খুঁজুন
                               
, ,
           

এআইয়ের কারণে কি এক হয়ে যাচ্ছে মানুষের চিন্তা?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৩ অপরাহ্ণ
এআইয়ের কারণে কি এক হয়ে যাচ্ছে মানুষের চিন্তা?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানুষের কাজকে আগের চেয়ে অনেক সহজ ও দ্রুত করে দিয়েছে। লেখা তৈরি, পরিকল্পনা, তথ্য বিশ্লেষণ কিংবা নতুন ধারণা বের করার মতো কাজে কয়েক মুহূর্তেই এআইয়ের সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে। ফলে শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে সৃজনশীল বিভিন্ন কাজেও দ্রুত বাড়ছে এর ব্যবহার। তবে এআইয়ের এই সুবিধার পাশাপাশি নতুন একটি প্রশ্নও সামনে আসছে—মানুষ যত বেশি এআইয়ের ওপর নির্ভর করবে, তত কি তার চিন্তা ও সৃজনশীলতা একই ধরনের হয়ে উঠবে? সাম্প্রতিক কয়েকটি গবেষণার ফলাফল এই আশঙ্কার কিছুটা ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সাইকোলজি টুডে।

এআইয়ে সৃজনশীলতা বাড়লেও কমেছে বৈচিত্র্য

২০২৪ সালে সায়েন্স অ্যাডভান্সেস জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের আনিল দোশি এবং ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটারের অলিভার হাউজার ৩০০ জন অংশগ্রহণকারীকে ছোট গল্প লিখতে দেন।

অংশগ্রহণকারীদের একটি দলকে গল্পের ধারণা তৈরিতে এআইয়ের সহায়তা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। অন্য দলকে কোনো এআই সহায়তা দেওয়া হয়নি।

গবেষণায় দেখা যায়, এআইয়ের সহায়তা নেওয়া গল্পগুলোকে তুলনামূলকভাবে বেশি সৃজনশীল হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছিল। বিশেষ করে যাঁরা শুরুতে অপেক্ষাকৃত কম সৃজনশীল ছিলেন, তাঁদের লেখায় উন্নতি বেশি দেখা যায়।

তবে এর পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও সামনে আসে। এআইয়ের সহায়তায় তৈরি গল্পগুলো একে অপরের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে বেশি মিল ছিল। অর্থাৎ ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি লেখার মান বাড়লেও সামগ্রিকভাবে গল্পগুলোর মধ্যে বৈচিত্র্য কিছুটা কমে যায়।

এআই মডেলের উত্তরেও একই প্রবণতা

২০২৬ সালে পিএনএএস নেক্সাস জার্নালে প্রকাশিত আরেক গবেষণায় ২২টি এআই মডেল এবং ১০০ জনের বেশি মানুষের সৃজনশীলতা পরীক্ষা করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, এআই মডেলগুলোর দেওয়া উত্তর মানুষের উত্তরের তুলনায় অনেক বেশি একই ধরনের ছিল। অর্থাৎ একই ধরনের সৃজনশীল প্রশ্নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন এআই মডেলের উত্তরগুলোতে মানুষের উত্তরের তুলনায় বেশি মিল দেখা যায়। এর সম্ভাব্য একটি কারণ হিসেবে মনোবিজ্ঞানের ‘অ্যাঙ্করিং’ বা প্রাথমিক ধারণার প্রভাবের কথা বলা হচ্ছে।

প্রথম পাওয়া ধারণাই হয়ে উঠতে পারে ‘অ্যাঙ্কর’

মনোবিজ্ঞানী আমোস টভারস্কি ও ড্যানিয়েল কাহনেম্যান ১৯৭৪ সালের গবেষণায় দেখিয়েছিলেন, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় মানুষ শুরুতে পাওয়া কোনো সংখ্যা, তথ্য বা ধারণার দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। এই প্রাথমিক তথ্য পরবর্তী চিন্তা ও সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। কোনো বিষয়ে মানুষ নিজে চিন্তা করার আগেই যদি এআইয়ের কাছ থেকে একটি উত্তর পেয়ে যায়, তাহলে সেটিই তার চিন্তার প্রথম ভিত্তি বা ‘অ্যাঙ্কর’ হয়ে উঠতে পারে। একই ধরনের প্রশ্নে লাখো মানুষ যদি এআইয়ের কাছ থেকে কাছাকাছি ধরনের উত্তর পান, তাহলে তাঁদের পরবর্তী চিন্তা ও ধারণার মধ্যেও কিছুটা মিল তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

তাহলে কি এআই সৃজনশীলতা নষ্ট করে দেবে?

গবেষণাগুলোর ফলাফল এমনটা বলছে না যে এআই ব্যবহার করলেই মানুষের সৃজনশীলতা হারিয়ে যাবে। বরং বিষয়টি নির্ভর করতে পারে এআইকে কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে তার ওপর। বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় উঠে আসা একটি কার্যকর পদ্ধতি হলো—কোনো কাজ শুরু করার আগে নিজের চিন্তা তৈরি করা। ধারণাগুলো অসম্পূর্ণ বা অপরিণত হলেও প্রথমে নিজের মতো করে লিখে নেওয়া যেতে পারে। এরপর এআইকে সেই ধারণা পরিশীলিত, বিস্তৃত বা সংগঠিত করার কাজে ব্যবহার করা হলে ব্যক্তিগত চিন্তার স্বাতন্ত্র্য ধরে রাখা তুলনামূলক সহজ হতে পারে। অর্থাৎ এআইকে নিজের হয়ে চিন্তা করার যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার না করে নিজের চিন্তার সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করাই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

ভিন্নভাবে ভাবার গুরুত্ব বাড়ছে

সবাই যখন একই ধরনের এআই টুল ব্যবহার করছে এবং কাছাকাছি ধরনের উত্তর পাচ্ছে, তখন প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে চিন্তা করার গুরুত্ব আরও বেড়ে যেতে পারে। একই সমস্যার জন্য এআই যে সমাধান দিচ্ছে, সেটিই চূড়ান্ত ধরে নেওয়ার পরিবর্তে নিজের অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ ও যুক্তি দিয়ে তা যাচাই করা প্রয়োজন। কখনো কখনো প্রচলিত বা নিরাপদ ধারণার বাইরে গিয়ে নতুন কিছু চেষ্টা করাই একজন মানুষের কাজকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলতে পারে।

মানুষের অভিজ্ঞতার জায়গা এখনো আলাদা

মানুষের সৃজনশীলতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, আবেগ, হাস্যরস ও সহমর্মিতা। এসব বিষয় এআইয়ের সঙ্গে তুলনা করার ক্ষেত্রেও গবেষণা হয়েছে। ২০২৫ সালে নেচার হিউম্যান বিহেভিয়ার জার্নালে প্রকাশিত একাধিক গবেষণায় দেখা যায়, একই ধরনের সহানুভূতিশীল বার্তা মানুষ ও এআই—দুই পক্ষের নামে উপস্থাপন করা হলে অংশগ্রহণকারীরা মানবসৃষ্ট বার্তাকে তুলনামূলকভাবে বেশি সহানুভূতিশীল ও সহায়ক হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। এ থেকে বোঝা যায়, প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, মানুষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও মানবিক সংযোগ এখনো সৃজনশীলতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে।

এআইয়ের সঙ্গে মানুষের ভবিষ্যৎ সৃজনশীলতা

এআই নিঃসন্দেহে মানুষের কাজকে দ্রুত ও সহজ করে তুলছে। তবে একই সঙ্গে এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা চিন্তার বৈচিত্র্য কমিয়ে দিতে পারে কি না—এ প্রশ্নটি ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই এআইকে ব্যবহার করার সময় নিজের চিন্তা, অভিজ্ঞতা ও কৌতূহলকে সামনে রাখা জরুরি। প্রথমে নিজে ভাবা, নিজের ধারণা তৈরি করা এবং পরে এআইয়ের সাহায্যে সেটিকে আরও উন্নত করা হলে প্রযুক্তির সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সৃজনশীলতাও ধরে রাখা সম্ভব হতে পারে।

শেষ পর্যন্ত এআই হয়তো কাজের গতি বাড়াবে, কিন্তু কোনো ধারণাকে সত্যিকার অর্থে আলাদা করে তুলতে মানুষের নিজস্ব অভিজ্ঞতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও সৃজনশীল চিন্তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে থাকতে পারে।

কালের আলো/এসএ

সাইবার অপরাধ রুখতে একসঙ্গে বাংলাদেশ-চীন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
সাইবার অপরাধ রুখতে একসঙ্গে বাংলাদেশ-চীন

প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রযাত্রার সঙ্গে অপরাধের ধরনও যখন প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে, তখন সাইবার নিরাপত্তায় সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে বাংলাদেশ। সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও সমৃদ্ধ করতে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। প্রশিক্ষণ, কারিগরি ও লজিস্টিক সহায়তা, অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি টেলিকমভিত্তিক প্রতারণাসহ প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে তথ্য আদান-প্রদান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।

  • আইজিপির সঙ্গে বৈঠকে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি সহায়তার আগ্রহ
  • তথ্য আদান-প্রদান ও যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা
  • টেলিকম প্রতারণা মোকাবিলায় যৌথ পদক্ষেপের আলোচনা

আইজিপির নেতৃত্বে সহযোগিতার নতুন অধ্যায়

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএম-এর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত গণপ্রজাতন্ত্রী চীন দূতাবাসের চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স ও ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিউ ইউইনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। সৌহার্দ্য ও আন্তরিকতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ পুলিশ ও চীনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়। আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পারস্পরিক তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়।

সক্ষমতা বৃদ্ধিতে চীনের সহযোগিতার আগ্রহ

বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার অপরাধ মোকাবিলার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে চীনা প্রতিনিধিদল সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করে। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা, প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সুবিধা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশ প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় দক্ষতা উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। চীনের সহযোগিতার আগ্রহ এ উদ্যোগকে আরও গতিশীল করার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে সাইবার অপরাধ শনাক্তকরণ, তদন্ত এবং প্রতিরোধে বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা আরও বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তথ্য বিনিময়ে বাড়বে আন্তঃদেশীয় সমন্বয়

বৈঠকে টেলিকমভিত্তিক প্রতারণাসহ সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মধ্যে পারস্পরিক তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। প্রয়োজন অনুযায়ী যৌথভাবে কাজ করার বিষয়েও উভয় পক্ষ মতবিনিময় করে। সাইবার অপরাধের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমা নেই। অপরাধের পরিকল্পনা, প্রযুক্তি, অপরাধী ও ভুক্তভোগী ভিন্ন ভিন্ন দেশে অবস্থান করতে পারেন। এ কারণে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য বিনিময় অপরাধ শনাক্তকরণ ও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার এই সম্ভাব্য সম্প্রসারণ সেই জায়গায় নতুন কার্যকর সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি করছে।

প্রশিক্ষণ-প্রযুক্তিতে দীর্ঘমেয়াদি অগ্রাধিকার

বৈঠকের আলোচনায় তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা উন্নয়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের দক্ষ জনবল তৈরি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সাইবার অপরাধ মোকাবিলার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে শুধু প্রযুক্তি বা সরঞ্জাম নয়, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি হলে সাইবার অপরাধের পরিবর্তনশীল কৌশলের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর প্রস্তুতিও আরও কার্যকরভাবে সমন্বয় করা সম্ভব।

প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় সমন্বিত প্রস্তুতি

ভবিষ্যতে সাইবার অপরাধ দমন ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশ এবং চীনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আইজিপি মোঃ আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে চীনা প্রতিনিধিদলের এই বৈঠক শুধুমাত্র একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়; সাইবার নিরাপত্তায় বাংলাদেশের সক্ষমতা উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে সংযোগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় সমন্বিত প্রস্তুতি গড়ে তোলার সম্ভাবনাময় এক পদক্ষেপ।

পারস্পরিক আস্থা, তথ্য বিনিময় ও দক্ষতা উন্নয়নের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার অপরাধবিরোধী সক্ষমতাকে আরও সুসংহত করার পথ প্রশস্ত করতে পারে। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

মারা গেলেন ব্রিটিশ বেস্টসেলার লেখক জেফরি আর্চার

সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
মারা গেলেন ব্রিটিশ বেস্টসেলার লেখক জেফরি আর্চার

ব্রিটিশ বেস্টসেলার লেখক ও সাবেক রাজনীতিবিদ জেফরি আর্চার মারা গেছেন। সোমবার(৫অক্টোবর) তাঁর প্রকাশক হার্পারকলিন্স মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

বিশ্বজুড়ে দ্রুতগতির ও রোমাঞ্চকর গল্পের জন্য পরিচিত আর্চারের বই বিক্রি হয়েছে ৩০ কোটিরও বেশি কপি। তাঁর লেখকজীবনের সবচেয়ে জনপ্রিয় বইগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস ‘নট আ পেনি মোর, নট আ পেনি লেস’ এবং ১৯৭৯ সালের ‘কেন অ্যান্ড অ্যাবেল’।

প্রকাশের আগেই শেষ উপন্যাসের লেখককে হারালেন পাঠক

আর্চারের সর্বশেষ উপন্যাস ‘অ্যাডাম অ্যান্ড ইভ’ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল। বইটির প্রচারে সম্প্রতি তিনি বিভিন্ন বেতার অনুষ্ঠানেও অংশ নিয়েছিলেন।

চলতি সপ্তাহান্তে চেলটেনহাম সাহিত্য উৎসবে নিজের নতুন বই নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল তাঁর। তবে তার আগেই মৃত্যু হলো এই জনপ্রিয় লেখকের।

হার্পারকলিন্সের যুক্তরাজ্য শাখার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও আর্চারের সম্পাদক কেট এলটন এক বিবৃতিতে বলেন, তাঁর মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে মর্মাহত। প্রজন্মের পর প্রজন্ম পাঠককে আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি আর্চার তাঁদের একজন সত্যিকারের বন্ধুও ছিলেন।

রাজনীতিতেও ছিল পরিচিতি

জেফরি আর্চার শুধু লেখক ছিলেন না, ব্রিটেনের রক্ষণশীল দলের একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদও ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের অধীনে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে যাওয়ার আগে তিনি আইনপ্রণেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন পরবর্তীতে বড় ধরনের বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে।

মিথ্যা সাক্ষ্যের মামলায় কারাদণ্ড

১৯৮৭ সালে ডেইলি স্টার পত্রিকা আর্চারের বিরুদ্ধে এক নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের জন্য অর্থ দেওয়ার অভিযোগ প্রকাশ করে। এর পর তিনি পত্রিকাটির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন।

মামলায় জয়ী হয়ে তিনি তখনকার রেকর্ড ৫ লাখ পাউন্ড ক্ষতিপূরণ পান। কিন্তু ১৯৯৯ সালে লন্ডনের মেয়র নির্বাচনে রক্ষণশীল দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম আলোচনায় আসার পর মামলাটি আবার সামনে আসে।

এক সাবেক বন্ধু দাবি করেন, ওই মামলায় আর্চার মিথ্যা বলেছিলেন। পরে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া ও বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিনি চার বছরের কারাদণ্ড পান এবং প্রায় দুই বছর কারাগারে কাটান।

কারাগারে থাকাকালীন তিনি লেখেন ‘এ প্রিজন ডায়েরি’।

বিতর্ক পেরিয়েও অটুট ছিল জনপ্রিয়তা

ব্যক্তিগত জীবন ও আদালতের মামলাকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম হলেও তাঁর লেখকজীবনে এর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।

হার্পারকলিন্সের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১১৯টি দেশে তাঁর বই বিক্রি হয়েছে। তাঁর বইগুলো নিউইয়র্ক টাইমস বেস্টসেলার তালিকায় সম্মিলিতভাবে প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর অবস্থান করেছে।

প্রকাশকের ভাষ্য অনুযায়ী, লেখালেখির দুই পর্বের মাঝখানে হঠাৎ ও শান্তিপূর্ণভাবেই জেফরি আর্চারের মৃত্যু হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এসএ

স্বাস্থ্য খাতে ৯১৪ মিডওয়াইফ নিয়োগের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
স্বাস্থ্য খাতে ৯১৪ মিডওয়াইফ নিয়োগের উদ্যোগ

দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে মিডওয়াইফের (১০ম গ্রেড) শূন্য পদে ৯১৪ জনকে সরাসরি নিয়োগ দিতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) প্রস্তাব পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। সোমবার (৫ অক্টোবর) স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের নার্সিং সেবা-১ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি পিএসসিতে পাঠানো হয়েছে।

৯১৪ পদে সরাসরি নিয়োগের উদ্যোগ

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে মিডওয়াইফ (১০ম গ্রেড) পদে বর্তমানে ১ হাজার ১৫টি শূন্য পদ রয়েছে। এসব শূন্য পদের মধ্যে ১০ শতাংশ পদ সংরক্ষণ করে অবশিষ্ট ৯১৪টি পদে সরাসরি নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে পিএসসির নির্ধারিত রিকুইজিশন ফরম, পদ বিন্যাস ও চেকলিস্ট যথাযথভাবে পূরণ করে সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে ৯১৪টি পদে সরাসরি নিয়োগের লক্ষ্যে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য পিএসসিকে অনুরোধ জানিয়েছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ।

কমতে পারে জনবলসংকট

স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মিডওয়াইফের এসব শূন্য পদ পূরণ হলে মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবায় বিদ্যমান জনবলসংকট কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে গর্ভকালীন পরিচর্যা, প্রসবকালীন সেবা এবং প্রসব-পরবর্তী পরিচর্যায় মিডওয়াইফদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

বর্তমানে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনের তুলনায় মিডওয়াইফের সংখ্যা কম থাকায় সেবাদানে চাপ তৈরি হচ্ছে। নতুন করে ৯১৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হলে এসব প্রতিষ্ঠানে জনবল পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার পাশাপাশি মা ও নবজাতকের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা আরও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পিএসসির সুপারিশের অপেক্ষা

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পর এখন ৯১৪টি পদে সরাসরি নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের দায়িত্ব পিএসসির। প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে কমিশন পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে।

মিডওয়াইফ পদে এ নিয়োগ সম্পন্ন হলে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে মাতৃ ও নবজাতক সেবার সঙ্গে যুক্ত জনবল বাড়বে। এর ফলে প্রসবকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

কালের আলো/এসএ