খুঁজুন
                               
, ,
           

আইফোন ডুওর বিলাসবহুল সংস্করণের দাম কেন এতো বেশি?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ
আইফোন ডুওর বিলাসবহুল সংস্করণের দাম কেন এতো বেশি?

অ্যাপলের নতুন ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুও বাজারে আসার পর এর দাম নিয়ে প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। যুক্তরাজ্যের বাজারে ফোনটির দাম ১ হাজার ৯৯৯ থেকে ৩ হাজার ১৯৯ পাউন্ড, যা প্রায় ২ হাজার ৬৪০ থেকে ৪ হাজার ১২৬ মার্কিন ডলারের সমান। তবে অ্যাপলের এই ফোনের বিশেষ বিলাসবহুল সংস্করণ কিনতে গুনতে হবে এর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ।

বিলাসবহুল পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ক্যাভিয়ার আইফোন ডুওর ‘লিকুইড মেটাল’ নামে একটি বিশেষ সংস্করণ তৈরি করেছে। এর সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ হাজার ৩৪০ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য কয়েক দশমিক লাখ টাকার সমান।

স্টার্লিং সিলভারে তৈরি ফোন

ক্যাভিয়ারের তৈরি ‘লিকুইড মেটাল’ সংস্করণটি স্টার্লিং সিলভার দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। ফোনটির বাইরের অংশে দেওয়া হয়েছে আয়নার মতো চকচকে পলিশ। ক্যাভিয়ারের দাবি, আইফোন ডুও ভাঁজ খোলার সময় এর আকৃতিতে যে পরিবর্তন দেখা যায়, সেটিই এই বিশেষ সংস্করণের নকশার মূল অনুপ্রেরণা।

ক্যাভিয়ারের নকশায় আইফোন ডুওর ভাঁজযোগ্য কাঠামোকে একটি ধাতব ভাস্কর্যের মতো করে তুলে ধরা হয়েছে। ফোনটির শরীরে ব্যবহার করা হয়েছে প্রবহমান রেখা, যা ভাঁজযোগ্য ডিভাইসটির নকশায় গতিশীলতার অনুভূতি তৈরি করে।

প্রতিষ্ঠানটির মতে, ফোনটি ভাঁজ খোলা কিংবা বন্ধ করার সময় এর বাইরের পৃষ্ঠের নকশাতেও পরিবর্তনের অনুভূতি তৈরি হবে। অর্থাৎ ফোনের ভাঁজযোগ্য কাঠামো শুধু প্রযুক্তিগত সুবিধা নয়, বিশেষ নকশারও একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

ধারণক্ষমতা অনুযায়ী দাম

‘লিকুইড মেটাল’ সংস্করণের মাত্র ১৭টি ইউনিট তৈরি করেছে ক্যাভিয়ার। ফোনটির স্টোরেজ বা ধারণক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে দামও ভিন্ন রাখা হয়েছে।

২৫৬ জিবি সংস্করণের দাম ১৮ হাজার ৮৪০ ডলার। ৫১২ জিবি সংস্করণের দাম ১৯ হাজার ২০০ ডলার এবং ১ টেরাবাইট সংস্করণের দাম ১৯ হাজার ৯১০ ডলার। সবচেয়ে বেশি ২ টেরাবাইট ধারণক্ষমতার সংস্করণটির দাম ২১ হাজার ৩৪০ ডলার।

অর্থাৎ যুক্তরাজ্যের বাজারে অ্যাপলের মূল আইফোন ডুওর সর্বোচ্চ ৩ হাজার ১৯৯ পাউন্ড দামের তুলনায় ক্যাভিয়ারের ২ টেরাবাইট সংস্করণটির দাম ১৬ হাজার পাউন্ডেরও বেশি।

হীরা-সোনায় আইফোন ১৮ প্রো

শুধু আইফোন ডুও নয়, অ্যাপলের নতুন আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সেরও বিলাসবহুল সংস্করণ তৈরি করেছে ক্যাভিয়ার। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি এসব বিশেষ সংস্করণের মোট সংখ্যা ৭৬টি।

নকশা ও ব্যবহৃত উপকরণ অনুযায়ী এসব ফোনের দাম ৭ হাজার ১৩০ থেকে ৮৮ হাজার ২৯০ ডলার পর্যন্ত। এর মধ্যে ‘পালমেট ১৮কে’ মডেলটি তৈরি করা হয়েছে ১৮ ক্যারেট সোনা ও হীরা দিয়ে।

ফোনটির কাঠামো তৈরি হয়েছে ১৮ ক্যারেট সোনা দিয়ে। এতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতীকী খেজুরগাছের পাতা থেকে অনুপ্রাণিত নকশা ব্যবহার করা হয়েছে। সেই নকশায় হাতে বসানো হয়েছে শতাধিক হীরা। এমনকি ফোনের অ্যাপল লোগোতেও মূল্যবান পাথর ব্যবহার করা হয়েছে।

অ্যাপলের বিলাসবহুল ফোনে ক্যাভিয়ারের দীর্ঘদিনের আগ্রহ

অ্যাপলের পণ্যের বিলাসবহুল সংস্করণ তৈরিতে ক্যাভিয়ার অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও প্রতিষ্ঠানটি অ্যাপলের বিভিন্ন আইফোনের বিশেষ সংস্করণ তৈরি করেছে।

চলতি বছরের এপ্রিলেও ক্যাভিয়ার আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সের একটি বিশেষ সংস্করণ তৈরি করেছিল। ওই সংস্করণে অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের পরা বিখ্যাত কালো টার্টলনেক পোশাকের এক টুকরা কাপড় ব্যবহার করা হয়েছিল।

প্রযুক্তি ও বিলাসবহুল পণ্যের সংমিশ্রণে ক্যাভিয়ারের তৈরি এসব আইফোন সাধারণ সংস্করণের তুলনায় অনেক বেশি দামে বিক্রি হয়। মূলত সীমিত সংখ্যক ইউনিট, মূল্যবান ধাতু ও রত্নের ব্যবহার এবং বিশেষ নকশার কারণে এসব ডিভাইস প্রযুক্তিপণ্যের পাশাপাশি সংগ্রহযোগ্য বিলাসপণ্য হিসেবেও বাজারজাত করা হয়।

সূত্র: ডেইলি মেইল

কালের আলো/এসএ

ভোটের পর এবার জবাবদিহির পালা, দ্রুত সিদ্ধান্ত ও কার্যকর উন্নয়নের তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
ভোটের পর এবার জবাবদিহির পালা, দ্রুত সিদ্ধান্ত ও কার্যকর উন্নয়নের তাগিদ

ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর এবার কাজের পালা। পাঁচ বছর পর আবার সেই জনগণের কাছেই ফিরতে হবে জনপ্রতিনিধিদের। তাই প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাস্তব কাজ, বক্তব্যের চেয়ে দৃশ্যমান সেবা এবং ক্ষমতার চেয়ে জবাবদিহিকেই সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হিসেবে তুলে ধরেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, ‘জনপ্রতিনিধিরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। পাঁচ বছর পর আবার তাদের জনগণের কাছে পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হবে।’

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের সমবায় ভবনের মাল্টিপারপাস হলরুমে স্থানীয় সরকার বিভাগ আয়োজিত ‘সৌর বিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভায়’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

  • সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার প্রস্তাব
  • প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধির লক্ষ্য এক—জনগণের সেবা
  • দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারে গুরুত্ব

উন্নয়নের হিসাব দিতে হবে জনগণকেই

ড. আবদুল মঈন খান বলেন, জনগণের সেবা নিশ্চিত করা এবং নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করা নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব। এ বক্তব্যে সরকারের কাজের মূল্যায়নের মাপকাঠিও স্পষ্ট করেছেন তিনি। প্রকল্প গ্রহণ বা অর্থ বরাদ্দ নয়, বরং সেই প্রকল্পের সুফল মানুষের জীবনে কতটা পৌঁছাল—শেষ পর্যন্ত তারই হিসাব দিতে হবে জনপ্রতিনিধিদের। মন্ত্রী প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে দ্রুত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে।

‘সীমিত সম্পদ, সর্বোচ্চ ব্যবহার’

স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়নের বড় চ্যালেঞ্জ সম্পদের সীমাবদ্ধতা। এ বাস্তবতায় নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি বিদ্যমান অবকাঠামো ও সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়টিও সামনে এসেছে। কারণ নীতি ও প্রকল্প কেন্দ্র থেকে নির্ধারিত হলেও এর বাস্তব ফলাফল নির্ভর করে মাঠ প্রশাসনের দক্ষতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয়তার ওপর।

বিদ্যুৎ সংকটে সৌর প্যানেল

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎকে গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের পাশাপাশি গ্রামীণ বাড়ির ছাদেও সৌর প্যানেল স্থাপনে উৎসাহ দেওয়ার কথা বলেন তিনি। দিনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে সংরক্ষণ করে রাতে ব্যবহার করার প্রস্তাবও দেন ড. আবদুল মঈন খান। তাঁর মতে, এতে জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব।অর্থাৎ স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সংরক্ষণের একটি বিকেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনাই সামনে আনলেন তিনি।

‘সততা ও দক্ষতাই অগ্রাধিকার’

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মোঃ আব্দুল বারী সরকারি সেবা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সততা, স্বচ্ছতা ও দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, পদায়ন ও পদোন্নতিতে সততা ও কর্মদক্ষতাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিজ কর্মস্থলকে নিজের এলাকা মনে করে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। এর মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনে দায়িত্বশীলতা ও কর্মদক্ষতাকে আরও জোরালো করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

চার বছরে ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আগামী চার বছরে ধাপে ধাপে সব পরিবার ও কৃষকের কাছে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। সার ডিলারদের তালিকা যাচাই শেষে দ্রুত লাইসেন্স দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

অবকাঠামো খাতে গ্রামীণ ছোট সড়কে ইটের বদলে সিসি ও ইউনি ব্লক ব্যবহারের পরামর্শ দেন মীর শাহে আলম। হাটবাজার ও বন্দর এলাকার সড়কে ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সড়কের পাশে পুকুর খননের ক্ষেত্রে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার ওপরও জোর দেন তিনি।

স্থানীয় নির্বাচন সামনে, ইউএনওদেরও বার্তা

ইজিবাইক নিবন্ধনের জন্য আইন ও বিধিমালার কাজ চলছে বলে জানান মীর শাহে আলম। পাশাপাশি বর্জ্য থেকে জৈবসার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাই এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্‌যাপনে প্রশাসন, পূজা কমিটি ও সামাজিক নিরাপত্তা কমিটিকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

এর পাশাপাশি আগামী জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে ইউএনওদের আন্তরিক হওয়ার নির্দেশনাও দেন তিনি। মাদক নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতি হ্রাসে সক্রিয় ভূমিকার পাশাপাশি প্রতি বছর ইউএনও সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তাব দেন মীর শাহে আলম।

বার্তা স্পষ্ট, এখন বাস্তবায়নের পালা

সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোঃ শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিজ মিরানা মাহরুখ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সব সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলার উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পৌরসভার প্রশাসকরাও সভায় অংশ নেন।

সভায় দেওয়া বক্তব্যের সারকথা এক জায়গায় এসে মিলে যায়—জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসা সরকারের কাছে এখন দৃশ্যমান কাজের প্রত্যাশা। আর সেই কাজের গতি, মান ও ফলাফলই আগামী দিনের জবাবদিহির ভিত্তি তৈরি করবে। নির্বাচনের মাঠে ভোটারদের রায় পাওয়া গেছে; এবার মাঠ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সামনে সেই রায়ের প্রতিফলন ঘটানোর পালা।

কালের আলো /এমএএএমকে

কেন নির্যাতনের সম্পর্ক থেকেও বের হওয়া কঠিন?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১২ অপরাহ্ণ
কেন নির্যাতনের সম্পর্ক থেকেও বের হওয়া কঠিন?

সম্প্রতি একটি পারফর্মিং আর্টের কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি তার সঙ্গীকে কখনো উত্তেজিতভাবে ঝাঁকিয়ে কথা বলছেন, আবার কিছুক্ষণ পরই তাকে কাছে টেনে আদর করছেন। আচরণের এমন আকস্মিক পরিবর্তন অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

মনোবিজ্ঞানের আলোচনায় নির্যাতন ও অতিরিক্ত স্নেহের এমন পুনরাবৃত্ত চক্র কখনো কখনো ‘ট্রমা বন্ডিং’-এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। এটি এমন এক ধরনের জটিল আবেগীয় সংযুক্তি, যেখানে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি ক্ষতিকর সম্পর্কটি থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলেও মানসিকভাবে সেই সম্পর্কের সঙ্গে গভীরভাবে আটকে থাকতে পারেন।

তবে কোনো সম্পর্কে ঝগড়া, মতবিরোধ বা আচরণের পরিবর্তন দেখা গেলেই সেটিকে ‘ট্রমা বন্ডিং’ বলা যায় না। এখানে নির্যাতন, ভয়, নিয়ন্ত্রণ এবং পরবর্তী সময়ে ইতিবাচক আচরণের পুনরাবৃত্ত চক্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

‘ট্রমা বন্ডিং’ কী?

‘ট্রমা বন্ডিং’ বলতে সাধারণত এমন আবেগীয় সংযুক্তিকে বোঝানো হয়, যা নির্যাতন, ভয়, অপমান বা নিয়ন্ত্রণের মতো নেতিবাচক অভিজ্ঞতার মধ্যেও তৈরি হতে পারে। একটি পর্যায়ে কষ্ট বা নির্যাতন এবং অন্য পর্যায়ে ভালোবাসা, ক্ষমা চাওয়া কিংবা অতিরিক্ত যত্ন—এভাবে আচরণের বারবার পরিবর্তন ভুক্তভোগীর মধ্যে শক্তিশালী আবেগীয় নির্ভরতা তৈরি করতে পারে।

এই ধারণাকে জনপ্রিয়ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন মার্কিন মনোবিজ্ঞানী প্যাট্রিক কার্নেস। তার ব্যাখ্যায়, নির্যাতন ও ইতিবাচক আচরণের পুনরাবৃত্ত চক্র একটি সম্পর্ককে ভুক্তভোগীর কাছে একইসঙ্গে কষ্টদায়ক এবং আবেগগতভাবে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।

যেসব লক্ষণ দেখা যেতে পারে

ট্রমা বন্ডিংয়ের ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি সম্পর্কটি ক্ষতিকর বুঝতে পারলেও সেখান থেকে বের হতে না-ও পারেন। বারবার নির্যাতনের পরও সঙ্গীকে ক্ষমা করে দেওয়া কিংবা নির্যাতনের ঘটনাকে ছোট করে দেখা বা অস্বীকার করার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।

পরিবার ও বন্ধুদের সতর্কতাকেও কেউ কেউ গুরুত্ব দিতে চান না। আবার নির্যাতনের পর সঙ্গীর সামান্য ভালো আচরণ, ক্ষমা চাওয়া বা যত্নেও সম্পর্কটি আবার ভালো হয়ে যাবে—এমন আশাবাদ তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া সম্পর্কের নেতিবাচক দিক অন্যদের কাছ থেকে গোপন করা এবং ধীরে ধীরে পরিবার, বন্ধু ও সামাজিক পরিসর থেকে দূরে সরে যাওয়ার মতো আচরণও দেখা যেতে পারে।

কেন সম্পর্ক থেকে বের হওয়া কঠিন?

ক্ষতিকর সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়টি শুধু আবেগের ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে আত্মবিশ্বাস, নিরাপত্তা, সামাজিক পরিস্থিতি, সন্তান, আর্থিক নির্ভরতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মতো বিষয়ও জড়িত থাকতে পারে।

দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকার ফলে নির্যাতনকারী ব্যক্তির সঙ্গেই গভীর আবেগীয় নির্ভরতা তৈরি হতে পারে। ফলে সম্পর্ক শেষ করার চিন্তা করলে একাকিত্ব, ভয় কিংবা অসহায়ত্বের অনুভূতি দেখা দিতে পারে।

এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে—‘এবার হয়তো বদলে যাবে’—এই আশা। নির্যাতনের পর সঙ্গী হঠাৎ ক্ষমা চাইলে, যত্ন নিলে বা ভালো আচরণ করলে ভুক্তভোগীর মনে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। সেই আশাই তাকে আবার সম্পর্কটির মধ্যে ফিরিয়ে নিতে পারে।

আত্মবিশ্বাসে আঘাতও বড় কারণ

দীর্ঘদিনের অপমান, নিয়ন্ত্রণ বা মানসিক নির্যাতন একজন মানুষের আত্মমর্যাদাকে দুর্বল করে দিতে পারে। একপর্যায়ে কেউ কেউ মনে করতে পারেন, তিনি এর চেয়ে ভালো কোনো সম্পর্ক পাওয়ার যোগ্য নন। ফলে ক্ষতিকর সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার আত্মবিশ্বাসও কমে যেতে পারে।

অন্যদিকে সম্পর্ক শেষ করার পর কোথায় যাবেন, কীভাবে জীবন চালাবেন, সন্তানদের কী হবে কিংবা নির্যাতনকারী আরও ক্ষতি করতে পারেন কি না—এসব প্রশ্নও সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে আর্থিকভাবে নির্ভরশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

নির্যাতনের পর ভালো আচরণ কেন বিভ্রান্ত করে?

নির্যাতনের পর হঠাৎ ভালোবাসা, ক্ষমা চাওয়া কিংবা অতিরিক্ত যত্ন ভুক্তভোগীর মধ্যে সাময়িক স্বস্তি তৈরি করতে পারে। এরপর আবার নির্যাতন ফিরে এলে সম্পর্কটি তীব্র আবেগীয় ওঠানামার মধ্যে পড়ে।

এই চক্রের কারণে একজন মানুষ একই ব্যক্তির কাছ থেকেই একদিকে ভয় বা কষ্ট এবং অন্যদিকে ভালোবাসা ও নিরাপত্তার অনুভূতি পেতে পারেন। ফলে সম্পর্কটি ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে নিরাপত্তাই আগে

নির্যাতনমূলক সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে হঠাৎ কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেয়ে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বস্ত পরিবার, বন্ধু কিংবা মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা সহায়ক হতে পারে। একা পরিস্থিতি সামলানোর পরিবর্তে নিরাপদ একটি সহায়তার নেটওয়ার্ক তৈরি করা জরুরি।

পরিস্থিতি নিরাপদ হলে নির্যাতনকারী ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত বা বন্ধ করার কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে যোগাযোগ বন্ধ করলে যদি ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে, তাহলে আগে নিরাপত্তা পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।

কী ধরনের আচরণ বা নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে, তা তারিখসহ সংরক্ষণ করাও প্রয়োজনের সময় কাজে আসতে পারে। এতে নিজের অভিজ্ঞতাগুলো পরিষ্কারভাবে বোঝার পাশাপাশি প্রয়োজনে সহায়তা চাইতেও সুবিধা হতে পারে।

পেশাদার সহায়তা নেওয়া জরুরি হতে পারে

দীর্ঘদিনের নির্যাতনে আত্মবিশ্বাস ও মানসিক সুস্থতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই নিজের প্রয়োজন, নিরাপত্তা ও আত্মমর্যাদাকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

সম্পর্কে শারীরিক নির্যাতন, হুমকি বা তাৎক্ষণিক নিরাপত্তাঝুঁকি থাকলে স্থানীয় সহায়তা ও জরুরি সেবার সঙ্গে যোগাযোগ করা গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সম্পর্ক ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিরাপদভাবে বের হওয়ার পরিকল্পনা করাই অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

সম্পর্ক শেষ হওয়া মানেই ব্যর্থতা নয়

একটি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সবসময় সাফল্যের পরিচয় নয়। কোনো সম্পর্ক যদি একজন মানুষের নিরাপত্তা, আত্মমর্যাদা ও মানসিক সুস্থতার জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে, তাহলে সেখান থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নতুনভাবে জীবন শুরু করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

এক্ষেত্রে পরিবার ও কাছের মানুষদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিকে দোষারোপ করা বা ‘কেন সম্পর্ক ছাড়ছেন না’—এমন প্রশ্ন করার পরিবর্তে তার কথা শোনা, পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং নিরাপদভাবে সহায়তা করার চেষ্টা করা বেশি কার্যকর।

ট্রমা বন্ডিং ভাঙার ক্ষেত্রে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে নিজের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সম্পর্কের ক্ষতিকর দিকটি স্বীকার করা। আর কেউ যদি তাৎক্ষণিক বিপদের মধ্যে থাকেন, তাহলে সম্পর্ক ছাড়ার আগে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এসএ

আল্লাহ ভীতি কেমন ছিল রাসূল (সা.)-এর জীবনে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৩ অপরাহ্ণ
আল্লাহ ভীতি কেমন ছিল রাসূল (সা.)-এর জীবনে

সুদূর অতীতকালের কোনো এক ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি বলেছিলেন, ‘তুমি যখন অন্যদের ভয় পাও, তাদের থেকে দূরে পালিয়ে যাও। আর যখন আল্লাহকে ভয় পাও, তখন তার দিকেই তুমি ছুটে যাও।’ ইসলামী ভাবধারায় আল্লাহভীতির এই ধারণা মানুষের সঙ্গে তার সৃষ্টিকর্তার সম্পর্ককে গভীরভাবে তুলে ধরে।

হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহভীতির অন্যতম আদর্শ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। একটি হাদিসে তার বক্তব্য হিসেবে এসেছে, তিনি আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি জানেন এবং মানুষের মধ্যে তাকেই সবচেয়ে বেশি ভয় করেন। আল-আলবানি হাদিসটির গ্রহণযোগ্যতার কথা উল্লেখ করেছেন।

ইসলামী ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মানুষ আল্লাহতায়ালা, তার গুণাবলি এবং তার সর্বব্যাপী জ্ঞান সম্পর্কে যত বেশি জানতে পারে, ততই তার অন্তরে আল্লাহর প্রতি ভয়, ভক্তি ও শ্রদ্ধা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে নিজের সীমাবদ্ধতা ও ভুলত্রুটি সম্পর্কে উপলব্ধিও মানুষকে সৃষ্টিকর্তার প্রতি আরও বিনয়ী করে তোলে।

আল্লাহভীতি ও বিনয়

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনযাত্রায় আল্লাহর প্রতি ভয় ও সচেতনতার বিষয়টি বিভিন্ন বর্ণনায় উঠে এসেছে। আল্লাহ সবকিছু দেখছেন—এই বিশ্বাস তার জীবনযাপন ও আচরণে প্রতিফলিত হতো বলে ইসলামী বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে। তার অন্তর আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, ভয় ও আত্মসমর্পণে পরিপূর্ণ ছিল বলে বর্ণনা রয়েছে।

কোরআন তেলাওয়াতের সময়ও তার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ার কথা বিভিন্ন হাদিসে পাওয়া যায়। শেষ বিচারের দিনের ভয়াবহতার বর্ণনা তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলত বলে বর্ণিত হয়েছে। এমনকি সূরা হুদসহ কয়েকটি সূরার প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তার চুল পেকে যাওয়ার বিষয়টিও হাদিসের বর্ণনায় এসেছে।

আল্লাহভীতি তার মধ্যে অহঙ্কারের পরিবর্তে বিনয় সৃষ্টি করেছিল। এ কারণেই নিজের প্রশংসা ও মর্যাদা প্রদানের ক্ষেত্রে অনুসারীদের বাড়াবাড়ি না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।

‘আমি আল্লাহর একজন বান্দা’

সহিহ বুখারিতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর একটি বাণী বর্ণিত হয়েছে, যেখানে তিনি তার প্রশংসার ক্ষেত্রে সীমা অতিক্রম করতে নিষেধ করেছেন। খ্রিস্টানরা হজরত মরিয়মের সন্তান ঈসা (আ.)-এর বিষয়ে যেভাবে বাড়াবাড়ি করেছে, তার মতো বাড়াবাড়ি না করে তাকে আল্লাহর বান্দা ও রাসুল হিসেবে উল্লেখ করতে বলেছেন।

সাহাবিদের সঙ্গেও তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে আচরণ করতেন। নিজেকে আল্লাহর একজন বান্দা হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের মতো আহার করা ও বসার কথা বলেছেন বলে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

পরিবারের কাজেও তিনি সহযোগিতা করতেন। ঘরের কাজে পরিবারের সদস্যদের সাহায্য করার বিষয়টি বিভিন্ন হাদিসের বর্ণনায় পাওয়া যায়। এতে তার বিনয়ী ও সহযোগিতাপূর্ণ জীবনযাপনের চিত্র ফুটে ওঠে।

কথা ও কাজে ছিল সামঞ্জস্য

ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজের কথা ও কাজের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতেন। তিনি সত্য কথা বলতেন এবং তার বক্তব্য ও আচরণের মধ্যে সামঞ্জস্য ছিল।

ব্যক্তিগত কারণে কারও ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার প্রবণতা তার ছিল না বলেও হাদিসে বর্ণনা রয়েছে। তবে আল্লাহর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘিত হলে তিনি তা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতেন।

প্রাকৃতিক ঘটনাতেও আল্লাহর স্মরণ

ঝড়-ঝঞ্ঝা, আকাশে মেঘের ঘনঘটা কিংবা সূর্যগ্রহণের মতো প্রাকৃতিক ঘটনায় রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আচরণেও আল্লাহভীতির প্রকাশ ঘটত বলে ইসলামী বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে।

এসব ঘটনা তাকে আল্লাহর শক্তি ও অতীতের অবাধ্য জাতিগুলোর পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিত বলে বর্ণনা করা হয়েছে। তখন তিনি আল্লাহর শরণাপন্ন হতেন, নামাজ ও ইবাদতে মনোনিবেশ করতেন।

আল্লাহভীতি তাকে দুর্বল করেনি

আল্লাহকে ভয় করা মানে দুর্বল বা ভীতু হওয়া নয়—রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনেই এর একটি দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় বলে ইসলামী ঐতিহ্যে তুলে ধরা হয়। সাহাবিদের বর্ণনায় তার সাহস ও দৃঢ়তার কথা রয়েছে। যুদ্ধের ময়দানেও তিনি সাহসিকতার সঙ্গে সামনে থাকতেন।

অর্থাৎ তার আল্লাহভীতি ছিল দায়িত্ব থেকে পালিয়ে যাওয়ার ভয় নয়; বরং সৃষ্টিকর্তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, জবাবদিহির অনুভূতি এবং নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা।

ইবাদতের পাশাপাশি ছিল স্বাভাবিক জীবন

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আল্লাহভীতির অর্থ সংসার ও পার্থিব জীবন থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ছিল না। তার স্ত্রী-সন্তান ছিল, তিনি সুগন্ধি পছন্দ করতেন এবং কিছু খাবারও তার পছন্দের ছিল।

তবে তার ও তার পরিবারের জীবন সবসময় স্বাচ্ছন্দ্যে কাটেনি। ইসলামী বর্ণনায় রয়েছে, অনেক সময় পরপর দুই দিন গমের রুটি দিয়ে পেট ভরে খেতে পারেননি তিনি ও তার পরিবার। কখনো কখনো দিনের পর দিন তার ঘরে রান্নার জন্য চুলাও জ্বলত না।

তিন ব্যক্তিকে যে শিক্ষা দিয়েছিলেন

একবার তিন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ইবাদত ও জীবনযাপন সম্পর্কে জানতে এসেছিলেন। তার ইবাদতের ধরন সম্পর্কে জানার পর তারা নিজেদের জন্য আরও কঠোর জীবনযাপনের সিদ্ধান্ত নেন।

তাদের একজন বলেন, তিনি সারা রাত ইবাদত করবেন এবং ঘুমাবেন না। দ্বিতীয়জন বলেন, তিনি বিয়ে করবেন না। তৃতীয়জন সিদ্ধান্ত নেন, তিনি অবিরাম রোজা রাখবেন।

তাদের এ ধরনের সিদ্ধান্তের কথা জানতে পেরে রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের এমন চিন্তা থেকে বিরত থাকতে বলেন। তিনি জানান, তিনি তাদের তুলনায় বেশি আল্লাহভীরু। এরপর তিনি বলেন, তিনি রোজা রাখেন আবার রোজা ভাঙেন, রাতে ইবাদত করেন আবার ঘুমান এবং বিয়েও করেছেন।

এর মাধ্যমে তিনি বুঝিয়েছেন, আল্লাহভীতি মানে স্বাভাবিক জীবন ও পারিবারিক দায়িত্ব থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া নয়। বরং ইবাদত, পারিবারিক জীবন, ব্যক্তিগত প্রয়োজন ও সামাজিক দায়িত্ব—সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাও ইসলামী জীবনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

জীবনের জন্য অনুসরণীয় ভারসাম্য

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনযাত্রার বিভিন্ন বর্ণনায় আল্লাহর প্রতি ভয়, ভালোবাসা, বিনয়, সাহস, দায়িত্ববোধ ও পারিবারিক জীবনের মধ্যে একটি ভারসাম্য ফুটে ওঠে।

ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতে এই আল্লাহভীতি মানুষকে হতাশ বা নিষ্ক্রিয় করার জন্য নয়; বরং নিজের কাজের ব্যাপারে সচেতন, বিনয়ী ও দায়িত্বশীল করে তোলার শিক্ষা দেয়। আর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনকে মুসলমানদের জন্য সেই ভারসাম্যের অন্যতম অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

কালের আলো/এসএ