ডেঙ্গুর লাগাম টানাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ
গত সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ যে গতিতে বেড়েছে, অক্টোবরে তা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। গত মাসে ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, মৃত্যু হয়েছে ১৪৮ জনের। আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ রোগী থেকে এক মাসে সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। সংক্রমণের এই গতি অব্যাহত থাকলে অক্টোবরে কোনো কোনো দিনে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজারে উঠতে পারে। নভেম্বরের শেষ দিকে সংক্রমণ কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৩০ সেপ্টেম্বরের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৯ হাজার ৬২০ জন। এর মধ্যে জুন-সেপ্টেম্বর চার মাসেই ভর্তি হয়েছেন ৭৬ হাজার ৪২৩ জন। অর্থাৎ বছরের প্রায় ৯৬ শতাংশ রোগী এসেছে এই চার মাসে। সেপ্টেম্বরেই আক্রান্ত হয়েছেন মোট রোগীর অর্ধেকের বেশি।
- সেপ্টেম্বরে আক্রান্ত ৪৩ হাজার ৭৭৪, মৃত্যু ১৪৮
- ঢাকার বাইরেও দ্রুত বাড়ছে রোগীর চাপ
- দৈনিক রোগী সাড়ে ৩ হাজারে ওঠার পূর্বাভাস
চার মাসে বদলে গেছে চিত্র
গত জুনে ২ হাজার ৯০৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর জুলাইয়ে সংখ্যা দাঁড়ায় ৯ হাজার ২০৬ জনে। আগস্টে তা বেড়ে ২০ হাজার ৫৩৬ এবং সেপ্টেম্বরে ৪৩ হাজার ৭৭৪ জনে পৌঁছে। সেপ্টেম্বরে এক মাসেই রোগী বেড়েছে ২৩ হাজারের বেশি। মৃত্যুর ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা। জুনে ১৩, জুলাইয়ে ৩৬ ও আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যুর পর সেপ্টেম্বরে মারা গেছেন ১৪৮ জন। বছরের মোট ২৪৫ মৃত্যুর মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি ঘটেছে এক মাসেই।
রাজধানীর বাইরে রোগীর চাপ
ডেঙ্গুর বিস্তার এবার ঢাকার বাইরে আরও স্পষ্ট। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে ১৮ হাজার ১৭৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হলেও ঢাকার বাইরে ভর্তি হয়েছেন ৬১ হাজার ৮০ জন। ঢাকা মহানগরীর বাইরে ঢাকা বিভাগে ১৩ হাজার ৮৩৫ জন, খুলনায় ১২ হাজার ৮২৫, চট্টগ্রামে ১১ হাজার ৮০৮ এবং বরিশালে ১০ হাজার ৫২৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও মশক নিয়ন্ত্রণ জোরদারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
অক্টোবরের চাপ ঠেকাতে সময় কম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, অক্টোবরের পরিস্থিতি সেপ্টেম্বারের চেয়েও খারাপ হতে পারে। এখনই বিজ্ঞানভিত্তিক ও সমন্বিত মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার না করলে রোগীর চাপ আরও বাড়বে। নভেম্বরের শেষ দিকে পরিস্থিতি উন্নত হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হানও অক্টোবরজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি থাকার আশঙ্কা করেছেন। তার পরামর্শ, ডোবা, নালা, নর্দমা, খাল, ছাদ, বারান্দা ও পার্কিং এলাকায় জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে।
মশা নয়, আগে ধ্বংস করতে হবে জন্মস্থান
এডিস নিয়ন্ত্রণে শুধু কীটনাশক ছিটালে হবে না। বাড়ির ফুলের টব, নির্মাণাধীন ভবন, ছাদ, পরিত্যক্ত পাত্র কিংবা সামান্য জমে থাকা পানিও এডিসের প্রজননস্থল হতে পারে। এসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার না করলে মশার ঘনত্ব কমানো কঠিন। সেপ্টেম্বরের শেষ ২৪ ঘণ্টায়ই ১ হাজার ৯৪৮ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মারা গেছেন ছয়জন। ওই দিন পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিলেন ৫ হাজার ৪৮৫ জন। অক্টোবরে রোগীর চাপ কমাতে হলে এখনই প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত মশক নিধন এবং আক্রান্ত এলাকাভিত্তিক নজরদারি একসঙ্গে চালাতে হবে।
কালের আলো/আরআই/এমকে



আপনার মতামত লিখুন
Array