খুঁজুন
                               
, ,
           

ত্যাগের পর এবার ‘ক্লিন ইমেজ’ পরীক্ষা বিএনপিতে

মো.শামসুল আলম খান, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ অপরাহ্ণ
ত্যাগের পর এবার ‘ক্লিন ইমেজ’ পরীক্ষা বিএনপিতে

ক্ষমতায় এসে বিএনপির সামনে এখন নতুন এক সাংগঠনিক পরীক্ষা। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত নেতাদের ওপর নির্ভরতার পাশাপাশি দল ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে এবার স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, জনগ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলোতে নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ‘কে কতদিন রাজনীতি করেছেন’—এই প্রশ্নের পাশাপাশি ‘কে কতটা গ্রহণযোগ্য’ এবং ‘কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে’—সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের ভাষ্য, ক্ষমতাসীন দল হিসেবে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ড এখন সরাসরি দলের ভাবমূর্তির সঙ্গে যুক্ত। ফলে নেতৃত্বে ভুল নির্বাচন শুধু সাংগঠনিক দুর্বলতা তৈরি করবে না, এর রাজনৈতিক প্রভাবও পড়তে পারে। এ কারণে নতুন কমিটি গঠনে তাড়াহুড়া না করে যাচাই-বাছাইয়ের ওপর জোর দিচ্ছে দলটির হাইকমান্ড।

  • বিএনপির নতুন কমিটিতে গ্রহণযোগ্যতাই বড় মাপকাঠি
  • ঢাকা মহানগরসহ চার সংগঠনে নেতৃত্ব বদলের আভাস
  • আলোচনায় একাধিক নতুন-পুরোনো মুখ

জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জানিয়েছেন, দলের প্রতি আন্তরিকতা, ত্যাগ, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা—সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। তাঁর মতে, কমিটি গঠনের কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো সময় ঘোষণা আসতে পারে। অন্যদিকে, যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না জানিয়েছেন, সংগঠনের নতুন কমিটি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। তাঁর বক্তব্যেও নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে ইতিবাচক ভাবমূর্তি ও জনগ্রহণযোগ্যতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।

ঢাকা মহানগরেই প্রথম বড় পরীক্ষা
বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ঢাকা মহানগর। রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিট রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন থেকে শুরু করে ওয়ার্ড-থানা পর্যায়ের সংগঠন পরিচালনা এবং ভবিষ্যৎ স্থানীয় সরকার নির্বাচন—সব ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক আমিনুল হক, সদস্যসচিব মোস্তফা জামান, যুগ্ম আহ্বায়ক আফাজ উদ্দিন, এস এ সিদ্দিকী সাজু, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর, আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, এ বি এম রাজ্জাক এবং যুবদলের সহসভাপতি শরিফ উদ্দিন জুয়েলের নাম রয়েছে।

দক্ষিণ মহানগরেও সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। সাধারণ সম্পাদক পদে তানভীর আহমেদ রবিনের নাম আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি লিটন মাহমুদ, আ ন ম সাইফুল ইসলাম, সাইদুর রহমান মিন্টু, আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, আবদুল মোনায়েম মুন্না ও এস এম জিলানীর নামও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনায় আছে। তবে দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এসব নাম এখনো সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে আরও যাচাই-বাছাই হতে পারে।

যুবদলে শীর্ষ পদ ঘিরে নানা সমীকরণ
কেন্দ্রীয় যুবদলের নতুন কমিটি নিয়েও আলোচনা দীর্ঘ হচ্ছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় গোলাম মাওলা শাহীন, শরীফ উদ্দিন জুয়েল, সাইদ ইকবাল টিটু, মামুন হাসান, রেজাউল কবীর পল, আকরামুল হাসান, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, ফজলুর রহমান খোকন ও ইকবাল হোসেন শ্যামলের নাম রয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলেও শরীফ উদ্দিন জুয়েলের নাম গুরুত্বপূর্ণ পদে আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি মিজানুর রহমান রাজ, মনিরুল ইসলাম মনির, তসলিম আহসান মাসুম, আমিনুল হক হিমেল, মাহবুবুর রহমান মাহবুব ও মেহেদী হাসান রুয়েলের নাম রয়েছে। দক্ষিণ যুবদলের নেতৃত্বে এনামুল হক এনাম, রবিউল ইসলাম নয়ন, মো. আসাদুজ্জামান আসলাম, ওমর ফারুক মুন্না, ফয়সাল আহমেদ সজল, শেখ খালিদ হাসান জ্যাকি, আবদুল গাফফার, নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ ও আসিফুর রহমান বিপ্লবের নামও আলোচনায় রয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবক দলেও নতুন কমিটির অপেক্ষা
স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি নিয়েও কয়েক মাস ধরে আলোচনা চলছে। বর্তমান সভাপতি এস এম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসানের রাজনৈতিক ও সরকারি দায়িত্বের কারণে সংগঠনের জন্য নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

সম্ভাব্য নতুন কমিটিতে জহির উদ্দিন তুহিন, ইয়াসিন আলী, নাজমুল হাসান, ফখরুল ইসলাম রবিন, কাজী মোখতার হোসেন ও গোলাম মোর্শেদ রাসেলের নাম রয়েছে। তবে সংগঠনটির নেতৃত্বে কারা আসবেন, তা নির্ভর করছে হাইকমান্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।

ছাত্রদলে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান কবে?
বিএনপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়েও অপেক্ষা চলছে। নতুন নেতৃত্বের আলোচনায় আমান উল্লাহ আমান,
শ্যামল মালুম, মনিরুল ইসলাম জিসান, মঞ্জুরুল আলম রিয়াদ, রিয়াদ রহমান, এজাজুল কবির রুয়েল, মোস্তাফিজুর রহমান, শরীফ প্রধান শুভ, ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত, রাজু আহমেদ, গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক, মাসুম বিল্লাহ, মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, গাজী সাদ্দাম হোসেন, ইব্রাহিম খলিল ও তারেক হাসান মামুনের নাম রয়েছে। বিদায়ী নেতৃত্বের দায়িত্ব শেষ হওয়ার ইঙ্গিতের পর থেকেই পদপ্রত্যাশীদের তৎপরতা বেড়েছে। ফলে ছাত্রদলের নতুন কমিটিও বিএনপির নেতৃত্ব বাছাইয়ের নতুন নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে।

বলয়ের বাইরে গিয়ে বাছাইয়ের চেষ্টা
বিএনপির দায়িত্বশীল একটি সূত্রের দাবি, এবার কমিটি গঠনে কোনো নির্দিষ্ট বলয়কে প্রাধান্য দিতে চাইছে না হাইকমান্ড। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাংগঠনিক বিষয়গুলোতে সরাসরি যুক্ত থাকছেন এবং সম্ভাব্য নেতৃত্ব যাচাই-বাছাই করছেন। দলের ভেতরে লবিং-গ্রুপিং থাকলেও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে তার প্রভাব কতটা থাকবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ ক্ষমতায় থাকার সময়ে সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হলে তার প্রভাব মাঠের রাজনীতি থেকে শুরু করে সরকারের ভাবমূর্তিতেও পড়তে পারে।

ত্যাগ বনাম গ্রহণযোগ্যতার নতুন সমীকরণ
বিএনপির বর্তমান সাংগঠনিক তৎপরতায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে নেতৃত্বের মানদণ্ডে। একসময় দীর্ঘদিনের আন্দোলন, মামলা-হামলা ও রাজপথের সক্রিয়তাই ছিল নেতৃত্ব নির্বাচনের বড় পরিচয়। এখন তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জনসম্পৃক্ততা, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং বিতর্কমুক্ত থাকার প্রশ্ন।

ঢাকা মহানগরসহ গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলোর নতুন কমিটি সেই পরিবর্তনের বাস্তব পরীক্ষা। অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেতৃত্বকে ধরে রাখার পাশাপাশি তরুণদের জায়গা দেওয়া এবং একই সঙ্গে বিতর্কমুক্ত ভাবমূর্তি নিশ্চিত করা—এই তিনটি লক্ষ্য একসঙ্গে পূরণ করাই হবে বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শেষ পর্যন্ত নতুন কমিটিগুলো শুধু পদবণ্টনের তালিকা হবে, নাকি ক্ষমতাসীন বিএনপির নতুন সাংগঠনিক দর্শনের প্রতিফলন ঘটাবে—তার উত্তর মিলবে ঘোষণার পরই।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৫৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

সীতাকুণ্ড সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৬ অপরাহ্ণ
প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৫৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। উপজেলার ৯৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৮টিতেই নেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক। অন্যদিকে, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার ১১টিতে দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম। এ ছাড়া ১০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকায় শিক্ষকদের ওপর বাড়তি দায়িত্ব পড়ছে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও পাঠদানের ক্ষেত্রে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সংকট

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ৪৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। এসব প্রতিষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তাঁদের একই সঙ্গে দাপ্তরিক কাজ ও শ্রেণিকক্ষে পাঠদান সামলাতে হচ্ছে।

তবে শূন্য পদ পূরণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৪৮ জন সহকারী শিক্ষককে পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক পদে পদায়নের প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ ছাড়া বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের আলম লায়লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের নডালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় ডেপুটেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সীতাকুণ্ড পৌরসভার মৌলভীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতে অভিভাবকদের সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় অভিভাবক শহিদুল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। বিদ্যালয়ভিত্তিক অভিভাবক সমাবেশ ও সচেতনতামূলক সভা আয়োজন করা গেলে উপস্থিতি বাড়ানো সম্ভব।

পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, গত দুই থেকে তিন মাস ধরে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির যেসব শিক্ষার্থী সাবলীলভাবে পড়তে পারে না, তাদের তালিকা করে ডেটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। কোনো বিদ্যালয়ে এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হলে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দিয়ে তাদের আলাদাভাবে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

উপজেলার মাধ্যমিক স্তরের ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো লতিফপুর আলহাজ্ব আব্দুল জলিল উচ্চবিদ্যালয়, হযরত খাজা কালুশাহ (রহ.) বালিকা বিদ্যালয়, ভাটিয়ারী হাজী তোবারক আলী উচ্চবিদ্যালয়, মোহাম্মদ আবুল কাশেম রাজা উচ্চবিদ্যালয়, সবুজ শিক্ষায়তন উচ্চবিদ্যালয়, কুমিরা আবাসিক উচ্চবিদ্যালয়, আরআর টেক্সটাইল মিলস উচ্চবিদ্যালয়, মাহমুদাবাদ উচ্চবিদ্যালয়, পন্থিছিলা উচ্চবিদ্যালয়, মাদ্রাসা-এ মোহাম্মদিয়া আহমাদিয়া সুন্নিয়া এবং লালানগর ইসলামী দাখিল মাদ্রাসা।

অভিযোগ রয়েছে, পরিচালনা কমিটির উদাসীনতা এবং নিজেদের পছন্দের জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়ার প্রবণতার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তফা আলম সরকার জানান, ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে। একই সঙ্গে ১০টি বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদগুলোকে একাধিকবার লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদনও করা হয়েছে।

সীতাকুণ্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর দাপ্তরিক পরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার স্থাপন, নারী শিক্ষক ও সেবাগ্রহীতাদের জন্য পৃথক নামাজের ঘর এবং মায়েদের জন্য ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ৪৮ জন সহকারী শিক্ষককে পদোন্নতি দিয়ে প্রধান শিক্ষক পদে পদায়ন করা হলে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শূন্যতা অনেকটাই দূর হবে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহাম্মদ জানান, পুরো জেলায় এক হাজারের বেশি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া ৪৬১ জন নতুন শিক্ষকের মধ্য থেকে আগামী ১১ অক্টোবর সীতাকুণ্ডে ১০ জনকে পদায়ন করা হবে। এতে উপজেলার শিক্ষক সংকট কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষক সংকটের স্থায়ী সমাধানে শূন্য পদ পূরণের পাশাপাশি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

মানবপাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের অগ্রগতি ও দুর্বলতা তুলে ধরল যুক্তরাষ্ট্র

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫২ অপরাহ্ণ
মানবপাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের অগ্রগতি ও দুর্বলতা তুলে ধরল যুক্তরাষ্ট্র

মানবপাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকার কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন করলেও অভ্যন্তরীণ মানবপাচার মোকাবিলা, ভুক্তভোগী শনাক্তকরণ ও অপরাধীদের শাস্তির ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়ে গেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ২০২৬ সালের ট্রাফিকিং ইন পারসনস (টিআইপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবপাচার নির্মূলে ন্যূনতম মান পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে সরকারের উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে দেশটিকে আগের মতোই টিয়ার-২ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে।

৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের মূল্যায়ন সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ মানবপাচার প্রতিরোধে সামগ্রিক অগ্রগতি দেখিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আইনি কাঠামো শক্তিশালী করতে ‘প্রিভেনশন অ্যান্ড সাপ্রেশন অব হিউম্যান ট্রাফিকিং অ্যান্ড স্মাগলিং অব মাইগ্রেন্টস অর্ডিন্যান্স-২০২৬’ প্রণয়ন, তদন্ত ও মামলা বাড়ানোর উদ্যোগ এবং মানবপাচারের শিকার ব্যক্তি শনাক্তকরণের নির্দেশিকা হালনাগাদ।

এ ছাড়া ভুক্তভোগীদের দ্রুত সুরক্ষা সেবা দিতে ডিজিটাল ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম (এনআরএম) চালুর উদ্যোগ এবং বিদেশগামী কর্মীদের সুরক্ষা জোরদারের পদক্ষেপের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অগ্রগতি সত্ত্বেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনও ন্যূনতম মান পূরণ করতে পারেনি। বিশেষ করে মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের শনাক্ত করার হার কমেছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসন ও সুরক্ষা কার্যক্রমও পর্যাপ্ত নয়।

রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং বিদেশ থেকে ফিরে আসা বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের ক্ষেত্রে এসব সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, অভিবাসী কর্মীদের কাছ থেকে নিয়োগ ফি নেওয়ার প্রচলন অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে অনেক কর্মী ঋণের বোঝায় পড়ছেন, যা তাঁদের মানবপাচারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমাস টমি পিগট বলেন, মানবপাচার স্বাধীনতা ও মর্যাদার মূল্যবোধের ওপর সরাসরি আঘাত। ২০২৬ সালের ট্রাফিকিং ইন পারসনস প্রতিবেদনে আর্থিক লাভের জন্য অপরাধী সংগঠন ও দমনমূলক সরকারগুলো কীভাবে মানবপাচারকে কাজে লাগায়, তা তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, যারা পাচারকারীদের শাস্তি দিতে এবং নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে প্রতিবেদনটি।

ট্রাম্প প্রশাসন মানবপাচারকারী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এবং বিচারের মুখোমুখি করতে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করবে বলেও জানান তিনি।

প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মানবপাচার প্রতিরোধে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের শনাক্তকরণ, পুনর্বাসন, সুরক্ষা এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ফুটবলের বাইরেও মেসির রাজত্ব, যেভাবে গড়েছেন বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৬ অপরাহ্ণ
ফুটবলের বাইরেও মেসির রাজত্ব, যেভাবে গড়েছেন বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য

ফুটবল মাঠে অসাধারণ নৈপুণ্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত লিওনেল মেসি। তবে তাঁর সাফল্য শুধু সবুজ গালিচায় সীমাবদ্ধ নয়। বিজ্ঞাপন, বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি, আবাসন ও হোটেল ব্যবসায় বিনিয়োগের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন বিশাল অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য। আন্তর্জাতিক ব্যবসা সাময়িকী ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার এই তারকা ফুটবলারের নিট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার।

ফোর্বসের তথ্য অনুসারে, ক্যারিয়ারে মেসির মোট আয় প্রায় ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এসেছে ক্লাব ও জাতীয় দলের বেতন এবং খেলার চুক্তি থেকে। বাকি প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার এসেছে বিজ্ঞাপন, স্মারকসামগ্রী ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড থেকে।

অন্যদিকে, সম্পদ মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান সেলিব্রিটি নেট-ওয়ার্থের হিসাবে মেসির নিট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। হিসাবের পার্থক্য থাকলেও দুই প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়নেই তাঁর সম্পদের পরিমাণ বিলিয়ন ডলারের ঘরে।

বিজ্ঞাপন থেকে বছরে ৭ কোটি ডলার

ফোর্বসের ২০২৬ সালের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদদের তালিকায় মেসির অবস্থান তৃতীয়। সাময়িকীটির হিসাব অনুযায়ী, গত ১২ মাসে তাঁর মোট আয় প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বিজ্ঞাপন ও ব্যবসায়িক উদ্যোগ থেকে এসেছে আনুমানিক ৭০ মিলিয়ন ডলার।

মেসির বাণিজ্যিক আয়ের অন্যতম বড় ভিত্তি ক্রীড়াসামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস। ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আজীবন চুক্তি করেন তিনি। এ ছাড়া মাস্টারকার্ড, লে’জ ও মিশেলব আল্ট্রার মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব রয়েছে।

মাঠের বাইরের এসব চুক্তিতে মেসির জনপ্রিয়তা ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তুলনামূলক শান্ত ও সংযত ব্যক্তিত্বের কারণে বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছেও তাঁর বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

আবাসন ও হোটেল ব্যবসায় বিনিয়োগ

বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি আবাসন ও আতিথেয়তা খাতেও বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন মেসি। ২০২৪ সালে তিনি ‘এদিফিসিও রোস্তোয়ার সোসিমি’ নামে একটি রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট চালু করেন। প্রতিষ্ঠানটি স্পেনের পোর্টফোলিও স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন করছে।

ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, ট্রাস্টটির বাজারমূল্য প্রায় ২৮২ মিলিয়ন ডলার। তবে সেলিব্রিটি নেট-ওয়ার্থের হিসাবে এর মূল্য প্রায় ২৩২ মিলিয়ন ডলার।

এই ব্যবসার আওতায় রয়েছে স্পেন ও অ্যান্ডোরায় অবস্থিত মিম হোটেলস চেইনের ছয়টি বিলাসবহুল বুটিক হোটেলসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক সম্পত্তি। এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে ফুটবল থেকে অর্জিত অর্থকে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পদে রূপান্তর করছেন মেসি।

বিলাসবহুল বাড়িতেও বড় বিনিয়োগ

ব্যক্তিগত আবাসনেও বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছেন এই ফুটবল তারকা। তাঁর সম্পদের তালিকায় রয়েছে স্পেনের বার্সেলোনার কাছে কাস্তেলদেফেলসে প্রায় ২ মিলিয়ন ডলারের বাড়ি, যুক্তরাষ্ট্রের সানি আইলস বিচে ৭ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারের কনডোমিনিয়াম এবং ফোর্ট লডারডেলে ১০ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলারের সমুদ্রতীরবর্তী বাড়ি।

সব মিলিয়ে মেসির আর্থিক সাফল্যের পেছনে রয়েছে ফুটবল থেকে পাওয়া বিপুল পারিশ্রমিকের পাশাপাশি বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ড অংশীদারত্ব ও পরিকল্পিত বিনিয়োগ। মাঠের পারফরম্যান্স তাঁকে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি এনে দিলেও সেই জনপ্রিয়তাকে দীর্ঘস্থায়ী সম্পদে রূপান্তর করাই তাঁর ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের অন্যতম ভিত্তি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি