খুঁজুন
                               
, ,
           

ডেঙ্গুর লাগাম টানাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ
ডেঙ্গুর লাগাম টানাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

গত সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ যে গতিতে বেড়েছে, অক্টোবরে তা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। গত মাসে ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, মৃত্যু হয়েছে ১৪৮ জনের। আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ রোগী থেকে এক মাসে সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। সংক্রমণের এই গতি অব্যাহত থাকলে অক্টোবরে কোনো কোনো দিনে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজারে উঠতে পারে। নভেম্বরের শেষ দিকে সংক্রমণ কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৩০ সেপ্টেম্বরের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৯ হাজার ৬২০ জন। এর মধ্যে জুন-সেপ্টেম্বর চার মাসেই ভর্তি হয়েছেন ৭৬ হাজার ৪২৩ জন। অর্থাৎ বছরের প্রায় ৯৬ শতাংশ রোগী এসেছে এই চার মাসে। সেপ্টেম্বরেই আক্রান্ত হয়েছেন মোট রোগীর অর্ধেকের বেশি।

  • সেপ্টেম্বরে আক্রান্ত ৪৩ হাজার ৭৭৪, মৃত্যু ১৪৮
  • ঢাকার বাইরেও দ্রুত বাড়ছে রোগীর চাপ
  • দৈনিক রোগী সাড়ে ৩ হাজারে ওঠার পূর্বাভাস

চার মাসে বদলে গেছে চিত্র
গত জুনে ২ হাজার ৯০৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর জুলাইয়ে সংখ্যা দাঁড়ায় ৯ হাজার ২০৬ জনে। আগস্টে তা বেড়ে ২০ হাজার ৫৩৬ এবং সেপ্টেম্বরে ৪৩ হাজার ৭৭৪ জনে পৌঁছে। সেপ্টেম্বরে এক মাসেই রোগী বেড়েছে ২৩ হাজারের বেশি। মৃত্যুর ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা। জুনে ১৩, জুলাইয়ে ৩৬ ও আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যুর পর সেপ্টেম্বরে মারা গেছেন ১৪৮ জন। বছরের মোট ২৪৫ মৃত্যুর মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি ঘটেছে এক মাসেই।

রাজধানীর বাইরে রোগীর চাপ
ডেঙ্গুর বিস্তার এবার ঢাকার বাইরে আরও স্পষ্ট। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে ১৮ হাজার ১৭৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হলেও ঢাকার বাইরে ভর্তি হয়েছেন ৬১ হাজার ৮০ জন। ঢাকা মহানগরীর বাইরে ঢাকা বিভাগে ১৩ হাজার ৮৩৫ জন, খুলনায় ১২ হাজার ৮২৫, চট্টগ্রামে ১১ হাজার ৮০৮ এবং বরিশালে ১০ হাজার ৫২৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও মশক নিয়ন্ত্রণ জোরদারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

অক্টোবরের চাপ ঠেকাতে সময় কম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, অক্টোবরের পরিস্থিতি সেপ্টেম্বারের চেয়েও খারাপ হতে পারে। এখনই বিজ্ঞানভিত্তিক ও সমন্বিত মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার না করলে রোগীর চাপ আরও বাড়বে। নভেম্বরের শেষ দিকে পরিস্থিতি উন্নত হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হানও অক্টোবরজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি থাকার আশঙ্কা করেছেন। তার পরামর্শ, ডোবা, নালা, নর্দমা, খাল, ছাদ, বারান্দা ও পার্কিং এলাকায় জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে।

মশা নয়, আগে ধ্বংস করতে হবে জন্মস্থান
এডিস নিয়ন্ত্রণে শুধু কীটনাশক ছিটালে হবে না। বাড়ির ফুলের টব, নির্মাণাধীন ভবন, ছাদ, পরিত্যক্ত পাত্র কিংবা সামান্য জমে থাকা পানিও এডিসের প্রজননস্থল হতে পারে। এসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার না করলে মশার ঘনত্ব কমানো কঠিন। সেপ্টেম্বরের শেষ ২৪ ঘণ্টায়ই ১ হাজার ৯৪৮ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মারা গেছেন ছয়জন। ওই দিন পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিলেন ৫ হাজার ৪৮৫ জন। অক্টোবরে রোগীর চাপ কমাতে হলে এখনই প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত মশক নিধন এবং আক্রান্ত এলাকাভিত্তিক নজরদারি একসঙ্গে চালাতে হবে।

কালের আলো/আরআই/এমকে

চট্টগ্রামে দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধন

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০২ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধন

দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক চালু হয়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। নগরের পতেঙ্গায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-সংলগ্ন সড়কে নির্মিত এ ট্র্যাকের মাধ্যমে সাইকেল চালকদের নিরাপদ চলাচলের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব যাতায়াত, শরীরচর্চা ও নগরবাসীর সুস্থ জীবনযাপনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ট্র্যাকটির উদ্বোধন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এটি নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দর সড়কের এ অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটার। সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি নির্মাণ করা হয়েছে সাইকেল ট্র্যাক, ফুটপাত ও মাঝখানে বিভাজক। সৌন্দর্যবর্ধনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সাইকেল শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; অনেক মানুষ অফিসে যাতায়াত ও দৈনন্দিন কাজেও এটি ব্যবহার করেন। তাঁদের নিরাপদ চলাচলের জন্য আলাদা জায়গা থাকা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, নাগরিকদের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ করা কোনো বিলাসিতা নয়। একটি সভ্য ও উন্নত দেশে সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হয়। অন্তর্ভুক্তিমূলক দেশ গড়ার লক্ষ্যেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সাইকেল চালানো শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে নিরাপদ পরিবেশ না থাকলে অনেকে রাস্তায় সাইকেল চালাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। এ বিবেচনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের উদ্যোগে সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, নগরের বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে আরও সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে সাইকেলে যাতায়াতের পাশাপাশি বিনোদন ও শরীরচর্চার সুযোগ বাড়বে।

সাইকেল ট্র্যাকের পাশাপাশি হাঁটার উপযোগী পথ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। বিশেষ করে খালের দুই পাশে হাঁটার রাস্তা নির্মাণের জন্য সিটি করপোরেশনের মেয়রকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করতে পেরে তাঁরা গর্বিত। নগরবাসী ও পর্যটকদের জন্য নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব এবং আধুনিক যাতায়াতব্যবস্থা গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মেয়র জানান, ট্র্যাকটি প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ। এর দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য বিভিন্ন ধরনের ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে। পাশাপাশি হাঁটার পথও তৈরি করা হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দর সড়ক সম্প্রসারণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়কটির উন্নয়ন করা হয়েছে। সাইকেল ট্র্যাক ও সৌন্দর্যবর্ধিত হাঁটার পথের পাশাপাশি দুই পাশে ফুটপাত এবং সড়কের মাঝখানে কার্বস্টোন দিয়ে বিভাজক নির্মাণ করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

মিরপুরের ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে কঠোর হুঁশিয়ারি ডিএনসিসি প্রশাসকের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
মিরপুরের ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে কঠোর হুঁশিয়ারি ডিএনসিসি প্রশাসকের

মিরপুরের ফুটপাত হকারমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখার দাবি ছিল দীর্ঘ ২০ বছরের। সেই দাবি পূরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। একই সঙ্গে ফুটপাত পুনরায় দখলের চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মিরপুর-১০-এর ফলপট্টি সড়কে মেট্রোরেলের পিলারে জুলাই অভ্যুত্থানের গ্রাফিতি আঁকার কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, মিরপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল ফুটপাত হকারমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন করা। সেই প্রত্যাশা পূরণ করা হয়েছে। এ পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সড়কের পাশের দোকানিদের নিজেদের আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার পাশাপাশি দোকানের সামনে পুনরায় হকার বসতে না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

একটি বড় রাজনৈতিক দল উচ্ছেদ হওয়া কিছু ফুটপাতের দোকানিকে বাসায় ডেকে অনৈতিক কাজে উৎসাহিত করছে বলে অভিযোগ করেন শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাঁদের কাছে নথি ও তথ্য রয়েছে। কেউ ফুটপাত নিয়ে টালবাহানা করলে কিংবা পুনরায় দখলের চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নতুন করে কেউ ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করলে নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তা মোকাবিলা করতে প্রস্তুত তিনি।

অটোরিকশা আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ওই আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের দেখা গেছে। অটোরিকশাচালকদের দাবি নিয়ে একটি বড় রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের সমালোচনাও করেন তিনি। ওই নেতার ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে বলে দাবি করেন শফিকুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করে বারবার পার পাওয়া যাবে না। নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পরিচ্ছন্নতা, মশক নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং সড়ক উন্নয়নের মতো কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

মেট্রোরেলের পিলারে জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি আঁকার বিষয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, দেশের ইতিহাস রচনায় জীবন উৎসর্গকারী এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের স্মৃতি ধরে রাখতে এসব গ্রাফিতি স্থাপন করা হবে।

তিনি জানান, মেট্রোরেলের পিলারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতিকৃতির পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও নেতৃত্বদানকারীদের ছবি গ্রাফিতির মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। এতে ছাত্রদলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের ছবিও থাকবে।

ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে নগরবাসীর সচেতনতা জরুরি। একজনের অসচেতনতার কারণে অন্যরা ভোগান্তিতে পড়তে পারেন, যার প্রভাব পুরো নগরীর ওপর পড়ে।

ডিএনসিসির মিরপুর জোনের কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, মেট্রোরেলের পিলারে আগের সরকারের ব্যর্থতাগুলো তুলে ধরা হবে, যাতে ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসবেন, তাঁরা সেখান থেকে শিক্ষা নিতে পারেন।

অনুষ্ঠানে কাফরুল থানা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ আকরাম হোসেন বাবুসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: ৪ জনের ছাত্রত্ব বাতিল, ৩ জনকে সতর্ক করার সুপারিশ

রাবি সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৪ অপরাহ্ণ
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: ৪ জনের ছাত্রত্ব বাতিল, ৩ জনকে সতর্ক করার সুপারিশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় চার শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। একই ঘটনায় আরও চারজনের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া এবং তিনজনকে সতর্ক করার সুপারিশ করা হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম।

উপাচার্য জানান, গত ৪ অক্টোবর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও দায়ীদের শাস্তির সুপারিশ করতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির সদস্যদের সর্বসম্মতিতে তৈরি লিখিত প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়।

তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, ছাত্রদল কর্মী বিশাল চক্রবর্তী, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান এবং শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আরিফুল ইসলামের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া রাকসুর সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম ও ছাত্রদল কর্মী তানিম রহমানের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও প্রমাণাদি অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।

অন্যদিকে, শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি বুলবুল রহমান, সহসভাপতি শরীফুল ইসলাম ও সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমকে সতর্ক করার সুপারিশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৪ অক্টোবর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

তদন্ত কমিটির সুপারিশের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি