিং অভ্যন্তরীণ জনমত ও জাতীয় বয়ানের ওপর নিয়ন্ত্রণকে দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষার অংশ হিসেবে দেখছে।

সরকারি দৃষ্টিভঙ্গিতে সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস, জাতীয় সংহতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই কাঠামোয় সংস্কৃতিকে জাতীয় পরিচয় শক্তিশালী করা এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও পুনর্জাগরণের লক্ষ্য এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক আনুগত্যকে সাংস্কৃতিক ঐক্যের সঙ্গে যুক্ত করা হলে মতাদর্শিক ভিন্নমতকে সামাজিক সংহতির জন্য হুমকি হিসেবে দেখার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। এর ফলে স্বাধীন মতপ্রকাশ ও বিকল্প চিন্তার জায়গা সীমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সৃজনশীলতা ও স্বাধীন চিন্তা নিয়ে প্রশ্ন
চীনের এই সাংস্কৃতিক কাঠামোর সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন রয়েছে—জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার প্রয়াস কীভাবে স্বাধীন চিন্তা ও সৃজনশীলতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকবে? একদিকে উদ্ভাবন, সাংস্কৃতিক বিকাশ ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করার কথা বলা হচ্ছে। অন্যদিকে, এসব কর্মকাণ্ডের জন্য রাজনৈতিকভাবে নির্ধারিত সীমারেখা থাকলে সৃজনশীলতার স্বাধীনতা কতটা বজায় থাকবে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

সমালোচনা ও বিতর্কের সুযোগ থাকলেও কোন বক্তব্য গ্রহণযোগ্য এবং কোনটি মতাদর্শিক বিচ্যুতি হিসেবে বিবেচিত হবে, তা নির্ধারণের কর্তৃত্ব যদি মূলত পার্টির হাতে থাকে, তাহলে স্বাধীন বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার ক্ষেত্র সীমিত হতে পারে। বিশেষ করে সাহিত্য, শিল্পকলা ও ডিজিটাল মাধ্যমে নতুন ধারণা প্রকাশের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা সৃজনশীল পরীক্ষানিরীক্ষার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এ নীতির দীর্ঘমেয়াদি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রভাব কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ভর করবে বাস্তব প্রয়োগ এবং ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগের ওপর।

দীর্ঘমেয়াদি শাসনব্যবস্থার অংশ সাংস্কৃতিক নীতি
সান লাইবিনের নিবন্ধে আলোচিত *শি চিনপিং কালচারাল অ্যান্থলজি*তে ৭৮টি লেখা রয়েছে। নিবন্ধে এসব লেখাকে শি চিনপিংয়ের তাত্ত্বিক কর্তৃত্ব এবং চীনের ‘সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাসের’ প্রতিফলন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, সংকলনটি শি চিনপিংয়ের সাংস্কৃতিক বক্তব্যের সংকলনের পাশাপাশি মতাদর্শিক নেতৃত্বকে দীর্ঘমেয়াদি শাসনব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়। বেইজিংয়ের দৃষ্টিতে সাংস্কৃতিক ঐক্য জাতীয় শক্তির উৎস। তবে দলীয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে গড়ে তোলা ঐক্য স্বাধীন চিন্তা ও সৃজনশীলতার বিকাশে কতটা সহায়ক হবে, তা নিয়ে বিতর্ক থেকেই যাচ্ছে।

সূত্র: ডেইলি মিরর, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

মানবতাবিরোধী অপরাধে হানিফের সর্বোচ্চ সাজা

আদালত প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৪ অপরাহ্ণ
মানবতাবিরোধী অপরাধে হানিফের সর্বোচ্চ সাজা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় অপর তিন আসামি কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী এবং কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। মামলার চার আসামিই পলাতক।

এক অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড, অন্য অভিযোগে কারাদণ্ড
রায়ে মাহবুব উল আলম হানিফকে একটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং দুটি অভিযোগে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর তিন আসামি সদর উদ্দিন খান, আসগর আলী ও আতাউর রহমান আতাকে একটি অভিযোগে আমৃত্যু সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুটি অভিযোগে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া আরেকটি অভিযোগে চার আসামিকেই যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামির স্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

ছয়জনকে হত্যাসহ তিন অভিযোগ
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়া শহরে ছয়জনকে হত্যাসহ মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয় চার আসামির বিরুদ্ধে। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়া এবং হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল তাঁদের বিরুদ্ধে।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৫, ১৭ ও ৩০ জুলাই এবং ৩ আগস্ট আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন হানিফ। এসব বৈঠক ও সভায় দেওয়া বক্তব্যকে সমর্থন করার অভিযোগ আনা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ২৯ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবে একটি আলোচনা সভায় আন্দোলনকারীদের ‘জামায়াত’, ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘সাম্প্রদায়িক’ আখ্যা দিয়ে আন্দোলন দমনে হত্যা ও নির্যাতনে উসকানি, প্ররোচনা এবং সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও ছিল।

প্রসিকিউশনের অভিযোগে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন তৎকালীন সরকারের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার উদ্দেশ্যে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনাকে সমর্থন করেছিলেন হানিফ। ড্রোনের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের শনাক্ত করা এবং হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে আন্দোলন দমনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তেও তাঁর সমর্থন ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশজুড়ে আন্দোলনকারীদের হত্যা ও গুরুতর আহত করার ঘটনায় উসকানি ও সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন।

কুষ্টিয়ায় আন্দোলন দমনে বল প্রয়োগের নির্দেশের অভিযোগ
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হানিফের নেতৃত্বে সদর উদ্দিন খান, আসগর আলী ও আতাউর রহমান আতাসহ অন্য নেতারা বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে নিরীহ ও নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে কুষ্টিয়া শহরে আন্দোলন দমনে সর্বোচ্চ বল প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, ওই বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ওপর বল প্রয়োগ, গুলি চালানো, হত্যা ও নির্যাতনে উসকানি এবং সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। এ অভিযোগে হানিফের পাশাপাশি সদর উদ্দিন খান, আসগর আলী ও আতাউর রহমান আতাকেও আসামি করা হয়।

৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ
মামলার তৃতীয় অভিযোগটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে ছয়জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনা নিয়ে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন ও উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত এসব ঘটনার দায় নির্ধারণে প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম এবং প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি