খুঁজুন
                               
, ,
           

পুলিশিংয়ের নতুন পথরেখায় ৭২ নবীন এএসপি, জনগণের আস্থা অর্জনে গুরুত্ব আইজিপির

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৪ অপরাহ্ণ
পুলিশিংয়ের নতুন পথরেখায় ৭২ নবীন এএসপি, জনগণের আস্থা অর্জনে গুরুত্ব আইজিপির

জনআস্থা পুনর্গঠন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পেশাদারিত্ব এবং মানবাধিকারের প্রতি সংবেদনশীলতা—পরিবর্তিত বাস্তবতায় বাংলাদেশ পুলিশের সামনে এখন এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ। আর সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন প্রজন্মের পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) বাংলাদেশ মো. আলী হোসেন ফকির বিপিএম। তাঁর মতে, সততা, আন্তরিকতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়েই আগামী দিনের টেকসই ও নিরাপদ বাংলাদেশ নির্মাণে পুলিশ অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে।

বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব ইন্টেগ্রিটিতে ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের বিভিন্ন ইউনিটে পদায়িত সহকারী পুলিশ সুপারদের (এএসপি) যোগদানপূর্ব দিকনির্দেশনামূলক ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি এসব কথা বলেন।

  • রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ
  • আইন ও বিধি-বিধানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ
  • মানবাধিকার, নারী, শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বাড়াতে হবে সংবেদনশীলতা

আইজিপি বলেন, দীর্ঘ সতেরো বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পর নির্বাচিত বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার বিপুল জনাকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে দায়িত্ব পালন করছে। পরিবর্তিত এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ পুলিশকেও নতুন পথরেখা নির্মাণ করতে হয়েছে। সেই নতুন পুলিশিংয়ে জনপ্রত্যাশা, মানবাধিকার এবং নারী, শিশু ও বয়স্ক নাগরিকদের প্রতি সংবেদনশীলতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নব উদ্যম ও অঙ্গীকার নিয়ে জনপ্রত্যাশা পূরণের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে।’ প্রত্যেক পুলিশ কর্মকর্তাকে বাহিনীর একজন অ্যাম্বাসেডর হিসেবে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

পুলিশিং শুধু আইন প্রয়োগ নয়, আস্থার সম্পর্কও
আইজিপির বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে পুলিশ-জনগণের সম্পর্ক। তিনি বলেন, পুলিশিং একটি সেবা ও চ্যালেঞ্জ। ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সমাজ ও রাষ্ট্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

নবীন কর্মকর্তাদের ‘ভবিষ্যৎ পুলিশ লিডার’ আখ্যা দিয়ে আইজিপি বলেন, নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের তৈরি করতে হবে। নিত্যনতুন জ্ঞান ও অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হতে হবে। দায়িত্ব পালনের সময় সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে আইন ও বিধি-বিধানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এবং পেশাদারত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এখানেই বদলে যাওয়া পুলিশিংয়ের মূল দর্শনটি স্পষ্ট—শুধু অপরাধ দমন নয়, জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক তৈরি করাও পুলিশের দায়িত্ব। ফলে মাঠপর্যায়ের একজন এএসপির আচরণ, সিদ্ধান্ত ও দায়িত্ব পালনের ধরনই ভবিষ্যতে পুলিশের ভাবমূর্তি গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে।

জনআস্থা অর্জনের অঙ্গীকার নতুন প্রজন্মের কর্মকর্তাদের
অনুষ্ঠানে নবপদায়িত কয়েকজন কর্মকর্তা মাঠপর্যায়ে তাঁদের প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তাঁরা পেশাদারত্ব বজায় রেখে জনগণকে সেবা দেওয়ার মাধ্যমে জনআস্থা অর্জনের অঙ্গীকার করেন। সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেনও জাতির প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্ব পালনের জন্য নবীন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আইজি (অর্থ) মো. আকরাম হোসেন, অতিরিক্ত আইজি (এইচআরএম) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজি (ডেভেলপমেন্ট) সরদার নূরুল আমিন, অতিরিক্ত আইজি (লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন) মো. মুশফেকুর রহমান, অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. সায়েদুর রহমান, অতিরিক্ত আইজি (অডিট অ্যান্ড ইন্সপেকশন) ও নবগঠিত সাইবার পুলিশ ইউনিটের প্রধান মো. ইকবাল হোসেন এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডিআইজি (প্রশাসন) মো. হুমায়ুন কবীর।

৭২ কর্মকর্তার কাঁধে নতুন দায়িত্ব
৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচে মোট ৭২ জন কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৬৬ জন পুরুষ এবং ৬ জন নারী। এই ৭২ কর্মকর্তাই এখন মাঠপর্যায়ে পুলিশের নতুন মুখ। নিজেদের পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, মানবিক আচরণ এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দৃঢ়তার মাধ্যমেই আইজিপির দেওয়া নির্দেশনা বাস্তবে প্রতিফলন ঘটাবেন তাঁরাই। পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় পুলিশকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশাও বেড়েছে। ফলে নতুন এএসপিদের সামনে দায়িত্ব কেবল একটি সরকারি পদে যোগ দেওয়া নয়। এটি জনগণের আস্থা পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যতের একটি পেশাদার, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক পুলিশিং সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়া। বর্তমান আইজিপি তাই তাদেরকে বাহিনীর একজন অ্যাম্বাসেডর হিসেবে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

শিশু-কিশোরদের জন্য খুলে যাচ্ছে মাঠের দুয়ার

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৭ অপরাহ্ণ
শিশু-কিশোরদের জন্য খুলে যাচ্ছে মাঠের দুয়ার

শিশু-কিশোর ও তরুণদের সুস্থ, সুন্দর ও সৃজনশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে দেশের ক্রীড়া অবকাঠামোকে তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে আগামী দুই মাসের মধ্যে সারা দেশে কমপক্ষে এক হাজার খেলার মাঠ স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি করে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু মাঠ নির্মাণ নয়; মাঠকে কেন্দ্র করে একটি সুস্থ, কর্মচঞ্চল ও ক্রীড়াবান্ধব প্রজন্ম গড়ে তোলা। খেলাধুলার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ইউনিয়নভিত্তিক খেলার মাঠ স্থাপন ও ক্রীড়া কার্যক্রম সম্প্রসারণসংক্রান্ত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।

  • প্রতিটি ইউনিয়নে মাঠ, মাঠে ফিরবে নতুন প্রজন্ম
  • প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুই মাসে এক হাজার মাঠ
  • ঢাকার দুই সিটিতে ১৩০ মাঠ
  • পাঁচ বছরে সুস্থ-সুন্দর প্রজন্ম গড়ার লক্ষ্য

প্রতিটি ইউনিয়নে মাঠ, ক্রীড়ার সুযোগ যাবে সবার কাছে
দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে খেলার মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ২৭টি জেলায় খেলার মাঠের জন্য ৪০৩টি খাসজমি চিহ্নিত করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি মাঠের আয়তন সর্বনিম্ন তিন থেকে সর্বোচ্চ আট বিঘা নির্ধারণ করা হবে। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি করে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ দেন। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে শহর ও গ্রামের মধ্যে ক্রীড়া-সুযোগের ব্যবধান কমিয়ে আনার একটি বড় সুযোগ তৈরি হচ্ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশু-কিশোররাও যাতে নিজেদের এলাকায় নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ পায়, সেই লক্ষ্যেই ইউনিয়নভিত্তিক মাঠ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

দুই মাসে এক হাজার মাঠ
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আগামী দুই মাসের মধ্যে সারা দেশে কমপক্ষে এক হাজার খেলার মাঠ স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্রুত মাঠ স্থাপনের এই উদ্যোগ দেশের ক্রীড়া অবকাঠামো সম্প্রসারণে একটি বড় গতি তৈরি করবে। একই সঙ্গে যেসব এলাকায় শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ সীমিত, সেসব এলাকাতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। মাঠগুলোকে সারা বছর খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ মাঠকে শুধু একটি অবকাঠামো হিসেবে নয়, স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

ঢাকায় ১৩০ মাঠে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম
রাজধানীর শিশু-কিশোরদের জন্যও থাকছে বিশেষ উদ্যোগ। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতি দুই থেকে তিনটি ওয়ার্ডের জন্য অন্তত একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এরই অংশ হিসেবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪০টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৯০টি মাঠ খেলাধুলার উপযোগী করে সেখানে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই সিটি করপোরেশনে মোট ১৩০টি মাঠকে সক্রিয় করে তোলার এই উদ্যোগ রাজধানীর মাঠসংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নগরজীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও শিশু-কিশোরদের কাছে খেলাধুলার সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার নতুন পথ তৈরি হবে।

মাঠে নামবে ১৪ লাখ কিশোর-কিশোরী
মাঠ তৈরির পাশাপাশি সরাসরি ক্রীড়া কার্যক্রমে বিপুলসংখ্যক শিশু-কিশোরকে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল ও ব্যাডমিন্টনসহ ১০টি ক্রীড়া ইভেন্টে প্রায় ১৪ লাখ কিশোর-কিশোরীকে সম্পৃক্ত করা হবে। আগামী ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী খুলনা থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এই ক্রীড়া কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

এ উদ্যোগের ফলে খেলাধুলা শুধু বড় শহর বা নির্দিষ্ট ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে আরও বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে তৃণমূল থেকে নতুন প্রতিভা উঠে আসার সুযোগও তৈরি হবে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা সম্ভাবনাময় তরুণ খেলোয়াড়দের বিকাশে এ ধরনের ধারাবাহিক কর্মসূচি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মাঠের সঙ্গে থাকবে রক্ষণাবেক্ষণ ও ক্রীড়া কার্যক্রম
মাঠ নির্মাণের পাশাপাশি সেগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়টিও পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলায় একজন করে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনা, মাঠের ব্যবহার এবং বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজনকে আরও সংগঠিত করার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও তরুণদের সম্পৃক্ত করে মাঠগুলোকে নিয়মিত প্রাণবন্ত রাখার একটি কার্যকর পরিবেশ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।

দখলমুক্ত হবে মাঠ, সচল হবে উপজেলা স্টেডিয়াম
নতুন মাঠ তৈরির পাশাপাশি দেশের বিদ্যমান ক্রীড়া অবকাঠামোকে সক্রিয় করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে বিদ্যমান উপজেলা স্টেডিয়ামগুলো সচল ও খেলাধুলার উপযোগী করা এবং দখল হয়ে যাওয়া খেলার মাঠ উদ্ধার করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতিটি বিদ্যালয়ে নিয়মিত খেলাধুলা ও ক্রীড়া ক্লাব কার্যক্রম চালুর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন মাঠের পাশাপাশি পুরোনো মাঠ ও স্টেডিয়ামগুলোও ক্রীড়া কার্যক্রমের আওতায় আসবে। এতে দেশের সামগ্রিক ক্রীড়া অবকাঠামোর ব্যবহার আরও বাড়বে।

সুস্থ-সুন্দর প্রজন্ম গড়ার লক্ষ্য
প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আগামী প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে যুক্ত করা। প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং মাঠগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

খেলাধুলা শিশু-কিশোরদের শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, দলগত কাজ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপনের কারণে মাঠ থেকে দূরে সরে যাওয়া নতুন প্রজন্মকে আবার খেলাধুলার পরিবেশে ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হবে।

পাঁচ বছরে ক্রীড়াবান্ধব প্রজন্ম
প্রধানমন্ত্রী দেশের সব খেলার মাঠ সংরক্ষণ, সারা বছর খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি সুস্থ, সুন্দর ও ক্রীড়াবান্ধব প্রজন্ম গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন। এই লক্ষ্য সামনে রেখে মাঠ, বিদ্যালয়, উপজেলা ও ইউনিয়ন—সব পর্যায়ে ক্রীড়া কার্যক্রম বিস্তারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি মাঠ শুধু খেলাধুলার জায়গা নয়; এটি একটি এলাকার শিশু-কিশোরদের মিলনস্থল, প্রতিভা বিকাশের ক্ষেত্র এবং সামাজিক সম্প্রীতির জায়গা হয়ে উঠতে পারে। সেই জায়গা থেকেই প্রধানমন্ত্রীর ইউনিয়নভিত্তিক মাঠ তৈরির উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে।

তৃণমূল থেকেই উঠে আসবে নতুন প্রতিভা
বাংলাদেশে ক্রিকেট, ফুটবল, অ্যাথলেটিকসসহ বিভিন্ন খেলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্যের পেছনে রয়েছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা বহু প্রতিভা। নিয়মিত মাঠ ও প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়লে ভবিষ্যতে আরও বেশি প্রতিভাবান খেলোয়াড় জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসার সুযোগ পাবেন। ১৪ লাখ কিশোর-কিশোরীকে ১০টি ক্রীড়া ইভেন্টে যুক্ত করার পরিকল্পনাটি তাই শুধু একটি ক্রীড়া কর্মসূচি নয়; এটি ভবিষ্যতের খেলোয়াড় তৈরির একটি বিস্তৃত ভিত্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।

সমন্বিত উদ্যোগে বদলাবে ক্রীড়ার পরিবেশ
প্রতিটি ইউনিয়নে মাঠ, ঢাকার দুই সিটিতে ১৩০ মাঠ, দুই মাসে এক হাজার মাঠ এবং ১৪ লাখ কিশোর-কিশোরীকে ক্রীড়ায় সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে দেশের ক্রীড়া কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার একটি সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় খেলাধুলাকে শুধু বিনোদন হিসেবে নয়, একটি সুস্থ ও সক্ষম প্রজন্ম গড়ে তোলার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

দেশের প্রতিটি মাঠ যদি শিশু-কিশোরদের পদচারণায় মুখর হয়, বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম চালু হয় এবং ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পর্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি হয়, তাহলে এর দীর্ঘমেয়াদি সুফল শুধু ক্রীড়াঙ্গনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সম্প্রীতি ও তরুণ প্রজন্মের মানসিক বিকাশেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ বছরের লক্ষ্য—একটি সুস্থ, সুন্দর ও ক্রীড়াবান্ধব প্রজন্ম গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্যেই এবার মাঠকে কেন্দ্র করে শুরু হচ্ছে দেশব্যাপী বড় পরিসরের ক্রীড়া উদ্যোগ।

বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুর ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমীন উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ড চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ, নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৫ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ড চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ, নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ

বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বহুজাতিক লজিস্টিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ড। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ আগ্রহের কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিদল।

ডিপি ওয়ার্ল্ডের বোর্ড অব ডিরেক্টরসের চেয়ারম্যান এসা কাজিমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এ সময় বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, বন্দর ব্যবস্থাপনা, লজিস্টিকস খাতের উন্নয়ন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা ও আধুনিকায়নে বাংলাদেশ ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৫ বছর মেয়াদি ‘কনসেশন চুক্তি’ নিয়েও আলোচনা করা হয়।

চুক্তির আওতায় কনটেইনার টার্মিনাল ও এর ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড। টার্মিনালটির আধুনিকায়ন, পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বন্দর ও লজিস্টিকস অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়াতে এ অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে ফ্রি ট্রেড জোন এবং রেলভিত্তিক ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) স্থাপনসহ নতুন বিনিয়োগের বিষয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রতিনিধিদলের আগ্রহের কথা জানতে চান।

জবাবে ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রতিনিধিদল এসব খাতে সহযোগিতা ও নতুন বিনিয়োগের বিষয়ে তাদের ব্যাপক আগ্রহের কথা জানায়।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

আবরার হত্যা: রায় কার্যকরে পরিবারকে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫১ অপরাহ্ণ
আবরার হত্যা: রায় কার্যকরে পরিবারকে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকরের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ আশ্বাস দেন।

সাক্ষাতে আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ, মা রোকেয়া খাতুন, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ, এক মামা ও এক চাচা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

আবরারের বাবা হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকরের দাবি জানান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আদালত স্বাধীনভাবে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

সাক্ষাতে আবরারের বাবা কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী সেতুটি নির্মাণের আশ্বাস দেন এবং এর নাম আবরার ফাহাদের নামে করার প্রতিশ্রুতি দেন।

এ ছাড়া আবরারের কবর পাকাকরণ ও পাশের মসজিদের নির্মাণকাজে সহযোগিতার অনুরোধ জানানো হলে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত মসজিদের নির্মাণকাজ শেষ করার নির্দেশনা দেন। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবিও জানায় পরিবার।

আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ বুয়েটে আবরারের নামে একটি হল নির্মাণ এবং পাঠ্যবইয়ে তার ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষা সচিবের সঙ্গে কথা বলেন।

আবরারের মা রোকেয়া খাতুন বলেন, কোনো ক্যাম্পাসেই যেন আগের মতো পরিবেশ ফিরে না আসে। তার মতো আর কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়।

সাক্ষাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির উপস্থিত ছিলেন।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে নির্যাতনের শিকার হয়ে নিহত হন আবরার ফাহাদ। এ হত্যা মামলায় ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট ওই রায় বহাল রাখেন। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি